ভারতীয় দর্শনে মানুষের ছয়টি রিপুর উল্লেখ করা হয়েছে। একে ষড়রিপু বলা হয়। সে দর্শনকে কেন্দ্র করে শিল্পী ড. আবু কালাম শামসুদ্দিন কিছু শিল্পকর্ম তৈরি করেছেন। তা নিয়েই সাজিয়েছেন প্রদর্শনী ‘দ্য সঙ অব অ্যাগোনি: অরিষড়বর্গ’ বা ‘যন্ত্রণার গান: অরিষড়বর্গ’। গত শুক্রবার প্রদর্শনীর উদ্বোধন হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী ও আর্ট বাংলা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ ইউনুস। বিশেষ অতিথি ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের সাবেক অধ্যাপক ড. সিদ্ধার্থ শঙ্কর তালুকদার এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. বজলুর রশীদ খান।

মানবসত্তার অন্তর্নিহিত দ্বন্দ্ব ও আত্মোপলব্ধির দার্শনিক ধারণার ওপর ভিত্তি করে নির্মিত এ প্রদর্শনী দর্শককে নিজেদের স্বভাব ও আচরণের অপ্রকাশিত দিকগুলোর মুখোমুখি হওয়ার কথা বলে। শিল্পীর ভাষায়, ‘একজন শিল্পী হিসেবে আমি অনুভব করি, পরিবেশ ও পৃথিবীর প্রতি আমারও দায়িত্ব রয়েছে।’

ব্যক্তিগত আত্মোপলব্ধির গণ্ডি পেরিয়ে ‘যন্ত্রণার গান: অরিষড়বর্গ’ মানুষের অনিয়ন্ত্রিত আকাঙ্ক্ষা ও আত্মকেন্দ্রিক আচরণের কারণে প্রকৃতির ওপর সৃষ্ট নেতিবাচক প্রভাবের দিকেও দৃষ্টি আকর্ষণ করে। শিল্পী তুলে ধরেছেন, কীভাবে অজ্ঞতা, আসক্তি ও ব্যক্তিস্বার্থের অনুসরণ পরিবেশের অবক্ষয়, বন উজাড় ও পরিবেশগত ভারসাম্যহীনতার কারণ হয়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে বন সংরক্ষণ, বন্যপ্রাণী রক্ষা এবং প্রাকৃতিক আবাসস্থল ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সুরক্ষিত রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

আবু কালাম শামসুদ্দিন সমকালীন উপকরণের সঙ্গে স্তরবিন্যাস ও টেক্সচার-নির্ভর পৃষ্ঠ নির্মাণের সমন্বয়ে গড়ে তুলেছেন তার স্বতন্ত্র শিল্পভাষা। বালি, কাদা, জিঙ্ক অক্সাইড ও অ্যাক্রিলিক ব্যবহার করে তিনি ক্যানভাসে সৃষ্টি করেন স্পর্শগ্রাহ্য পৃষ্ঠতল ও অসমমিত বিন্যাস, যা জটিল মনস্তাত্ত্বিক ও দার্শনিক ভাবনাকে দৃশ্যমান রূপ দেয়। রঙ, টেক্সচার ও আকারের পারস্পরিক বিন্যাসের মধ্য দিয়ে তার কাজগুলোয় চেতনা, দ্বন্দ্ব, রূপান্তর ও আত্মিক জাগরণের মতো বিষয় উঠে এসেছে। বিশেষত, সোনালি রঙের ব্যবহার অন্তর্গত রূপান্তর, আত্মোপলব্ধি এবং আধ্যাত্মিক পূর্ণতার অনুসন্ধানকে প্রতীকীভাবে তুলে ধরে।

নিজের শিল্পচর্চার উদ্দেশ্য সম্পর্কে শিল্পী বলেন, ‘মানুষের আকাঙ্ক্ষা, আচরণ ও প্রাকৃতিক জগতের মধ্যকার অদৃশ্য সম্পর্কগুলোকে প্রকাশ করা এবং নিজেদের কাজের পরিণতি উপলব্ধি করে তা পুনর্বিবেচনা করতে উৎসাহিত করাই এ প্রদর্শনীর লক্ষ্য।’ প্রদর্শনীটি শেষ হবে ১৩ অক্টোবর।