মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় এশীয় শেয়ারবাজারে ভয়াবহ ধস নেমেছে। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে প্রবল আতঙ্ক বিরাজ করছে যে, এই সংঘাতের ফলে জ্বালানি তেলের বাজারে বড় ধরনের ধাক্কা আসবে, যা বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে দেবে এবং সুদের হার কমানোর প্রক্রিয়াকে দীর্ঘায়িত করবে। বিশেষ করে এশিয়ার দেশগুলো তাদের জ্বালানি আমদানির জন্য হরমুজ প্রণালীর ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল হওয়ায় এই অঞ্চলের বাজারগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

এই ধসের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ চিত্র দেখা গেছে দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে। সেখানকার শেয়ারবাজারে একদিনে ১২ শতাংশ পতন রেকর্ড করা হয়েছে, যা দেশটির ইতিহাসে সর্বকালের বৃহত্তম পতন। গত দুই দিনে এই বেঞ্চমার্ক সূচকটি তার মূল্যের ১৮ শতাংশেরও বেশি হারিয়েছে। একই সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার মুদ্রা 'উন'-এর মান গত ১৭ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।

জাপানের নিক্কেই সূচক ৩.৯ শতাংশ এবং তাইওয়ানের শেয়ারবাজার ৪.৩ শতাংশ পড়ে গেছে। গত কয়েক মাস ধরে সেমিকন্ডাক্টর বা চিপ নির্মাতাদের শেয়ারে বিনিয়োগ ছিল সবচেয়ে লাভজনক, কিন্তু এখন বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকি কমাতে সেই সব শেয়ারও দ্রুত বিক্রি করে দিচ্ছেন। অন্যান্য খাতে হওয়া ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এবং নগদ অর্থ হাতে রাখতে এই 'সেল-অফ' বা শেয়ার বিক্রির হিড়িক পড়েছে।

সিঙ্গাপুরে স্যাক্সোর প্রধান বিনিয়োগ কৌশলবিদ চারু চানানা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, বাজার এখন আর একে সাময়িক কোনো খবর হিসেবে দেখছে না; বরং এখন 'যা পারো বিক্রি করো' ধরনের এক আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।