জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার আন্দোলন ও পরবর্তী সময়ে সমাজের সামষ্টিক মনস্তাত্ত্বিক দৃশ্যপটকে শিল্পীর অন্তর্দৃষ্টিতে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে বেঙ্গল শিল্পালয়ে চলমান ‘‌বডি অ্যান্ড দ্য ম্যাপ’ শিরোনামের প্রদর্শনীতে। ১০ শিল্পী তাদের সময়কে ধরতে চেয়েছেন শিল্পকলার বিভিন্ন মাধ্যমকে ব্যবহার করে। সমাজ-রাজনীতির ঢেউ কীভাবে শিল্পীকে আচ্ছন্ন করে, তার প্রতিক্রিয়া তাদের শিল্পকর্ম নির্মাণে কেমন ভূমিকা রাখে তা যেন এখানে স্পষ্টতর হয়েছে। প্রদর্শনীতে অংশ নেয়া পাঁচ শিল্পীর কথা শুনেছেন শানজিদ অর্ণব

সাইকিক স্পেসটাকে উপস্থাপনের চেষ্টা করেছি —মং মং শে

39

বিগত দিনগুলো, অর্থাৎ বিগত শাসনামল—গত ১৫-১৬ বছরকে যদি ফিরে দেখি তাহলে এ সময়টাতে আমরা যে জিনিসটা দেখতে পাব সেটা হলো চূড়ান্ত রকমের শারীরিক অবক্ষয়, মানুষ মরছে, গুম হয়ে যাচ্ছে, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হচ্ছে, তারই ধারাবাহিকতা হিসেবে গত জুলাইয়ের গণহত্যা দেখলাম, শত শত আহত ও নিহত শরীর দেখলাম। এ শারীরিক ক্ষয়, মানুষের মৃত্যু, সামাজিক অবক্ষয়, নানা ঘটনার বিষয়বস্তু হলো আমার কাজের মূল চিন্তা। প্রদর্শনীতে আমার তিনটা মিডিয়ামের কাজ আছে। তার মধ্যে একটা হলো ভিডিও ইনস্টলেশন। নাম দিয়েছি এরোড, মানে যেটা ভেতর থেকে ক্ষয় হয়। ভেতর থেকে ক্ষয়ের উপস্থাপনাটা কেন? আমাদের প্রদর্শনীতে যেটা মূল ভাবনা সেটা হলো শরীর ও মানচিত্র। আপনি একটা স্পেসে স্বাধীন সার্বভৌম শরীর নিয়ে জন্মেছেন। এ স্পেস আপনাকে কীভাবে নির্মাণ করছে? একটা মানচিত্র বা একটা দেশে আপনি বসবাস করছেন, একটা স্ট্রাকচারের মধ্যে থাকছেন, তার দ্বারা আপনি বা আমি কীভাবে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছি। এ কাঠামোটা যখন ফ্যাসিস্ট হয়ে ওঠে তখন সে নিজের স্বার্থে বাকিদের ওয়াইপ আউট করার চেষ্টা করে। অন্যদের কথা না শোনা, আবার অন্যদের ভিন্নমত শুনলে তাদের শারীরিকভাবে আক্রমণ করা—আমরা তো এ রকম রাষ্ট্র কাঠামো চাইনি। এ ধরনের মানচিত্র তো আমরা চাইনি। যে জনআকাঙ্ক্ষা নিয়ে একাত্তর হয়েছে সেখানে তো এ রকম কিছু ছিল না। সমাজে এ সাইকোলজিক্যাল লেয়ারটা আমার কাজে এসেছে। নানা ধরনের ফুটেজ, বিক্ষোভ, সমাবেশ দেখা যাবে—এ সাইকিক স্পেসটাকে উপস্থাপনের চেষ্টা করেছি। এ স্পেস একদিকে হরর এলিমেন্ট দিয়ে ভরা আবার রানিং মাইন্ড প্রজেকশনের স্ট্রিমিংটা ধরার চেষ্টা করেছি। এটা সমাজের কালেকটিভ একটা পরিস্থিতিকে তুলে ধরা। এখানে বিভিন্ন এলিমেন্ট আছে—ফুটেজ আছে, অ্যানিমেশন, অ্যাফেক্ট—সব মিলিয়ে এ ভিডিও ইনস্টলেশনটা তৈরি করেছি। আমরা তো সমাজের ভেতরে থেকেই জীবনকে যাপন করি। এমন না যে আমি ছবি আঁকি বলে সমাজের ঘটনা থেকে বিচ্যুত হয়েছি। সমাজে কিছু ঘটছে, আমি তার সঙ্গেই আছি। এগুলো আমার মনে যে প্রভাব রাখছে তা থেকেই এ কাজের ভাবনা আসে। ভিডিও ফরম্যাট কেন বেছে নিলাম? কারণ পেইন্টিংয়ের চেয়ে এ সাইকিক স্পেসটা তৈরি করতে ভিডিও ব্যবহার করা বেশি কার্যকর মনে হয়েছে। ঘটনার ফুটেজ-সংশ্লিষ্ট অনুভূতি ও আবহকে আরো ঘনিষ্ঠ করেছে।

‘‌আজাদী’ শব্দটা কেন বেছে নিলাম? —ফারজানা আহমেদ উর্মি

যে রক্তের দাগ মুছে যাওয়ার আগেই আমরা তার কারণ ভুলে যাই তেমন মৃত্যু সংখ্যা যতই হোক তা অর্থহীন হয়ে যায়। আমরা কেবল মৃত্যু একটা সংখ্যা হিসেবে দেখতে থাকি। দুর্বিষহ হয়ে ওঠে জীবন যখন সেই মৃত্যু নিজের গণ্ডিতে হয় তার আগ পর্যন্ত আমরা চোখ, কান, মুখ সব বন্ধ করে বসে থাকি।

40

এ প্রতিবন্ধী অবস্থানই আমাদের ধীরে ধীরে অথর্ব করে ফেলে। ভাবনার সব দরজা বন্ধ হয়ে যায়, আমরা এমন এক সমাজে বসবাস করতে শুরু করি যেখানে ক্রমাগত অন্যায়ের পাহাড় তৈরি হয়। বিষয়গুলো অনুধাবন করতে আমাদের অনেক সময় লেগে যায়, কারণ যখন আমরা অন্যায়ের ভেতর থাকি তখন অন্যায়ও ন্যায়ের মতো লাগে।

তারপর একসময় যখন সবকিছুর সীমা লঙ্ঘিত হয় ঠিক তখন আমরা দেয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করি যার ফল গত জুলাই আন্দোলন। যে আন্দোলন আমার অন্তরের অন্তস্তল কাঁপিয়ে দিয়ে গেছে আবার ভাবতে বাধ্য করেছে যে সীমা লঙ্ঘনকারীরও সীমা আছে। আমার গত তিন মাসের ক্ষোভ তাই প্রকাশিত হলো এ টুকরো টুকরো প্রতিবাদ ছবিতে।

কাজটা শুরু করি সেপ্টেম্বর থেকে। আমাদের কিউরেটর শার্মিলি রহমান আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি জানান যে আমরা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময়টা ধরতে চাই। তখন আমিও ভাবি। সেই ভাবনাটা শুরুতেই বলেছি। কিন্তু যেটা হয় যে কাজ শুরু করে ফ্রেমের মধ্যে থাকা যায় না। সেটাকে ভেঙে নতুন জায়গায় পৌঁছতে হয়। আমার কাজগুলো খেয়াল করলে দেখা যাবে এতে মোবাইলে স্ক্রল করার মতো একটা ব্যাপার আছে। প্রতিদিন সকালে আপনি নতুন নতুন খবর পাচ্ছেন। প্রতিনিয়ত পরিস্থিতি বদলে যাচ্ছে। জুলাই-আগস্টের পর নতুন নতুন প্রেক্ষাপট আসছে। অভ্যুত্থানের সময়টা এখন আমাদের জন্য স্টিল, সেটা হয়ে গেছে, অতীত। আমার কাজে এ অতীত ও বর্তমানের একটা কম্বিনেশন দেখবেন। একই সঙ্গে বৈশ্বিক ছাপও দেখবেন। কারণ আমরা কোনো কিছুর বাইরে নই। আমার কাজের শুরুতেই ফিলিস্তিনের পোর্ট্রেটটা দেখতে পাবেন। তার ভেতরে দেখবেন আজাদী শব্দটা। এটা চট্টগ্রামের আজাদী পত্রিকার মাস্টহেড ব্যবহার করে করা হয়েছে। একদিন সকালে মনে হয় ফিলিস্তিনে মানুষ—শিশুদের মৃত্যুর এ খবর আর নিতে পারছি না। সেদিন ফিলিস্তিনে খুব বড় একটা আক্রমণ হয়। তখন মনের মধ্যে একটা তোলপাড়। মনে হলো ফিলিস্তিনের একটা পোর্ট্রেট আঁকব। ফিলিস্তিনের পতাকাটা আঁকলাম, এখানে কোনো নির্দিষ্ট ফর্ম বা ম্যাপ পাবেন না। কিন্তু এটাকেই একটা ম্যাপ ভাবলাম এবং কিছুদিন পর আজাদী শব্দটা কানেক্ট করি। প্রশ্ন হতে পারে আজাদী শব্দটা কেন বেছে নিলাম? আজাদী উর্দু শব্দ। উর্দু ভাষা একসময় এখানে বিশেষ ভাষা ছিল, পরে একসময় আমরা আন্দোলন করে বাংলা ভাষাকে প্রতিষ্ঠা করেছি। এখন যদি দেখি আমার পাহাড়ের ভাষাকে কিন্তু ভাষা বলে নিচ্ছি না। সাম্প্রদায়িক জায়গা থেকে তার ধর্মকে নিচ্ছি না। এ রকম অনেক প্রতিবন্ধকতা আছে। আমি আসলে এসব কিছু থেকে আজাদী চাই। আমার অনেক প্রশ্ন আছে। সেগুলোর জবাব আমার কাছে নেই, কিন্তু আমি সেগুলো খুঁজছি।

