উপরাষ্ট্রপতি, ১০ জন মন্ত্রী ও ৬ জন প্রতিমন্ত্রীর শপথ গ্রহণ
রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক আহমদ গতকাল উপরাষ্ট্রপতি হিসাবে জনাব মুহম্মদুল্লাহ, মন্ত্রিপরিষদের ১০ জন সদস্য ও ৬ জন প্রতিমন্ত্রীর নাম ঘোষণা করিয়াছেন। বাসস-এর খবরে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি গতকাল বিকালে বঙ্গভবনে এক অনুষ্ঠানে নয়া উপরাষ্ট্রপতি, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের শপথ করান।
মন্ত্রিপরিষদের সদস্যগণ হইতেছেন- বিচারপতি জনাব আবু সাঈদ চৌধুরী, অধ্যাপক মোহাম্মদ ইউসুফ আলী, মিঃ ফণী মজুমদার, জনাব মোহাম্মদ সোহরাব হোসেন, জনাব আবদুল মান্নান, মিঃ মনোরঞ্জন ধর, জনাব আবদুল মমিন, জনাব আসাদুজ্জামান খান, ডঃ আজিজুর রহমান মল্লিক ও ডঃ মোজাফফর আহমদ চৌধুরী।
প্রতিমন্ত্রিগণ হইতেছেন— শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, দেওয়ান ফরিদ গাজী, জনাব তাহের উদ্দিন ঠাকুর, অধ্যাপক নূরুল ইসলাম চৌধুরী, জনাব নূরুল ইসলাম মঞ্জুর ও জনাব কে. এম. ওবায়দুর রহমান।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সেনাবাহিনী প্রধান মেজর জেনারেল কে. এম. সফিউল্লা, নৌবাহিনী প্রধান কমোডোর মোশাররফ হোসেন, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল এ. কে. খন্দকার, বিডিআর প্রধান মেজর জেনারেল এম. খলিলুর রহমান, পুলিশ বাহিনী প্রধান জনাব এ. এইচ. নূরুল ইসলাম এবং রক্ষীবাহিনীর ভারপ্রাপ্ত প্রধান জনাব আবুল হাসান খান।
গতকাল সকালে সেনাবাহিনী কর্তৃক দেশের শাসনভার গ্রহণ করার পর রাষ্ট্রপতি ও তাঁহার নবগঠিত মন্ত্রিসভার সদস্য ও প্রতিমন্ত্রিগণ শপথ গ্রহণ করেন। সেনাবাহিনী কর্তৃক দেশের শাসনভার গ্রহণ করার সময় ক্ষমতাচ্যুত রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান তাঁহার বাসভবনে নিহত হন। ঘোষণায় বলা হয়, সশস্ত্র বাহিনী খন্দকার মোশতাক আহমদের নেতৃত্বে দেশের শাসনভার গ্রহণ করিয়াছেন এবং সারা দেশে সামরিক আইন জারি করা হইয়াছে।
অনির্দিষ্টকালের জন্য সারাদেশে সান্ধ্য আইন জারি করা হইয়াছে এবং পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত জনসাধারণকে গৃহে অবস্থান করার জন্য অনুরোধ জানানো হইয়াছে।
দেশের সকল দেশপ্রেমিক ও শান্তিকামী নাগরিকদের নয়া সরকারের সহিত সহযোগিতা করার জন্য অনুরোধ জানানো হইয়াছে।
ঘোষণায় আরও বলা হয় যে, বাংলাদেশ রাইফেলস ও রক্ষীবাহিনীর জওয়ান এবং পুলিশ বাহিনীর লোকজনকে নিকটস্থ আর্মি কম্যান্ডে রিপোর্ট করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হইয়াছে।
তিনটি বাহিনীর প্রধানগণ নূতন সরকারের প্রতি তাঁহাদের আনুগত্য ঘোষণা করিয়াছেন। সেনাবাহিনী প্রধান মেজর জেনারেল কে. এম. সফিউল্লা, নৌবাহিনী প্রধান কমোডোর মোশাররফ হোসেন এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল এ. কে. খন্দকার তিন বাহিনীর জওয়ানদের উদ্দেশে বেতারে পৃথক পৃথক ভাষণ দিয়াছেন এবং নূতন সরকারের প্রতি তাঁহাদের দৃঢ় আস্থা ও আনুগত্য প্রকাশ করিয়াছেন। তাঁহারা সকল অফিসার ও জওয়ানদের রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক আহমদের নেতৃত্বে নিজ নিজ কর্তব্য পালন করার নির্দেশ দিয়েছেন।
বাংলাদেশ রাইফেলস এর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল এম. খলিলুর রহমান, রক্ষীবাহিনীর ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক জনাব আবুল হাসান খান এবং পুলিশ বাহিনী প্রধান জনাব এ. এইচ. নূরুল ইসলামও নূতন সরকারের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করিয়াছেন। তাঁহারা নিজ নিজ বাহিনীর সদস্যদেরকে সুশৃঙ্খলভাবে নূতন সরকারের নির্দেশ পালন করিতে বলিয়াছেন।
দেশের বিপুল সংখ্যক প্রাক্তন সৈনিক পুনরায় সেনাবাহিনীতে যোগদান করিয়া জাতির সেবায় আত্মনিয়োগ করার আগ্রহ প্রকাশ করিয়াছে। প্ৰাক্তন সৈনিকদিগকে অবিলম্বে নিকটস্থ ব্রিগেড সদর দফতরে রিপোর্ট করার অনুরোধ করা হইয়াছে।
দৈনিক ইত্তেফাক, ১৬ আগস্ট ১৯৭৫
অচল নোটের ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত ফেরত
গতকাল (শুক্রবার) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক আহমদের সভাপতিত্বে বঙ্গভবনে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিপরিষদের প্রথম বৈঠকে জমাকৃত বাতিল একশত টাকা নোটের বিনিময়ে সর্বোচ্চ ৮ হাজার টাকা প্রদানের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
এই সম্পর্কে বিস্তারিত নির্দেশ শীঘ্রই প্রদান করা হইবে। এই সংবাদ বাসস-র।
১৬ আগস্ট, ১৯৭৫ দৈনিক ইত্তেফাক
যুক্তরাষ্ট্র স্বাভাবিক কূটনৈতিক কাজকর্ম চালাইয়া যাইবে
ওয়াশিংটন, ১৫ই আগস্ট (রয়টার)-যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের নয়া সরকারের সহিত স্বাভাবিক কূটনৈতিক কাজকর্ম অব্যাহত রাখার জন্য প্রস্তুত রহিয়াছে। কিন্তু পররাষ্ট্র দফতরের জনৈক মুখপাত্র বলেন যে, ক্ষমতা গ্রহণের অব্যবহিত পরই সেখানকার নয়া সরকার মার্কিন দূতাবাসের সহিত যোগাযোগ করেন নাই। তবে আমাদের নিকট আবেদন জানানো হইলে আমরা তাঁহাদের সহিত স্বাভাবিক কাজকর্ম চালাইয়া যাইবার জন্য যে প্রস্তুত রহিয়াছি, সে সম্পর্কে আমি নিশ্চিত।
তিনি তাঁহাদের দূতাবাসের উদ্ধৃতি দিয়া জানান যে, ঢাকার পরিস্থিতি শান্ত রহিয়াছে এবং সেখানে অবস্থানরত ৮২০ জন আমেরিকানের সকলেই নিরাপদ রহিয়াছেন।
১৬ আগস্ট, ১৯৭৫ দৈনিক ইত্তেফাক
বি এ সিদ্দিকী রেডক্রসের চেয়ারম্যান
রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক আহমদ গতকাল সন্ধ্যায় বাংলাদেশ রেডক্রস সমিতির চেয়ারম্যান পদ হইতে গাজী গোলাম মোস্তফাকে অপসারণ করিয়া তদস্থলে বিচারপতি বি এ সিদ্দিকীকে চেয়ারম্যান নিযুক্ত করিয়াছেন। বাসস জানান, অবিলম্বে এই আদেশ কার্যকরী হইবে।
১৬ আগস্ট, ১৯৭৫, দৈনিক ইত্তেফাক
লন্ডনস্থ হাইকমিশন ভবনে বিক্ষোভ
লন্ডন, ১৫ই আগস্ট (এএফপি) পনর জনের একটি বিক্ষোভকারী দল আজ বাংলাদেশ হাইকমিশনে প্রবেশ করিয়া ভবনের দেওয়াল হইতে শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি নামাইয়া ছিঁড়িয়া ফেলে।
তুমুল বাকবিতণ্ডার পর তাহারা চলিয়া যাইবার পূর্বে হাইকমিশনের জনৈক কর্মচারীকে কমিশন ভবনের বাহির করিয়া দেয়।
প্রাথমিক খবরে প্রকাশ, ঘটনা সম্পর্কে কেহ গ্রেপ্তার হয় নাই কিংবা কেহ জখমও হয় নাই।
১৬ আগস্ট, ১৯৭৫ দৈনিক ইত্তেফাক
নয়া সরকারের প্রতি পাকিস্তানের স্বীকৃতি
(বাসস। রয়টার) রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক আহমদের নয়া সরকারকে পাকিস্তান স্বীকৃতি দানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিয়াছে বলিয়া অ....... এখানে ঘোষণা করা হয়।
একটি সরকারী বিবৃতিতে ঘোষণা করা হয় যে, প্রধানমন্ত্রী জনাব জুলফিকার আলী ভুট্টো বাংলাদেশের নয়া সরকারকে অবিলম্বে স্বীকৃতিদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিয়াছেন। বিবৃতিতে বাংলাদেশের নয়া নেতৃত্বকে স্বীকৃতিদানের জন্য ইসলামী সম্মেলন ও তৃতীয় বিশ্বের ৪০টি দেশের প্রতিও আবেদন জানানো হইয়াছে।
১৬ আগস্ট, ১৯৭৫, দৈনিক ইত্তেফাক
রাষ্ট্রপতি মোশতাকের প্রতি বাদশাহ খালেদ ও প্রেসিডেন্ট নিমেরীর অভিনন্দন
সৌদী আরব ও সুদানের স্বীকৃতি
(বাসস/রয়টার)- সৌদী আরব ও সুদান বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের নূতন সরকারকে স্বীকৃতি দিয়াছে বলিয়া আজ এখানে ঘোষণা করা হইয়াছে।
বাদশাহ খালেদ ও সৌদী আরব সফররত সুদানের প্রেসিডেন্ট জাফর নিমেরী বাংলাদেশের নয়া রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক আহমদকে অভিনন্দন জানাইয়া বার্তা প্রেরণ করিয়াছেন বলিয়া সরকারী সূত্রে জানান হয়।
ইসলামের পবিত্র স্থানসমূহের রক্ষক বাদশাহ খালেদ তাঁহার বার্তায় নতুন সরকারের সহিত দৃঢ়তর ইসলামী সংহতি ঘোষণা এবং বাঙ্গালীদের শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।
১৭ আগস্ট, ১৯৭৫, দৈনিক ইত্তেফাক
পূর্ণ মর্যাদায় স্বগ্রামে পরলোকগত রাষ্ট্রপতির দাফন সম্পন্ন
পরলোকগত রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের লাশ গতকাল (শনিবার) বিমানে করিয়া তাঁহার নিজ গ্রাম টুঙ্গিপাড়ায় (ফরিদপুর) লইয়া যাওয়া হয় এবং তাঁহাদের পারিবারিক গোরস্থানে পূর্ণ মর্যাদায় দাফন করা হয়। একজন সরকারী মুখপাত্রের বরাত দিয়া বাসস এই খবর পরিবেশন করেন।
১৭ আগস্ট, ১৯৭৫, দৈনিক ইত্তেফাক
নূতন সরকারের সমর্থনে লন্ডনে শ্লোগান
বাংলাদেশের নূতন সরকারের সমর্থনে প্রায় ২শত বাঙ্গালী গতকাল এখানকার বাংলাদেশ হাইকমিশনে সমবেত হইয়া পরলোকগত রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে ও তাঁহার ছবি ছিন্নভিন্ন করিয়া ফেলে।
বাংলাদেশে নূতন সরকার কর্তৃক শাসনভার গ্রহণের সংবাদ পাওয়ার পরপরই বিক্ষোভকারীরা লন্ডনের কুইন্সগেট এলাকাস্থ হাইকমিশন অফিসে প্রবেশ করে। হাইকমিশনের ৫০ জন কর্মচারীর অনেকেই বিক্ষোভকারীদের সহিত নূতন সরকারের সমর্থনে শ্লোগান দেন।
১৭ আগস্ট, ১৯৭৫, দৈনিক ইত্তেফাক
ভারতীয় মুখপাত্র বলেন
বাংলাদেশের আভ্যন্তরীণ ব্যাপার
ভারত সরকার রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক আহমদের নেতৃত্বে বাংলাদেশে সশস্ত্র বাহিনীর শাসনভার গ্রহণের ঘটনাকে একটি আভ্যন্তরীণ ব্যাপার বলিয়া অভিমত প্রকাশ করিয়াছে।
ভারত গতকাল নয়াদিল্লীতে ভারত সরকারের জনৈক মুখপাত্র বলেন যে, সরকার সতর্কতার সহিত বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ঘটনাবলি পর্যালোচনা করিয়া দেখিতেছেন এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করিতেছেন। গতকাল ঢাকায় শ্রুত আকাশবাণীর খবরে এই কথা বলা হয়।
মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেন, প্রতিবেশী একটি দেশের রাজনৈতিক ঘটনাবলিতে ‘আমরা অবিচলিত থাকিতে পারি না’, তবে এইসব ঘটনাবলি বাংলাদেশের আভ্যন্তরীণ ব্যাপার।
মুখপাত্র বলেন যে, ভারতের জনগণ উপমহাদেশের দেশসমূহের মধ্যে সহযোগিতা ও মৈত্রী কামনা করেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা প্রতিবেশী দেশসমূহের সহিত মৈত্রী প্রতিষ্ঠার জন্য প্রচেষ্টা চালাইয়া যাইব।’
