বৈরী আবহাওয়া ও উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে বেড়েছে ভারতীয় চালের দাম। বাজারের ক্রমবর্ধমান চাহিদা এবং ধান সংগ্রহের উচ্চ খরচের কারণে গত সপ্তাহে দেশটির চাল রফতানি মূল্য এক বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চে পৌঁছেছে।

বাজারের তথ্যানুযায়ী, ভারতের ৫ শতাংশ খুদযুক্ত সেদ্ধ চালের দাম টনপ্রতি ৩৭৮-৩৮৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা গত সপ্তাহে ছিল ৩৭৫-৩৮১ ডলার। ২০২৫ সালের জুলাইয়ের পর এ জাতের চালের এটিই সর্বোচ্চ দাম। অন্যদিকে ভারতের ৫ শতাংশ খুদযুক্ত আতপ চাল বিক্রি হচ্ছে ৩৭৭-৩৮২ ডলারে।

মুম্বাইভিত্তিক ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, চাল উৎপাদনকারী অঞ্চলগুলোয় প্রথমে খরা এবং পরবর্তী সময়ে আকস্মিক বন্যায় ফসলের অবস্থা আগের চেয়ে খারাপ হয়েছে। ফলে স্থানীয় বাজারে ধানের দাম বেড়েছে এবং রফতানিকারকরা চালের দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছেন। সংশ্লিষ্ট শিল্প কর্মকর্তারা রয়টার্সকে জানান, এবার খরা ও বন্যার কারণে ১০ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো ভারতে চাল উৎপাদন কমতে যাচ্ছে। এমনকি এটি প্রায় দুই দশকের মধ্যে উৎপাদন কমার সবচেয়ে বড় ঘটনা হতে পারে।

এশিয়ার অন্য রফতানিকারক দেশগুলোয় চালের দামে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। থাইল্যান্ডে ৫ শতাংশ খুদযুক্ত চালের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। সেখানে প্রতি টন চাল বিক্রি হচ্ছে ৪৬০ ডলারে। ফিলিপাইনসহ নিয়মিত ক্রেতাদের চাহিদা অব্যাহত থাকায় দাম স্থিতিশীল রয়েছে বলে জানিয়েছেন থাই ব্যবসায়ীরা। ফিলিপাইনে সম্ভাব্য সামুদ্রিক ঝড়ের কারণে অতিরিক্ত চাল ক্রয়ের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। থাইল্যান্ডে এখন ধান কাটার মৌসুম চলছে। অক্টোবর ও নভেম্বরে বৃষ্টির কারণে কিছু ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

অন্যদিকে ভিয়েতনামে অভ্যন্তরীণ সরবরাহ কম থাকা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা মন্দা থাকায় চালের দাম সামান্য কমেছে। দেশটিতে ৫ শতাংশ খুদযুক্ত চালের দাম টনপ্রতি ৪২০-৪৩০ ডলারে নেমেছে। ভিয়েতনামের কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) দেশটির চাল রফতানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬ দশমিক ১ শতাংশ কমেছে। ফলে রফতানি আয় ১০ দশমিক ৯ শতাংশ কমে ৩১০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে।