(পূর্ব প্রকাশের পর)
মনসামঙ্গলে বাংলার মসলিন!
মনসামঙ্গল মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মঙ্গলকাব্য, যেখানে দেবী মনসার মাহাত্ম্য ও বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক প্রসঙ্গ তুলে ধরা হয়েছে। এ কাব্যে বাংলার ঐতিহ্যবাহী পণ্য, বিশেষ করে কাপড়ের উল্লেখ পাওয়া যায়, যা তখনকার অর্থনীতি ও সমাজ ব্যবস্থার প্রতিফলন। মনসামঙ্গলে রাজবাড়ির নারীদের পোশাক হিসেবে এবং উপঢৌকনের অংশ হিসেবে বর্ণিত হয়েছে। বিশেষত বণিক চাঁদ সওদাগরের বর্ণনায় দেখা যায় যে তিনি বিপুল সম্পদের অধিকারী ছিলেন এবং বিলাসবহুল জীবন যাপন করতেন। তার বাণিজ্যিক সম্পদের মধ্যে বস্ত্রের উল্লেখ আছে। এখানে এমন এক বিলাসবহুল বস্ত্র হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে যা পরিধান করলে রূপ আরো উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। যেমন কেতকাদাস ক্ষেমানন্দের মনসামঙ্গলে আছে—
বহুত বসন লয়্যা ধরিল যোগান।।
ক্ষীরোদ তসর ক্ষোম রতন অম্বর।
না ভায় দেবীর মনে রেশমী তসর।।
সোনাগাই পট্টবাস পেলাইল দূরে।
আপন বাছিয়া বস্ত্র বিষহরি পরে।।
রূপার পড়্যান তার হেম গুণাটান।
বিশ্বকর্ম্মা বুন্যাছিল সেই বস্ত্রখান।।
মাপিলে শতেক হাত সমান বসন।
মুঠিতে রাখিতে পারে গুড়াই যখন।।
এ বর্ণনায় উল্লেখিত বস্ত্রাদি যে মসলিন নামক সূক্ষ্ম কাপড়েরই সমজাত বা পূর্বসূরি তা বলাই বাহুল্য।
বাংলার লোকসাহিত্যে সূক্ষ্ম বস্ত্রের উল্লেখ প্রায়ই পাওয়া যায়, যা তখনকার সমাজে এর ব্যবহারের গুরুত্ব ও জনপ্রিয়তা প্রকাশ করে। বিশেষ করে মলুয়ার গান ও মহুয়া পালা—এ দুটি জনপ্রিয় লোকগাথায় উল্লেখ বাংলার ঐতিহ্যবাহী বস্ত্রশিল্পের প্রতিচ্ছবি তুলে ধরে।
গীতগোবিন্দে সূক্ষ্ম, কোমল ও মসৃণ বস্ত্র
জয়দেবের "গীতগোবিন্দ" (১২শ শতক) ভারতীয় সাহিত্য ও সংগীতের এক অনন্য সৃষ্টি, যেখানে কৃষ্ণ ও রাধার প্রেমের কাব্যগাথা বর্ণিত হয়েছে। এ কাব্যে রাধার সৌন্দর্য ও পোশাক বর্ণনায় মসলিনের উল্লেখ পাওয়া যায়—
প্রসারিতা সুগৌরী মৃদুমসৃণবাসিনী,
মলয়সঁচারিত মন্দমারুত।
মেঘমৃদংগরব মন্দিতখেলা,
মলিনমসী শ্যামল কান্তি।"
