হেনরি বেভারিজ (১৭৯৯-১৮৬৩) ছিলেন একজন স্কটিশ আইনজীবী, অনুবাদক ও ইতিহাসবিদ। ওকালতিকে পেশা হিসেবে নিলেও লেখালেখি ছিল তার নেশা। প্রকাশনা সংস্থা ব্ল্যাকি অ্যান্ড সনের জন্য তিন খণ্ডে রচনা করেন আ কম্প্রিহেনসিভ হিস্ট্রি অব ইন্ডিয়া: সিভিল, মিলিটারি অ্যান্ড সোস্যাল। ব্রিটেনের উপকূল ত্যাগ না করেই অবশ্য তিনি এ বিপুলায়তন ইতিহাস গ্রন্থ রচনা করেন। তার বইগুলো লন্ডন ও দিল্লি থেকে প্রকাশিত হয়। দ্বিতীয় খণ্ডে তিনি আলোচনা করেছেন মোহাম্মদ রেজা খানকে নিয়ে। আ কম্প্রিহেনসিভ হিস্ট্রি অব ইন্ডিয়া: সিভিল, মিলিটারি অ্যান্ড সোস্যাল গ্রন্থের দ্বিতীয় খণ্ড থেকে অনুবাদ করেছেন শর্মিলা সিনড্রেলা
আত্মবিশ্বাসের কারণে
কখনো জরুরি
পরিস্থিতি মোকাবেলায়
ব্যর্থ হননি
লর্ড ক্লাইভ।
তবে তিনি
অন্য পুরুষদের
মধ্যে আত্মবিশ্বাসের
অভাব রয়েছে
বলে সন্দেহ
প্রকাশ করতেন।
তবে হেস্টিংসকে
তিনি ভুল
বুঝেছিলেন। পুরো
এ ঘটনাক্রমকে
বরং হেস্টিংস
প্রসঙ্গে ক্লাইভের
একটি উদ্ধৃতি
দিয়ে ভালোভাবে
প্রকাশ করা
যায়, ‘আপনার
সম্পর্কে আমার
জানাশোনা কম,
আমি নিশ্চিত,
আপনার শুধু
সক্ষমতা এবং
ব্যক্তিগত স্থির
সংকল্প আছে
তাই নয়,
বরং সম্পদের
ব্যাপারে সততা
এবং সংযমও
রয়েছে। কিন্তু
আমি আপনাকে
নিজের বিচারের
ওপরই দ্বিধান্বিত
হতে দেখেছি
এবং স্বভাবে
সহজতা দেখেছি,
এসবই সংবেদনশীলভাবে
আপনাকে পরিচালিত
করতে পারে
যেখানে আপনাকে
সতর্ক করা
উচিত। আরো
একটি সমস্যা
এখান থেকে
বেড়ে উঠতে
পারে, আপনি
স্থানীয়দের কানাঘুসায়
বেশি মনোযোগ
দিতে পারেন
এবং ভালো
পথের তুলনায়
খারাপের দিকে
দৃষ্টি দিতে
আপনার ঝোঁক
বেশি থাকতে
পারে। যেহেতু
আমি জানি,
আপনি গভর্নরের
মহান পদের
জন্য কোনো
যোগ্যতা চান
না, আমি
অবশ্যই যোগ
করতে চাই,
আপনাকে এই
দেশের সবচেয়ে
গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রগুলোর
মধ্যে একজন
হিসেবে নিজেকে
প্রতিষ্ঠিত করার
জন্য সুযোগ
দেয়া হয়েছে।’
ওপরের চিঠিটি
অকপটে তার
নতুন পদের
অসুবিধাগুলো তুলে
ধরেছিল তবে
তাতে উৎসাহও
ছিল, সেটা
অবশ্যই হেস্টিংসের
জন্য সন্তোষজনক
ছিল। আরেকটি
চিঠি এসেছিল
পরিচালকদের কাছ
থেকে এবং
সেখানে অসম্মতিপূর্ণ
কিছু দায়িত্বের
প্রথম নমুনা
দেয়া হয়েছিল
যেগুলো তিনি
পালন করবেন
বলে ধারণা
করা হয়েছিল।
মোহাম্মদ রেজা
খানকে নায়েব
দেওয়ান ও
নায়েব নাজিমের
যৌথ দায়িত্বে
নিয়োগ দেয়া
হয়। কোম্পানির
সুবিধার জন্য
তাকে রাজস্ব
আহরণের দায়িত্ব
দেয়া হয়,
সেই চিঠি
তাকে নবাবের
নামে সব
নির্বাহী কর্তৃত্ব
পরিচালনা করার
ক্ষমতা দেয়।
তিনি সাত
বছর এ
প্রদেশের সার্বভৌমত্ব
উপভোগ করেন,
সেই সঙ্গে
বছরে ৯
লাখ রুপি
(৯০ হাজার
পাউন্ড) তিনি
নিজের ভাতা
হিসেবে খরচ
করতে পারতেন।
এছাড়া নবাবের
খরচের জন্য
৩২ লাখের
(৩ লাখ
২০ হাজার
পাউন্ড) তহবিলও
তিনি তার
ইচ্ছামতো খরচ
করতে পারতেন।
সে সময়ে
ক্ষমতা ও
প্রভাব সবই
তার হাতে
চলে আসে,
তার মর্যাদাকে
উচ্চ অবস্থানে
নিয়ে যায়।
সাধারণের বিশ্বাস
ছিল গুরুত্বপূর্ণ
ট্রাস্টগুলোর দায়িত্ব
পালনে তিনি
সমান দক্ষতা
ও বিশ্বস্ততা
প্রকাশ করেছেন।
তবে এর
বিপরীতে কিছু
গুজবও চারপাশে
ছড়িয়ে পড়ে।
যখন রাজস্ব
আহরণ প্রত্যাশার
থেকে কমে
আসতে শুরু
করে তখন
বেঙ্গলের কাউন্সিল
যেকোনো উপায়ে
নিজেদের দায়মুক্তি
চায়, এমনকি
তারা মোহাম্মদ
রেজা খানের
পরিচালনায় ভুল
ছিল বলতেও
দ্বিধা করেন
না। কোনো
সুনির্দিষ্ট অভিযোগ
আনার উদ্যোগ
নেয়ার বদলে
তারা বেশ
কয়েকটি সূত্রের
কথা তুলে
ধরে যেখান
থেকে মনে
হতে পারে,
দুর্নীতি মাথাচাড়া
দিয়ে উঠতে
পারে এবং
দায়মুক্তির সঙ্গে
এর চর্চাও
হতে পারে।
কাউন্সিল যখন
এ পরিচালকদের
কানে সন্দেহের
পোকা ঢোকাচ্ছিল
তখনই সন্দেহবাদীদের
দিক থেকে
মোহাম্মদ রেজার
বিরুদ্ধে অব্যবস্থাপনা
ও দুর্নীতির
অভিযোগ তোলা
হয়। স্থানীয়দের
ঈর্ষা ও
বিদ্বেষ লিডেনহল
হিলের একেবারে
ভেতরে প্রবেশাধিকার
পেয়েছিল এবং
তাদের নিয়োজিত
এজেন্টরা ক্রমাগত
ইঙ্গিত দিচ্ছিল
যে নায়েবের
ব্যবস্থাপনার একটি
তদন্ত করা
হলে দেওয়ান
এবং নাজিমের
দ্বিগুণ ক্ষমতায়
তার অন্যায়
ও নিপীড়নের
ভয়ংকর দৃশ্য
প্রকাশ করা
হবে। এসব
অভিযোগ আরো
সামনের দিকে
এগিয়ে নিয়ে
যান হিন্দো
নন্দকুমার, পরিচালকরা
যদিও তার
ঘৃণ্য চরিত্রের
সঙ্গে পুরোপুরি
পরিচিত ছিলেন,
আশা ছিল
