১৯৪৯ সালে টাঙ্গাইলের উপনির্বাচনে শামসুল হকের নির্বাচনী প্রচারণা, আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠায় এবং ভাষা আন্দোলনে ভূমিকা রাখেন খন্দকার মোশতাক আহমদ। এ কালপর্বে রাজনীতিতে তার ভূমিকাকে কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?

১৯৪৭ সালের পর পুরো পাকিস্তানে একমাত্র প্রধান রাজনৈতিক দল ছিল মুসলিম লীগ। সে সময় পাকিস্তান ন্যাশনাল কংগ্রেসও ছিল, যা আসলে ভারতের কংগ্রেসের একটি শাখা। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর তারা পাকিস্তান ন্যাশনাল কংগ্রেস নাম গ্রহণ করে এবং বিরোধী দলে অবস্থান নেয়। এছাড়া সে সময় আরো অনেকে বিরোধী দল তৈরির চেষ্টা করেন। গণতন্ত্রী দল নামে একটি দলও হয়েছিল, তারাও বিরোধী রাজনীতি করতে চেয়েছিল, কিন্তু খুব একটা সফল হয়নি। সবচেয়ে সফল উদ্যোগ ছিল মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বে আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠন।

শামসুল হক যে উপনির্বাচনে জেতেন, সেটি তখন অত্যন্ত আলোচিত একটি ঘটনা ছিল। সে নির্বাচনে খন্দকার মোশতাক নির্বাচনী প্রচারণায় সক্রিয়ভাবে ভূমিকা রাখেন। স্বাভাবিকভাবেই আওয়ামী মুসলিম লীগের গঠন পর্বে শামসুল হক ও খন্দকার মোশতাক ছিলেন পরস্পরের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। সে সময় তরুণ নেতৃত্বের মধ্যে শেখ মুজিবুর রহমান, খন্দকার মোশতাক আহমদ ও শামসুল হক ছিলেন মূল শক্তি। একমাত্র প্রবীণ নেতা ছিলেন মওলানা ভাসানী।

ভাসানী এর আগে আসাম মুসলিম লীগ সভাপতি ছিলেন। পাকিস্তানে এসে তিনি মুসলিম লীগের রাজনীতির প্রতি বীতশ্রদ্ধ হয়ে পড়েন। গণতন্ত্র রক্ষার প্রয়োজনে তিনি বিরোধী দল গঠনের প্রয়োজন অনুভব করেন। সে উদ্দেশ্যে ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন রোজগার্ডেনে আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠা করেন। এ দল গঠনে তরুণদের মধ্যে তিনি যাদের সহযোগিতা পেয়েছিলেন, তাদের মধ্যে ছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান, খন্দকার মোশতাক আহমদ, শামসুল হক। রোজগার্ডেনের মালিক নিজেও সহযোগিতা করেছিলেন।

খন্দকার মোশতাক তখন শেখ মুজিবুর রহমানের চেয়ে তুলনামূলকভাবে সিনিয়র নেতা ছিলেন। শামসুল হক সাহেব আওয়ামী মুসলিম লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন, কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই গ্রেফতার হন এবং দীর্ঘ সময় কারাগারে থাকেন।

এটাই হচ্ছে তখনকার সময় খন্দকার মোশতাক এবং অন্যদের ভূমিকা। সে অর্থে এ দেশে মুসলিম লীগ বিরোধী রাজনীতির সূচনায় খন্দকার মোশতাক নিঃসন্দেহে গৌরবজনক ভূমিকা রেখেছেন।

ভাষা আন্দোলনে তার ভূমিকা কেমন ছিল?

ভাষা আন্দোলনের সময় তিনি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিলেন। তখন দুটি কমিটি গঠিত হয়—একটি ছিল ‘সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম কমিটি’, যার সভাপতি ছিলেন মওলানা ভাসানী। এর মধ্যে অনেকেই ছিলেন। বিশেষ করে যুবলীগের নেতাদের মধ্যে অলি আহাদ, মোহাম্মদ তোয়াহা ছিলেন। খন্দকার মোশতাক ও আরো অনেকেই ছিলেন। আরেকটা কমিটি হয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের নিয়ে। সেটা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম কমিটি। এ কমিটির নেতা ছিলেন ভাষা সৈনিক হিসেবে পরিচিত কমরেড আবদুল মতিন। মূলত ছাত্রদের আন্দোলনের ফলেই ভাষা আন্দোলনটা সফল হয়।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের আগ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে তার অবস্থানের বিবর্তন সম্পর্কে আপনার পর্যবেক্ষণ জানতে চাই