এখানে ‘মৃদুমসৃণবাসিনী’ শব্দটি সূক্ষ্ম, কোমল ও মসৃণ বস্ত্রের প্রতি ইঙ্গিত করে, যা বাংলার বিখ্যাত মসলিন কাপড়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। রাধার পোশাক বর্ণনায় এ মসলিনের ব্যবহার কাব্যিক সৌন্দর্য ও রাজসিক ঐতিহ্যকে প্রতিফলিত করে। গীতগোবিন্দে মসলিন ব্যবহৃত হয়েছে দেবীসুলভ সৌন্দর্যের প্রতীক হিসেবে, যেখানে এটি রাজকীয় ও ঐশ্বরিক আবেদন বহন করে।
রামপ্রসাদ সেন তার বিদ্যাসুন্দর কাব্যে উল্লেখ করেছেন তৎকালীন প্রচলিত মূল্যবান বস্ত্রের নাম। সেখানে ঢাকাই বস্ত্রের ফিরিস্তি যেমন—
বনাত মখমল পট্ট ভূষণাই খাসা।
বুটাদার ঢাকাইয়া দেখিতে তামাশা॥
মালদই নলাটি চিকন সরবন্দ
আর আর কত কব আমির পছন্দ॥
শুধু ঢাকাই শাড়িই নয়, দূতিবিলাস বইয়ে ভবানীচরণ নায়ক শ্রীদেবীকে কীভাবে সাজিয়েছেন তা লক্ষ করার মতো—
কালা কল্কাদার ধুতি উত্তম ঢাকাই।
পড়িয়াছে সেই বস্ত্র যার সম নাই॥
অজ্ঞাত লেখক রচিত গোপীচন্দ্রের গানের বুঝান খণ্ড অংশে রানীর কাপড়ের বর্ণনায় আছে, আট প্রস্থ কাউয়ারঙ্গি কাপড়েও অঙ্গ দেখা যায়। লক্ষ্মীবিলাসী শাড়ি অনেক দৈর্ঘ্য কিন্তু তা গুটালে মুঠিতে নেয়া যায়।
দুই অঙ্গুলে বাহির কৈল কাপড়া ঝাম্পাখানি॥
প্রথমেতে পিন্ধিল কাপড় কাউয়ারঙ্গি সাড়ি।
আট তরপ পিন্ধিল তবু অষ্ট অঙ্গ দেখি॥
ঐ কাপড় পিন্ধিয়া রানি রূপের দিকে চায়।
মনতে না খায় কাপড় রতিতে বিলায়॥
তার পরে পিন্ধে কাপড় গহুর রঙ্গের সারি।
গহুর রঙ্গি সাড়ি পিন্ধিয়া রূপের দিকে চায়।
মনতে না খায় কাপড় বান্দিক বিলায়॥
তার পিছে পিন্ধে কাপড় লক্খিবিলাসি সাড়ি।
লক্খিবিলাসি সাড়ির কথা কহনে না জায়।
দিঘল কৈল্লে সেই কাপড় মথুরাগঞ্জ জায়॥
গোটা কৈল্লে সেই কাপড় মুটুতে লুকায়॥
ব্রিটেনে উইলসন তাঁতকাজে নিয়োজিত থাকাকালীন কৌতূহলোদ্দীপক এ প্রচারপত্রের নামকরণ করেছিলেন ‘বাহারি বিজ্ঞাপন’! তিনি সেই বিজ্ঞাপন এমন সব লোকের হাতে দিতে চেয়েছিলেন যারা তার কাজে উৎসাহী হবেন। তিনি তাতে রসিকতার সঙ্গে ফেরিঅলার ঢঙে একটা একটা করে বিচিত্র সব বস্ত্র পণ্যের তালিকা নিষ্পত্তি করতে সচেষ্ট হয়েছেন। এতে তিনি এমন তথ্যও দিতে চেয়েছেন যে তিনি একজন কবি যিনি কিনা তাদের পৃষ্ঠপোষকতা ও উৎসাহ প্রত্যাশা করেন। এই কৌতূহলী কাব্যিক প্রচারপত্রের পাঁচটি স্তবকে তিনি নারীদের সম্বোধন করে তার বিজ্ঞাপনী বার্তা উত্থাপন করেছেন। চলুন পাঠ করা যাক:
‘সুন্দরী মা বইনেরা, একটু সময় চাই আপনাগো এবেলা,
ততক্ষণ, দেখবেন আর বাছবেন বস্ত্র আছে ম্যালা,
দারুন সব মসলিন, করতে পারবেন বাহারি ব্যবহার,