সময়ের ডিমান্ড করা ভাষাকে প্রকাশের চেষ্টা করেছি —এ. এছেন

আমরা দেখি ক্ষমতাকাঠামো যেভাবে গড়ে উঠেছে, সেটা সবসময় মানুষের বিপরীতেই ব্যবহার হয়েছে। যদিও ক্ষমতাকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে মানুষের কল্যাণে, কিন্তু যে বা যারা ক্ষমতায় থাকেন, তারা নিজের মতো করে এ ক্ষমতাকাঠামোকে নিয়ন্ত্রণ করেন। কিন্তু তাতে সাধারণ মানুষ, যাদের জন্য ক্ষমতাকাঠামো গড়ে ওঠে, তারা চাপে পড়ে যায়। তাদের স্বতঃস্ফূর্ত অধিকার থেকে তো বঞ্চিত হয়, এমনকি মানুষের স্বাভাবিক যাপনের প্রক্রিয়াটা লড়াইয়ে পরিণত হয়ে যায় তাদের অজান্তেই।

41

খেটে খাওয়া মানুষ রাজনীতিকে অতটা পছন্দ করে না। কিন্তু ক্ষমতাতন্ত্র তাদের নিয়েই গঠিত-পরিচালিত হয়, অথচ ক্ষমতার অংশীদার হিসেবে আমরা জনতাকে সেখানে পাই না।

আমি চাই আমার কাজ বা শিল্পকর্ম দর্শক নিজের মতো করে হৃদয়ঙ্গম করবে। এ প্রদর্শনীতে আমার তিনটি চিত্রকর্ম আছে, যেগুলো ২০২১ ও ২০২২ সালে এঁকেছিলাম। আমাদের কিউরেটর শার্মিলি রহমান আমার কাজ নিয়ে আগ্রহী ছিলেন। তিনি মনে করছেন আমার এ তিনটা কাজ প্রদর্শনীর কনসেপ্টের সঙ্গে যায়। অনেকে বলেন, ‘‌শিল্পীরা ভবিষ্যৎ দেখতে পায়, অনেকটা সে রকম হয়েছে।’

এছাড়া সিরিজ কাজটা সাম্প্রতিক সময়ে করা। এখন যে পরিস্থিতিতে আমরা আছি, সেখান থেকে ভবিষ্যতে কী হবে তা নিশ্চিত বোঝা যাচ্ছে না, আমরা অনুমান করতে পারছি না। আমরা যারা ভাবতে পছন্দ করি, তাদের তো সমাজের কালেকটিভ কনশাসনেস সবসময় ভাবাতে থাকে। সমাজের নাগরিক হিসেবে আপনি না চাইলেও চারপাশের ঘটনা আপনাকে ভাবতে বাধ্য করবে। আমি একটা আশা নিয়ে এঁকেছি। আশা করি আমরা গড়ে তুলতে পারব। সবার মধ্যে মূল্যবোধ জাগ্রত হবে। সে রকম গড়ে তুলতে পারার চেষ্টাই আমি কাজে দেখিয়েছি। জুলাই অভ্যুত্থান অতীত হয়েছে। এখন আমরা সময়কে যেভাবে যাপন করছি, যে ভাষা ডিমান্ড করছে আমরা সে ভাষাকেই প্রকাশ করার চেষ্টা করেছি।

ফেলে দেয়া কিছু কাগজের মধ্যে আঁকাআঁকি শুরু করি —রাসেল রানা (সাজান)