তারা তার
কথার দিকে
মনোযোগ দিতে
অস্বীকৃতি জানাবে।
এর বদলে
তারা তার
দাবিকে আমলে
নেয়, বেঙ্গল
কাউন্সিলের সেই
সব ইঙ্গিতের
সঙ্গে সংযুক্ত
হয় এবং
অপরাধের একটি
অনুমানমূলক প্রমাণও
আনে। সাম্প্রতিক
এক দুর্ভিক্ষের
ইঙ্গিতের পর
১৭৭১ সালের
২৮ আগস্ট
তারিখে তাদের
সাধারণ চিঠিতে
বলা হয়,
শস্য একচেটিয়াকরণ
করার জন্য
কোনো ব্যক্তির
বিরুদ্ধে (বিশেষ
করে ইংল্যান্ডের
স্থানীয়) অভিযোগ
পাওয়াটাই সবচেয়ে
বড় ক্ষোভের
বিষয়। এর
ফলে দুর্ভোগ
আরো বেড়েছে
এবং সন্দেহ
নেই যে
তাতে করে
হতভাগ্যও অনেক
বেড়েছে, ভয়ংকর
পরিস্থিতিতেও পরিশ্রম
করার মতো
পরিস্থিতি তৈরি
হবে যেকোনো
মানুষের জন্য।
তারপর চিঠিতে
বলা হয়,
‘যদি
হিংস্র নিপীড়ক
অংশ থেকে
আমাদের সন্দেহ
করার আরো
কারণ থাকে
যে এই
বড় অংকটি
মোহাম্মদ রেজা
খান দেওয়ানী
রাজস্ব খাতে
সংগ্রহ করেছিলেন।
যেটার সবচেয়ে
বড় অংশ
তিনি নিজের
ব্যবহারের জন্য
বরাদ্দ করেছিলেন
বা তার
শক্তির সৃষ্টিগুলোর
মাঝে বা
নিপীড়নের যন্ত্রের
মধ্যে বিতরণ
করেছেন। তার
পরও যদি
আমরা তার
হাতে দেওয়ানি
সংগ্রহের দায়িত্ব
ছেড়ে দিই
তাহলে আমাদের
নিজেদের কোম্পানি
ও জনগণের
কাছে ন্যায়সংগত
ভাবার কোনো
কারণ নেই।
এবং অন্য
কোনো মন্ত্রীর
কাছে একই
ধরনের আস্থা
স্থানান্তর করা
হলে সেই
পরিবর্তন থেকে
কোনো রকম
সুবিধা পাওয়ার
সম্ভাবনা কম
হতে পারে।
তাই দেওয়ানীর
কাছ থেকে
আমাদের আশা
করা পূর্ণ
সুবিধা অন্য
উপায়ে খোঁজা
উচিত। আমাদের
দৃঢ় সংকল্প
হলো, দেওয়ান
হিসেবে প্রতিষ্ঠা
পাওয়া এবং
কোম্পানির কর্মচারী
এজেন্সির দ্বারা
রাজস্বের পুরোপুরি
দায়ভার ও
ব্যবস্থাপনা নিজেদের
ওপর নেয়া।
নিজের পরিকল্পনা
ও গুরুত্বপূর্ণ
কাজ সম্পাদনের
সক্ষমতার ওপর
আত্মবিশ্বাস থাকলেই
আমরা রেজা
খান বা
তার দ্বারা
নিযুক্ত বা
তার সঙ্গে
সম্পর্কযুক্ত বা
তার দ্বারা
প্রভাবিত হয়ে
কাজ করেন
তাদের বর্জিত
করে আপনাকে
ক্ষমতা প্রদান
করব ও
দাবি করব।’
ধরা যাক,
পরিচালকরা যত
বড় মনে
করেছিলেন অপরাধ
ততটাই বড়
ছিল, কিন্তু
সেখানে সাধারণ
একটা বরখাস্ত
মোটেও মামলার
ন্যায়বিচার ছিল
না। তারপর
তারা যুক্ত
করেন, ‘আমরা
তাকে এমন
একটি স্টেশন
থেকে বরখাস্ত
করা অপর্যাপ্ত
মনে করি
যেটা সবচেয়ে
দুর্নীতিপ্রবণ উদ্দেশ্যের
কাছে পরাধীন
হতে পারে।
তবে এটা
আমাদের পরিতৃপ্তির
বিষয় এবং
আদেশ করছি
যে আপনি
ছোট তদন্ত
সম্পন্ন করবেন,
সেটা শুধু
কেন রাজস্ব
আহরণ কমল
তার সম্ভাব্য
দায়ী কারণগুলো
খোঁজার জন্য
নয়, বরং
দায়িত্বে থাকার
সময়ে দেওয়ানি
সংগ্রহে মোহাম্মদ
রেজা খানের
সাধারণ পরিচালনা
বিষয়েও। যেহেতু
আপনি এরই
মধ্যে লক্ষ
করেছেন কয়েকটি
অভিযোগ গুরুতর
হিসেবে বিবেচিত
হয়েছে, সেগুলো
কঠোর তদন্ত
ছাড়া পার
পেয়ে যাওয়ার
সম্ভাবনা কম,
তাই আমরা
আমাদের রাষ্ট্রপতিকে
পরিচালনা করেছি
তাকে কলকাতা
পুনরুদ্ধারের নির্দেশ
দেয়ার জন্য।
তার জনপ্রশাসন
ও ব্যক্তিগত
পরিচালনার ওপর
সম্মান রেখেই
সেখানে অভিযোগগুলোর
বিষয়ে জবাব
দিতে বলা
হয়েছে। হেস্টিংসের
কাছে ডিরেক্টরদের
গোপন কমিটি
আলাদা একটি
চিঠিতে নির্দেশনা
পাঠান। উপরোক্ত
বিবরণ থেকে
যে ইঙ্গিত
পাওয়া যায়
তার তুলনায়
সেটা আরো
প্রাসঙ্গিক। সাধারণ
চিঠিতে তাকে
উল্লেখ করে
বলা হয়,
‘মোহাম্মদ
রেজা খানের
প্রশাসন নিয়ে
আমরা অসন্তুষ্ট।
বাংলার নায়েব
দেওয়ান হিসেবে
তিনি যে
পদমর্যাদা এবং
প্রভাব বহন
করেন সেটা
থেকে তাকে
পরিত্যাগ করা
হচ্ছে। সেখানে
আদেশ দেয়া
হয়, মোহাম্মদ
রেজা খানকে
তার পুরো
পরিবারের সঙ্গে
এবং তার
পরিচিত অনুগামীদের
সঙ্গে নিরাপদ
করার জন্য
ইতিবাচক নির্দেশ
দেয়া হচ্ছে।’
কলকাতায় তাদের
গ্রেফতার করা
হয়। ১৭৭২
সালের ২৪
এপ্রিল সেই
চিঠি হেস্টিংয়ের
কাছে পৌঁছে।
তার মাত্র
১০ দিন
আগেই গভর্নর
জেনারেল হিসেবে
দায়িত্ব নেন
হেস্টিংস। পরদিন
সকালেই একজন
বাহক পথে
বেরোয় মিস্টার
মিডলটনকে দ্রুত
এসব নির্দেশ
পালনের বিষয়ে
পদক্ষেপ নেয়ার
নির্দেশাবলি নিয়ে।
ভয় ছিল
এত ক্ষমতাধর
এবং এত
সম্মানিত একজন
ব্যক্তিকে হঠাৎ
গ্রেফতারের ঘটনা
নিশ্চয়ই হট্টগোল
ছাড়া সম্পন্ন
হবে না।
কিন্তু মোহাম্মদ
রেজা খান
মিস্টার মিডলটনের
নির্দেশনার প্রকৃতি
সম্পর্কে জেনে
নিয়ে পরম
মর্যাদা এবং
দৃঢ়তার সঙ্গে
সবকিছু পরিত্যাগ
করে পর্যাপ্ত
নিরাপত্তায় কলকাতায়
গমন করেন।
২৮ এপ্রিল
এসব কার্যক্রম