১৭ আগস্ট ১৯৭৫, দৈনিক ইত্তেফাক
মওলানা ভাসানীর সমর্থন
মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী গতকাল রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক আহমদের নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রতি অভিনন্দন জানান এবং নূতন সরকারের প্রতি তাঁহার পূর্ণ সমর্থন ঘোষণা করেন।
বাসস জানান, গতকাল রাষ্ট্রপতির নিকট প্রেরিত এক তারবার্তায় মওলানা ভাসানী এই পরিবর্তনকে একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ বলিয়া উল্লেখ করেন এবং দেশ হইতে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও অবিচার দূর করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, নূতন সরকার ও আপনার উপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হউক।
১৭ আগস্ট ১৯৭৫, দৈনিক ইত্তেফাক
তর্কবাগীশের অভিনন্দন
প্রবীণ রাজনীতিবিদ, প্রখ্যাত আলেম ও বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতির সভাপতি মওলানা আবদুর রশীদ তর্কবাগীশ রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক আহমদের নেতৃত্বাধীন নয়া সরকারকে অভিনন্দিত করেছেন।
“দেশে সুখ ও শান্তি প্রতিষ্ঠা, দুর্নীতি উচ্ছেদ ও আইনের শাসন কায়েমে পরম করুণাময় আল্লাহ তায়ালা রাষ্ট্রপতির সহায়ক হোন’, মওলানা তর্কবাগীশ এই মুনাজাত করেন। রোববার প্রকাশিত এক বিবৃতির উদ্ধৃতি দিয়ে বাসস একথা জানায়।
১৮ আগস্ট ১৯৭৫, দৈনিক বাংলা
নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করুন
রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক আহমদ সকল সরকারী, আধা সরকারী, স্বায়ত্তশাসিত এবং আধা স্বায়ত্তশাসিত সকল কর্মচারীকে নিয়মিত কাজে যোগদান এবং সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে নিজ নিজ দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি আরও বলেছেন, অফিসের কাজে কোন অনিয়ম বা অবহেলা বরদাশত করা হবে না।
আজ বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থে রাষ্ট্রপতির নির্দেশ শিরোধার্য করে রাষ্ট্রিক কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে পূর্ণ শক্তি নিয়োগ করতে হবে। সৃষ্টিক কর্মকাণ্ড বলতে আমরা যেমন অফিসের কাজ বুঝি তেমনি বুঝি কলকারখানায় উৎপাদনের জন্য, খেতে খামারে ফসল ফলানোর কাজ। দেশবাসীর সামনে দ্বিতীয় চিন্তার কোন অবকাশ নেই। অফিস-আদালতকে কর্মমুখর রাখতে হবে, কলকারখানার চাকা পূর্ণোদ্যমে ঘোরাতে হবে, উৎপাদন বাড়াতে হবে খেতে খামারে। দেশের প্রতিটি সক্ষম কর্মোদ্যোগের উপর দেশের অগ্রযাত্রা নির্ভর করছে, নির্ভর করছে জনগণের সাথে-শান্তি, আমাদের ভাগ্য আমাদেরই নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, আমাদেরই গড়ে তুলতে হবে। এবং তা করতে আমরা সম্পূর্ণভাবে সক্ষম।
দেশে ঐতিহাসিক পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক আহমদ তার ভাষণে বলেছেন, ‘এখন দেশবাসী সকল শ্রেণীর মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে দ্রুত নিজেদের ভাগ্য উন্নয়নে নিষ্ঠার সঙ্গে কঠোরতর পরিশ্রম করতে হবে।’ মনে রাখতে হবে, কাজের কোন বিকল্প নেই। পরিশ্রম ছাড়া কোন জাতিই তার ভাগ্য উন্নত করতে পারে না।...
