যখন ১২৫৯
সালে চতুর্থ
মঙ্গোলীয় সম্রাট
গ্রেট খান,
মোংকে, ইন্তেকাল
করেন, তখন
তার উত্তরসূরি
কে হবেন
তা নিয়ে
কুবলাই খানের
মনে কোনো
সন্দেহ ছিল
না। মোংকে
যখন সুদূর
পশ্চিমে সিরিয়ায়
মঙ্গোলীয় শাসন
সম্প্রসারণ করছিলেন,
সে সময়
কুবলাই বিশাল
এলাকা, যা
বর্তমানে দক্ষিণ-পশ্চিম
চীন—এমনকি
আধুনিক ভিয়েতনাম—জয়
করে নিজেকে
একজন মেধাবী
সেনাপতি হিসেবে
প্রমাণ করেছিলেন।
যদিও তিনি
সামরিক দক্ষতার
প্রমাণ রাখতে
সক্ষম হয়েছিলেন,
কিন্তু সে
সময় আরো
অনেকেই রাজ্য
শাসন করতে
চেয়েছিলেন।
কুবলাইয়ের কাছে
খবর পৌঁছে
যে তার
ভাইদের মধ্যে
একজন, যার
নাম আরিগবোগে,
নিজেকে সম্রাট
ঘোষণা করতে
চান। তখন
কুবলাইয়ের বয়স
৪৫ বছর।
ভাইয়ের ইচ্ছার
সংবাদ পাওয়ার
পর তিনি
তার পরবর্তী
সিদ্ধান্ত গ্রহণের
জন্য তড়িঘড়ি
করে শাংডুর
(পরবর্তী সময়ে
স্যামুয়েল কোলরিজের
বিখ্যাত ‘কুবলাই
খাঁ’ কবিতায়
‘শানাডু’ নামে
অমর হয়ে
আছে) বাসভবনে
ফিরে যান।
কুবলাই জানতেন
যে মোংকের
স্থলাভিষিক্ত যিনিই
হন না
কেন, চীনের
উত্তরাঞ্চল থেকে
শুরু করে
পারস্য হয়ে
রাশিয়া পর্যন্ত
বিস্তৃত এলাকা
একত্রে ধরে
রাখার জন্য
তাকে বিচক্ষণ
কূটনৈতিক ও
দারুণ সামরিক
দক্ষতার অধিকারী
হতে হবে।
আরিগবোগের হুমকি
মোকাবেলা করার
জন্য তিনি
একটি বিশেষ
আচারানুষ্ঠান বেছে
নেন, যা
তাকে অদম্য
বৈধতা প্রদান
করবে। উপদেষ্টাদের
সঙ্গে পরামর্শ
করার পর
কুবলাই এক
ধরনের প্রাচীন
চীনা ব্যবস্থা
‘আই চিং,
যা কনফুসিয়ানিজম
ও তাওবাদের
সঙ্গে সংযুক্ত,
সম্মুখে এনে
নিজের অবস্থানের
দাবিকে জোরদার
করার সিদ্ধান্ত
নেন। তার
সেই দৃঢ়
সিদ্ধান্ত থেকে
প্রতীয়মান হয়েছে
যে তিনি
যদি সঠিক
পথে অধ্যবসায়
অবলম্বন করেন,
তাহলেই চরম
সাফল্য অর্জন
করতে সক্ষম
হবেন।
মঙ্গোলীয় ঐতিহ্যের
পরিবর্তে কুবলাইয়ের
চীনা ঐতিহ্য
বেছে নেয়ার
সিদ্ধান্ত তার
জীবনভর অখণ্ডনীয়
সংকট হিসেবে
ধরা হয়।
কুবলাই তার
পিতামহ সেনাপতি
চেঙ্গিস খানের,
যিনি মঙ্গোলীয়
শাসনের অধীনে
সমগ্র চীনকে
একত্র করতে
চেয়েছিলেন, অসম্ভব
স্বপ্ন দ্বারা
প্রভাবিত ছিলেন।
কুবলাই জানতেন
যে চীনকে
দমন করা
এক জিনিস,
কিন্তু শাসন
করা অন্য
বিষয়। মঙ্গোলীয়
নিয়ম-কানুনের
প্রতি আনুগত্যের
সঙ্গে তার
নতুন চীনা
পদ্ধতির সামঞ্জস্য
বজায় রাখার
জন্য এক
ধরনের জটিল
ভারসাম্যের প্রয়োজন
হবে।
আই চিং
আচারানুষ্ঠান এবং
ধার্মিকতা ও
রাজনীতির সমন্বয়
মিশ্রণ তাকে
উপযুক্ত মূল্য
দিয়েছে। কুবলাই
নিজের নাম
পরিবর্তন করে
কুবলাই খান
রাখেন এবং
রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা
দখল করেন।
চার বছর
পর তিনি
আরিগবোগেকে পরাজিত
করেন এবং
প্রশান্ত মহাসাগর
থেকে কৃষ্ণ
সাগর অবধি
বিশ্বের বৃহত্তম
বিস্তৃত স্থল
সাম্রাজ্যের একচ্ছত্র
শাসক হয়ে
ওঠেন।
খান হয়ে
ওঠার কাহিনী
চেঙ্গিস
খান ১২০৬
সালে মঙ্গোলীয়দের
একত্র করেন
এবং তাদের
মাতৃভূমির অনেক
দূরে তাদের
জন্য যুদ্ধের
মতো দৃশ্য
তৈরি করেন।
যখন ১২২৭
সালে চেঙ্গিস
মৃত্যুবরণ করেন,
তখন তারা
সবাই মিলে
চীনের উত্তরাঞ্চলের
জিন রাজবংশ
ও মধ্য
এশিয়ার বিশাল
এলাকা জয়
করেন। (গাছের
বৃত্তাকার চক্র
থেকে জানা
যায় যে
চেঙ্গিস খানের
গোপন মিত্র
ছিল বৃষ্টি)।
খানের অর্থ
হচ্ছে ‘শাসক’
এবং প্রায়ই
খাগানকে ‘গ্রেট
খান’ হিসেবে
লেখা হয়।
চেঙ্গিসের মৃত্যুর
পর তার
পুত্র ওগোদেই
দ্বিতীয় খাগান
হন এবং
পরবর্তী সময়ে
ওগোদেইয়ের ছেলে
গুইয়ুক হন
তৃতীয় খাগান।
উত্তরাধিকার সূত্রে
১২৫১ সালে
খাগান উপাধি
চেঙ্গিসের নাতি
তোলুইয়ের ছেলে
মোংকের কাছে
চলে যায়।
মোংকের ভাই
কুবলাইয়ের জন্ম
১২১৫ সালে।
তাদের মায়ের
নাম সোরঘাত্তানি।
তিনি ছিলেন
পূর্বাঞ্চলীয় এলাকার
খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী
সম্প্রদায়ের রমণী।
টুলুইয়ের স্ত্রী
হিসেবে তিনি
সর্বোচ্চ দক্ষতার
সঙ্গে রাজবংশের
রাজনীতিতে জড়িয়ে
পড়েন। তিনি
নিশ্চিত করেন
যে ১২৫১
সালে চতুর্থ
খাগান হিসেবে
যেন মোংকে
সফলতা অর্জন
করতে সক্ষম
হয়। এছাড়া
তিনি কুবলাইয়ের
গড়ে ওঠার
পেছনে গুরুত্বপূর্ণ
ভূমিকা পালন
করেন।
সোরঘাত্তানি নিশ্চিত
করেন যে
কুবলাইকে যেন
মঙ্গোলীয় ঐতিহ্য
শেখানো হয়।
তিনি ইসলামসহ
অন্যান্য ধর্মের
প্রতি সহনশীলতাকে
উৎসাহিত করেন
এবং কুবলাইয়ের
জন্য চীনা
শিক্ষক নিয়োগ
করেন, যাতে
কুবলাই স্থানীয়
ঐতিহ্য এবং
