বর্ণাঢ্য কর্মজীবনের মাঝখানের ছয়টি বছর (১৮৯৯-১৯০৫) ভালোতে-মন্দতে মিলিয়ে জর্জ নাথানিয়েল কার্জনকে বৃহত্তর ভারতের জন্য তিনজন অনিবার্য স্মরণীয় ব্যক্তিত্বে পরিণত করে রেখেছে। দৃষ্টিভঙ্গি ও গোষ্ঠীগত স্বার্থের কারণে তার যে কাজে এক গোষ্ঠী শুকরিয়া আদায় করেছে, ঠিক একই কাজের জন্য অন্য গোষ্ঠী তাকে অভিসম্পাত দিতে দিতে রৌরব নরকে ঠেলে পাঠিয়েছে। ৬ জানুয়ারি ১৮৯৯, যখন ব্যারন কার্জন অব কেডলস্টোন কিংবা লর্ড জর্জ নাথানিয়েল কার্জন ভারতবর্ষের ভাইসরয়ের দায়িত্ব পালন করেন তখন তার বয়স ৪০ বছর। তার যোগদানে বৃহত্তম ব্রিটিশ উপনিবেশ ভারতে আনন্দের জোয়ার বয়ে গিয়েছিল। ব্রিটিশ শাসন যাদের কাজে ঈশ্বরের অন্যতম শ্রেষ্ঠ আশীর্বাদ বলে মনে হয়েছে, কার্জনকে তারা মনে করে একজন ঐশ্বরিক শাসক। রক্ষণশীল দলের অক্সফোর্ডে পড়া এই মেধাবী ভারতশাসককে যখন দ্বিতীয় টার্মের জন্য ভাইসরয় নিয়োগ করা হয়, তার কর্মকাণ্ডে ভারত তখন ভীষণ তেতে উঠেছে। ১৮ নভেম্বর ১৯০৫ মহামহিম ভাইসরয়ের বহুল কাঙ্ক্ষিত পদ ত্যাগ করে বিলেতের পথে জাহাজে ওঠার প্রস্তুতি নেন। পরবর্তীকালে তিনি সেক্রেটারি অব স্টেট হয়েছেন। মৃত্যুর আগে ছিলেন হাউস অব লর্ডসের লিডার। এক জীবনে অপরিসীম অর্জন। দেশে ফিরে লর্ড ক্লাইভের মতো বিচারের মুখোমুখি হননি।

দ্বিতীয় টার্মের মতো তার দ্বিতীয় বিয়েটাও শেষ পর্যন্ত কিছু কলঙ্ক রটনা করেছে। দ্বিতীয় স্ত্রী গ্রেস এলভিনা ব্রিটিশ ফ্যাসিস্ট পার্টির প্রতিষ্ঠাতা স্যার অসওয়াল্ড মোসলের কিছুকাল রক্ষিতা ছিলেন। আর স্যার মোসলে ছিলেন কার্জন ও তার প্রথম স্ত্রীর কন্যা সিনথিয়ার স্বামী এবং অন্য কন্যার গোপন প্রেমিক। কার্জন ঘোষণা করেছিলেন, ‘আমরা যতদিন ভারত শাসন করতে পারব, আমরা পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ শক্তি হিসেবে বিরাজ করতে পারব, কিন্তু ভারত হাতছাড়া হয়ে গেলে আমাদের ক্ষমতা তৃতীয় স্তরে নেমে আসবে।’

ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস দলটি নিয়ে তার একটি গর্বিত উক্তি: ‘এমনিতে কংগ্রেস তার পতনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে; ভারতে থাকাকালে আমার উচ্চাশা, আমি এই দলের শান্তিপূর্ণ মৃত্যুতে সহযোগিতা করব।’

কিন্তু পরিহাস হচ্ছে ১৯০৫ সালে কার্জনের বাংলা ভাগ কংগ্রেসের পুনরুজ্জীবন লাভে ও সংহত করতে স্মরণীয় ভূমিকা রেখেছে। ২০ মার্চ ১৯২৫ তার মৃত্যু হলে তার প্রথম স্ত্রী ম্যারিকে যে গাছের একাংশের কাঠ দিয়ে বানানো কফিনে ঢুকিয়ে সমাহিত করা হয়েছিল, বৃক্ষের অবশিষ্টাংশ দিয়ে লর্ড কার্জনের ইচ্ছা অনুযায়ী তার জন্য কফিন তৈরি করা হয়।

