হাসান আল বান্না জন্মগ্রহণ করেন ১৯০৬ সালে। বাবা ছিলেন ব্যবসায়ী। শিক্ষাজীবনের হাতেখড়ি স্থানীয় মাদ্রাসায়। কিছুকাল পর ভর্তি হন মাহমুদিয়ার মাধ্যমিক স্কুলে। তবে সমকালীন বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সংস্পর্শে আসার সুযোগ ঘটে দামানহুর টিচার্স ট্রেনিং স্কুলে যাওয়ার পর। সেখানে পড়াশোনা শেষ করে তিনি কায়রো যান এবং আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে দারুল উলুমে ভর্তি হন।
কায়রোয় অবস্থানকালে বান্না মিসরের অন্যতম জামিয়াতুল মাকারিমিল আখলাক আল ইসলামিয়াহ নামক সংস্থার সদস্য হন। বলতে গেলে সেখানেই তার সাংগঠনিক তৎপরতার যাত্রা শুরু। ১৯২৭ সালের জুলাইয়ে দারুল উলুম থেকে তিনি ডিপ্লোমা লাভ করেন। এর মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক শিক্ষাজীবনের সমাপ্তি ঘটে। পড়াশোনা শেষ করে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন সরকারি স্কুলে। পাশাপাশি নিকটবর্তী ক্লাব ও কফি হাউজে গিয়ে বক্তব্য দিতে থাকেন। তার আলোচনা চিন্তাশীল লোকদের প্রভাবিত করতে শুরু করে। ১৯২৮ সালে ছয়জন বিশেষ ব্যক্তি বান্নার চিন্তার সঙ্গে মিলিত হন। তারা যথাক্রমে হাফিজ আবদুল হামিদ, আহমদ আল হাসরি, ফুয়াদ ইবরাহিম, আবদুর রহমান হাসবুল্লাহ, ইসমাইল ইযয ও যাকি আল মাগরিবি। তারা মৌলিক কিছু বিষয়ে একমত ছিলেন। সেই ঐক্যমত্য সংগঠনের ভিতকে দৃঢ়তা দান করে। আলোচনা শেষে একটি সংগঠন কায়েমের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সংগঠনের নাম রাখা হয় আল ইখওয়ানুল মুসলিমুন বা মুসলিম ভ্রাতৃসংঘ। সংগঠনটির প্রধান নির্বাচিত হন বান্না নিজেই। এভাবে ১৯২৮ সালের মার্চে মিসরের ইসমাইলিয়ায় সাতজন সদস্য নিয়ে ইখওয়ান গঠিত হয়। বান্নার বয়স তখন ২২ বছর মাত্র।
বান্না আগ্রহের সঙ্গে শহরে ঘুরে বেড়াতে লাগলেন। বাড়িতে বাড়িতে ঢুকে প্রচার করতে লাগলেন নিজের চিন্তা। তিন বছর এভাবে চললে কিছু লোক তার ডাকে সাড়া দেয়। ইখওয়ানের সদস্যরা বাড়ি কিংবা কফিশপে গিয়ে আদর্শ প্রচার করতেন। কেউ কেউ আলাপ করতেন মসজিদে সমবেত লোকদের সামনে। এভাবে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে ইখওয়ান পরিচিত একটা সংগঠনে পরিণত হয়। অনেক শাখা জন্ম নেয় ইসমাইলিয়ায়। ছড়িয়ে যায় নিকটবর্তী শহর পোর্ট সাঈদ, সুয়েজ, আবু সুয়াইর ও সুবরাখিতেও। কেন্দ্রীয় কার্যালয় তখনো ইসমাইলিয়ায়। আদর্শিক প্রচারণার স্বার্থেই ইখওয়ান কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের পাশে বালক ও বালিকাদের জন্য একটি করে স্কুল স্থাপন করে। স্কুলগুলোয় এমন শিক্ষাপদ্ধতি চালু করা হয়, যাতে শিক্ষার্থী পার্থিব পারদর্শিতা অর্জনের সঙ্গে সঙ্গে ইসলামী জ্ঞানে সমৃদ্ধ হয়। শরীরচর্চা ও নির্মল আনন্দদানের জন্য স্থাপন করা হয় ক্লাবও। কর্মসংস্থানের জন্য গড়ে তোলা হয় কুটির শিল্পপ্রতিষ্ঠান। ইখওয়ান ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে এ মডেল উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করত। শাখা সংগঠনগুলো শক্তিশালী হতেই মসজিদ নির্মাণ, শিক্ষালয় স্থাপন, ক্লাব ও কুটির শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলত।

হাসান আল বান্নার আত্মজীবনীমূলক উপন্যাস। ছবি: অ্যারাবিক বুক শপ
মিসরের মসনদে তখন কিং ফুয়াদ। প্রধানমন্ত্রী ইসমাঈল সিদকী পাশা সতর্ক হয়ে উঠে পড়েন ইখওয়ান প্রসঙ্গে। বিশেষ করে বান্নার বিরুদ্ধে প্রচারণা শুরু হলো সরকারি টাকা খরচের। একটি কমিটিও গঠন করা হয়। যদিও কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। কিন্তু সরকারি মহল থেকে প্রচারণা চলতে থাকল বান্না কিং ফুয়াদকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্যই সংগঠনটি গড়ে তুলেছেন। শিগগিরই তাকে কায়রোয় বদলি করা হলো। তিনি কায়রোর পথে রওনা দিলেন, সঙ্গে নিয়ে গেলেন ইখওয়ানের কেন্দ্রীয় কার্যালয়। কাজ শুরু হয় নতুন উদ্যমে। এ সময়েই তিনি বিয়ে করেন। স্কুলে যাওয়ার আগে তিনি কার্যালয়ে আসতেন। কাজের ফিরিস্তি তৈরি করে সহকারীদের হাতে দিতেন। স্কুল থেকে ফেরার পথে ফের আসতেন কার্যালয়ে। বিকালের সময়টায় হতো আলোচনা সভা। কিন্তু শুধু পুরুষদের নিয়ে তৎপরতা চালানোকে তিনি যথেষ্ট মনে করলেন না। কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের পাশে অবস্থিত মাদ্রাসার শিক্ষিকাদের নিয়ে গঠন করলেন ইখওয়ানের মহিলা শাখা, আল আখাওয়াত আল মুসলিমাত।
১৯৩৩ সালে বান্নার আহ্বানে কায়রোয় অনুষ্ঠিত হয় ইখওয়ানের প্রথম সাধারণ সম্মেলন। একই বছরই আরেকটি সাধারণ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। দুই সম্মেলনের পর সিদ্ধান্ত নেয়া হয় একটি প্রিন্টিং প্রেস স্থাপনের। এ সময় থেকে ইখওয়ানের সাপ্তাহিক পত্রিকা মাজাল্লাতুল ইখওয়ানুল মুসলিমুন প্রকাশনা শুরু হয়। সেখানে বান্না দেশের পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে প্রবন্ধ লিখতেন। সদস্যদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে বক্তব্য পরিবেশিত হতো। ১৯৩৫ সালে তৃতীয় সাধারণ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় প্রাধান্য পায় সদস্যদের মান, বৈশিষ্ট্য, দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত। রোভার স্কাউট গঠনের সিদ্ধান্ত অনুমোদন হয়।
১৯৩৭ সালে মিসরের মসনদে বসেন কিং ফারুক। তিনি প্রধানমন্ত্রী বানান আলী মাহির পাশাকে। আলী মাহির ইখওয়ান সম্পর্কে বেখবর ছিলেন না। তিনি সরকারের প্রতি আল ইখওয়ানের সমর্থন চান। বান্না পরামর্শ পরিষদে বিষয়টি তোলেন এবং সরকারের প্রতি সমর্থন জ্ঞাপনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ১৯৩৯ সালের জানুয়ারিতে যখন ইখওয়ানের সাধারণ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়, তখন দৃশ্যমান হয়ে ওঠে দলটি মিসরের রাজনীতিতে বড় শক্তিতে পরিণতে হতে যাচ্ছে। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ শুরু হলে গ্রেট ব্রিটেন চাচ্ছিল মিসর তার পক্ষে যুদ্ধে অংশ নিক। কিন্তু ব্রিটেনের পক্ষে যুদ্ধ করার মানে তুর্কির বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামা। বান্না কায়রোয় ইংরেজবিরোধী জনমত গড়ে তুলতে থাকেন। সরকার আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়ে। বান্নাকে সাময়িকভাবে গ্রেফতার করা হলেও পরে মুক্তি দেয়া হয়। ব্রিটেনের দূতাবাস থেকে বান্নার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। যদিও সে আলোচনা ফলপ্রসূ হয়নি।
জনমনে তখন ইংরেজ বিদ্বেষ ক্রমবর্ধমান। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। সেনাবাহিনীর তরুণ অফিসারদের মধ্যেও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়। প্রধানমন্ত্রী মুসতাফা আন নাহাস পাশা পার্লামেন্টের নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঘোষণা দেন। কিন্তু ১৯৪২ সালের শেষ ভাগে প্রধানমন্ত্রী নাহাস পাশা বেঁকে বসেন। সারা দেশে ছড়িয়ে থাকা আল ইখওয়ানের শাখাগুলোর কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়। কেবল কেন্দ্রীয় কার্যালয়টি নিষেধাজ্ঞার বাইরে রাখা হয়। শোনা যাচ্ছিল বান্নাকে অচিরেই কোথাও নির্বাসনে পাঠিয়ে দেয়া হবে। কিন্তু বান্নাকে নির্বাসিত করা হয়নি। ১৯৪৩ সালের গোড়ার দিকে ইখওয়ানের কতিপয় সদস্য অনাকাঙ্ক্ষিত পদক্ষেপ গ্রহণ করে; যা শিগগিরই আত্মঘাতী হিসেবে প্রমাণিত হয়। তারা একটি গুপ্ত বাহিনী গঠন করে, বাহিনীর প্রধান হন সালিহ আশমাওয়ী। এ গুপ্ত বাহিনী অস্ত্র প্রয়োগ করে বিপ্লব আনয়নে বিশ্বাসী ছিল। গঠিত হওয়ার পর এ বাহিনী এখানে ওখানে বারবার পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। গুপ্ত বাহিনীর তৎপরতায় ইখওয়ানকে পড়তে হলো সংকটে।

১৯৪৮ সালে আরব-ইসরায়েল যুদ্ধে মুসলিম ব্রাদারহুডের যোদ্ধারা
১৯৪৪ সালে কিং ফারুক ওয়াফদ পার্টির মন্ত্রিসভা ভেঙে দেন। পরের বছর জানুয়ারিতে মিসরে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। পার্লামেন্ট গঠনের উদ্দেশ্যে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে ইখওয়ান অংশগ্রহণ করে। বান্না ইসমাইলিয়া থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। কিন্তু পরাজিত হন; জয় হয় আহমাদ মাহির পাশার দল। নির্বাচনের পর আহমাদ মাহির পাশা শক্ত হয়ে বসেন। সিদ্ধান্ত নেন জার্মানি ও তুর্কির বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামার। ১৯৪৫ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি আহমাদ মাহির পাশা যুদ্ধে নামার সিদ্ধান্তসংবলিত ঘোষণাটি পাঠকালে আততায়ীর গুলিতে নিহত হন। স্বাভাবিকভাবেই খবর ছড়িয়ে পড়ে এটা ইখওয়ানের কাজ। বান্না, আহমাদ আশ শুককারী ও আবদুল হাকী আবিদীনকে গ্রেফতার করা হয়। আততায়ী ধরা পড়েছিল দ্রুত। পরে জানা যায় সে ন্যাশনালিস্ট পার্টির লোক। বান্না ও তার সহকর্মীদের মুক্তি দেয়া হয়। নতুন প্রধানমন্ত্রী হন মাহমুদ আল নুকরাশি পাশা। তিনি ইখওয়ানকে ঘৃণা চোখে দেখতেন। এদিকে আরেক দল ওয়াফদ পার্টির সঙ্গেও ইখওয়ানের সম্পর্ক ভালো ছিল না। কেন্দ্রীয় নেতাদের একাংশ মত পোষণ করতেন, জাতীয় স্বার্থে ইখওয়ান ও ওয়াফদ পার্টির মধ্যে সমঝোতা হওয়া উচিত। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে ইখওয়ানের ভেতরে বড় রকমের মতপার্থক্য তৈরি হয়। শীর্ষ নেতা ইবরাহীম হাসান দল ত্যাগ করেন। কিছুকাল পর বহিষ্কৃত হন আহমাদ আশশুককারী। মতবিরোধের সূত্র ধরে দুর্বল হয়ে পড়ে ইখওয়ান।
১৯৪৭ সালের নভেম্বরে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ফিলিস্তিন বিভক্তকরণের প্রস্তাব গৃহীত হয়। গ্র্যান্ড মুফতি আমিন আল হুসাইনি একটি স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী গঠনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন। বান্না সেখানে পাঠান ইখওয়ানের অন্যতম সদস্য সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত অফিসার মাহমুদ লাবিবকে। মাহমুদ লাবিব মুফতি আল হুসাইনির সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে ফিলিস্তিনি যুবকদের সমন্বয়ে একটি স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী গড়ে তুলে তাদের প্রশিক্ষণ দিতে থাকেন। সে সময় আরব লীগের উদ্যোগে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোয় স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী গড়ে তোলা হচ্ছিল। আল ইখওয়ানের কর্মীরা ব্যাপক হারে স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীতে যোগ দেয়। বান্না মিসর থেকে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে আল ইখওয়ানের সদস্যদের ফিলিস্তিন পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন।
ক্রমে সারা দেশে ইখওয়ানের শাখা সংখ্যা দুই হাজারে উন্নীত হয়। জনশক্তির সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ২০ লাখ। এ সময় ইখওয়ানকে জড়িয়ে ছড়াতে থাকে নানা রকম নেতিবাচক তথ্য। বিশিষ্ট কিছু ব্যক্তি আততায়ীর হাতে প্রাণ হারায়, তার দায়ও বর্তায় ইখওয়ানের ওপর। মূলত তৈরি হয় ইখওয়ানকে নিষিদ্ধ করার পথ। ১৯৪৮ সালের ৮ ডিসেম্বর বান্না তার সহকর্মীদের নিয়ে কায়রোয় অবস্থিত কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বসে রেডিওতে প্রচারিত খবর শুনছিলেন। খবর প্রচারিত হলো ইখওয়ান নিষিদ্ধ। কারণ সংগঠনটি দেশে সশস্ত্র বিপ্লব ঘটানোর প্রস্তুতি নিয়েছে। এ ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে ছুটে আসে পুলিশের গাড়ি। গ্রেফতার করা হতে থাকে কর্মীদের। বাজেয়াপ্ত করা হয় ইখওয়ানের সব সম্পদ। আল ইখওয়ান পরিচালিত স্কুল, ক্লাব, হাসপাতাল, শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়।
ডিসেম্বরেই এক আততায়ীর হাতে নিহত হন প্রধানমন্ত্রী মাহমুদ আন নুকরাশি পাশা। এবারো সন্দেহের তীর যায় ইখওয়ানের দিকে। আদালতের জিপে রক্ষিত মামলার কাগজপত্র লক্ষ্য করে বিস্ফোরণ ঘটানোর চেষ্টা হয়। বোমা ফুটল। দাবি করা হলো হামলাকারী ইখওয়ানের সদস্য। যদিও বান্না সরকারকে জানালেন সন্ত্রাসী কার্যক্রমের সঙ্গে তার সহকর্মীদের কোনো সম্পর্ক নেই। কিন্তু পরিস্থিতি কেবলই জটিল হচ্ছিল। তার চিত্র দেখা যায় ১৯৪৯ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি। কায়রোয় ইয়াং মুসলিমস অ্যাসোসিয়েশানের মিটিংয়ে বান্না বক্তা হিসেবে আসেন। মিটিং শেষে এ সংস্থার কার্যালয় থেকে বের হন। রাস্তায় নেমে তিনি গাড়িতে উঠতে যাচ্ছিলেন, এমন সময় আততায়ীর গুলি এসে বিঁধে বুকে। রক্ত রঞ্জিত দেহ নিয়ে বান্না ঢলে পড়েন। সঙ্গীরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে ইখওয়ানের জন্য নতুন পর্যায় শুরু হয়। ইখওয়ানোর ওপর নিষেধাজ্ঞাকে চ্যালেঞ্জ করে কোর্টে মামলা করা হয়েছিল। ১৯৫১ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর মিসরের সুপ্রিম কোর্ট নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে রায় দেন। ইখওয়ান আবার বৈধ সংগঠনরূপে কাজ শুরু করে। উপনিবেশ-পরবর্তী জাতীয়তাবাদ, সরকার ও আধুনিক রাষ্ট্রের সঙ্গে ইসলামের সম্পর্ক পুনঃসংজ্ঞায়নে বান্না যে নতুন ধারার আদর্শের শুরু করেছেন, তা এখনো মিসরের রাজনীতিকে প্রভাবিত করে চলছে।
মুহম্মদ আল মুখতাফি: লেখক ও সাংবাদিক








