এটি অত্যন্ত জেদি স্বভাবের। হাসলি মোরগের পা ও গলা অন্য সব মোরগ-মুরগির চেয়ে অনেক বেশি লম্বা। তীক্ষ্ণ দৃষ্টি আর উঁচু দেহের অধিকারী বলে একে বলা হয় যুদ্ধবাজ মোরগ।

মূলত লড়াইয়ের জন্যই শৌখিনরা এ মোরগ লালন-পালন করেন। গত এক দশকে হাসলি মোরগের লড়াইকারী দলের সংখ্যা বেড়েছে দ্বিগুণ। তবে শৌখিনতার পাশাপাশি কেউ কেউ আবার এখন এ মোরগ বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যেও পালন করছেন।

ষোড়শ শতাব্দীতে ইরান থেকে সরাইল পরগনার জমিদার পরিবার সর্বপ্রথম সরাইলে হাসলি মোরগ নিয়ে আসে বলে কথিত।

dgg

বর্তমানে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রায় ১০০ পরিবার হাসলি মোরগ লালন-পালনে নিয়োজিত। এর মধ্যে সিংহভাগই সরাইল উপজেলায়। এর মধ্যে শৌখিন মোরগ পালনকারীর সংখ্যাই বেশি। আর ১৫-২০টি পরিবার আছে, যারা লড়াইয়ের পাশাপাশি বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে হাসলি মোরগ পালন করছে।

একেকটি হাসলি মোরগ ৫-৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হয়। মূলত মোরগের বয়স, শারীরিক অবস্থা, দেহের আকার ও লড়াইয়ের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী দাম নির্ধারণ করা হয়। যে মোরগ লড়াইয়ে যত অভিজ্ঞ, সেটির দামও তত বেশি। একটি হাসলি মোরগের উচ্চতা ২৮-৩২ ইঞ্চি পর্যন্ত হয়ে থাকে। দেড় বছর বয়স থেকে লড়াই শুরুর পর সর্বোচ্চ চার বছর বয়স পর্যন্ত লড়াইয়ের সক্ষমতা থাকে একটি হাসলি মোরগের। এরপর সেগুলো প্রজননের কাজে ব্যবহার করা হয়।

dfdgdg

ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ গ্রেহাউন্ড কুকুর। এ জাতের কুকুর পোষা শৌখিনতা ও আভিজাত্যের পরিচয় বহন করে, যা লালন-পালন যথেষ্ট ব্যয়বহুল। তবে এ ধরনের কুকুর পালন অনেক কমে গেছে।

দুই দশক আগেও সরাইলের পাড়া-মহল্লায় অনেক বাড়িতে গ্রেহাউন্ড কুকুর পুষতে দেখা যেত। শিকারি গোছের এ কুকুর বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দেখা যায়। এর দেহ তিন-চার ফুট লম্বা। কান ও মুখ বেশ লম্বাটে। পেট ছোট হলেও বুকটা চওড়া। লেজটা চিকন ও লম্বা। লেজটি অধিকাংশ সময় দেহের নিচের দিকে সোজা ঝুলে থাকে। খুব একটা বাঁকা হয় না। হালকা পাতলা গড়নের এ কুকুরের পা ও পায়ের নখ লম্বা। বাদামি রঙের দুটি বড় বড় চোখ। প্রভুভক্ত শান্ত কুকুরটি শত্রুর জন্য খুবই হিংস্র ও ভয়ংকর। দিন-রাত মালিকের বাড়ি নিরাপত্তায় জুড়ি মেলা ভার। চোর-ডাকাত এ কুকুরের নাম শুনলে আঁতকে ওঠে।

১৯৮৩ সালে সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় উপজেলা সদরে একটি গ্রেহাউন্ড কুকুর সংরক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছিল। তবে উপযুক্ত চিকিৎসা, সুষ্ঠু পরিচালনা ও আর্থিক সংকটের কারণে কয়েক বছর পরই কেন্দ্রটি বন্ধ হয়ে যায়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার শত বছর পুরনো ঐতিহ্যবাহী দুধের ছানা দিয়ে তৈরি চতুর্ভুজ আকারের ছোট ছোট টুকরা মিষ্টি। ওপরের শুকনো অংশে জমাটবাঁধা চিনির আবরণ আর ভেতরের পুরোটাই দুধের নরম ছানা। দেশী গরুর দুধ থেকে ছানা করে তা দিয়ে তৈরি এ মিষ্টান্নের নাম ছানামুখী। এটি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শত বছরের ঐতিহ্যবাহী মিষ্টান্ন। এর সুনাম সারা দেশে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া ছাড়া দেশের আর কোথাও ছানামুখী তৈরি হয় না। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এ মিষ্টান্নের ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য আবেদন করা হয়েছে।

মো. নিয়ামুল ইসলাম আকঞ্জি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি