জাপানে প্রযুক্তি মানেই একটু অন্যরকম ভাবনা। সেই ধারাবাহিকতায় জনপ্রিয় হয়েছে এমন এক মেশিন, যেখানে মানুষ শুয়ে পড়লেই পুরো শরীর ধোয়া হয়ে যায় বিনা নড়াচড়ায়, বিনা ঝামেলায়। ওসাকার সাম্প্রতিক বিশ্ব এক্সপোতে আলোচনায় থাকা এ ‘হিউম্যান ওয়াশিং মেশিন’ এখন বাজারেও মিলছে, আর সেটি ঘিরে বিশ্বজুড়ে কৌতূহল যেন থামছেই না।
জাপানের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান সাইন্স ইনকরপোরেশন এ অত্যাধুনিক হিউম্যান ওয়াশিং মেশিনটি তৈরি করেছে। গত এপ্রিল থেকে অক্টোবর পর্যন্ত চলেছে এ প্রদর্শনী। ব্যাপক সাড়া ফেলার পর এখন এটি বিক্রির জন্য বাজারে আনা হয়েছে।
ক্যাপসুলের মতো লম্বাটে যন্ত্রটির মধ্যে ব্যবহারকারী ঢুকে শুয়ে পড়লেই শুরু হয় কাজ। ঢাকনা বন্ধ হতেই পুরো মেশিনের ভেতর চালু হয় ডিম লাইট, সফট মিউজিক আর মাইক্রোবাবল শাওয়ার। বাইরে থেকে একে কাঠখোট্টা যন্ত্র বলে মনে হলেও ভেতরে এটি আরামদায়ক স্পা এর অভিজ্ঞতা দেয়।
অত্যাধুনিক সেন্সর ব্যবহারকারীর হৃৎস্পন্দনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সূচক নজরে রাখে। ফলে গোসলের সময় কেউ অস্বস্তিতে পড়ছেন কি না, তা মেশিন নিজেই বুঝে ব্যবস্থা নেয়।
জাপানি প্রতিষ্ঠান ‘সায়েন্স’ এর কর্মকর্তারা এক রকম মজা করেই বলেন, শরীর ধোয়ার পাশাপাশি যন্ত্রটি নাকি মানুষের আত্মা আর মনকেও ধুয়ে দেয়।
ওসাকার হোটেলগুলোতে এখন এই মেশিন বসানোর তোড়জোড় চলছে। এরই মধ্যে শহরের একটি হোটেল মেশিনটি স্থাপনও করেছে। অতিথিরা সেখানে চাইলেই ১৫ মিনিটের একটি গোসলের অভিজ্ঞতা নিয়ে পুরোপুরি সতেজ হয়ে বের হতে পারবেন। আর এ অভিজ্ঞতা নিতে তাদের হাত বা তোয়ালে কোনোটাই ব্যবহার করতে হবে না।
স্থানীয় একটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, মেশিনটির দাম প্রায় ৬ কোটি ইয়েন অর্থাৎ প্রায় ৩ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলারের সমান।
যদিও এই মেশিনের ধারণাটি নতুন নয়। এর আগেও ১৯৭০ সালের ওসাকা এক্সপোতে এমন হিউম্যান ওয়াশিং মেশিনের একটি প্রোটোটাইপ প্রদর্শিত হয়েছিল। সেই যন্ত্রটি নাকি সায়েন্স এর বর্তমান সভাপতির ছোটবেলার মনে গভীর ছাপ ফেলেছিল। তাই এবার নতুন প্রযুক্তি আর ডিজাইন দিয়ে তিনি সেই শৈশবের স্মৃতিকেই আধুনিক রূপ দিয়েছেন।
মেশিনটির ব্যবহারও বেশ সহজ, প্রথমে ব্যবহারকারী ক্যাপসুলে শুয়ে পড়েন। এরপর মাইক্রোবাবলস আর মিহি কুয়াশার শাওয়ার পুরো শরীর পরিষ্কার করে। এ সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিল্ট-ইন সেন্সর ব্যবহারকারীর স্বাস্থ্যসূচক পর্যবেক্ষণ করতে থাকে। একই সঙ্গে এন্টারটেইনমেন্টের জন্য মিউজিক বাজতে থাকে। শেষে যন্ত্রটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে শরীর শুকিয়ে দেয়। সব মিলিয়ে মাত্র ১৫ মিনিটের মধ্যে ব্যবহারকারী পুরোপুরি পরিষ্কার ও সতেজ হয়ে বাইরে আসেন।
—এনডিটিভি থেকে নেয়া