১৯ আগস্ট ১৯৭৫, দৈনিক বাংলা
ব্যাপক মার্কিন সাহায্য অব্যাহত থাকবে
আমেরিকা বাংলাদেশের নয়া সরকারকে বিপুল পরিমাণ সাহায্যদান অব্যাহত রাখবে। গতকাল মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর থেকে একথা ঘোষণা করা হয়।
মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের একজন মুখপাত্র বলেন, অতীতে বাংলাদেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এক ঘনিষ্ঠ সহযোগিতামূলক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত করেছে।
তিনি বলেন, আমরা বাংলাদেশের নয়া সরকারের সঙ্গে স্বাভাবিক কাজকর্ম চালিয়ে যেতে ইচ্ছুক। তিনি বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের স্বীকৃতি দিতে প্রস্তুত, কিন্তু ঢাকা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নয়া সরকারকে এখনও কোনো অনুরোধ আমরা পাইনি।
রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক আহমদ গতকাল সন্ধ্যায় মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।
জাপানী চাল এসেছে
জাপান কর্তৃক মঞ্জুরী হিসেবে প্রদত্ত ৫ হাজার ৯শ ৮০ টন বর্মী চালের সর্বশেষ চালান নিয়ে একটি জাহাজ গত ১৫ই আগস্ট চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছেছে।
এ খবর বাসস’র।
স্মরণ করা যেতে পারে যে খাদ্য সাহায্য কনভেনশনের ১৯৭১ সালের আন্তর্জাতিক গম চুক্তির অধীনে জাপান সরকার বাংলাদেশকে ৮০ লাখ মার্কিন ডলার মূল্যের বর্মী ও থাই চাল দেবার সিদ্ধান্ত নেয়।
২০ আগস্ট ১৯৭৫, দৈনিক বাংলা
সোভিয়েট চার্জ দ্য এ্যাফেয়ার্স
ঢাকা নিযুক্ত বন্ধু দেশ সোভিয়েট ইউনিয়নের চার্জ দ্য এ্যাফেয়ার্স মিঃ জি কে গ্রুসেটস্কি গতকাল বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক আহমদের সাথে সাক্ষাৎ করেন। তিনি রাষ্ট্রপতির সাথে কিছু সময় অবস্থান করেন।
ভারতীয় হাইকমিশন
বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার শ্রী সমর সেন গতকাল বুধবার সকালে রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক আহমদের সাথে সাক্ষাৎ করেন। তিনি কিছু সময় রাষ্ট্রপতির সাথে অবস্থান করেন।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাসস’র খবরে বলা হয়, মিঃ সেন বলেন, ‘পরিস্থিতি নয়া বাংলাদেশ সরকারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে’ ঢাকাস্থ মালয়েশীয় হাইকমিশনের নিকট থেকে এই রিপোর্ট পাওয়ার পর সেখানকার সরকারকে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে।
২১ আগস্ট ১৯৭৫, দৈনিক বাংলা
ইউনিয়ন পরিষদ চালু থাকবে: জাতীয় টুপি ও সরকারী পোশাক নির্ধারণ: মন্ত্রিপরিষদের সিদ্ধান্ত
নেতাদের জাঁকালো সম্বর্ধনা দেয়া যাবে না
রাষ্ট্রপতি, উপরাষ্ট্রপতি, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সরকারী দায়িত্বে নিয়োজিত অন্যান্য ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের জন্যে কোনো সম্বর্ধনা তোরণ নির্মাণ করা যাবে না, আলোকসজ্জা করা যাবে না এবং তাদের অভ্যর্থনা জানাতে মাল্যভূষিত করা যাবে না ও জাঁকজমকপূর্ণ কোনো অনুষ্ঠানের আয়োজন করা যাবে না। তবে বিদেশী সম্মানীয় অতিথিদের সম্মানে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান এবং সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে এই বিধিনিষেধ কার্যকরী হবে না।
বাসস’র খবরে বলা হয় গতরাতে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিপরিষদের এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
ইউনিয়ন পরিষদ চালু থাকবে
গতরাতে মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে আরও সিদ্ধান্ত নেয়া হয় যে দেশের ইউনিয়ন পরিষদগুলি চালু থাকবে। সরকার এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছেন।
