মরক্কো থেকে সাঁতরে গত এক সপ্তাহে স্পেনের উত্তর আফ্রিকায় ছিটমহল সিউতায় শত শত অভিবাসী প্রবেশ করেছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অঞ্চলটির প্রধান হুয়ান হেসুস ভিভাস। খবর বিবিসি।

এত বিপুলসংখ্যক মানুষের আগমনে সিউতার সক্ষমতা চাপে পড়েছে জানিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে স্পেন সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ চেয়েছেন হুয়ান। এদিকে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, স্পেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্নান্দো গ্রান্দে-মারলাস্কা আজ সিউতা সফর করবেন।

গতকাল প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, অনেক অভিবাসী সাঁতরে কিংবা ফোলানো টিউব ও অন্যান্য ভাসমান সামগ্রী ব্যবহার করে সিউতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। আবার কেউ কেউ সীমান্তের বেড়ার একটি ফটক দিয়ে দৌড়ে প্রবেশ করেন।

মরক্কোর উত্তর উপকূলে অবস্থিত সিউতা জিব্রাল্টার প্রণালির মাধ্যমে স্পেনের মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন। ইউরোপে প্রবেশের আশায় অভিবাসীদের জন্য এটি দীর্ঘদিন ধরেই একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ।

স্পেনের সর্বোচ্চ আদালত চলতি মাসের শুরুতে রায় দেন, সিউতা বা মেলিয়ায় পৌঁছানোর চেষ্টা করার সময় সমুদ্রে আটক হওয়া অভিবাসীদের তাৎক্ষণিকভাবে মরক্কোয় ফেরত পাঠানো যাবে না।

স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চলতি মাসের শুরুতে দাবি করে, মানবপাচারকারী চক্রগুলো ওই রায়ের সুযোগ নিয়ে। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে অবৈধভাবে সিউতায় প্রবেশে উৎসাহ দিচ্ছে।

মন্ত্রণালয় জানায়, অভিবাসনসহ বিভিন্ন বিষয়ে মরক্কোর সঙ্গে তাদের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা রয়েছে। অবৈধভাবে সিউতায় প্রবেশকারীদের যত দ্রুত সম্ভব মরক্কোর কাছে হস্তান্তরের বিষয়ে উভয় দেশ কাজ জোরদার করতে সম্মত হয়েছে।

migrants_ceuta_spain_reuters

ছবি: রয়টার্স

এদিকে অভিবাসীদের প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। কেউ বলছেন কয়েক শ, আবার কেউ বলছেন কয়েক হাজার মানুষ সীমান্ত অতিক্রম করেছেন।

রয়টার্সের তথ্যানুযায়ী, স্পেনের কয়েকটি গণমাধ্যমের দাবি, গতকাল ২-৩ হাজার মানুষ সিউতায় প্রবেশ করেছেন। তবে দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনী গুয়ার্দিয়া সিভিল এ সংখ্যা নিশ্চিত করেনি।

অন্যদিকে স্পেনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আরটিভিই জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার কয়েকশ মানুষ সিউতায় প্রবেশ করেছেন। তাদের তথ্যানুযায়ী, গত দুই সপ্তাহে দেড় হাজারের বেশি, যাদের বেশির ভাগই তরুণ মরক্কোর নাগরিক, সিউতায় পৌঁছেছেন।

আরটিভিইর খবরে বলা হয়, সাম্প্রতিক মাসগুলোয় সমুদ্র থেকে ৬০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন হুয়ান হেসুস ভিভাস।

তিনি আরো বলেন, সিউতা বর্তমানে মানবিক ও নিরাপত্তা উভয় ধরনের সংকটে রয়েছে। অভিভাবকহীন অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য থাকা আশ্রয়কেন্দ্রগুলো তাদের নির্ধারিত ধারণক্ষমতার কয়েক গুণ বেশি মানুষ নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে।

বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে ২০২১ সালের মে মাসের ঘটনার তুলনা করা হচ্ছে। ওই সময় মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে প্রায় ৮ হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশী সিউতায় প্রবেশ করেছিলেন, যা মরক্কো ও স্পেনের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছিল।

উত্তর আফ্রিকায় অবস্থিত স্পেনের সিউতা ও মেলিয়া হলো ইউরোপীয় ইউনিয়নের আফ্রিকা মহাদেশের সঙ্গে একমাত্র স্থলসীমান্ত।

এদিকে স্পেনকে ‘শেনজেন’ অঞ্চল থেকে সাময়িকভাবে স্থগিত করার আহ্বান জানিয়েছে ইতালি। দেশটির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি বলেন, নাগরিকদের নিরাপত্তা ও ইউরোপের সীমান্ত রক্ষায় প্রয়োজন হলে ইতালি ‘বিশেষ ব্যবস্থা’ নিতে প্রস্তুত।