টানা তিন মাস বন্ধ থাকার পর পর্যটক, জেলে, বাওয়ালি ও মৌয়ালদের জন্য খুলে দেয়া হয়েছে সুন্দরবন। তবে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার প্রথম দিনে বৈরী আবহাওয়ার কারণে পর্যটকের সংখ্যা ছিল তুলনামূলক কম।

গত ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত এ বনে সব ধরনের মানুষের প্রবেশ, মাছ ও কাঁকড়া ধরা, মধু সংগ্রহ এবং পর্যটন কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছিল। গতকাল মঙ্গলবার নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার প্রথম দিনে বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে অনেক দর্শনার্থী বনে প্রবেশ করতে পারেননি।

প্রথম দিন দুপুর ২টা পর্যন্ত বন বিভাগ থেকে দুই শতাধিক নৌযানের অনুমতিপত্র দেয়া হয়েছে। এসব নৌযানে করে চার শতাধিক জেলে ও বাওয়ালি সুন্দরবনে প্রবেশের অনুমতি পেয়েছেন।

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজাদ কবির জানান, মঙ্গলবার সকাল থেকে মোট সাতটি বড় পর্যটকবাহী জাহাজ ও দুটি ছোট ট্রলার সুন্দরবনের বিভিন্ন স্থানে প্রবেশ করেছে। এসব নৌযানে ৫০০ জনের বেশি দর্শনার্থী ছিলেন। তবে আজ বুধবার বৈরী আবহাওয়ার কারণে করমজল কেন্দ্রে মাত্র একটি পর্যটকবাহী ট্রলার এসেছে। আবহাওয়া ভালো হলে দর্শনার্থীর সংখ্যা আরো বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

PICTURE 01 (1)

ঢাকা থেকে আসা মুনিয়া ও ইমরান হোসেন নামের দুই পর্যটক জানান, সুন্দরবনের সৌন্দর্য দেখতে তারা এসেছেন। তবে বৃষ্টি ও ঝড়ো বাতাসের কারণে প্রথম দিন তারা বনে যেতে পারেননি। আবহাওয়া অনুকূলে এলে পরদিন বনে যাওয়ার ইচ্ছা রয়েছে তাদের।

বাগেরহাটের সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, প্রথম দিনে প্রায় ৫০০ দেশী-বিদেশী পর্যটক সুন্দরবন ভ্রমণে এসেছেন। বৈরী আবহাওয়ার কারণে লোকজনের সংখ্যা কম ছিল। নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ায় দর্শনার্থীদের অভ্যর্থনা জানাতে আগে থেকেই সব প্রস্তুতি নেয়া হয়েছিল। স্থানীয় আবাসন কেন্দ্রগুলোতে অতিথি থাকলেও বৈরী আবহাওয়ার কারণে অনেকে বনের ভেতরে ঢুকতে পারেননি।

নিষেধাজ্ঞার তিন মাসে বনে মানুষের উপস্থিতি ও নৌযান চলাচল কম থাকায় বন্যপ্রাণী শান্ত পরিবেশ পেয়েছে। নদী ও খালে মাছের প্রজনন এবং প্রাণীদের অবাধ বিচরণের ওপর মানুষের চাপ কম ছিল।

বর্তমানে সুন্দরবনে প্রবেশের জন্য বৈধ অনুমতিপত্র প্রদান, নৌযান চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং বনজীবীদের প্রবেশ ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বিশেষ নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সুন্দরবনের ৬ হাজার ১৭ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে আবারো স্বাভাবিক কর্মচাঞ্চল্য শুরু হয়েছে। ম্যানগ্রোভ এই বনে রাজকীয় বেঙ্গল টাইগার, চিত্রা হরিণ, বানর, কুমির ও গুইশাপসহ ২৮৯ প্রজাতির স্থলচর প্রাণী এবং ৪২ প্রজাতির স্তন্যপায়ী রয়েছে। এছাড়া ৩৫ প্রজাতির সরীসৃপ, ৮ প্রজাতির উভচর, ২১৯ প্রজাতির জলজ প্রাণী, ২৯০ প্রজাতির পাখি এবং ৩৪৪ প্রজাতির উদ্ভিদ রয়েছে। এর মধ্যে দুটি উভচর, ১৪টি সরীসৃপ, ২৫টি পাখি এবং পাঁচটি স্তন্যপায়ী প্রজাতি বিশেষ তালিকাভুক্ত।

PICTURE 01 (3)

সমন্বিত সম্পদ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনার পরামর্শ অনুযায়ী ২০১৯ সাল থেকে ১ জুলাই থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সুন্দরবনে প্রবেশ বন্ধ রাখা হতো। পরে ২০২২ সাল থেকে মৎস্য বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা নির্ধারণ করা হয়। এ সময় কাজ না থাকা জেলেদের মৎস্য অধিদপ্তর থেকে খাদ্য সহায়তা দেয়া হয়ে থাকে।