জাতীয় টুপী
রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিপরিষদের এই বৈঠকে সিদ্ধান্ত করা যে একটি জাতীয় টুপী থাকবে এবং তার রং হবে কালো। টুপীটি হবে নির্দিষ্ট ডিজাইনের।
সরকারী পোশাক
মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে সরকারী পোশাকের উল্লেখ করা হয়েছে। এই সরকারী পোশাক হবে যে কোন রঙের গলাবন্ধ ফুলহাটা কোর্ট এবং ট্রাউজার (ফুলপ্যান্ট)।
২২ আগস্ট ১৯৭৫, দৈনিক বাংলা
ইত্তেফাক ও সংবাদ মালিকের কাছে ফেরত দেয়ার সিদ্ধান্ত
নাগরিক অধিকার সমুন্নত রাখা এবং মানবিক মর্যাদা ও সমাজে মূল্যবোধ পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্যে রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক আহমদের ঘোষিত নীতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে সরকার দেশের কৃতী সন্তান মরহুম তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া প্রতিষ্ঠিত দৈনিক ইত্তেফাক ও ১৯৪৭ সালের স্বাধীনতার পর দেশের প্রথম বাংলা দৈনিক সংবাদ প্রকৃত মালিকদের ফিরিয়ে দেবার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তথ্য ও বেতার, শ্রম, সমাজকল্যাণ, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি বিষয়ক দফতরের প্রতিমন্ত্রী জনাব তাহেরউদ্দিন ঠাকুর শুক্রবার সন্ধ্যায় ঢাকায় একথা ঘোষণা করেন।
বাসস’র এই খবরে প্রকাশ, প্রতিমন্ত্রী আরও ঘোষণা করেন যে সরকার সাপ্তাহিক হলিডের সাবেক সম্পাদক জনাব এ জেড এম এনায়েতউল্লাহ খানকে বাংলাদেশ টাইমস এর সম্পাদক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
অভিনন্দন
বাংলাদেশ সংবাদপত্র কর্মচারী ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মীর মোজাম্মেল হোসেন শুক্রবার এক বিবৃতিতে দৈনিক ইত্তেফাক ও সংবাদ পত্রিকা প্রকৃত মালিককে ফেরত দেয়ার নির্দেশ দেয়ায় সরকারের প্রতি অভিনন্দন জানিয়েছেন।
২৩ আগস্ট ১৯৭৫, দৈনিক বাংলা
অবৈধ সম্পত্তি করার দায়ে ২৬ জন আটক
গতরাতে একজন সরকারী মুখপাত্র বলেন যে দুর্নীতির আশায় গ্রহণ করেও সমাজ বিরোধী তৎপরতায় লিপ্ত থেকে জানামতে নিজ আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিহীনভাবে বিপুল সম্পদ গড়ে তোলা এবং গোপন পন্থায়। স্বজনপ্রীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার প্রভৃতি উপায়ে সম্পত্তি কুক্ষিগত করার অভিযোগ সামরিক আইন বিধি বলে শনিবার নিম্নোক্ত ব্যক্তিদের আটক করা হয়েছে। গতকাল বাসস’র খবরে একথা উল্লেখ করা হয়।
১. খন্দকার আসাদুজ্জামান, সচিব, পাট দফতর।
২. জনাব হাশেমউদ্দিন হায়দর ওরফে পাহাড়ী, পিতা এস কে নাজির, ১২৯, মালিবাগ, ঢাকা।
৩. জনাব আবিদুর রহমান, পিতা জনাব আবুল বাশার, ৬৬/বি রোড নম্বর ৩২, ধানমন্ডি আবাসিক এলাকা।
৪. জনাব আবদুল মান্নান, এমপি।
৫. জনাব আনওয়ার জং এমপি।
৬. জনাব মোফাজ্জল হোসেন ওরফে মায়া, পিতা
- মিয়া, ৫৬, ভজহরি সাহা স্ট্রীট, ঢাকা। মৃত আলী আহমদ
৭. জনাব মোহাম্মদ ইয়াকুব আলী ওরফে বেঙ্গা, পিতা মৃত আবদুর রহমান, ২২৩, তেজকুনি পাড়া, তেজগাঁও, ঢাকা।
৮. ডাঃ আসহাবুল হক, এমপি।
৯. জনাব মোহাম্মদ আফজল ওরফে নান্টু, পিতা হাসান আলী মিয়া, ২৪ গোলক পাল লেন, ঢাকা।
১০. জনাব জিন্নত আলী, পিতা মনিরউদ্দিন বেপারি, ৩৭৩/বি খিলগাঁও, তালতলা।
১১. ডাঃ হায়দার আলী, পিতা মৃত মোফাজ্জল আলী, ৬/সি/১২/১২ মীরপুর, ঢাকা।
১২. গাজী মোস্তফা কামাল (গামা), পিতা খলিলুর রহমান, ২ নারিন্দা রোড, সূত্রাপুর, ঢাকা।
১৩. সৈয়দ নজরুল ইসলাম, সাবেক সরকারের উপরাষ্ট্রপতি।
১৪. জনাব এ এইচ এম কামরুজ্জামান, সাবেক সরকারের মন্ত্রী। ১৫ ১৫। মিঃ আলেকজান্ডার রোডারিক্স, পিতা জন রোডারিক্স, পাইকপাড়া, থানা মীরপুর, ঢাকা।
১৬. জনাব আবদুস সামাদ আজাদ, সাবেক সরকারের মন্ত্রী।