এবং সেসব
সম্পাদনের কর্তৃত্ব
গ্রহণ প্রথমবারের
মতো কাউন্সিলকে
জানান হেস্টিংস
এবং দ্রুতই
সেটা আলোচনার
বিষয় হয়ে
ওঠে। তারা
এও স্বীকার
করেন যে
তারা তাদের
নায়েব দেওয়ানকে
‘যথাযথ
মর্যাদায়’ গ্রহণ
করতে পারেননি।
কিন্তু সেখানে
পদক্ষেপ নেয়া
হয় যে
তার পদ
ও স্টেশনের
সম্মানের জন্য,
কাউন্সিলের একজন
সদস্য সামনে
এগিয়ে গিয়ে
তার জন্য
অপেক্ষা করবেন
এবং তার
বিরুদ্ধে যেসব
অভিযোগ আনা
হয়েছে মুখে
মুখে সেসব
ব্যাখ্যা করবেন।
হেস্টিংস ও
অন্য তিনজন
সদস্য এ
প্রস্তাবকে অসংগতিপূর্ণ
বলে উল্লেখ
করলেও তা
গৃহীত হয়েছিল
এবং মিস্টার
গ্রাহামকে সেই
দায়িত্ব দেয়া
হয়। পরে
তিনি গিয়ে
চিতপুরে মোহাম্মদ
রেজা খানের
সঙ্গে দেখা
করেন। অভিযোগের
ধরন শুনে
তিনি শুধু
তার আগ্রহ
প্রকাশ করে
বলেছিলেন, এসব
বিষয়ে সিদ্ধান্ত
নেয়ার জন্য
সময় নষ্ট
করা উচিত
নয়। যেহেতু
বাংলার নায়েব
দেওয়ানের বিরুদ্ধে
এসব অভিযোগ
আনা হয়েছে
সুতরাং তা
বিহারের নায়েব
দেওয়ান সীতাব
রায়ের বিরুদ্ধেও
একইভাবে প্রয়োগ
হবে। তার
সঙ্গেও একই
আচরণ করা
হয় এবং
তাকে কলকাতায়
পাঠানো হয়
৭ মে।
গোপন কমিটির
চিঠিতে হেস্টিংস
একটি কৌতূহলোদ্দীপক
সুপারিশ পান।
সেটা অনেকটা
প্রমাণের মতোও,
যেটা দিয়ে
মোহাম্মদ রেজা
খানের অপরাধ
প্রতিষ্ঠা করা
সম্ভব। সেখানে
বলা হয়,
‘আপনার
নিজের বিচার
সেই সব
তথ্যের দিকে
আপনাকে এমনভাবে
পরিচালনা করবে
যেগুলো তার
লেনদেনের অনেক
গোপন কোনো
কিছু আলোয়
নিয়ে আসবে।
তবে আমরা
সেই তথ্যে
আপনাকে প্রবেশাধিকার
দিতে পারি
না, যেটা
নন্দকুমার নায়েব
প্রশাসনকে সম্মান
প্রদর্শন করেও
দিতে পারবেন।
আমরা নিশ্চিত
যে নায়েবের
পরিচালনার কোনো
নিরীক্ষণযোগ্য অংশ
তার ঈর্ষান্বিত
ও অনুপ্রবেশকারী
প্রতিদ্বন্দ্বীদের চোখ
এড়াবে না।’
এভাবে সবচেয়ে
অপ্রতিরোধ্য শত্রুকে
অধীন করে
অভিযুক্তকে দোষী
সাব্যস্ত করার
প্রচেষ্টা একজন
বিচারকের অন্যায়,
যেটা পরিচালকদের
দিক থেকে
ঘটেনি। সেটা
হেস্টিংসের মনে
কোনো সন্দেহ
তৈরি থেকেও
দূরে ছিল।
তাকে শুধু
নিয়োগ দিয়েই
সন্তুষ্ট ছিলেন
না, তাকে
প্রমাণ দেয়ার
জন্য ঘুসও
দেয়া হয়েছিল।
