একটি সিনেমা নির্মাণের পর তার যাত্রা কোথায় গিয়ে শেষ হয়? প্রেক্ষাগৃহের পর ওটিটি, টেলিভিশন, আন্তর্জাতিক বাজার কিংবা ডিজিটাল প্লাটফর্মে কীভাবে একটি চলচ্চিত্র নতুন দর্শক ও আয়ের পথ তৈরি করতে পারে? এসব প্রশ্নকে সামনে রেখে বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ ও লেখালিখির যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে দিনব্যাপী কর্মশালা ‘ফিল্ম বিজনেস ৩৬০ ডিগ্রি: সিনেমার আয়পথ, ডিস্ট্রিবিউশন অ্যান্ড নিউ মার্কেটস’। কর্মশালায় চলচ্চিত্রের ব্যবসায়িক সম্ভাবনা, ডিস্ট্রিবিউশন, রাইটস, লাইসেন্সিং এবং নতুন বাজার নিয়ে আলোচনা করেন চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্টরা।

কর্মশালায় চলচ্চিত্রের সম্ভাব্য বিভিন্ন আয়ের পথ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এর মধ্যে ছিল থিয়েটার রিলিজ, ওটিটি ও স্ট্রিমিং, টেলিভিশন রাইটস, আন্তর্জাতিক সেলস ও ডিস্ট্রিবিউশন, ফেস্টিভ্যাল ও গ্রান্ট, ব্র্যান্ড প্লেসমেন্ট ও স্পনসরশিপ, ইউটিউব ও ডিজিটাল মনিটাইজেশন, এয়ারলাইন ও এডুকেশনাল লাইসেন্স, মার্চেন্ডাইজিং এবং ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি থেকে থেকে আয়ের সম্ভাবনা।

কর্মশালার মেন্টর ছিলেন চলচ্চিত্র প্রযোজনা ও ডিস্ট্রিবিউশনের সঙ্গে যুক্ত হাফিজুদ্দিন মুন্না। তিনি ‘দ্য ইউনিভার্সিটি অব চানখারপুল’ সিনেমার নির্বাহী প্রযোজক ও বিপণনকারী হিসেবে কাজ করেছেন। পাশাপাশি ‘মাইটি আফরিন: ইন দ্য টাইম অব ফ্লাডস’ সিনেমায় সহকারী পরিচালক ও নির্বাহী প্রযোজক ছিলেন। সিনেমাটি ২০২৪ সালে ইরানের ফজর চলচ্চিত্র উৎসবের ৪২তম আসরে সেরা আর্টিস্টিক সিনেমার পুরস্কার পায়।

অনুষ্ঠানে সিনেমা ডিস্ট্রিবিউশন ও বিজনেসের গুরুত্ব নিয়ে বিশেষ সেশন পরিচালনা করেন লেখালিখির উদ্যোক্তা সৈয়দা ফারজানা জামান রূম্পা। চলচ্চিত্র নির্মাণের পাশাপাশি দর্শক, বাজার, ডিস্ট্রিবিউশন এবং আয়ের সম্ভাবনাকে বিবেচনায় নিয়ে সিনেমার ব্যবসায়িক কাঠামো তৈরির প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের মহাপরিচালক ম. জাভেদ ইকবাল। তিনি বলেন, ‘এ ধরনের কর্মশালা শুধু সংশ্লিষ্টদের দক্ষ করে তোলে না, বরং সিনেমা ও ক্রিয়েটিভ জগত নিয়ে নতুন করে ভাবার খোরাক জোগায়।’

বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের পরিচালক ফারহানা রহমান প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড ও উদ্যোগ তুলে ধরেন। প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ আলী সরকার প্রকল্পের উদ্দেশ্য, কার্যক্রম ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন।