[ফরুগ ফারুখজাদ: (১৯৩৫—১৯৬৭ খ্রি.) ইরানি কবি ও চলচ্চিত্রকার। তেহরান থেকে তাঁর প্রথম কবিতার সংকলন দ্য ক্যাপটিভ প্রকাশিত হয় ১৯৫৫ সালে। এছাড়া অন্য কবিতার বই দ্য ওয়াল, দ্য রেবেলিওন, অ্যানাদার বার্থ ইত্যাদি। তাঁর পরিচালিত ডকুমেন্টারি ফিল্ম দ্য হাউজ ইজ ব্ল্যাক (১৯৬২)। তেহরানে একটি গাড়ি দুর্ঘটনায় তিনি প্রাণ হারান। কবিতাগুলো মরিয়াম দিলমাগানির ইংরেজি থেকে অনূদিত।]

 

বাতাস আমাদেরকে উড়িয়ে নিয়ে যাবে

 আমার ছোট্ট রাতে, আহা

অবশ্যম্ভাবীরূপে ঝড় দেখা করতে আসে

গাছেদের মিষ্টি ঘুমের সঙ্গে। 

 আমার ছোট্ট রাতে, আহা

সর্বনাশের বরফশীতল আতঙ্ক বয়ে যায়।

 এই সুখ আমার কাছে খুব বেখাপ্পা,

আমি নেশাগ্রস্ত আমার হতাশার প্রতি,

আমি বুঝতে পারছি একটা কিছু ভেঙে চুরমার হবে

আমাদের এই শান্ত রাতের প্রশান্তির পর।

 শোনো!

ছায়ারা এসে পড়ছে...

আমাদেরকে পালাতে হবে।

 তোমরা কি দেখছ না?

আমাদের ছাদ পতনের ভয়ে কাঁপছে,

আর এই ছাদের ওপর, গভীর কালো মেঘ,

নিষ্প্রভ, শোকগ্রস্ত ভিড়ের মতো,

যা প্রতীক্ষা করছে কান্নার মুহূর্তের।

 তোমরা কি শুনছ না?

জানালার কাচের পেছনে এগোচ্ছে রাত

আর বাতাস উঠানের নিঃশ্বাসকে কেটে টুকরা টুকরা করছে,

মনে হচ্ছে আগন্তুক চোখ

দেখছে এই বাড়িটিকে।

 শোনো!

ছায়ারা আসছে...

আমাদেরকে পালাতে হবে।

 তুমি,

ও সবুজ, যেন পাতাদের আত্মার মতো,

তোমার হাত রাখো আমার হাতে,

আর ধরে রাখো ভালোবাসার প্রজ্বলিত স্মৃতির মতো।

 তুমি,

ও সবুজ, যেন পাতাদের আত্মার মতো,

তোমার ঠোঁট রাখো আমার ঠোঁটের ওপর,

আর তাদের স্বাদ নাও পুরনো মদের চিতানো স্বাদের মতো।

 যদি আমরা ভুলে যাই,

বাতাস আমাদেরকে উড়িয়ে নিয়ে যাবে,

বাতাস আমাদেরকে উড়িয়ে নিয়ে যাবে।

 

 পাখিটি ছিল কেবল একটি পাখি

 পাখিরা বলল:

‘কী উজ্জ্বল দিন, কী নির্মল হাওয়া!

বসন্ত এসেছে

খুঁজে নেয়া যাক সহচর।’

 তারের কিনার থেকে পাখিটি উড়ল।

পাখি উড়ে গেল আকাশে মেঘের দিকে—

দ্রুত সে অদৃশ্য হলো।

ঠিক যেন একটি ইচ্ছা,

ঠিক যেন একটি প্রার্থনা,

ঠিক যেন একটি ফিসফাস,

পাখিটি ছড়িয়ে গেল দিক ও দিগন্তে—

হাওয়ায়।

 পাখিটি ছিল ছোট,

পাখিটি ছিল হালকা,

পাখিটি ছিল না উজ্জ্বল,

পাখিটি ছিল একলা,

কিন্তু পাখিটি ছিল, বেশ,

একেবারে মুক্ত।

 আকাশে আকাশে,

পাহাড় ও গলিপথের উঁচু-নিচুর ওপর,

ট্রাফিক আলো ও থামার সংকেতের ওপর,

পাখিটি উড়ল অবিরাম।

আর তার

স্বপ্নের শান্তির উচ্চতায়,

সে অবশেষে অনুভব করল স্থান ও কালের নীল অনুভব।

 পাখিটি ছিল কেবল একটা পাখি।

পাখিটি ছিল সত্যিই মুক্ত।

 

পাখিটি হয়তো মরবে...

 আমার ভেতর বিষাদ,

আমার ভেতর নীল।

 আমি বাইরে গিয়ে ঠাণ্ডা আঙুল ঘষি

নিঝুম রাতের মসৃণ খোসার ওপর।

 দেখতে পাই স্পর্শের সব আলো নিভে গেছে,

আমাদের যাতায়াতের সব গলি অবরুদ্ধ।

 কেউ আমাকে উপস্থিত করবে না সূর্যের সামনে,

কেউ আমাকে নিয়ে যাবে না ঘুঘুদের সভায়।

 মনের ভেতর ধরে রাখো উড়াল,

পাখিটি হয়তো মরবে।