এই রচনাটিকে কার্জনের স্বদেশী চার্লস জেমস ও’ডোনেলের লেখা দ্য ফেইলিওর অব লর্ড কার্জন নামের একশ ছয় পৃষ্ঠার একটি গ্রন্থের সারাংশ বলা যেতে পারে। গ্রন্থটির একটি সাব-টাইটেল রয়েছে: আ স্টাডি ইন ইম্পেরিয়ালিজম। এটি প্রকৃতপক্ষে আর্ল অব রোজবেরিকে লেখা ও’ডোনেলের একটি চিঠি যার ছত্রে ছত্রে কার্জনের সমালোচনা ও কখনো কখনো নিন্দার ঝড়ও বইয়ে দিয়েছেন।

সম্প্রতি লর্ড কার্জনের কর্মকাল আর এক টার্ম বাড়িয়ে দেয়ার পর গোটা লন্ডনের গণমাধ্যম রক্ষণশীল বা উদারপন্থী নির্বিশেষে সবাই করতালি দিয়েছে, কারণ ব্রিটেনের জন্য তিনি যে সেবা দিয়েছেন তার উপযুক্ত পুরস্কার পেয়েছেন। কিন্তু ভারতের গণমাধ্যমের কার্জন সম্পর্কে ধারণা ভিন্ন। পাইওনিয়ার লিখেছে, আগের ভাইসরয়দের তুলনায় কার্জন বড্ড অনুজ্জ্বল। সুরেন্দ্রনাথ ব্যানার্জির ইংরেজি পত্রিকা বেঙ্গলি লিখেছে— ভারতের জনগণের অভিজ্ঞতায় সবচেয়ে আতঙ্কজনক ব্যর্থতা এবং করুণতম হতাশার কাল উপহার দিয়েছেন লর্ড কার্জন।

প্লেগ মৃত্যুর পরিসংখ্যানই লর্ড কার্জনের ব্যর্থতার সবচেয়ে বড় সাক্ষ্য দেয়—

১৮৯৬: ১৭০০

১৮৯৭: ৫৬০০০

১৮৯৮: ১১১০০০

১৮৯৯: ১৩৫০০০

১৯০০: ৯৩০০০

১৯০১: ২৭৪০০০

১৯০২: ৫৭৭০০০

১৯০৩: তিন মাসের হিসাবের ওপর ভিত্তি করে আনুমানিক সংখ্যা ২৫০০০০

১৮৯৯ থেকে ১৯০৩ কার্জনের শাসনকাল। সুতরাং কার্জন ব্যর্থ হয়েছেন।

এ সময়ে কার্জনের তিনটি ক্ষমাহীন অপরাধ:

১. চার বছরের কম সময়ে ভারতের শিক্ষিত শ্রেণীকে ভয়ংকর অপমান করেছেন।

২. দুর্ভিক্ষ মোকাবেলার কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ না করে কৃষিনির্ভর জনগোষ্ঠীকে ক্রমেই বিপন্নতা ও অনাহারের দিকে ঠেলে দিয়েছেন।

৩. স্থানীয় প্রিন্সদের সঙ্গে এতটাই অসদাচরণ করেছেন যে তা বিক্ষোভে বিস্ফোরিত হতে পারে।

এছাড়া মিথ্যা পরিসংখানের ওপর ভিত্তি করে বিলেতে তার সাফল্যের বর্ণনা করে চিঠি পাঠাচ্ছেন। পরিসংখ্যান ও রাজনীতি—কোনোটাতেই তিনি বিশ্বাসযোগ্য নন। ১৮৭৫ থেকে ১৯০০ সালের মধ্যে ভারতে সামগ্রিক ঋণ কমার পরিবর্তে ৯৫ মিলিয়ন পাউন্ড থেকে বেড়ে ১৯৯ মিলিয়ন পাউন্ডে পৌঁছেছে আর সামরিক খরচ ১২০ মিলিয়ন পাউন্ড থেকে বেড়ে ২৩০ মিলিয়ন পাউন্ডে পৌঁছেছে। কাজেই লর্ড কার্জন শেষ দুই বছরে ভারতের জন্য আর্থিকভাবে ক্ষতিই করে গেছেন। এ সময়ে সাড়ে আট লাখ কৃষি পরিবার নিজেদের ঘরবাড়ি বিক্রয় করে রাস্তায় নেমেছে। নিঃস্বকরণ প্রক্রিয়া ঠেকাতে কার্জন কোনো ভূমিকা রাখতে পারেননি। ভারতে ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। আবরু রক্ষা করার মতো পোশাক অনেকেরই নেই। লর্ড কার্জনের আমলে মদের বন্যায় রাজস্বের দেদার বৃদ্ধি ঘটছে। কেবল আসামে মদ বিক্রির আবগারি কর বেড়েছে ২৫০ ভাগ। চায়ের বাগান প্রতিষ্ঠার সঙ্গে সঙ্গে ব্রিটেনের খ্রিস্টীয় সরকার চা বাগানের গেটে মদের দোকানও বসিয়েছে, সরকারি ডিস্টিলারি থেকে সেখানে মদের সরবরাহ আসে। বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, সেই মদ তৈরিতে সবচেয়ে বাজে অশোধিত স্কচ হুইস্কির চেয়ে সাত গুণ বেশি জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার করা হচ্ছে আসামে। ১৮৭৫ সালে মদের আবগারি কর থেকে আয় ছিল ১,৭৫৫,০০০ পাউন্ড, ১৯০১ সালে তা ৪,২৩৯,০০০ পাউন্ড ছাড়িয়ে গেছে। বার্ষিক বর্ধিত আয়ে কাবুলে অবস্থিত সেনানিবাসের সব সৈনিকের ছয় মাসের ভরণপোষণ সম্ভব হবে আর এটাই হচ্ছে সাম্রাজ্যবাদী বিবেক। কয়েক বছর আগে একজন ইংরেজ এমপি ভারতের লখনৌতে বিষাক্ত মদ খেয়ে ১২৬ জন নর-নারীর লাশ গুনেছিলেন। কেবল সেই বিষাক্ত মদ বিক্রেতার কাছ থেকে পাওয়া রাজস্বে দিল্লির দরবারের সবগুলো হাতি পোষার খরচ উঠে আসছে। এমন সাম্রাজ্য কি হাতছাড়া করা যায়! কার্জনের সহায়তায় ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ পরিপুষ্ট হয়ে উঠছে।

কার্জনের রাজত্বে আয়কর ৫৫ শতাংশে ঠেকেছে। ফলে গোটা ভারতকেই এখন সুদখোর মহাজনদের দিকে ঠেলে দেয়া হয়েছে।

লর্ড কার্জনের রাজত্বে বঞ্চিত রায়তের ন্যায়বিচার পাওয়ার দরজা বন্ধ হয়ে গেছে। রায়তের অধিকারবলে অবশিষ্ট আর কিছু থাকল না। অথচ রায়তরা ব্রিটেনের ফ্রি হোল্ড স্টেটের মালিকের চেয়ে কম কিছু ছিলেন না; তারা সরকার নির্ধারিত খাজনা দিয়ে বংশানুক্রমে জমি ভোগ করতে পারতেন। ইংরেজদের সংস্কারে তারা পথের ভিক্ষুক হয়ে গেছেন।

লর্ড কার্জনের অধীনে ১৯০২ সালে আইন পাস করে আসামের চা শ্রমিকদের রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত ক্রীতদাসত্বের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কোনো নৈতিক রাষ্ট্রে এ ধরনের দাসত্বের স্থান নেই।

লর্ড কার্জন প্রশংসনীয় কাজও করেছেন। ভারতের উত্তর-পশ্চিম সীমান্তের সৈনিক গ্যারিসন প্রত্যাহার করেছেন। এ কাজে অপ্রয়োজনীয় সৈন্যসামন্তের খরচ কমেছে, কিন্তু পদগুলো অবলুপ্ত হয়নি।

লর্ড কার্জনের বলি ভারতের স্বশাসিত পৌর সরকার। সংস্কারের নামে তিনি সর্বনাশ করেছেন। ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থার বারোটা বাজিয়ে তিনি ঘোষণা করেছেন ভারতের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাকে তিনি অক্সফোর্ড ও কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্তরে পৌঁছে দেবেন।

