হাত ধোয়া ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার মাধ্যমে রোগ প্রতিরোধ এবং সুস্থ প্রজন্ম গড়ে তোলা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেছেন, ডায়রিয়া ও খাদ্যবাহিত রোগ প্রতিরোধে খাবারের আগে এবং শৌচাগার ব্যবহারের পর সাবান দিয়ে হাত ধোয়া জরুরি। নিয়মিত হাত পরিষ্কার রাখা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা ব্যক্তিগত সুস্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য।

বনানী বিদ্যানিকেতন স্কুল অ্যান্ড কলেজ মিলনায়তনে আজ বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. শহীদুল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হয়।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ফাস্টফুড খাওয়ার সময় সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার সুযোগ না থাকলে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করা যেতে পারে। ছোটবেলা থেকেই হাত ধোয়া ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার অভ্যাস গড়ে তুললে সুস্থ প্রজন্ম তৈরি হবে।

ঢাকার পানি সরবরাহ নিয়ে মীর শাহে আলম বলেন, ঢাকা ওয়াসা প্রতিদিন প্রায় ৩১৪ কোটি লিটার পানি সরবরাহ করে। এর ৭৪ শতাংশ ভূগর্ভস্থ পানি এবং ২৬ শতাংশ নদীর পানি পরিশোধন থেকে পাওয়া যায়। ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমানো ও ভূমিকম্পের ঝুঁকি এড়াতে আগামী ছয় মাস থেকে এক বছরের মধ্যে পদ্মা নদী থেকে অতিরিক্ত ১০০ কোটি লিটার পানি ঢাকায় সরবরাহের নতুন প্রকল্প নেয়া হয়েছে। এসময় শিক্ষার্থীদের পানির অপচয় রোধে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

শিক্ষার্থীদের শারীরিক সুস্থতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান প্রজন্মের অনেকের মধ্যে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতির কারণে ক্লান্তি দেখা যায়। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ভিটামিন ডি গ্রহণের পাশাপাশি পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে। সুস্থ থাকতে পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলায়ও অংশ নেয়া প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ইউনিসেফের ডেপুটি রিপ্রেজেন্টেটিভ মালালায় আহমদজাই, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বাংলাদেশ প্রতিনিধি (ভারপ্রাপ্ত) ডা. রাজেশ নারওয়াল এবং ইউনিসেফের ওয়াশ বিভাগের প্রধান পিটার মাস। তারা বিশ্ব হাত ধোয়া দিবসের গুরুত্ব তুলে ধরে নিয়মিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপর জোর দেন। পরে শিক্ষার্থীদের হাত ধোয়া ও ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার শপথ পড়ানো হয়। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, ইউনিসেফ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচনে সরকার কোনো হস্তক্ষেপ করছে না। একইভাবে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করা হবে। বিএনপি সরকার জনগণের ভোটের অধিকার কেড়ে নিতে চায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।