লন্ডনে সম্প্রতি দুটি প্রদর্শনী হয়ে গেল। দুটির বিষয়বস্তুই ছিল সিল্ক রোড। বিশেষ করে উল্লেখ করা যায় ব্রিটিশ লাইব্রেরিতে যে প্রদর্শনী হয়েছে তার নাম। প্রদর্শনীর নাম ছিল ‘আ সিল্ক রোড ওয়েসিস: লাইফ ইন অ্যানশিয়েন্ট ডানহুয়াং। প্রদর্শনীতে মোগাও বৌদ্ধ মন্দিরের প্রাচীন নথিও প্রদর্শিত হয়েছে। সেগুলো সংগ্রহে ছিল একজন চীনা তাওবাদী পুরোহিতের। তিনি সেগুলো ১৯০৭ সালে বিক্রি করে দিয়েছিলেন অভিযাত্রী ও প্রত্নতাত্ত্বিক অরেল স্টেইনের কাছে।
সেখানে নবম শতাব্দীতে লেখা বজ্রছেদিকা প্রজ্ঞাপারমিতা সূত্রের পুস্তক ও ডুনহুয়াং স্টার চার্ট, যা আকাশ পর্যবেক্ষণের জন্য প্রাচীন অ্যাটলাস। কিছু ডকুমেন্ট পাঠ করে অডিও শোনার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সোগদিয়ান প্রেমের কবিতা শোনার ব্যবস্থা পৃথিবীতে খুব বেশি নেই। তবে ব্রিটিশ লাইব্রেরি সেই সুযোগ করে দিয়েছে।
ব্রিটিশ মিউজিয়ামের সিল্ক রোড প্রদর্শনী আরো বেশি চমৎকার। জাপান ও কোরিয়া থেকে শুরু করে রোম পর্যন্ত স্বর্ণ, চাইনিজ রেশম কিংবা আফ্রিকান হাতির দাঁত। দুর্মূল্যের এমন সংগ্রহশালা গড়ে তোলা হয়েছে লন্ডনে। সেখানে কাঠের তৈরি স্থাপনা, সিরামিকের তৈরি ভাস্কর্য দেখা গেছে। এছাড়া রয়েছে বৌদ্ধ দেয়ালচিত্রের নানা অংশ। সিল্করুট পূর্ব এশিয়া, পশ্চিম ইউরোপ ও আফ্রিকাকে যুক্ত করা সুপার হাইওয়ে। পথটি দিয়ে কেবল বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহন করা হয়েছে, এমন নয়। এ পথে বাহিত হয়েছে দর্শন ও সংস্কৃতিও। গোবি মরুভূমি থেকে পামির পর্বতমালা, কী না সংযুক্ত করেছিল এ পথ। জাত্যভিমানের দেয়াল ছিঁড়ে এটা বৈশ্বিক সংযুক্তি ও পারস্পরিক যোগাযোগের মধ্য দিয়ে একটা নয়া বিশ্ব তৈরির ইঙ্গিত দেয়। তবে সেক্ষেত্রে চীনকেন্দ্রিক সিল্করোডের ধারণা অনেকটা রাজনৈতিক টানাপড়েন তৈরি করেছে আধুনিক দুনিয়ায়।
খ্রিস্টীয় নবম শতাব্দীর পর ইউরোপ-এশিয়া মহাদেশের রাজনৈতিক আর অর্থনৈতিক কাঠামোর পরিবর্তন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে, বিশেষ করে নৌ-পরিবহন প্রযুক্তির উন্নতির কারণে বাণিজ্য ক্ষেত্রে সামুদ্রিক পরিবহন ক্রমেই বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন শুরু করে, ফলে এ স্থলপথের সিল্ক রোডের ক্রমেই অবনতি ঘটে। দশম শতাব্দীতে চীনের সোং রাজবংশের আমলে সিল্ক রোড বাণিজ্যের মাল পরিবহনের পথ হিসেবে আর তেমন ব্যবহার করা হয়নি।









