ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের হালনাগাদ ফল অনুযায়ী, ৮৫ দশমিক ৬ শতাংশ ভোট গণনা শেষে নেতানিয়াহুর জোট ৫৩টি আসন পেয়েছে।এ ছাড়া আইজেনকোটের জোট পেয়েছে ৪৮টি আসন। আরব দলগুলো পেয়েছে ১৯টি আসন।ভোট গণনা এখনো শেষ হয়নি। ফলে চূড়ান্ত ফলাফলে আসনসংখ্যায় পরিবর্তন আসতে পারে। খবর আল জাজিরা।

ইসরায়েলের পার্লামেন্টে মোট আসন ১২০টি। ফলে কোনো দলকে একক বা জোটগতভাবে সরকার গঠন করতে হলে অন্তত ৬১টি আসনে জয় পেতে হবে। তবে নির্বাচনের ফলাফলে দেখা যাচ্চে কোনো জোটই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাচ্ছে না। এক্ষেত্রে আরব দলগুলোর ওপর নির্ভরশীলতা বাড়তে পারে।২০১৯ সালের পর থেকে ষষ্ঠবারের মতো জাতীয় নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন ইসরায়েলের নাগরিকেরা। গত কয়েক বছর ধরে নেতানিয়াহুর শিবির কিংবা তার বিরোধীরা কেউই স্থিতিশীল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে পারেনি।

ইসরায়েলে এখন পর্যন্ত কোনো একক দল এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন পায়নি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জোট সরকার গঠন করা না গেলে আবারও নির্বাচন আয়োজন করতে হয়।২০১৯ সালে অ্যাভিগডর লিবারম্যান নেতানিয়াহুর জোটে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানান। অতি-গোঁড়া ইহুদি তরুণদের সেনাবাহিনীতে নিয়োগের একটি বিল অপরিবর্তিতভাবে পাস করার শর্ত দিয়েছিলেন তিনি। এর ফলে ওই বছরের সেপ্টেম্বরে দ্বিতীয়বার নির্বাচন হয়। তবে সেই নির্বাচনেও কোনো পক্ষ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি।

২০২০ সালে তৃতীয় দফা নির্বাচনের পর নেতানিয়াহু ও বেনি গান্টজের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠিত হয়। তবে বাজেট পাস করতে ব্যর্থ হওয়ায় ওই বছরের ডিসেম্বরে সরকারটির পতন ঘটে।২০২১ সালে নাফতালি বেনেট ও ইয়ার লাপিদের নেতৃত্বে আট দলের একটি জোট সরকার গঠন করে। নেতানিয়াহুর শাসনের অবসান ঘটানোই ছিল জোটটির প্রধান অভিন্ন লক্ষ্য। ওই সরকার নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেয়। কিন্তু জোটের কয়েকজন সদস্য সরে যাওয়ায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারায় সরকারটি। এক বছর পর পার্লামেন্ট ভেঙে দেয়া হয়।২০২২ সালে আবার ক্ষমতায় ফেরেন নেতানিয়াহু। এরপর তিনি পুরো মেয়াদ দায়িত্ব পালন করেন।