আমি যতদূর জানি, খন্দকার মোশতাক শেখ মুজিবুর রহমানের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিলেন। তখন আমরা ছাত্ররাজনীতি করতাম, সে সময় খন্দকার মোশতাককে একজন মার্কিনপন্থী নেতা হিসেবে চিনতাম। শেখ মুজিবও মতাদর্শগতভাবে পশ্চিমা গণতন্ত্র ও ব্যক্তিপুঁজিবাদের সমর্থক ছিলেন।

তাদের সিনিয়র রাজনৈতিক নেতা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীও ছিলেন মার্কিনপন্থী। তার মতে, পাকিস্তান একটি দুর্বল রাষ্ট্র—এটি শক্তি পেতে পারে কেবল পশ্চিমা শক্তিধর রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করলে। দুর্বল রাষ্ট্রের সঙ্গে থাকলে পাকিস্তানের কোনো লাভ হবে না। সে কারণেই সোহরাওয়ার্দী বলেছিলেন, ‘শূন্যের সঙ্গে শূন্য যোগ করলে ফলও শূন্য থাকে।’

এ দৃষ্টিকোণ থেকে বলা যায় শেখ মুজিব ও খন্দকার মোশতাকের আদর্শে মৌলিক পার্থক্য ছিল না। এমনকি ১৯৭২ সালে মন্ত্রিসভা গঠনের সময়ও শেখ মুজিব তাকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেন।

তাজউদ্দীন আহমদের সঙ্গে শেখ মুজিবের একসময় মতাদর্শগত দূরত্ব তৈরি হয়, কারণ তাজউদ্দীন আহমদ পশ্চিমা সাহায্য গ্রহণে অনিচ্ছুক ছিলেন এবং ভারতের ওপর নির্ভরশীলতা বাড়ান। ফলে শেখ মুজিব মনে করেছিলেন, তাজউদ্দীন থাকলে বাংলাদেশ ধনী পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলো থেকে দূরে চলে যাবে। এ কারণে শেষ পর্যন্ত তাজউদ্দীনকে মন্ত্রিসভা থেকে সরে যেতে হয়।

অনেকে তাজউদ্দীন আহমদকে আজ ‘হিরো’ (নায়ক) হিসেবে দেখেন, কিন্তু ইতিহাসের নির্মোহ বিশ্লেষণে এ প্রশ্নও ওঠা উচিত—যদি খন্দকার মোশতাক আমেরিকার সঙ্গে ষড়যন্ত্রের অভিযোগে দায়ী হন, তাহলে তাজউদ্দীন আহমদ ভারতের সঙ্গে চুক্তিতে বাংলাদেশের স্বার্থ কতটা রক্ষা করেছিলেন? আমরা এক দুর্ভাগা জাতি, যেখানে নেতৃত্ব বিদেশী শক্তির প্রভাবে জাতীয় স্বার্থে আপস করেছে। সম্ভবত এ কারণেই আমরা মুক্তিযুদ্ধের পূর্ণ সুফল অর্জন করতে পারিনি।

মুক্তিযুদ্ধের সময় খন্দকার মোশতাকের ভূমিকাকে অনেকে ‘বিতর্কিত’ ও ‘মার্কিনঘেঁষা’ মনে করেন। মুজিবনগর সরকারে তাজউদ্দীন আহমদ তাকে সন্দেহ করতেন। বিষয়টি কেমন ছিল?

যা জানা যায়, খন্দকার মোশতাক কলকাতায় মার্কিন দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেন এবং পাকিস্তানের সঙ্গে আপসের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন। তখন যুক্তরাষ্ট্র শীতল যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিপক্ষে অবস্থান নেয়। দেশটি নানাভাবে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাও করেছিল।