কবি নিয়া আইছে এসব বেচা বিক্রি করবার।
এখানে আছে মোলায়েম রুমাল, সাদা মসলিন খাসা,
বুটিদার, ডোরাকাটা, মখমল আর চৌখুপি নকশা;
সুদর্শন কামদেবের জন্মদিনে মোহনীয় প্রেমদেবী কয়,
বিলাতে তৈরি মসলিনে শত নকশার বাহার হয়।
আছে সস্তা থেকে দামি নানা জাতের মসলিন।
মাত্র এক শিলিং দামে কিনবেন এক ডজন,
এ বস্ত্র পরিধানে হবে অপরূপা পোয়াতির দেবী,
কোজেনস হতে বুড়ো বজ্র দেবী যার যা খুশি।
আছে কোমল চকচকে অসংখ্য মসলিন,
অস্বচ্ছ ফুটি ফুটি নকশা সেলাইকরা;
সীবন-চাকে হাতে তোলা ফুল লতাপাতা কত,
আছে টুপি, কটি, এপ্রোন আর গাউন যত।
দেখে বেছে পছন্দ কইরা লইলে খুব খুশি হই,
আসেন ত্বরা কইরা আপনাগো বেবাক বস্ত্র দেখাই;
ফেরিঅলার কিছুই বিকোবে না তা কি করে হয়,
জানি, কবির আশা পূরণে আপনারা হইবেন সহায়।’
উইলসন যখন মসলিন নিয়ে কবিতা লিখছেন তার সমসাময়িক কালে বাংলায় লেখা হচ্ছে হাটে বিক্রয়ের জন্য আসা ঢাকাই মসলিন বাখান।
আর এক নারী বেচে কার্পাসের বাস।
বেশে দেয় পরিচয় ঢাকায় নিবাস॥
বিমল বারির স্রোত নাম আবরোঁয়া।
পুরাথান বশবিলে সুখে যায় থোয়া॥
অনুপম শবনম সূক্ষ্ম অতিশয়।
নিশীর শিশিরে যাহা দৃশ্য নাহি হয়॥
বিবিধ বিচিত্র পুষ্পদাম বিখচিত।
জামদান কামদান রমণী রচিত॥
হাটে ঢাকার নারীর কার্পাস বস্ত্রের পসরার বর্ণনায় বলা হচ্ছে, আবরোঁয়া যা বারির স্রোতসম, শবনম অতিশয় সূক্ষ্ম, যা শিশিরে ভিজলে অদৃশ্য হয়।
অনামা এক রচয়িতা বাংলার মসলিন বস্ত্রের আলামত বর্ণনা করেছেন:
বাংলার ঘরে খাল বিল হাওর নদীর তীরে,
তাঁত বুনে গড়েছিল শিল্পীরা যে বস্ত্র ধীরে।
নরম মসলিন বস্ত্র, যেন বাতাসে ভেসে যায়,
ফুটি তুলার গন্ধে মাখা, সফেদ এক মায়ায়।
বিদেশের মণিমুক্তা হার মেনেছে যার কাছে,
মসলিনের ঐ জাদু আজও অমর বাংলার মাঝে।
যুগে যুগে ইতিহাসে লেখা সে বস্ত্রের আলামত,
মসলিনের বয়ন ঐতিহ্য বাংলার শ্রেষ্ঠ সম্পদ।
‘হাটু ঢাকা বস্ত্র দিবে পেট ভর্যা ভাত। সাশুড়ি হইয়া ধরে জামাতার হাত।’ মেয়ের জামাইকে সামান্য বস্ত্র ও পেট ভরা ভাত খেতে দেয়ার অনুরোধের সে সময়ে মূল্যবান বাহারি বস্ত্র যে সাধারণের নাগালে ছিল না তা বলাই বাহুল্য। তা ছাড়া বস্ত্র পরার ক্ষেত্রে ধনী-দরিদ্রের ভেদ সুস্পষ্ট ছিল, কারণ বস্ত্র পরার ক্ষেত্রে দরিদ্রের বিলাসিতার কোনো সুযোগ ছিল না। ক্ষুধার অন্ন জোগাড় করার জন্যই তাদের আয়ের অধিক অংশ চলে যেত, তাই অনেক সময় ছেঁড়া কাপড় পরেই লজ্জা নিবারণের চেষ্টা করত। এই দারিদ্র্যের ছবি আমরা দেখি ‘শিবায়ন’ কাব্যে। ‘গৌরীর বাল্য খেলা’ অংশে লক্ষ্মী-নারায়ণের বিয়ে উপলক্ষে বর-কন্যা বিদায় অংশে গৌরী বলেছেন:
