যুক্তরাজ্যের নীরব, শান্ত কোণগুলো—যেখানে প্রাচীন দেয়ালে কান রাখলে শোনা যায় ইতিহাসের ধ্বনি। স্বাধীন গ্যালারিগুলোয় যেখানে প্রাণ পায় ছোট শিল্প, সেখানে ঘনীভূত হচ্ছে এক নিঃশব্দ সংকট। একসময় কৌতূহলী দর্শনার্থী এবং আগ্রহী শিখিয়েদের ভিড়ে মুখরিত থাকা এ সাংস্কৃতিক রত্নগুলো এখন এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি।

সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণা তুলে ধরেছে কঠোর বাস্তবতা—যুক্তরাজ্যের প্রতি পাঁচটির মধ্যে তিনটি ছোট জাদুঘর ও গ্যালারি রাজস্ব হ্রাস এবং দর্শকসংখ্যা কমে যাওয়ার কারণে বন্ধ হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছে। গো ড্যাডি (Go Daddy) ও কিডস ইন মিউজিয়ামসের (Kids in Museums) অংশীদারত্বে পরিচালিত গবেষণায় ৪০টি ছোট প্রতিষ্ঠানকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যেগুলোয় বছরে লাখের কম দর্শক থাকে। তাদের অনুসন্ধানে স্পষ্ট হয়েছে যে, অতিমারী-পরবর্তী বিশ্ব এই ঐতিহাসিক কেন্দ্রগুলোর জন্য নির্মম হয়ে উঠেছে।

সাম্প্রতিক এ গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের ৭৮ শতাংশই মনে করেন, এটি শিল্পক্ষেত্রের জন্য সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং সময়। এছাড়া অর্ধেকেরও বেশি জানান যে তাদের আয় এখনো মহামারীর আগের স্তরে ফেরেনি। ফ্রান্স, স্পেন, নেদারল্যান্ডস ও আইসল্যান্ডের মতো দেশ সাম্প্রতিক বছরগুলোয় রেকর্ডসংখ্যক দর্শনার্থী পেয়েছে। তবে ইংল্যান্ডের জাদুঘরগুলো এখনো দর্শকসংখ্যার ৮ শতাংশ হ্রাসের সঙ্গে লড়াই করছে, বিশেষ করে নর্থ এবং মিডল্যান্ডস অঞ্চলের ছোট প্রতিষ্ঠানগুলো।

মহামারী-পরবর্তী সময়ে এ মন্থর পুনরুদ্ধারের কারণগুলোও জটিল। জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধি, শিল্প খাতে বিনিয়োগের অভাব এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলোও এর জন্য দায়ী। গবেষণার ফলাফল অনুযায়ী, দর্শনার্থীর সংখ্যা কমার কারণ হিসেবে আর্থিক চাপকে দায়ী করেছেন ৬৪ শতাংশ প্রতিক্রিয়াদাতা। ৬১ শতাংশ জানিয়েছেন, দর্শকদের ব্যয় কমে গেছে। এমনকি যেসব জাদুঘরে প্রবেশ ফ্রি, সেগুলোও সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে, কারণ ভ্রমণের খরচ, স্কুল ট্রিপ বাতিল এবং অর্থনৈতিক অস্থিরতা সম্ভাব্য দর্শনার্থীদের নিরুৎসাহিত করছে।

এদিকে সংকট মোকাবেলায় নিতে হচ্ছে অনেক কঠিন সব সিদ্ধান্ত। প্রায় প্রতি পাঁচটির মধ্যে একটি জাদুঘরকে তাদের প্রোগ্রামিং কমাতে হয়েছে এবং ১৭ শতাংশ জাদুঘর তাদের প্রতিষ্ঠান খোলা রাখার দিন কমিয়েছে। অবশ্য আশার কথা হচ্ছে, জাদুঘরের প্রতি দেশটির জনসমর্থন এখনো বেশ শক্তিশালী। সম্প্রতি আরেকটি জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাজ্যের তিন-চতুর্থাংশ প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক মনে করেন, স্থানীয় জাদুঘর তাদের সম্প্রদায়ের জন্য মূল্যবান। এছাড়া জরিপ অনুযায়ী, অর্ধেকেরও বেশি লোক তাদের স্থানীয় জাদুঘর বন্ধ হলে গভীরভাবে দুঃখিত হবেন।

এদিকে সংকটে থাকলেও কিছুটা আশার আলো দেখতে পাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। চলতি সপ্তাহেই যুক্তরাজ্যের সরকার নগদ-সংকটে থাকা সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ২৭ কোটি ইউরোর তহবিল প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে কিছুটা হলেও জাদুঘর সংক্রান্ত চলমান সংকট নিরসনের প্রচেষ্টা করা হচ্ছে।

কিন্তু তার পরও প্রশ্ন থেকেই যায়—এটি কি যথেষ্ট? দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের সমাধান ছাড়া এ জাদুঘরগুলো ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য টিকে থাকতে পারবে কি?