১৭. শেখ আবদুল আজিজ এমপি এবং সাবেক মন্ত্রী।
১৮. জনাব আবদুল হাই, পিতা আমির চান্দ, ২৪ কাটাশূর, মোহাম্মদপুর, ঢাকা।
১৯. জনাব মনসুর আলী, সাবেক সরকারের প্রধানমন্ত্রী।
২০. জনাব আবদুল কুদ্দুস মাখন এমপি।
২১. মিঃ মানিক চৌধুরী ওরফে ভূপতি ভূষণ চৌধুরী, পিতা মৃত ধীরেন্দ্র লাল চৌধুরী, ৩৯ রামজয় মহাজন লেন, আসাদগঞ্জ, চট্টগ্রাম।
২২. জনাব এটিএম সৈয়দ হোসেন পিতা মৃত নাদির হোসেন, পারুলিয়া, থানা কাশিয়ানী, ফরিদপুর, ঢাকার ঠিকানা ৭/ডি সোবহানবাগ, ঢাকা।
২৩. জনাব তাজউদ্দীন আহমদ, একজন সাবেক অর্থমন্ত্রী, পিতা মৃত ইয়াসিন খান, দান্দারিয়া, থানা কাপাসিয়া, ঢাকা, ঢাকার ঠিকানা: ৭৫১ সাত মসজিদ রোড, মোহাম্মদপুর, ঢাকা।
২৪. জনাব মোঃ দেলোয়ার হোসেন, পিতা মৃত আয়েজউদ্দিন, গ্রাম রামপুর, থানা: দেওয়ানগঞ্জ, ময়মনসিংহ।
২৫. জনাব মোসাদ্দেক আলী খান (বাবলা), পিতা মুকসেদ আলী খান, ৩৮৪ উত্তর শাহজাহানপুর, ঢাকা।
২৬. জনাব কোরবান আলী, সাবেক সরকারের মন্ত্রী।
২৪ আগস্ট ১৯৭৫, দৈনিক বাংলা
সোভিয়েটের স্বীকৃতি
সোভিয়েট সরকার বাংলাদেশের নতুন সরকারকে স্বীকৃতি দিয়েছেন এবং বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিয়েছেন।
বাসস’র এ খবরে বলা হয়, সোভিয়েট ইউনিয়ন বিশ্বের সকল দেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন এবং সকল আন্তর্জাতিক চুক্তির প্রতি সম্মান প্রদর্শনে বাংলাদেশের ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে।
বাংলাদেশে নিযুক্ত সোভিয়েট চার্জ দ্য এ্যাফেয়ার্স আজ সকালে রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক আহমদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এবং তাকে সোভিয়েট সরকারের উক্ত সিদ্ধান্ত জানান।
২৫ আগস্ট ১৯৭৫, দৈনিক বাংলা
ভারত বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের সুযোগ দেবে না
ভারতের কেন্দ্রীয় তথ্য প্রতিমন্ত্রী শ্রী ভি সি শুক্লা তার দেশ ও বাংলাদেশের মধ্যকার ঘনিষ্ঠ ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা সাংবাদিকদের নিকট পুনরায় উল্লেখ করেন।
গতকাল বিদেশী সাংবাদিকদের সাথে আলোচনাকালে ভারতের তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার বাংলাদেশের বিরুদ্ধে বিরূপ প্রচারণা চালানোর কাজে এ দেশে সুযোগ সুবিধাদি ব্যবহার না করতে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কারণ বাংলাদেশ একটি বন্ধুদেশ এবং এর সাথে আমাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের সুযোগ সুবিধা আমাদের বাংলাদেশের বন্ধুদের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হবে আমরা তা চাই না।
ভারত থেকে বাংলাদেশের ঘটনাবলির ওপর খবর প্রেরণ সম্পর্কে সরকার এখানে কতিপয় বিধিনিষেধ আরোপ করেছেন।
সরকার কেন এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, শ্রী শুক্লা তা বিদেশী সাংবাদিকদের নিকট ব্যাখ্যা করছিলেন।
২৬ আগস্ট ১৯৭৫, দৈনিক বাংলা
প্রেসিডেন্ট মোশতাকের প্রতি ইন্দিরার বার্তা
ভারত-বাংলাদেশ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে
ভারতের প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধী বাংলাদেশের সঙ্গে সমতা ও পারস্পরিক স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক সংহতির প্রতি শ্রদ্ধা এবং পরস্পরের আভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার ভিত্তিতে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথা পুনরুচ্চারিত করেছেন।
প্রেসিডেন্ট খন্দকার মোশতাক আহমদের এক বার্তার জবাবে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন যে, মৈত্রীর বিকাশ এবং উপমহাদেশে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্যে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার জন্যে আমরা দৃঢ় অঙ্গীকারবদ্ধ। শ্রীমতী গান্ধীর বার্তাটি গতকাল বুধবার প্রেসিডেন্ট মোশতাকের কাছে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার শ্রী সমর সেন অর্পণ করেন।
ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর বার্তাটির পূর্ণ বিবরণ প্রদত্ত হলো:
‘গত ২৫শে আগস্ট আপনার হাইকমিশনার অর্পিত আপনার বাণীর জন্য আপনাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
ভারত ও বাংলাদেশ ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক দিক থেকে ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী। আমরা একই অনুভূতি ও ঐতিহ্যের অংশীদার এবং আমরা উভয়েই আমাদের জনগণের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পশ্চাৎপদতা দূরীকরণের কাজে নিয়োজিত রয়েছি। আমাদের বন্ধুত্ব বাংলাদেশের ঐতিহাসিক স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় আরও সুদৃঢ় হয়েছে, আপনিও তা আপনার বার্তায় উল্লেখ করেছেন। আমাদের যৌথ ত্যাগের কথা আমাদের স্মৃতিতে সর্বদাই জাগরুক থাকবে।
সমআদর্শ ও সহযোগিতার রূপরেখার মধ্যেই আমাদের দু’দেশের ঘনিষ্ঠ ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিকশিত হয়ে উঠেছে। কাজেই আমরা দ্বিপক্ষীয় চুক্তিসমূহের প্রতি আপনার সরকারের প্রতিশ্রুতি এবং আমাদের দু’দেশের সম্পর্ক জোরদার ও সম্প্রসারণের কামনাকে স্বাগত জানাই ও মূল্য দেই।
আমরা আমাদের সকল প্রতিবেশীর সংগে শান্তি, সম্প্রীতি ও সহযোগিতার প্রতি মৌলিক গুরুত্ব দেই। আমাদের দু’দেশের বন্ধুত্ব সম্পর্কের উন্নয়ন ও উপমহাদেশের স্থায়ী শান্তি লাভের ব্যাপারে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার জন্যে দৃঢ় অঙ্গীকারবদ্ধ। শান্তি ও স্বাভাবিকতার প্রতি আপনার সরকারের প্রতিশ্রুতিকে আমরা স্বাগত জানাই এবং আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস যে, আমাদের দু’দেশ এ অঞ্চলে সমৃদ্ধি ও অগ্রগতির স্বপক্ষে একযোগে কাজ করে যাবে।
এ সুযোগে আমি বাংলাদেশের জন্যে আমাদের গভীর অনুভূতি ও শ্রদ্ধাবোধ পুনরায় ঘোষণা করছি। আমরা সমতা ও পারস্পরিক স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক সংহতির প্রতি শ্রদ্ধা এবং পরস্পরের আভ্যন্তরীণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ না করার ভিত্তিতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করতে চাই।
আমরা শুভেচ্ছা ও আশ্বাস প্রদান করলাম।’
৪ সেপ্টেম্বর ১৯৭৫, সংবাদ
চিয়াং এর প্রতি বিচারপতি চৌধুরী বাংলাদেশ-গণচীন সম্পর্ক উত্তরোত্তর জোরদার হবে
বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়ায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিচারপতি জনাব আবু সাঈদ চৌধুরী গণচীনের বৈদেশিক বাণিজ্যমন্ত্রী মিঃ লী চিয়াংকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছেন।
ঢাকা থেকে বাসস পরিবেশিত এক খবরে বলা হয়েছে যে, মিঃ চিয়াং এখন নিউইয়র্কে জাতিসংঘের চলতি বিশেষ অধিবেশনে চীনা প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব করছেন।
বিচারপতি চৌধুরী দৃঢ় আশা প্রকাশ করেন যে, বাংলাদেশ এবং গণচীনের মধ্যে বন্ধুত্ব উত্তরোত্তর জোরদার হবে। তিনি গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের সরকারের প্রতি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শুভেচ্ছা জানান।
মিঃ চিয়াং প্রত্যুত্তরে বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট এবং সরকারের প্রতি গণচীন সরকারের শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন।
৪ সেপ্টেম্বর ১৯৭৫, সংবাদ
[ঐতিহ্য প্রকাশিত হিস্টরিক্যাল ট্রান্সপারেন্সি সোসাইটি সম্পাদিত ‘মসনদে মোশতাক’ (২০২৫) থেকে সংকলিত]





