নারী ও শিশুদের কল্যাণে ইউনিসেফের সহযোগিতা জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন নারী ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তিনি বলেন, একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার লক্ষ্যে বর্তমান সরকার নির্বাচনি ইশতেহারে নারী ও শিশুদের কল্যাণ, পুষ্টি, শিক্ষা ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত দেয়া অঙ্গীকারগুলোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রীর অফিস কক্ষে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউনিসেফের প্রতিনিধি জিলিয়ান মেলসপ সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এসব কথা বলেন।
সাক্ষাতে নারীর ক্ষমতায়ন, নারী অধিকার রক্ষা, নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ, শিশুশ্রম নিরসন, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং নারী ও শিশুদের টেকসই উন্নয়ন নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। পাশাপাশি মিড ডে মিল, কিশোর-কিশোরী ক্লাব, মনোসামাজিক সহায়তা, ফ্যামিলি কার্ড এবং নারী ও শিশু সংক্রান্ত বিভিন্ন আইন নিয়েও কথা বলেন তারা।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রী উল্লেখ করে বলেন, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সমন্বিতভাবে সচেতনতা বৃদ্ধিতে ইউনিয়ন পর্যায়ে কিশোর-কিশোরী ক্লাবগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। মানুষের মৌলিক অধিকার ও সার্বিক কল্যাণে সহায়তামূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতে আরো বেগবান করার গভীর প্রত্যয় প্রকাশ করেন তিনি। একই সঙ্গে সব শিশুর জন্য বাসযোগ্য, উন্নত ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার ব্যাপারেও আশা প্রকাশ করেন মন্ত্রী।
বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে ইউনিসেফের উন্নয়ন সহযোগিতা ও সমর্থনের কথা স্মরণ করে মন্ত্রী জানান, সংস্থাটি বাংলাদেশের একটি নির্ভরযোগ্য ও বন্ধুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী। এই দীর্ঘ পথচলার জন্য তিনি ইউনিসেফকে ধন্যবাদ জানান।
সাক্ষাতে ইউনিসেফের প্রতিনিধি জিলিয়ান মেলসপ বাংলাদেশে নারী ক্ষমতায়ন, জেন্ডার সমতা অর্জন এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সরকারের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ ও সমাজকল্যাণমূলক কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
প্রসঙ্গত, ইউনিসেফ বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে বাংলাদেশ ত্যাগের মাধ্যমেই কর্মজীবন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবসর গ্রহণ করতে যাচ্ছেন জিলিয়ান মেলসপ। মন্ত্রী তার দীর্ঘ কর্মজীবনের সফল সমাপ্তিতে আন্তরিক অভিনন্দন জানান এবং অবসরোত্তর জীবনের সার্বিক সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করেন।