‘আঠু ঢাক্যা বস্ত্র দিবা পেট ভরা ভাত।’
রামেশ্বর ভট্টাচার্য্য ‘শিবায়ন’ কাব্যে বাগ্দনীর বস্ত্রের যে বর্ণনা দিয়েছেন তা অনেকটাই পূর্বোক্ত
বর্ণনার অনুরূপ।
‘দুহাতে দুগাজি মেটে কাপড় পরেছে এঁটে
খাট করি হাটুর উপর।’
অন্যত্র আছে:
‘কহিলে বিরস কথা সরস বাখানে॥
পেটে অন্ন হেটে বস্ত্র জোগাইতে নারে।’
লোকসমাজে এককালে সাধারণের বাহারি বস্ত্রের ব্যবহার সীমিত ছিল তা অনুমেয়। তবে কাব্যে গাথায় গানে বাহারি উন্নত বস্ত্রের নানা উল্লেখ পাওয়া যায়। কিন্তু সেসবে ইউরোপীয় বস্ত্র বাণিজ্যের ব্র্যান্ড নেইম হয়ে ওঠা ‘মসলিন’-এর উল্লেখ নেই!
বাংলার বস্ত্র শিল্পের ইতিহাসসংশ্লিষ্ট বইপত্রে এমনভাবে বর্ণিত যে মসলিন নামের বস্ত্র খ্রিস্টীয় প্রথম শতক কিংবা তারও আগে থেকেই প্রচলিত বলে ধোঁয়াশাপূর্ণ তথ্য সন্নিবেশিত! এ ক্ষেত্রে পেরিপ্লাস অব দি ইরিথ্রিয়ানসি গ্রন্থের উল্লেখ লক্ষণীয়। পেরিপ্লাসে বর্ণিত গঙ্গাটিকি বা গঙ্গাতিকি, গেনজেটিক তথা গঙ্গাজলীর নাম নিয়ে শেষতক মসলিনে এসে ঠেকে থাকবে। বলাবাহুল্য বাংলার সূক্ষ্ম বস্ত্রের বয়স হাজার হাজার বছর। তবে মহাঢ্য মসলিন সম্পর্কে সাক্ষাৎ পরিচয় না থাকায় হয়তো ব্যাপকভাবে আপামর লোকজীবনে তার কথা উঠে আসেনি! এ বিষয়ে খগেশ কিরণ তালুকদার তার (বাংলাদেশের লোকায়ত শিল্প, পৃষ্ঠা ৫৯, বাংলা একাডেমি) আলোচনায় বলেছেন, ‘বস্ত্রবয়ন শিল্পের সূতিকাগার বাংলার জগদ্বিখ্যাত বস্ত্রের সঙ্গে সাধারণ বাঙালির সম্পর্ক খুবই ক্ষীণ।’ ‘মসলিন’ নামটি প্রাচীন বাংলার সাহিত্যিক ঐতিহ্যে গরহাজির, কিন্তু এর অস্তিত্ব আমরা মঙ্গলকাব্য ও লোকসাহিত্যে সূক্ষ্ম, মিহি, চিকন কাপড়ের উল্লেখের মাধ্যমে খুঁজে পাই। এটি প্রমাণ করে যে মসলিন বাংলার সংস্কৃতি ও অর্থনীতির সঙ্গে জড়িত ছিল ঠিকই, তবে বাণিজ্য পণ্য নাম ব্যবহারের কারণে ‘মসলিন’ শব্দটি প্রাচীন বাংলা সাহিত্যে বহুল পরিদৃষ্ট নয়। মঙ্গলকাব্য ও লোকগাথায় মসলিনের পূর্বসূরির যে ছায়া পাওয়া যায়, তা আমাদের হারিয়ে যাওয়া সূক্ষ্ম বস্ত্র তথা মসলিন ঐতিহ্যের স্মৃতিচিহ্ন হিসেবেই রয়ে গেছে।
