প্রায় সব ফিলিস্তিনি পাসপোর্টধারীর ভিসা অনুমোদন স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর আগে দেশটিতে গাজা থেকে আগত ভ্রমণকারীদের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল। নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ফিলিস্তিনি পাসপোর্টধারীদের ওপর আরোপিত নতুন এ বিধিনিষেধ সেটিকেও অতিক্রম করে গেছে।
নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিউইয়র্ক টাইমসকে জানিয়েছেন, ভিসা অনুমোদন স্থগিত করায় এখন ফিলিস্তিনিরা চিকিৎসা, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা বা ব্যবসায়িক কাজে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে পারবেন না।
প্রায় দুই সপ্তাহ আগে গাজা থেকে আগতদের জন্য সব ধরনের ভিজিটর ভিসা ইস্যু স্থগিতের ঘোষণা দেয় মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ সংক্রান্ত ‘পূর্ণাঙ্গ ও বিস্তারিত’ পর্যালোচনা শেষ না করা পর্যন্ত এ কার্যক্রমস্থগিত রাখা হবে বলে ঘোষণায় জানানো হয়। সে সময় ফিলিস্তিনপন্থী বিভিন্ন দল ও সংগঠন এর নিন্দা জানায়।
এর পর গত শুক্রবার জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের আগে প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশনের (পিএলও) নেতা ও ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের (পিএ) সদস্যদের ভিসা বাতিল ও তা নতুন করে ইস্যুতে অস্বীকৃতি জানায় যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিতও করা হয়।
আয়োজক দেশ হিসেবে চুক্তি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে অংশগ্রহণের জন্য কোনো দেশের প্রতিনিধিদের ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানাতে পারে না। যদিও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের দাবি, তাদের পক্ষ থেকে এ চুক্তির কোনো লঙ্ঘন করা হয়নি। কারণ ফিলিস্তিনি মিশনকে অধিবেশনে অংশ নিতে দেয়া হচ্ছে।
এ সংক্রান্ত এক বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, ‘ট্রাম্প প্রশাসন স্পষ্ট করেছে, আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে পিএলও ও পিএকে তাদের অঙ্গীকার পালনে ব্যর্থতা এবং শান্তির সম্ভাবনা নষ্ট করার জন্য জবাবদিহি করতে হবে।’
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রায় সব ফিলিস্তিনির জন্য ভিসা ইস্যু করা স্থগিতের মধ্য দিয়ে ইসরায়েলের ডানপন্থী সরকারের আরো কাছাকাছি চলে এল ট্রাম্প প্রশাসন। উভয় দেশই ফিলিস্তিনের রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতির বিরোধিতা করে আসছে।














