জাতীয় গ্রিডে ত্রুটি দেখা দেয়ায় রাজধানীর বড় অংশ, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী ও চট্টগ্রামের একাংশ দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎহীন ছিল। গতকাল বেলা পৌনে ১টার দিকে এসব এলাকায় বিদ্যুৎ চলে যায়। পরে বেলা আড়াইটার দিকে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হতে শুরু করে। পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ জানিয়েছে, সব এলাকার বিদ্যুৎ ফিরিয়ে আনতে ৬ ঘণ্টারও বেশি সময় লেগে যায়।
বিদ্যুৎ বিভাগসংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন, নারায়ণগঞ্জের মেঘনাঘাট-হরিপুর সঞ্চালন লাইনে ত্রুটির কারণে এ বিপর্যয় হয়। প্রথমে ঢাকার গুলশান, রামপুরা, উলন, মতিঝিল, কারওয়ান বাজার, মগবাজার, বনশ্রী, খিলগাঁও; নারায়ণগঞ্জের ভুলতা, হরিপুর, সিদ্ধিরগঞ্জ এবং চট্টগ্রামের একাংশে বিদ্যুৎ চলে যায়। নরসিংদীর বিভিন্ন এলাকাও একই সময়ে বিদ্যুৎহীন ছিল।
এ ঘটনার কারণ উদ্ঘাটন ও পুনরাবৃত্তি রোধে করণীয় ঠিক করতে একটি তদন্ত কমিটি করেছে পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ। প্রধান প্রকৌশলী সৈয়দ এবাদুল্লাহ হায়দার আলীকে এর প্রধান করা হয়েছে। কমিটিকে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে বলে কোম্পানিটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ জানায়, বিপর্যয়ের পর বেশকিছু বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ করে দেয়া হয়। পরে এক এক করে বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু করা হয়। এতে ধীরে ধীরে সরবরাহ বাড়ে।
জানা গেছে, বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর বিচারকাজ ব্যাহত হয়। আধঘণ্টা অপেক্ষার পরও বিদ্যুৎ না আসায় বিচারকাজ বন্ধ রাখা হয়। পরে ট্রাইব্যুনাল আর না বসার সিদ্ধান্ত হয়। বিদ্যুৎ চলে যায় সচিবালয়েও। পরে বেলা সোয়া ২টা নাগাদ সচিবালয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়।
বিপর্যয়ের সময় বিদ্যুৎ বিভাগের এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ঢাকা ও চট্টগ্রামের কিছু অংশে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে বিদ্যুৎ সংযোগ পুনর্বহালের কার্যক্রম চলছে। ওই সময় এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘গ্রিড বিকল হয়েছে, তবে কোথায় হয়েছে, সেটা এখনো বলা যাচ্ছে না। আমরা বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরুদ্ধারের কাজ করছি। প্রকৌশলীরা কারিগরি ত্রুটি চিহ্নিত করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এরপর সুনির্দিষ্ট করে বলা যাবে, কোথা থেকে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।’
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) জানায়, গতকাল বেলা ১১টার দিকে দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৪ হাজার ৬০১ মেগাওয়াট। ওই সময় উৎপাদন হয় ১৪ হাজার ৩০৩ মেগাওয়াট। চাহিদার তুলনায় উৎপাদন ঘাটতি ছিল ২৯৮ মেগাওয়াট। তবে এ ঘাটতির সঙ্গে বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কিনা, তা জানা যায়নি।
দেশে এর আগেও জাতীয় গ্রিডে বড় বিপর্যয় ঘটেছে। ২০২২ সালের ৪ অক্টোবর বেলা ২টা ৫ মিনিটে পূর্বাঞ্চলীয় গ্রিডে বিপর্যয় শুরু হয়। এতে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও ময়মনসিংহসহ দেশের বড় অংশ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। বিভিন্ন এলাকায় ৩-৮ ঘণ্টার মধ্যে ধাপে ধাপে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়। তারও আগে ২০১৪ সালের ১ নভেম্বর জাতীয় গ্রিডে বিপর্যয়ের কারণে সারা দেশে প্রায় ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল।









