১৯৪৭ সালের প্রথম
দিকে বাবা-মায়ের
সঙ্গে পেশোয়ারে
আসি। তবে
পেশোয়ারে এটাই
আমার প্রথম
আসা নয়।
১৯৩৫ সালের
ডিসেম্বরে আমরা
যখন প্রথমবার
ভারতে যাই,
তখন পেশোয়ারে
ছিল আমার
বাবার প্রথম
পোস্টিং। বাবা
ছিলেন আর্মি
এডুকেশনাল কোরের
একজন ওয়ারেন্ট
অফিসার। আমি
তখন নিতান্তই
শিশু, তাই
সে সময়
জায়গাটি কেমন
ছিল সে
সম্পর্কে আমার
কোনো স্মৃতি
নেই। মাত্র
কয়েক মাসের
মধ্যে বাবাকে
ওয়ানায় পোস্টিং
দেয়া হয়
এবং আমার
মা ও
আমি তখন
সিমলা পাহাড়ের
কসৌলিতে চলে
গিয়েছিলাম।
কয়েক দশক
ধরে পেশোয়ার
ছিল উপজাতিদের
অঞ্চল এবং
আফগান সীমান্ত
এলাকায় ব্রিটিশ
সেনাবাহিনীর অভিযানের
ঘাঁটি। আফগানিস্তানের
মধ্য দিয়ে
আসা উপজাতি
এবং রুশদের
নিয়ে ব্রিটিশদের
ভয়, ভারতের
প্রতি ব্রিটেনের
অতি আগ্রহের
সঙ্গে চ্যালেঞ্জ,
ওখানকার সরকারকে
অস্থির করে
রেখেছিল এক
শতাব্দীরও বেশি
সময় ধরে।
যে প্রত্যন্ত
অঞ্চলগুলোয় পেশোয়ারের
প্রশাসন ছিল,
সেগুলো ছিল
অনুর্বর, ঊষর
এবং অত্যন্ত
বিপজ্জনক। বিপদটি
প্রধানত উপজাতিদের
কাছ থেকে
আসছিল, যারা
ব্রিটিশ কর্তৃত্ব
মেনে নিতে
পারেনি এবং
যারা অনধিকার
প্রবেশকারীদের ওপর
বিরক্ত ছিল।
বিরূপ মনোভাবের
উপজাতিদের শিক্ষা
দেয়ার জন্য
সময়ে সময়ে
বড় বাহিনী
পাঠানো জরুরি
হয়ে পড়ত।
যদিও ব্রিটিশ
সেনারা সংখ্যায়
বেশি এবং
বন্দুকে অধিক
শক্তিশালী ছিল,
কিন্তু বৈরী
পরিবেশে উপজাতিদের
কাজ করতে
পারার অসাধারণ
ক্ষমতা এবং
রুক্ষ ভূখণ্ডকে
নিজেদের সুবিধামতো
ব্যবহার করতে
পারার দক্ষতার
কারণে তারা
বড় বাহিনীর
মোকাবেলা করতে
এবং তাদের
যথেষ্ট ক্ষতি
সাধন করতে
সক্ষম ছিল।
N.W.F.P. (North West Frontier Province)
ব্যবহূত হতো
ব্রিটিশ ও
ভারতীয় সৈন্যদের
প্রশিক্ষণ ক্ষেত্র
হিসেবে। এভাবে
পেশোয়ার একটি
বৃহৎ সেনানিবাসে
পরিণত হয়,
যেখান থেকে
সৈন্য, পরিবার
এবং বিপুল
সংখ্যক স্থানীয়
বাসিন্দাদের প্রয়োজন
মেটানো হতো।
আমি যখন
পেশোয়ারে ফিরে
এলাম, তখন
যদিও ব্রিটিশ
সেনাবাহিনী সেনানিবাসে
আধিপত্য বিস্তার
করা বন্ধ
করে দিয়েছে,
কিন্তু তখনো
সেখানে অবস্থানরত
ভারতীয় ইউনিটগুলোর
সামরিক তত্পরতা
অব্যহত ছিল।
আমাদের নতুন
বাড়ি হলো
ফোর্ট রোডের
সার্ভিসেস হোটেল।
এটিকে পেশোয়ারের
সবচেয়ে বড়
এবং ভালো
হোটেল বলে
বিবেচনা করা
হতো। এটি
একটি মনোরম
পরিবেশে সরকারি
বাড়ির কাছাকাছি
এবং একটি
বিশাল বিনোদনের
মাঠ বা
ময়দানের উল্টো
দিকে অবস্থিত
ছিল। দোতলা
এ হোটেলের
দ্বিতীয় তলায়
ছিল আমাদের
অ্যাপার্টমেন্ট। একটি
বসার ঘর,
দুটি শয়নকক্ষ,
বাথরুম এবং
একটি টয়লেটের
সমন্বয়ে খুব
আরামদায়ক আবাসস্থল।
অ্যাপার্টমেন্টের সামনে
একটা বারান্দা
ছিল যেখান
থেকে হোটেলের
বাগান, ফোর্ট
রোড এবং
এর বাইরে
খেলার মাঠ
দেখতে পাওয়া
যেত।
আমার স্কুলে
যাওয়ার ব্যাপারটি
জরুরি বিষয়
হয়ে ওঠে
এ সময়।
কারণ মধ্যপ্রদেশে
পাচমাড়ি থেকে
চলে আসার
পর আমার
আর স্কুলে
পড়াশোনা করা
হয়নি এবং
পাচমাড়িতে আমি
যে সামান্য
কিছু স্কুলের
সুবিধা পেয়েছি
তা ছিল
নগণ্য এবং
সেটুকু অবশ্যই
আমার বয়স
ও যোগ্যতার
সমতুল্য শিক্ষাপ্রাপ্তি
ছিল না।
সে সময়
ব্রিটিশ আর্মি
স্কুল বন্ধ
থাকায় আমার
বাবা-মা
আমাকে একজন
প্রাইভেট টিউটরের
কাছে পাঠানোর
সিদ্ধান্ত নেন।
তার নাম
ছিল মিস
বার্চ। তিনি
ছিলেন অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান
এবং অবিবাহিত।
প্রায় ৪০
বছর বয়সী
ভীষণ দয়াশীল
ও মার্জিত
ব্যবহারের একজন
ভদ্রমহিলা। তার
দায়িত্বে থাকা
সমস্ত কাজের
অগ্রগতি এবং
উন্নতির জন্য
তিনি ছিলেন
নিবেদিতপ্রাণ মানুষ।
মিস বার্চের
স্কুলটি তার
বাড়িতেই ছিল।
বাড়িতে জানালার
কমতি এবং
চারপাশের গাছপালার
আধিক্যের কারণে
বাংলোর ভেতরটা
অন্ধকার ও
তমসাচ্ছন্ন হয়ে
থাকত। ঘরের
ভেতরকার এ
বিষণ্নতাটুকু আরো
বাড়িয়ে দেয়ার
জন্য ঘরে
রাখা আসবাবগুলো
ছিল ভিক্টোরিয়ান
আমলের অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান
ঐতিহ্যের; মোটা
পর্দা, গাঢ়
রঙের কার্পেট,
কাঠের ভারী
আসবাব এবং
খোলা আগুনের
ওপর থাকা
তাকটিকে ঢেকে
রাখা মখমলের
চাদর। বাড়িটিতে
একটি বিশাল
বাগান ছিল,
যেখানে আমাদের
বেশির ভাগ
পড়াশোনার কাজ
সম্পন্ন হতো।
আমরা গাছের
ছায়ায় টেবিলে
বসে লেখাপড়া
করতাম। গরম
বেশি হলে
বারান্দায় বসতাম।
বাড়ির বাইরে
থাকার সময়টুকুতে
আমাদের লেখাপড়ায়
খুব ব্যাঘাত
হতো, কারণ
বাড়ির বিপরীতে,
রাস্তার অন্য
পাশে ছিল
ম্যাকেসন পার্ক
এবং সেই
সঙ্গে দ্য
মল, যেটির
নামকরণ করা
হয়েছিল একজন
ব্রিটিশ কমিশনার
কর্নেল ম্যাকেসনের
নামে। এই
ম্যাকেসন একজন
ক্ষুব্ধ স্থানীয়র
হাতে খুন
হয়েছিলেন ১৮৫৩
সালের সেপ্টেম্বরে।
পরবর্তীকালে এ
খুনের অপরাধী,
যিনি একজন
মুসলমান ছিলেন,
তার ফাঁসি
ও দাফনকে
কেন্দ্র করে
কিছুকালের জন্য
সেনানিবাসে অত্যন্ত
উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি
সৃষ্টি হয়েছিল
। ম্যাকেসন
পার্ক ছিল
এলাকার ভীষণ
জনপ্রিয় একটি
পথ। আর
এটি ছিল
দ্য মলের
পাশে, যা
ছিল পেশোয়ারের
শরীরে প্রধান
ধমনী।
পেশোয়ারের সামাজিক
জীবন ছিল
প্রাণবন্ত ও
বৈচিত্র্যময়। রোববারে
বাঁধা নিয়ম
ছিল পেশোয়ার
ক্লাবে সাঁতার
কাটতে যাওয়া।
ওখানে বাগানে
একটি বড়
পুল ছিল,
যা মালি
বাহিনী দিয়ে
নিখুঁতভাবে রক্ষণাবেক্ষণ
করা হতো।
আশপাশে বাগান
পরিবেষ্টিত কিছু
ঝরনা ছিল,
যেখানে বসার
জন্য চেয়ারের
ব্যবস্থা ছিল।
এই সরল,
শান্ত ও
মনোরম পরিবেশে
উপস্থিত সবাইকে
বেয়ারা আপ্যায়ন
করত নানা
রকম পানীয়
এবং টমেটো
সস দিয়ে
সজ্জিত আলুর
চিপস, কিংবা
প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য
বিয়ার, জিন
ও টনিক।
এসব খাবারের
সব খরচ
একটি চিঠিতে
লেখা থাকত
এবং মাসের
শেষে সব
খরচ একসঙ্গে
পরিশোধ করা
হতো। রোদে
পোড়ার ক্ষতিকর
দিক সম্পর্কে
সম্পূর্ণ অজ্ঞ
থাকার কারণে
আমি যতবারই
পুলে যেতাম
ততবারই পুড়ে
যেতাম। সেই
দিনগুলোয় রোদে
পোড়া প্রতিরোধের
জন্য কোনো
লোশন ছিল
বলে আমার
মনে পড়ে
না।
পেশোয়ার, সীমান্তের
নিকটতম বৃহৎ
সেনানিবাস হওয়ায়,
প্রত্যন্ত উপজাতি
এলাকায় নিঃসঙ্গ
পোস্টিং থেকে
মুক্তি পাওয়া
সব সেনা
সদস্যকে আকৃষ্ট
করত খুব।
এ রকম
একটি দল
ছিল টোচি
স্কাউটস, ভারতীয়
সেনাবাহিনীর একটি
অভিজাত শাখা,
যারা সীমান্ত
এলাকার সবচেয়ে
নির্জন ও
দূরবর্তী পোস্টগুলোয়
ছোট দলে
কাজ করত,
যারা শহরে
আসতে পারলে
শেষদিন পর্যন্ত
আমোদ ও
উল্লাস করত।
পেশোয়ারে পড়ে
থাকা অল্পসংখ্যক
ব্রিটিশ শিশুর
মধ্যে একজন
ছিলাম আমি।
ব্রিটিশ পরিবারগুলো
চলে যাওয়ার
পর দেখতে
পেলাম আমার
অবশিষ্ট বন্ধুরা
প্রধানত ভারতীয়
কিংবা বলা
যায় পাকিস্তানি,
যে নতুন
পরিচয় তারা
পেতে চলেছে।
কাইয়ুম খান
নামের একজনের
সঙ্গে আমার
ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব
হলো, সেও
মিস বার্চের
স্কুলে লেখাপড়া
করেছে। কাইয়ুম
খানের সঙ্গে
বন্ধুত্ব করার
ফলে আমি
পেশোয়ারের এমন
সব এলাকায়
প্রবেশ করতে
পেরেছি যেখানে
সাধারণত ইউরোপীয়রা
কেউ যেতে
পারে না,
অন্তত নিজে
থেকে অবশ্যই
নয়। আমি
আর কাইয়ুম
প্রায়ই শহরের
বাজারের মধ্য
দিয়ে সাইকেল
চালাতাম, যা
সেনানিবাস এলাকার
বাইরে ছিল।
আর তাই
আমাদের এ
পরিভ্রমণ ব্রিটিশ
কর্তৃপক্ষের ঘনিষ্ঠ
তদন্তের চোখে
পড়েনি কখনো।
সরু গলির
ভেতর দিয়ে
আমরা সাইকেল
চালিয়ে যেতাম,
যেখানে ব্যবসায়ীরা
ভিড় করতেন
তাদের বেসাতি
এবং কারুশিল্প
নিয়ে, অপ্রশস্ত
ঘিঞ্জি দোকানে
থাকত জমাট
বাঁধা কোলাহল,
ছন্দময় হাতুড়ির
তালে তালে
তৈরি হতো
পিতল ও
তামার পাত্র।
পাশাপাশি দুটি
দালানের গায়ে
উঁচু দড়ি
বেঁধে ফেস্টুন
তৈরি করা
হতো, যেখানে
ঝুলিয়ে দেয়া
হতো নানা
রকম পণ্যদ্রব্য।
মাথার ওপর
বিভিন্ন রঙের
প্যারাসুট অলসভাবে
ঝুলছে, ধোঁয়াটে
ধুলোভর্তি বাতাসে
উড়ছে। এ
প্যারাসুটগুলো যে
কোত্থেকে আসত,
তা এক
রহস্য ছিল।
প্যারাসুটের বিভিন্ন
রঙ ইঙ্গিত
করত যে
তাদের একটি
সামরিক উৎস
আছে; ভিন্ন
ভিন্ন রঙের
শামিয়ানা ব্যবহার
করা হতো
ভেতরের বস্তুসামগ্রীর
পরিচয় বোঝাতে,
যেমন—গোলাবারুদ,
খাবার অথবা
চিকিৎসাসামগ্রী।
পেশোয়ার বাজার
চোরাই পণ্যের
সম্মিলিত ‘বেড়া’
হিসেবে পরিচিতির
জন্য কুখ্যাত
ছিল। ‘চোর
বাজার’ ছিল
এক বিখ্যাত
জায়গা যেখানে
মানুষ নিজের
চুরি হয়ে
যাওয়া জিনিসপত্র
পুনরায় খরিদ
করতে পারত,
কেবল যেসব
জিনিস তখনো
আস্ত থাকত।
কাইয়ুম এবং
আমি স্ট্যাম্প
ও কয়েন
কিনতাম, আমাদের
শখ ছিল
ওসব সংগ্রহ
করা, ৮
আনার বিনিময়ে
এক মুঠো
স্ট্যাম্প ও
কয়েন। কিছু
কেনার সময়
ক্রেতা দ্রব্যের
গুণাগুণ এবং
মূল্যের সঙ্গে
তুলনা করে
দেখে, কিন্তু
আমাদের মতো
অল্প বয়সীদের
কাছে ওগুলো
দুর্দান্ত মূল্যবান
বলে মনে
হতো; মানের
পরিবর্তে পরিমাণ
বেশি আবেদন
জাগাত। বাজারে
সাধারণভাবে পাওয়া
যায় এমন
আরো জাগতিক
দৈনন্দিন প্রয়োজনীয়
বস্তু ছাড়াও
আফগানিস্তান থেকে
আমদানি করা
দ্রব্যাদি পাওয়া
যেত; যেমন
কার্পেট। পেশোয়ার
ছিল ভারতের
প্রবেশদ্বার, তাই
শুধু আফগানিস্তান
থেকে নয়,
পারস্য, বোখারা
ও তুর্কিস্তান
থেকে কার্পেট
নিয়ে আসা
উটের কাফেলাগুলোকেও
পেত পেশোয়ার।
এ কাফেলাগুলোর
পিঠ বোঝাই
করে আসত
কুম, কিশান
ও তাবরিজ
কার্পেট এবং
আরো জনপ্রিয়
এবং সস্তা
বোখারাস ও
তুর্কোমান কার্পেট।
দোকানগুলোর একটি
স্বতন্ত্র গন্ধ
ছিল, যেন
এক অতীতের
স্মৃতি, যা
কার্পেটের স্তূপ
থেকে নির্গত
হতো। কার্পেট
কিনতে কাউকে
বাজারে যেতে
হতো না;
কারণ বিক্রয়কর্মীরা
বিক্রি করার
জন্য হোটেলগুলোর
চারপাশে সাইকেল
নিয়ে ঘুরত
আর তাদের
সাইকেলের পেছনে
বাঁধা থাকত
পণ্য। বাজারে
বসে থাকা
প্রতিপক্ষ বিক্রেতাদের
চেয়ে এসব
ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতাদের
সুবিধা ছিল
যে তারা
আপনার বাড়ির
মেঝেতে কার্পেট
বিছিয়ে প্রদর্শন
করতে পারত
এবং আপনাকে,
ক্রেতাকে, আরো
ভালোভাবে বুঝিয়ে
দিতে পারত
জিনিসটি আপনার
গৃহের অন্যান্য
আসবাবের পাশে
ঠিক কেমন
মানাবে। আমার
বাবা-মা
দরকষাকষি করে
এসব ভ্রাম্যমাণ
বিক্রেতার একজনের
কাছ থেকে
একটি বড়
বোখারা (কার্পেট)
কিনেছিলেন, যা
আমার কাছে
আজও আছে।
ভাষাগত দক্ষতার
কারণে কাইয়ুম
ছিল একজন
অপরিহার্য বন্ধু;
উর্দু ছাড়াও
সে জানত
পশতু, আফগানিস্তান
ও পাঠান
উপজাতির ভাষা
এবং অবশ্যই
জানত চমত্কার
ইংরেজি। আমি
প্রায়ই ওর
বাড়ি যেতাম,
তখন ওর
মা আমাদের
খেতে দিতেন
কেক, দুধ
আর সেই
বিস্ময়কর সুস্বাদু
ভারতীয় মিষ্টি
খাবার, লাধু
কেক ও
জিলাপি। এত
ভালো বন্ধু
হওয়ার পরও
সে আমার
সঙ্গে ক্লাব
সুইমিং পুলে
যেতে পারত
না, কারণ
সে সেনাবাহিনীর
কেউ ছিল
না এবং
সে ছিল
একজন ভারতীয়।
এই অসংগতিটুকু
কখনই আমাকে
বিচলিত করেনি;
আমিও ঠিক
ওর মতোই
ব্যাপারটিকে মেনে
নিয়েছিলাম। যদিও
ভারতে ব্রিটিশ
আমল শেষ
হয়ে গিয়েছে
তখন, তবু
এ ধরনের
বৈষম্যমূলক মনোভাবের
অহংকার প্রবলভাবে
অটুট ছিল
সেখানে এবং
তা সহ্য
করা হতো।
১৯৪৮ সালের
মাঝামাঝি সময়ে
আমরা পেশোয়ার
ছেড়ে রাওয়ালপিন্ডির
উদ্দেশে চলে
যাই, যেখানে
আমার বাবা
একটি নতুন
অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়েছিলেন।
ভারতের যতগুলো
জায়গায় আমি
থেকেছি, তার
ভেতর পেশোয়ার
আমার স্মৃতিতে
একটি বিশেষ
স্থানে রয়েছে।
আমার জীবনের
গঠনমূলক বছরগুলোর
বেশির ভাগটা
সময় আমি
কাটিয়েছি এ
উপমহাদেশে। আমি
সেখানে শিক্ষিত
হয়েছি। অনেক
অসুস্থতা ও
অস্বস্তি সত্ত্বেও
সেখানে আমি
অত্যন্ত আনন্দের
কিছু সময়
কাটিয়েছি। এখন
যেহেতু আমি
বৃদ্ধ হচ্ছি
এবং নিজের
ভবিষ্যেক ক্ষয়ে
যেতে দেখছি,
তাই বেশির
ভাগ বয়স্ক
মানুষের মতো
আমিও অতীতের
মাঝে সান্ত্বনা
খুঁজে পাই।
বারবার আমি
ভারত ও
পাকিস্তানে কাটানো
সেই সময়গুলোর
কথা ভাবি।
অনেকগুলো বছর
অতিবাহিত হওয়ার
পর এখন
আমি বুঝতে
পারি যে
ঐতিহাসিকভাবে সেখানে
কাটানো আমার
বছরগুলো ছিল
এক উত্তাল
সময়ের বাস।
আমি একটি
জাতির জন্ম
এবং একটি
সাম্রাজ্যের পতনের
সূচনা প্রত্যক্ষ
করেছি। আমি
এমন সব
ঘটনার মধ্য
দিয়ে জীবন
পার করেছি,
যা এখন
ইতিহাসের বইয়ে
দেখা যায়।
ইতিহাসবিদরা রাজনীতি
ও জাতীয়
বিষয়গুলোকে শিক্ষাবিদ
হিসেবে পর্যালোচনা
করেন এবং
ঠাণ্ডা তথ্য
ও রাজনীতির
বিজ্ঞান নিয়ে
নিজেদের সচেতন
করেন; আর
যেখানে আমি
শুনেছি একটি
ভিড়ের ভয়ার্ত
শব্দ, দেখেছি
ধ্বংসের ধোঁয়া,
আর হেঁটে
গিয়েছি কারো
বাড়ির ধ্বংসস্তূপের
মধ্য দিয়ে।
একটি উপমহাদেশের
মানুষ, রঙ
এবং শব্দের
কিছু বিস্ময়কর
স্মৃতিও ধরে
রেখেছি আমার
অন্তরে, জন্মভূমি
ইংল্যান্ডে ফিরে
আসার অনেক
বছর পর
যাকে আমি
আমার নিজের
বাড়ি বলে
মনে করেছি।
আপাতবিরোধীভাবে যা
ছিল এমন
একটি দেশ,
যেখানে আমি
ছিলাম একজন
অপরিচিত ব্যক্তি।
(ওয়াল্টার
রিভের লেখার
বাছাইকৃত অংশের
অনুবাদ)
লুনা রাহনুমা: লেখক ও অনুবাদক