যখন জানা গেল খন্দকার মোশতাক মার্কিন দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন তখন সন্দেহ করা হয় তিনি আমেরিকার সঙ্গে ষড়যন্ত্র করছেন। এ কারণে তাকে জাতিসংঘে যেতে দেয়া হয়নি। বিষয়টি তাজউদ্দীন আহমদ আগে জানতে পারেন। এখন প্রশ্নটা হলো কে আগে জেনেছে? মোশতাকের সঙ্গে মার্কিন কূটনীতিকদের যোগাযোগের ব্যাপারটা কারা আগে অবগত হলো? আমার বক্তব্য হচ্ছে—কলকাতায় তখন ভারতের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তৎপর ছিল এবং যেভাবে তারা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ওপর নজরদারি করছিল, মুক্তিযুদ্ধের মধ্যে ব্যতিক্রম কোনো শক্তি ঢুকে পড়ছে কিনা, সে ব্যাপারে তারা সবসময় সতর্কতা অবলম্বন করেছে। সেই দিক থেকে আমার ধারণা, ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাই খবরটা উদ্ঘাটন করে। পরে সেটা তাজউদ্দীন আহমদকে জানানো হয়। তার পরে তাকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে সরিয়ে সেখানে আব্দুস সামাদ আজাদকে নিয়োগ করা হয়। কিন্তু ব্যাপারটা হচ্ছে সে সময় কিন্তু তাকে গ্রেফতারও করা হয়নি।

হয়তো তার ওপর এক ধরনের ওয়াচ (নজরদারি) ছিল। কিন্তু তাকে যে গ্রেফতার বা বন্দি করা এ ধরনের কিছু হয়নি। তার কারণ প্রথম যে কেবিনেট মুজিবনগরে গঠিত হয়, সেখানে খন্দকার মোশতাক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। তাকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদ থেকে সরানো হলো। কিন্তু তার পর যদি তাকে গ্রেফতার করা হতো তাহলে এটা কিন্তু আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে একটা ভিন্ন ধরনের মেসেজ যেত। সে কারণেই হয়তো তখন কৌশলগত কারণে ইন্দিরা গান্ধী বা তাজউদ্দীন আহমদ তাকে গ্রেফতার করার মতো পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। এটাই হলো ঘটনা।

শেখ মুজিবুর রহমানের সরকারে মন্ত্রী হিসেবে সে আমলের শাসন ব্যবস্থায় তার ভূমিকা কতটা?

স্বাধীনতার পর শেখ মুজিবুর রহমান জীবিত থাকাকালে খন্দকার মোশতাককে সন্দেহের চোখে দেখেছেন, এমন প্রমাণ নেই। তবে খন্দকার মোশতাক বাংলাদেশের ওপর ভারতীয় প্রভাব ও আধিপত্য পছন্দ করতেন না। তিনি তখন রাজনৈতিক মহলে ভারতবিরোধী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিতি পান। পানিসম্পদ বিষয়ে তিনি বাংলাদেশের স্বার্থরক্ষায় দৃঢ় অবস্থান নেন—এ-সংক্রান্ত সংবাদ পুরনো পত্রিকায় পাওয়া যায়।

দেশ তো তখন একটা বড় ধরনের সংকটের মধ্যে পড়ে গিয়েছিল। ১৯৭৫ সালে বাকশাল করে একদলীয় শাসন চালু করা হয়। এটা স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা থেকে আমাদের বহু দূরে নিক্ষেপ করেছে। স্বাধীনতার অন্যতম প্রধান আকাঙ্ক্ষা ছিল গণতন্ত্র। এ গণতন্ত্রে বিভিন্ন দলের অবস্থান থাকবে এটা সবাই কামনা করেছে। সেখানে সব দলকে বিলুপ্ত করে একটা মাত্র দল রাখা হলো। এমনকি আওয়ামী লীগ পর্যন্ত বিলুপ্ত করা হলো। ফলে দেশে একটা প্রচণ্ড ধরনের শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থা সৃষ্টি হয়। সে সময় আমি নিজেও রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। আমরা যারা আওয়ামী লীগের সঙ্গে ছিলাম না, তারা নিজেদের জীবন নিয়ে খুব চিন্তিত ছিলাম যে এ বাকশালের মধ্যে আমাদের শেষ পর্যন্ত বেঁচে থাকা সম্ভব হবে কিনা। সেদিক থেকে বিবেচনা করলে আপনারা ভেবে দেখবেন, যে বাকশালের পতন ঘটাল সেনাবাহিনীর যে একটা অংশ এবং এর পেছনে নিশ্চয়ই সেনাবাহিনীর বাকি অংশগুলোরও সমর্থন ছিল। না হলে তারা তিন মাস টিকে থাকতে পারতেন না। পরবর্তীকালে অন্য সমস্যায় রঙ্গমঞ্চ থেকে খন্দকার মোশতাককে সরে যেতে হয়।

