১৭৬৩ সালে বাংলার
মসনদে মীর
জাফরের পুনঃপ্রতিষ্ঠা
রেজা খানের
কর্মজীবনে নতুন
দ্বার খুলে
দেয়। ৭
জুলাই মীর
জাফর ইংরেজদের
বিরোধিতা করার
অভিযোগে মীর
কাসিমের বিরুদ্ধে
যুদ্ধ ঘোষণা
করেন। এ
ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে
অনেকেই জাফরের
সঙ্গে যোগ
দেন মীর
কাসিমকে পরাজিত
করতে। ১৫
আগস্ট রেজা
খান ঢাকার
মাটিতে পা
রাখেন নায়েব
নাজিম বা
ডেপুটি গভর্নর
হিসেবে। পদটি
দারুণ আকর্ষণীয়
হলেও শুরুতে
রেজা দায়িত্ব
নিতে অনাগ্রহী
ছিলেন। মূল
কারণ দুটো
ছিল—নন্দকুমারের
ভয় ও
ঢাকার বিশৃঙ্খলা
এবং অবিশ্বাসের
বাতাবরণ।
দ্বিতীয় দফায়
নবাব হয়ে
মীর জাফর
নন্দকুমারকে প্রধানমন্ত্রী
নিয়োগ করেন।
ওয়ারেন হেস্টিংস
ও হেনরি
ভ্যানসিটার্ট নন্দকুমারকে
খুব অপছন্দ
করলেও মীর
জাফরের জন্য
তাকে মেনে
নিতে হয়।
মীর জাফর
নন্দকুমারকে নিয়ে
গোঁড়া অবস্থান
নিয়েছিলেন কারণ
১৭৬০-এ
বাংলায় ভ্যানসিটার্টের
আগমন যেমন
মীর জাফরকে
ক্ষতিগ্রস্ত করেছিল,
তেমনি নন্দকুমারকে।
এছাড়া মীর
কাসিমের বিরুদ্ধে
নন্দকুমার ছিলেন
মীর জাফরের
হাতিয়ার এবং
বাংলার ইংরেজদের
আচরণ বিষয়ে
নন্দকুমারকে বিশেষজ্ঞ
বিবেচনা করতেন
জাফর।
ইংরেজদের কাছ
থেকে সুনির্দিষ্টভাবে
সুরক্ষার অঙ্গীকার
না পাওয়া
এবং নিজের
শত্রু নন্দকুমারের
নতুন ক্ষমতা
পাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে
ঢাকায় পদায়ন
রেজা খানের
কাছে একটা
ফাঁদের মতো
মনে হয়েছিল।
শুরুতে মীর
জাফরের ইচ্ছা
ছিল ঢাকায়
মোহাম্মদ আলী
বেগকে নিয়োগ
করা। কিন্তু
২৪ জুলাই
মীর জাফর
মুর্শিদাবাদ পৌঁছার
পর হঠাৎ
সিদ্ধান্ত বদলে
ফেললেন। আলী
বেগের পরিবর্তে
তিনি রেজা
খানকে ঢাকার
নায়েব নাজিম
ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায়
রেজা খানের
মনে হয়েছিল
তাকে মীর
জাফরের কাছ
থেকে দূরে
সরাতে নন্দকুমার
এমন সিদ্ধান্তের
পেছনে কলকাঠি
নেড়েছিলেন। তাই
ঢাকার পদ
প্রস্তাব করা
হলে শুরুতে
রেজা খান
নবাবকে বলেছিলেন
তিনি তার
কাছেই থাকতে
আগ্রহী। কিন্তু
মীর জাফর
তাকে ঢাকার
দায়িত্ব নিতে
উৎসাহ দিলেন
এই বলে,
মীর কাসিমের
বিরুদ্ধে যুদ্ধের
জন্য তহবিল
সংগ্রহে ঢাকার
জমিদারদের থেকে
রাজস্ব আদায়
জরুরি এবং
দক্ষ ব্যবস্থাপনার
মাধ্যমে এ
কাজটি রেজাকেই
করতে হবে।
কিন্তু এসব
যে নবাবের
সঙ্গে তার
সুসম্পর্ক নষ্ট
করার জন্য
নন্দকুমারের কূটচাল
সে বিষয়ে
রেজা তখনো
নিশ্চিত ছিলেন।
তাই তিনি
নবাবকে ঢাকা
যেতে অস্বীকৃতি
জানিয়ে বললেন,
ঢাকার পরিস্থিতি
ঘোলাটে আর
তাছাড়া রাজস্ব
বছরের চার
মাস এরই
মধ্যে পার
হয়ে গেছে।
নবাব এবার
ইংরেজদের মধ্যস্থতা
ব্যবহার করলেন।
নবাবের পক্ষে
মেজর অ্যাডামস
রেজা খানকে
ঢাকার নায়েব
নাজিমের দায়িত্ব
নিতে অনুরোধ
করেন এবং
নবাবের বিষয়ে
আশ্বস্ত করেন।
পরদিন সকালে
নবাবের সঙ্গে
সাক্ষাৎ করে
রেজা খান
তার সম্মতি
জানালেন। কিন্তু
তিনি সঙ্গে
সঙ্গেই ঢাকা
রওনা হননি।
তার উদ্দেশ্য
ছিল ঢাকায়
তিনি কোনো
জটিল পরিস্থিতিতে
পড়লে নবাব
যেন তাকে
রক্ষা করেন—এমন
প্রতিশ্রুতি লিখিত
আকারে নেয়ার।
মীর কাসিমের
সেনাবাহিনীর চাপে
মীর জাফর
ও মেজর
অ্যাডামসকে মুর্শিদাবাদের
সুতিতে আটকে
থাকতে হলো
২ আগস্ট
পর্যন্ত। রেজা
খানেরও একই
দশা। এ
সময়কালে রেজা
খান তার
দরকারি লিখিত
প্রতিশ্রুতি নবাবের
কাছ থেকে
আদায় করে
নিলেন। এ
অনুমোদন প্রক্রিয়ায়
বাধা দেয়ার
চেষ্টা করেছিলেন
নন্দকুমার। মীর
জাফর যখন
আবারো রেজা
খানকে ঢাকায়
রওনা হতে
বলেন তখন
তিনি এ
অনুমোদনপত্রে নবাবের
স্বাক্ষরের দাবি
তুলে ধরেন।
নন্দকুমার সেই
সময় বলেন,
এ বিষয়ে
আরো বিচার-বিশ্লেষণ
করে নবাব
স্বাক্ষর করবেন।
এ পর্যায়ে
স্বয়ং মীর
জাফর হস্তক্ষেপ
করেন, তিনি
বলেন নন্দকুমার
অনর্থক ঝামেলা
পাকাচ্ছেন এবং
তখনই রেজা
খানের দলিলে
স্বাক্ষর করে
দেন এবং
আরো কিছু
বিষয়ে নিজ
হাতে নোট
লিখে দেন।
মীর জাফরের
দেয়া এই
দলিল রেজা
খানের জন্য
একসময় আশীর্বাদ
হয়ে উঠেছিলেন।
১৭৭২-৭৪
সময়কালে তার
বিচারের সময়
এ দলিল
তাকে খালাস
পেতে সাহায্য
করেছিল।
কোনো অযাচিত
হস্তক্ষেপ, আক্রমণ
থেকে সুরক্ষা
পাওয়ার নিশ্চয়তা
নিয়ে ঢাকাকে
তার অতীত
মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত
করার লক্ষ্য
নিয়ে রেজা
খান ১১
আগস্ট ঢাকার
উদ্দেশে যাত্র
করলেন। চারদিন
পর তিনি
ঢাকায় পৌঁছেন।
ঢাকার প্রশাসনিক দুর্বলতা ও বিশৃঙ্খলা নিয়ে মুর্শিদাবাদে বসে তিনি যে আশঙ্কা করেছিলেন পরিস্থিতি তার চেয়েও অনেক খারাপ ছিল। ১৭১৭ সালে রাজধানী ঢাকা থেকে মুর্শিদাবাদে স্থানান্তরের পর থেকে ঢাকা তার জৌলুস হারাচ্ছিল। মুর্শিদাবাদের দরবারের মনোযোগ ছিল উত্তর ভারতের দিকে। এরপর ভাগীরথীর তীর ধরে গড়ে ওঠা ইউরোপীয় বাণিজ্য কেন্দ্রগুলো মনোযোগ পেয়েছে। এসব কারণে পুবের এই রহস্য নগরীর ইমারতের গায়ে ধুলো জম ছিল, প্রশাসন ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে বিশৃঙ্খলার রাজত্ব শুরু হয়। এরপর ১৭৫৭-পরবর্তী ঘটনাক্রম, বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব-সংঘাতে ঢাকা একরকম দিশাহীন এক নগর। ঢাকায় পা রেখে রেজা খান বললেন, প্রতিবেদনে যা পেয়েছিলেন মাঠের পরিস্থিতি তার চেয়ে অনেক বেশি খারাপ। রাজস্ব বিভাগের কর্মকর্তারা পালিয়ে গেছেন, দরকারি দলিলাদি পাওয়া যাচ্ছিল না দপ্তরে। এর পর ইংরেজ ও ফরাসিদের মধ্যে ঝামেলাসহ নানা কারণে ঢাকার তখন বেহাল দশা। ইংরেজদের সঙ্গে দক্ষ কূটনৈতিকের মতো নানা রকম বোঝাপড়া গুছিয়ে নেন রেজা এবং সবকিছু পাশে রেখে তার দায়িত্বে মনোযোগ দেন। ঢাকার প্রশাসন ও রাজস্ব ব্যবস্থাকে সচল করতে কাজ শুরু করেন তিনি। প্রথমেই নিজের প্রশাসনিক দপ্তরকে গুছিয়ে নেন। নরম-গরম আচরণ—যেখানে যেমনটা প্রয়োজন ব্যবহার করে দলিল লেখক ও সরকারি কর্মচারীদের কাজে ফিরিয়ে আনেন। যেখানে যা কাগজপত্র পাওয়া যায় সেগুলোকে গুছিয়ে এবং বিভিন্ন সূত্র জোড়া দিয়ে কেন্দ্রীয় নথি ব্যবস্থাকে পুনরায় নিয়মের মধ্যে আনা হয়। মফস্বলের কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আশ্বাস এবং কাজে উৎসাহ দিয়ে পত্র পাঠানো হয়। এভাবে প্রশাসনযন্ত্র সক্রিয় হয়ে ওঠার পর রেজা খান যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে যতটা পারা যায় বেশি রাজস্ব সংগ্রহে উদ্যোগী হলেন। কিন্তু যুদ্ধের বিষয়টি তখনো শতভাগ নিশ্চিত নয়, লোকজন উপযুক্ত আনুগত্য ছাড়া রাজস্ব দিচ্ছিল। তাই রাজস্ব আদায় পূর্ণ গতিতে হচ্ছিল না।
এখানে উল্লেখ
করা যায়,
ঢাকার রাজস্ব
ব্যবস্থা ঢেলে
সাজাতে রেজা
খান দক্ষতার
পরিচয় দিয়েছিলেন।
মোগল আমলে
ঢাকার রাজস্বের
যে একমাত্র
বিস্তারিত বিবরণ
পাওয়া যায়
তা রেজা
খানের উপস্থাপন
করা। ড.
আবদুল করিম
রেজা খানের
এ কীর্তির
গুরুত্ব নিয়ে
আলোচনা করেছেন
তার মোগল রাজধানী ঢাকা
গ্রন্থে। তিনি
লিখেছেন, ‘মুহাম্মদ
রেজা খান
কর্তৃক ঢাকার
নায়েব-নাজিম
পদে অধিষ্ঠিত
থাকাকালে দাখিলকৃত
দলিলপত্রই হলো
মোগলদের যুগের
চাকলা জাহাঙ্গীরনগরের
রাজস্বসম্পর্কিত সর্বশেষ
দলিলপত্র। এসব
দলিল সূক্ষ্মভাবে
বিশ্লেষণ করে
দেখা যায়,
মোগল শাসনের
ক্রান্তিকালে ঢাকার
রাজস্ব সংগ্রহ
পদ্ধতিতে একটি
মৌলিক পরিবর্তন
সাধিত হয়েছিল।
এতে দেখা
যায় জাগিরজমি
বহাল রাখা
হয় এবং
জাগিরদারকে নগদ
অর্থ পরিশোধ
করা হয়।
রাজস্ব প্রদানকারী
একক পরগনা,
তালুক ও
সাইরে দফাগুলো
দুই ভাগে
বিভক্ত হয়—হুজুারি
ও নিয়ামত।
হুজুরি দফা
ছিল ওই
জমি, যার
রাজস্ব দেওয়ানি
সংস্থাপনার মাধ্যমে
সরাসরি রাষ্ট্রের
কাছে পরিশোধ
করা হতো
অথবা আগের
দিনের খালিসা
রাজস্ব ও
মাধ্যমে সরাসরি
রাষ্ট্রের কাছে
পরিশোধ করা
হতো অথবা
আগের দিনের
খালিসা রাজস্ব
ও নিয়ামত
রাজস্ব ছিল
ওই রাজস্ব,
যা নাজিম
বা অন্য
জাগিরদারদের কাছে
পরিশোধ করা
হতো অথবা
তা ছিল
আগের দিনের
জাগির-রাজস্ব।
প্রকৃতপক্ষে উভয়
ধরনের রাজস্ব
নায়েব-নাজিম
ও দেওয়ান
কর্তৃক আদায়
করা হতো,
কিন্তু উভয়
ক্ষেত্রে পৃথক
পৃথক হিসাব
রাখা হতো।’
বক্সারের যুদ্ধের
দামামা বেজে
উঠলে ব্যস্ত
হয়ে উঠতে
হয় রেজা
খানকে। কোম্পানি
চট্টগ্রামে থাকা
তার সেনাদলের
বড় অংশ
যুদ্ধ ক্ষেত্রে
নেয়ার সিদ্ধান্ত
নেয়। তাদের
জন্য পরিবহনের
ব্যবস্থা করার
দায়িত্ব পড়ে
রেজা খানের
ওপর। অন্যদিকে
এই সেনারা
চলে যাওয়ায়
ঢাকা ও
চট্টগ্রামের নিরাপত্তা
হুমকিতে পড়ে
যায়। ঢাকার
উপকণ্ঠে চোর-ডাকাতের
তত্পরতা বেড়ে
যাওয়ার ঘটনার
কথা শোনা
যায়। এরপর
নন্দকুমারসংক্রান্ত নানা
টানাপড়েন মোকাবেলা
করতে হয়েছিল
রেজা খানকে।
অবশেষে ১৭৬৫
সালের শুরুতে
মীর জাফরের
মৃত্যুর পর
রেজা খানকে
মুর্শিদাবাদে ডেকে
পাঠানো হয়।
সমাপ্তি ঘটে
তার ঢাকার
নায়েব নিযাম
পর্বের। এবার
তিনি নিয়োগ
পেলেন আরো
উঁচু পদে।
মীর জাফরের
মৃত্যু হয়েছিল
১৭৬৫ সালের
৫ ফেব্রুয়ারি।
তার আগেই
২৯ জানুয়ারি
তিনি তার
পুত্র নাজমুদ্দৌলাকে
সব আনুষ্ঠানিকতা
সহকারে মসনদে
বসিয়েছিলেন।
মীর জাফরের
পুত্র ছিলেন
নাবালক। ফলে
বাংলার শাসন
নিয়ে তার
এবং কোম্পানির
মধ্যকার রাজনৈতিক
সমঝোতার বড়
ফ্যাক্টর হয়ে
ওঠেন রেজা
খান। এমনকি
কোম্পানির কর্মচারীদের
মধ্যকার অনেক
দ্বন্দ্বও সমঝোতা
করতেন তিনি।
কোম্পানি নাজমুদ্দৌলার
প্রতি আনুগত্য
প্রকাশ করে।
অন্যদিকে নাজমুদ্দৌলা
কোম্পানিকে দেয়া
তার পিতার
সব প্রতিশ্রুতি
পালনে নিজের
অঙ্গীকার ব্যক্ত
করেন।
এরপর রেজা
খান এবং
বাংলার ইতিহাস
বদলে যায়
১৭৬৫ সালের
১২ আগস্ট।
মোগল সম্রাট
শাহ আলম
কোম্পানিকে বাংলার
দেওয়ানি অধিকার
প্রদান করেন।
এতদিন রেজা
খান ছিলেন
কোম্পানির জন্য
এক রাজনৈতিক
ঘুঁটি কিন্তু
এবার তিনি
বাংলার প্রশাসনিক
নিয়ন্ত্রণ নিতে
কোম্পানির প্রধান
ব্যক্তিত্বে পরিণত
হলেন। ক্লাইভ
স্বয়ং রেজা
খানতে তার
জীবনের সবচেয়ে
ক্ষমতাধর পদে
অধিষ্ঠিত করলেন।
রেজা খান
এক নোটে
লিখেছিলেন, ‘লর্ড
ক্লাইভ অনুভব
করছিলেন বাংলায়
পুরনো দিনের
সরকার ব্যবস্থা
পুনঃপ্রতিষ্ঠা প্রয়োজন
এবং একজন
ব্যক্তিকে প্রশাসনের
শীর্ষ পদে
বসানো প্রয়োজন।’
এবং সেই
ব্যক্তি ছিলেন
মোহাম্মদ রেজা
খান। তিনি
হন বাংলার
নায়েব নাজিম।
পদাধিকারবলে নবাবের
পরই ছিল
তার স্থান।
কিন্তু নাবালক
নাজমুদ্দৌলা ছিলেন
নামেই নবাব,
প্রকৃত শাসনক্ষমতা
তখন রেজা
খানের হাতে।
নিজামত ও
রাষ্ট্রীয় কোষাগারের
নিয়ন্ত্রণ ছিল
রেজার, তিনি
কার্যত সার্বভৌম
মর্যাদা লাভ
করেছিলেন। তিনি
হয়ে ওঠেন
বাংলার অর্থনৈতিক
ও সামাজিক
জীবনের কেন্দ্র।
বার্ষিক পুণ্যাহর
মতো অনুষ্ঠানে
কেবল নবাব
নাজমুদ্দৌলাকে দেখা
যেত। রাষ্ট্রীয়
চিঠিপত্রে বড়
কোনো ইস্যু
থাকলেই কেবল
নবাবের সিলমোহর
বসত দলিলে।
নয়তো সবকিছুই
চলছিল নায়েব
নাজিম রেজা
খানের কর্তৃত্বে।
কোম্পানির লোকজন
তাকে মন্ত্রী
বা প্রধানমন্ত্রী
সম্বোধন করতেন।
সিলেক্ট কমিটি
সম্বোধন করত
নায়েব নাজিম
পরিচয়ে। তাকে
কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে
নায়েব দেওয়ান
করা হয়নি।
কিন্তু ক্লাইভ
নিশ্চিত করেছিলেন
রেজা খান
যেন এ
পদমর্যাদা ভোগ
করেন। ক্লাইভ
রেজা খানের
জন্য ‘বাহাদুর’,
‘মুজাফফর
জঙ’, মুইন-উদ-দৌলা,
মুবারিজ-উল-মুলক,
খান-ই-খানার
মতো উপাধি
বরাদ্দ করেছিলেন।
ক্লাইভের কৌশল
ছিল দেশীয়
দক্ষ কর্মকর্তাদের
ব্যবহার করে
বাংলায় শাসন
ক্ষমতাকে শক্তিশালী
করা। আর
এ কাজে
রেজা খানের
চেয়ে যোগ্য
সে মুহূর্তে
আর কেউ
ছিলেন না।
বিশেষত বাংলার
রাজস্ব ব্যবস্থা
পরিচালনায় রেজা
খানের মতো
দক্ষ কেউ
তখন ক্লাইভের
আশপাশে ছিলেন
না। ১৭৭০
সাল পর্যন্ত
রেজা খান
বাংলার ডি
ফ্যাক্টো শাসক
হিসেবে দায়িত্ব
পালন করেন।
সূত্র: আ
স্টাডি অব
সৈয়দ মোহাম্মদ রেজা খান, আবদুল
মাজেদ খান,
কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি
প্রেস
মোগল রাজধানী ঢাকা,
ড. আবদুল
করিম, বাংলা
একাডেমি
শানজিদ অর্ণব: লেখক ও অনুবাদক