42

আন্দোলনের সময় থেকে আমি এখন পর্যন্ত যে কাজগুলো করছি, সেগুলোর নাম দিয়েছি কাঙ্ক্ষিত শান্তি বা ডিজায়ার্ড পিস। এ সিরিজের আছে বডি অ্যান্ড দ্য ম্যাপ প্রদর্শনীতে স্থান পাওয়া আমার কিছু ড্রইং, ইনস্টলেশন স্কাল্পচার প্রভৃতি। প্রদর্শনীতে স্থান পাওয়া ড্রইংগুলোর নাম নাইটমেয়ার সিরিজ। আন্দোলনের সময়টায় খুব ট্রমার মধ্যে ছিলাম আমি। দিনের বেলা আন্দোলন করতাম, রাতে ঘুমাতে পারতাম না। একদম ঘুমহীন টানা কয়েক রাত গেছে। তখন সময় কাটাতে গিয়ে রাতে আমি পেইন্টিং করতে বসতাম। আমি সাধারণত রিয়েলিস্টিক পেইন্টিং করি, কিন্তু সে রকমটা করার মতো ধৈর্য বা মানসিক অবস্থা আমার তখন ছিল না। তখন আমি ফেলে দেয়া কিছু কাগজের মধ্যে আঁকাআঁকি শুরু করি। দিনে আমি আন্দোলনে পারফর্ম করেছি অ্যাঞ্জেলিক হয়ে। ওই অ্যাঞ্জেলিক ফর্মে আমি কাগজে দাগাদাগি করতাম। সারা দিন যে শব্দগুলো আমাকে ট্রিগার করত সেগুলো টুকে রাখতাম কাগজে। এভাবেই দিনগুলো কেটেছে। দেখা গেল যে কাগজে আমি লিখছি, আঁকছি তাতেই চা ঢেলে দিয়ে চায়ের প্রলেপ দিচ্ছি, কালিগুলো হয়তো মুছে যাচ্ছে, তার ওপরই পরদিন আবার স্কেচ করছি। এভাবেই আমার কিছু কাজ তৈরি হয়েছিল। ওই কাজগুলোই এখানে উপস্থাপন করা। এগুলো সবই আন্দোলনের সময়কার কাজ—নাইটমেয়ার সিরিজ।

দুটি স্মৃতির উপস্থাপন—পলাশ ভট্টাচার্য

দুটি স্মৃতি নিয়ে এ কাজের প্রক্রিয়াটি শুরু হয়। প্রথমটি হলো জুলাইয়ের যে সময়গুলোয় যখন ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ ছিল সে সময় যে তথ্যমাধ্যম বা গণমাধ্যমগুলোর ওপর ব্যক্তিগত নির্ভরতা ছিল, তার মধ্যে বিশেষ মাধ্যম দুটি ছিল সংবাদপত্র ও টেলিভিশন। সেই সময়টিতে বিভিন্ন যোগাযোগের সীমাবদ্ধতার ভেতর পত্রিকা অথবা টিভি-নির্ভরতার ওপর ভিত্তি করে সঞ্চিত অভিজ্ঞতাগুলোর কিছু অংশকে ভিডিও ও ইমেজের সমন্বয়ে শিল্পকর্মের প্রক্রিয়াটুকু শুরু করা হয়, যা পরবর্তী সময়ে শরীর ও মানচিত্রে শিরোনামে বেঙ্গলের এ প্রদর্শনীতে সিঙ্গেল চ্যানেল ভিডিও ও পাঁচটি ডিজিটাল কোলাজ ইমেজের সমন্বয়ে প্রদর্শিত হচ্ছে। এ কাজের শিরোনাম ‘লগ আউটের দিনগুলি’।

43

দ্বিতীয়টি আগস্টের মাঝামাঝি সময় একটি মব সৃষ্টি হতে যাওয়ার মুহূর্তে একটি ছোট সাংস্কৃতিক সমাবেশ বানচাল হয়ে যাওয়ার ঘটনা চোখে পড়ে। সেই ঘটনা নজরে আসার পর অভিজ্ঞতাটিকে সেলফোনের ক্যামেরায় নথিবদ্ধ করতে গেলে সেটি ওই হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এ অভিজ্ঞতা ও সেলফোনটি ব্যবহার করে দুটি ভিডিওসহ একটি মাইক্রোফোনের শব্দ, বাংলা ও ইংরেজি অক্ষরের বিন্যাসে এলইডি নিয়ন ব্যবহার করে শিল্পকর্মটি নির্মাণ করি। এখানে প্রজেক্টরে লুপে চলতে থাকা প্রথম ভিডিওটি সেই ক্ষতিগ্রস্ত মোবাইল ফোন ব্যবহার করে একটি পারফরম্যান্স ধারণ করা হয়। পাশাপাশি সেই ক্ষতিগ্রস্ত মোবাইলটির একটি বিশেষ ইমেজ ভিডিওর কাউন্টার গেজ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। আরেকটি ভিডিওতে একটি টিভি মনিটরে ভাঙা গ্লাসের সঙ্গে একটি ম্যানিপুলেটেড ফাউন্ড ভিডিওকে উপস্থাপন করে এবং ভিডিওর সঙ্গে একটি সক্রিয় মাইক্রোফোন জুড়ে দেয়া হয়েছে। এ কাজের শিরোনাম ‘ভাঙা গ্লাস’।