যে মুহূর্তে
মোহাম্মদ রেজা
খান গ্রেফতার
হলেন, তখন
ঠিকভাবেই বোঝা
গিয়েছিল যে
অফিসে তিনি
থাকেন সেটা
বিলুপ্ত হয়ে
গেছে এবং
সেটা কখনো
পুনরুদ্ধার করা
যাবে না।
সেজন্য কিছু
গুরুত্বপূর্ণ অ্যাপয়নমেন্টের
প্রয়োজন ছিল,
তাদের মধ্যে
দেওয়ান এবং
নবাবের পরিবারের
নিয়ন্ত্রকও ছিলেন।
১৭৭২ সালের
১১ জুলাই
কাউন্সিলের এক
সভায় সিদ্ধান্ত
হয়, পদটি
রাজা গুরদাসকে
দেয়া হবে,
তিনি মহারাজা
নন্দকুমারের ছেলে।
সদস্যদের মধ্যে
কেউ কেউ
এটিকে নন্দকুমারের
নিজের নিয়োগের
সমতুল্য বলেই
মনে করেন।
বিশ্বাসের কতটা
অযোগ্য তিনি
ছিলেন সেটার
যথেষ্ট প্রমাণ
নিজে দিয়েছিলেন।
তার বানানো
মিথ্যা ও
ক্ষতিকর অভিযোগের
ফলস্বরূপ তাকে
বিপজ্জনক চরিত্র
হিসেবে বিবেচনা
করে বাড়িতেই
বন্দি করা
হয়। ১৭৬২
সালে তিনি
শাহজাদাকে পন্ডিচেরির
ফরাসি গভর্নরের
সঙ্গে চিঠি
চালাচালিতে সহায়তা
করেছিলেন। পরে
জানা যায়,
তিনি রাম
চরণ নামে
একজন স্থানীয়কে
ধ্বংস করার
উদ্দেশ্যে জাল
চিঠি তৈরি
করেছিলেন। যিনি
লর্ড ক্লাইভ,
জেনারেল ক্যালিয়ড
ও মিস্টার
ভানসিটার্টের বেনিয়া
হিসেবে কাজ
করতেন। ১৭৬৪
সালে তিনি
বাংলার দেওয়ানিতে
যুক্ত হওয়ার
শর্তে মীর
কাশিমকে ইংরেজদের
সম্পূর্ণ গতিবিধি
প্রদানের চুক্তিতে
ছিলেন বলেও
জানা গেছে।
১৬৭৫ সালে
ভানসিটার্ট নিজেই
নিজের রাষ্ট্রদ্রোহমূলক
চিঠিপত্রের কথা
জানান এবং
পরিচালকরা তার
সম্পর্কে তাদের
মতামত কিছু
শর্তের ভিত্তিতে
জানান। সংক্ষেপে
বলা যায়,
‘দেখা
যাচ্ছে তিনি
অশান্ত ও
দুষ্ট স্বভাবের,
যেখানে তিনি
হস্তক্ষেপ করার
সুযোগ পাবেন
সেখানে কোনো
সম্প্রীতি টিকে
থাকতে পারে
না। তাই
আমরা একমত
যে নন্দকুমারের
ওপর বিশ্বাস
করা অনুচিত
এবং যদি
তাকে প্রদেশের
বাইরে উত্তরের
দিকে বা
দাক্ষিণাত্যে যেতে
দেয়া হয়
তাহলেও যেকোনো
অপকর্ম করতে
তিনি সক্ষম।’
এসব অভিযোগের
পরিপ্রেক্ষিতে হেস্টিংসের
কাছে কোনো
উত্তর ছিল
না, পরিচালকরা
আগে যেসব
নমুনা দিয়েছিলেন
সেসব ছাড়া।
১৭৭১ সালে পরিস্থিতি পরিণতি পায়। কোম্পানির পরিচালকরা রেজা খানকে গ্রেফতারের নির্দেশ জারি করেন। একইসঙ্গে লর্ড ক্লাইভেরও সমালোচনা শুরু হয়।





