সিলেটের সবুজ মাঠে শুরু, চট্টগ্রামের বন্দরনগরীতে শিরোপার লড়াইয়ের শেষ। মাঝের দিনগুলোয় বাংলাদেশের পাশাপাশি নেপালের দুই ভেন্যুতেও গড়াবে তরুণ ক্রিকেটারদের বিশ্বকাপের লড়াই। মেয়েদের ২০২৭ আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের তৃতীয় আসর বসছে বাংলাদেশ ও নেপালে। দুই দেশের চার ভেন্যুতে ১৬ দিনে অনুষ্ঠিত হবে মোট ৪১টি ম্যাচ।

গতকাল বিশ্বকাপের পূর্ণাঙ্গ সূচি প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। আগামী ২১ জানুয়ারি সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে টুর্নামেন্ট। আর ৬ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামে ফাইনালের মধ্য দিয়ে পর্দা নামবে এ আসরের।

বিশ্বকাপের বেশির ভাগ ম্যাচ হবে বাংলাদেশের মাটিতে। চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হবে ১৪টি ম্যাচ, সিলেটে ১২টি। নেপালের মুলপানি আয়োজন করবে আটটি ম্যাচ, আর কীর্তিপুরে হবে সাতটি। দুই সেমিফাইনাল ও ফাইনালের জন্য নির্ধারিত হয়েছে চট্টগ্রাম। উদ্বোধনী দিনেই সিলেট ও মুলপানিতে দুটি করে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিদিন স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৯টা ও বেলা দেড়টায় শুরু হবে খেলা। শুধু সেমিফাইনাল ও ফাইনালের জন্য রাখা হয়েছে রিজার্ভ ডে।

বিশ্বকাপে অংশ নেবে ১৬টি দল। চার গ্রুপে ভাগ হয়ে শুরু হবে তাদের শিরোপা অভিযান। ‘সি’ গ্রুপে বাংলাদেশের সঙ্গী অস্ট্রেলিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও নাইজেরিয়া। ‘এ’ গ্রুপে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারতের সঙ্গে রয়েছে সহ-আয়োজক নেপাল, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও আয়ারল্যান্ড। ‘বি’ গ্রুপে দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড, পাকিস্তান ও সামোয়া এবং ‘ডি’ গ্রুপে ইংল্যান্ড, শ্রীলংকা, যুক্তরাষ্ট্র ও স্কটল্যান্ড।

নিজেদের মাঠে বিশ্বকাপের যাত্রা শুরু করে গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচই সিলেটে খেলবে বাংলাদেশ। ২১ জানুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচের পর ২৩ জানুয়ারি অস্ট্রেলিয়া এবং ২৫ জানুয়ারি নাইজেরিয়ার মুখোমুখি হবে স্বাগতিকরা। ঘরের মাঠে পরিচিত পরিবেশ ও দর্শকদের সমর্থন কাজে লাগিয়ে পরের ধাপে যাওয়াই হবে বাংলাদেশের প্রথম লক্ষ্য।

গ্রুপ পর্বের পর শুরু হবে সুপার সিক্সের লড়াই। প্রতি গ্রুপের শীর্ষ তিনটি দল পাবে এ পর্বে খেলার সুযোগ। ‘এ’ ও ‘ডি’ গ্রুপ থেকে উঠে আসা ছয় দল নিয়ে গঠিত হবে সুপার সিক্সের প্রথম গ্রুপ। ‘বি’ ও ‘সি’ গ্রুপের ছয় দল খেলবে দ্বিতীয় গ্রুপে। প্রতিটি দল সুপার সিক্সে খেলবে দুটি করে ম্যাচ। তবে নিজেদের মূল গ্রুপ থেকে উঠে আসা দলগুলোর বিপক্ষে আগের ম্যাচের ফলও পরের পর্বে হিসাব করা হবে। ফলে গ্রুপ পর্বে অর্জিত পয়েন্টও সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

যেমন ‘সি’ গ্রুপ থেকে বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাত সুপার সিক্সে উঠলে এ দুই দলের বিপক্ষে বাংলাদেশের গ্রুপ পর্বের ফলও পরের ধাপে যোগ হবে। নাইজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের ফল তখন আর সুপার সিক্সের হিসাবের অংশ হবে না। অর্থাৎ গ্রুপ পর্বে শুধু পরের রাউন্ডে ওঠাই নয়, পয়েন্ট সংগ্রহের লড়াইটিও থাকবে গুরুত্বপূর্ণ।