অক্সফোর্ড ও কেমব্রিজ বানানো প্রত্যাশিত কিনা তা বিবেচনা পরে করা যাবে, কিন্তু কার্জন সাহেবদের মতো শাসকদের হাতে পড়ে ভারতীয়দের বর্তমান শিক্ষার যে হাল তাতে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিযোগ্য শিক্ষার্থী পাওয়ার কথা নয়। লর্ড কার্জনের শিক্ষা সংস্কার আসলে শিক্ষার ভিত্তিমূলে কুঠারাঘাত করেছে। তা ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিতে যাচ্ছে। কার্জনের উচ্চশিক্ষা নীতিতে দু-একজন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বে আর লাখো মানুষ উচ্চশিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হবে। লর্জ কার্জন ভুলে গেছেন যে ইংল্যান্ডের মধ্যবিত্ত শ্রেণী আসলে ধনী। সন্তানের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার ব্যয় নির্বাহ করার মতো পর্যাপ্ত অর্থ ও সম্পদ তাদের রয়েছে। কিন্তু ভারতের মধ্যবিত্ত শ্রেণী কেবল দরিদ্রই নয়, ব্রিটিশ শাসনে তারা দরিদ্র থেকে দরিদ্রতর এবং নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে। তাদের সন্তান বিশ্ববিদ্যালয়ের দোরগোড়ায় পৌঁছতেও পারবে না। যে ভারতবর্ষ ইংরেজকে বিশ্বাস করে না, সেই ইংরেজের শিক্ষা ভারতে ফলপ্রসূ হওয়ার কথা নয়। অন্যদিকে ভারত সরকার (কার্জন শাসিত) মনে করছে শিক্ষাই হচ্ছে রাজনৈতিক বিপর্যয় ঘটানোর মূলমন্ত্র। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃদ্ধি এবং বিশ্ববিদ্যালয় পাস মানুষের সংখ্যার অস্বাস্থ্যকর বৃদ্ধি কখনো প্রত্যাশা করে না। নিউ ইন্ডিয়া পত্রিকা মন্তব্য করেছে, শিক্ষার দুর্ভিক্ষ ব্রিটেনে নিম্নবিত্তকে আঘাত করে। কিন্তু ভারতে তা নিম্নবিত্ত তো বটেই, যেসব উচ্চবর্ণ হিন্দুঘর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর সরবরাহ পেয়ে থাকে তারাও মারাত্মক হুমকির সম্মুখীন। উচ্চশিক্ষার দরজা তাদের সন্তানের জন্যও বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

আশ্চর্যের বিষয় কার্জনের বিশ্ববিদ্যালয় কমিশনের সদস্য কলকাতা হাইকোর্টের সাবেক প্রধান বিচারপতি গুরুদাস ব্যানার্জি বলেছেন, পড়াশোনার ফি এত কম হলে সাধারণ মানের দরিদ্রের সন্তানও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার জন্য প্রলুব্ধ হবে।

বর্ধমান মুসলমান সমিতির সদস্য মৌলবি আবুল কাশেম বিএ বলেছেন, কার্জনের উচ্চশিক্ষা নীতি মুসলমানদের ওপর গদার আঘাতের মতো পতিত হয়েছে। কার্জন চাচ্ছেন ইংল্যান্ডের বিলিয়ল কলেজ আর ইটন কলেজের নীতির বুড়ো রক্ষণশীলরা যেমন করেন, শিক্ষা সীমাবদ্ধ থাকবে স্বল্পসংখ্যক যোগ্য মানুষের মধ্যে আর বাকি সব থাকবে মূর্খ।  দরিদ্র ও মধ্যবিত্তের সন্তানের জন্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি পাঠের দরজা তারা চিরতরে বন্ধ করে দিতে যাচ্ছেন।

সবচেয়ে ভয়ংকর সংস্কার হচ্ছে সাম্রাজ্যবাদের খিদে মেটাতে করের প্রবল চাপে নাগরিকদের নিঃস্বকরণ। 

চার্লস জেমস ও’ডোনেল আইরিশ কর্নেল এবং ব্রিটিশ রাজের একজন প্রশাসক, পরবর্তী জীবনে সংসদ সদস্য। তার জন্ম ১৮৪৯ সালে। কুইনস কলেজে পড়াশোনা করে আইসিএস পাস করে বাংলায় নিয়োগ লাভ করেন। তিনি বিখ্যাত ডব্লিউ ডব্লিউ হান্টারের সহকারীর পদ লাভ করেন। ১৮৭৪-এর দুর্ভিক্ষের সময় সংকট কাটাতে সেসব ব্রিটিশ অফিসার কাজ করে গেছেন তিনি তাদের অন্যতম। ১৮৯৮ সালে তিনি কমিশনার পদে অধিষ্ঠিত হন। তিনি টানা ২৮ বছর ভারতে কর্মরত ছিলেন। তিনি লর্ড কার্জনের কট্টর সমালোচক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি ১৯০৫ সালে কার্জনের বাংলা ভাগেরও বিরোধিতা করেছেন।

 

এম এ মোমেন: সাবেক সরকারি কর্মকর্তা