মোগল আমলের আগে ঢাকার মসলিনের কোনো উল্লেখ পাওয়া যায় না। মোগল সম্রাট জাহাঙ্গিরের সময়ই প্রথম মসলিনের (মসলিনসদৃশ্য বস্ত্রের) কথা শোনা যায়। কিন্তু বাংলার সূক্ষ্ম সুতি কাপড়ের কথা বলা হয়েছে। তা ছাড়া পেরিপ্লাস থেকে শুরু করে সোলেইমান, ইবনে বতুতা, রলফ ফিচ বা এমনকি আবুল ফজল পর্যন্ত সবাই ঢাকার সূক্ষ্ম এবং অপূর্ব সব কাপড়ের কথা বললেও কেউ কিন্তু মসলিন শব্দটি ব্যবহার করেননি। খুব সম্ভবত সপ্তদশ শতকের মাঝামাঝি পর্তুগিজ পর্যটক সেবাস্টিয়ান মানরিক (Sebastian Manrique) এবং ইংরেজ পর্যটক টমাস বাউরি (Thomas Bowery) প্রথম মসলিন শব্দটি ব্যবহার করেন।
‘নানি আজকালের মসলিনে বিরক্ত;
তার কাছে সেটা ভারী কর্কশ।
শুধু শরতের ভোরে, ফজরের ওয়াক্তে
তিনি মাঝে মাঝে বাতাসে
আদি মসলিনের স্পর্শ পান।’
এই রচনা কেবল ‘বই-পড়া চোখ’ দিয়ে তাঁত কারিগর মানুষের অতীত কর্মকাণ্ডকে বোঝার ধাত বা কেবল বইয়ের পড়াকেই যারা একমাত্র যথার্থ বিবেচনা করেন তাদের কাছে ঘোর অসংগতি বর্ণন মনে হতে পারে। কেননা বইয়ে মুদ্রিত উপচানো তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখার প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে জিজ্ঞাসার আলোকে দেখতে না চাওয়া প্রচলিত বুঝবাজ এর প্রতি পক্ষপাত। তথ্য তাৎপর্য অনস্বীকার্য নয়, তবে ইতিহাসের নানা ‘বিভ্রম’ কাটাতে অনুসন্ধিৎসা না থাকলে তা হয়ে উঠতে পারে নিষ্প্রাণ চর্চা। বাঙলার বয়ন কারিগরির সূক্ষ্ম সুতিবস্ত্র পরম্পরার বয়স কত? মসলিন নামের সঙ্গে এ পরম্পরার যোগসূত্র কত প্রাচীন? এ কথা অনস্বীকার্য যে বাঙলার লোকায়ত কারিগরি শিল্পের বয়ন শাখাটিও ছিল অত্যন্ত বিস্তৃত যাপন সংস্কৃতির অংশ। এ নিয়ে প্রাচীন বাঙলায় কথাকাব্যে তার প্রতিফলন পরিদৃষ্ট। ঢাকার সূক্ষ্ম বস্ত্রের মসলিন নামটি যখন যেভাবেই পরিচিতি লাভ করুক না কেন তা ঢাকার সুকুমার বস্ত্রেরই উত্তরসূরি। সে অর্থে ‘মসলিন’ নামের অনুপস্থিতি বা অনুল্লেখকে কীভাবে দেখব? এমন মামুলি প্রশ্নের উদ্রেক থেকেই ব্র্যান্ড নেইম মসলিনের পূর্বসূরির তত্ত্বতালাশ।
‘শাবাশ শাবাশ তোরে ঢাকা জনপদ।
শিল্প চাতুরীতে তোর অতুল সম্পদ॥
পরাভূত সবে বটে কৈল বাস্পকল।
কিন্তু জয়ী তব শিল্প-চাতুর্য্য, কৌশল॥
এখানেই ‘মহার্ঘ্য মসলিন মঞ্জিমা’ শীর্ষক বস্ত্র নাম মাহাত্ম্যের তত্ত্বতালাশ আপাতত সমাপন।
লেখক: শিল্পী ও সমালোচক