খন্দকার মোশতাক এদের নেতৃত্ব দেয়ার ব্যাপারে রাজি হন। বিভিন্ন উৎস থেকে যেটুকু জানা যায়, যে তারা তার কাছে গেছেন এবং তার সমর্থন কামনা করেছেন। মোশতাক তাদের সমর্থন দিতে রাজি হয়েছেন। খন্দকার মোশতাক তার বক্তব্যে মেজর ডালিম, কর্নেল ফারুক, কর্নেল রশিদসহ আরো যারা ছিলেন, তাদের সূর্যসন্তান হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাদের অভিনন্দন জানিয়েছেন, তাদের সাফল্য কামনা করেছেন, এটাই ছিল খন্দকার মোশতাকের সে সময়কার ভূমিকা।

সে সময় কিন্তু এ অভ্যুত্থানের কেউ বিরোধিতা করেননি। অর্থাৎ মানুষ মনে মনে যেন এ রকম একটা পরিবর্তন কামনা করেছিল।

তারপরও রক্ত ঝরার ব্যাপারটা তো নিঃসন্দেহে দুঃখজনক। কারোর রক্ত ঝরুক, কারো প্রাণ চলে যাক, এটা কোনো সুস্থ মানুষ কামনা করতে পারে না।

2.1

বাড়ির নামফলক; দশপাড়া, দাউদকান্দি। দশপাড়া গ্রামে খন্দকার মোশতাকের বাড়ির একাংশ (ডানে)ছবি: মুহাম্মদ নাফিজ

পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে খন্দকার মোশতাকের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের পরিণতি কী হলো?

মোশতাক প্রেসিডেন্ট হওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই তাকে সরে যেতে হয়। পরে তিনি ‘‌ডেমোক্রেটিক লীগ’ নামে একটি দল গঠন করেন। দলের প্রথম জনসভা হয় বায়তুল মোকাররমে। সেখানে একটা ঘটনা ঘটে। সে সভার মধ্যে সাপ ছেড়ে দেয়া হয় এবং কিছু বোমা বা ককটেল ফাটে। তারপর সভা পণ্ড হয়ে যায়। খন্দকার মোশতাক আর রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তন করতে পারেননি। এর পরে তার বিরুদ্ধে জিয়াউর রহমানের সময় দুর্নীতির মামলা হয় এবং এতে তার সাজাও হয়, জেলও খাটেন। পরে তিনি মারা যান (১৯৯৬ সালে)। তার কবর কুমিল্লার দাউদকান্দির দশপাড়া গ্রামে। সেখানে তার আপনজনেরা যায়। আবার আওয়ামী লীগের আমলে তার কবরের ওপর উৎপাত হয়েছে বলেও শুনেছি। ম্যান ডাজ নট কোয়ারেল উইথ দ্য ডেড। আজকে শেখ মুজিব নেই।

khondaker_mostaq_ahmad_house_

পুরান ঢাকার আগামসি লেনে খন্দকার মোশতাকের বাড়ি ছবি: নিজস্ব আলোকচিত্রী

কিন্তু শেখ মুজিবের কবরকে নষ্ট করা যাবে না। আজকে খন্দকার মোশতাক নেই, তার কবরকেও নষ্ট করা যাবে না। এ ধরনের সুমতি-সুবিবেচনা যাতে আমাদের রাজনীতিতে আসে, সেটা আমাদের চিন্তা করতে হবে। শেখ হাসিনা তো জিয়াউর রহমানের কবর সরিয়ে দেয়ার জন্য বিশাল উদ্যোগ নিয়েছিলেন। অনেক হুমকি তিনি দিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত সে কবর সরানো সম্ভব হয়নি। তাকেই সরে যেতে হয়েছে।

খন্দকার মোশতাক চরিত্রটিকে সামগ্রিকভাবে কীভাবে মূল্যায়ণ করবেন?

আমাকে দেখতে হবে, ইতিহাসের বাঁকে তার অবস্থানটা কী ছিল। সামগ্রিকভাবে তার অবস্থান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের পক্ষে ছিল নাকি বিপক্ষে ছিল। সামগ্রিক বিবেচনায় নিঃসন্দেহে বেশির ভাগ সাক্ষ্য এটাই হবে যে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের পতাকাকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন।

আমরা যতদূর জানি, এমনকি আওয়ামী লীগের বহু এমএনএ তাজউদ্দীন আহমদেরও বিরোধিতা করেছেন, তার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার বিরোধিতা করেছেন। আওয়ামী লীগের মধ্যে নানা ধরনের উপদলীয় কোন্দল, নেতৃত্বের কোন্দল তখনো ছিল। অনেকেই মনে করেছেন, তাজউদ্দীন নেতা না হয়ে অন্য কেউ নেতা হওয়া উচিত।

সাক্ষাৎকার গ্রহণ: নীরব হাসান