বৌদ্ধ ধর্ম
ও তাওবাদের
ওপর ব্যুত্পত্তি
লাভ করতে
পারেন। পরবর্তী
সময়ে কুবলাইকে
বহুসাংস্কৃতিক শিক্ষা
বিজয়ী অঞ্চলের
ঐতিহ্য ও
বিশ্বাস সহ্য
করার গুরুত্ব
বুঝতে সাহায্য
করে।
একজন যোদ্ধা
হিসেবে কুবলাই
নিজেকে চেঙ্গিস
খানের নাতি
প্রমাণিত করেন।
যখন ১২৫১
সালে মোংকে
খাগান হয়ে
ওঠেন, তখন
কুবলাই তার
ভাইয়ের আঞ্চলিক
সম্প্রসারণে অংশগ্রহণ
করেন, যা
ছিল মঙ্গোলীয়
পদ্ধতিতে পরীক্ষিত
চরম নৃশংসতা।
উত্তেজনা ও
বিজয়
কুবলাই
১২৬০ সালে
নিজেকে খাগান
হিসোবে ঘোষণা
করেন এবং
রাজ্য শাসন
শুরু করার
আগে তাকে
আরিগবোগের সিংহাসনের
দাবিকে দৃঢ়তার
সঙ্গে মোকাবেলা
করতে হয়।
সেই সময়
অভ্যন্তরীণ উত্তেজনা
বাইরের শত্রুদের
মতই হুমকি
হয়ে দেখা
দিয়েছিল। খাগান
উপাধির সঙ্গে
দৃঢ়তা ও
ক্ষমতা যুক্ত
থাকা সত্ত্বেও
কুবলাইয়ের আগমন
মঙ্গোলীয়দের জমি
উপখানায় বিভক্ত
হওয়ার সূচনাকে
চিহ্নিত করে।
কুবলাই নিজেই
ভোলগার ওপর
গোল্ডেন হোর্ড,
মধ্য এশিয়ার
চাগাতাই খানাত,
ইরানভিত্তিক ইলখানাত
ও চীনা
অঞ্চল শাসন
করেন।
আরিগবোগের পরাজয়
ঘটে ১২৬৪
সালে। কুবলাই
তিন বছর
পর চীনের
দক্ষিণাঞ্চলের সং
রাজবংশের বিরুদ্ধে
পুনরায় তার
সামরিক অভিযান
শুরু করেন।
সে সময়
আনুমানিক পাঁচ
কোটি অভিবাসীর
জনবহুল শাসিত
অঞ্চলে দক্ষিণাঞ্চলীয়
সং রাজবংশ
এমন এক
গতিশীল ধরনের
সংস্কৃতির উদ্ভাবন
করে, যেখানে
মুদ্রণ কৌশল
ইউরোপে পৌঁছার
অনেক আগেই
তার প্রথম
পরীক্ষা-নিরীক্ষা
সম্পন্ন হয়।
সমৃদ্ধ অর্থনীতির
জন্য বিভিন্ন
শহরের প্রবৃদ্ধি
নিশ্চিত করা
হয়। পরবর্তী
সময়ে সেসব
শহরের জনসংখ্যা
১০ লাখেরও
বেশি হয়েছিল।
তখন সং
রাজবংশের রাজ্য
দখলের জন্য
কুবলাইয়ের কাছে
উপযুক্ত মনে
হয়েছে।
এরই মধ্যে
সং রাজারা
অনেক বছর
ধরে মঙ্গোলদের
আগ্রাসন প্রতিরোধ
করেছে। তাদের
কাছে ছিল
দক্ষ সমর
নায়ক, বারুদ
ও চমত্কার
সামরিক ভারী
অস্ত্র, এমনকি
অবরোধ ইঞ্জিনও
ছিল। যখন
কুবলাই আবার
আক্রমণ শুরু
করেন, তখন
এটা পরিষ্কার
হয় যে
শেষ খেলা
তখনো বাকি
ছিল। (আক্রমণকারীদের
বাইরে রাখার
জন্য চীনের
মহাপ্রাচীর নির্মিত
হয়েছিল। তা
কি কাজ
করেছে?)
যুদ্ধ ছিল
দীর্ঘমেয়াদি ও
ভয়াবহ। খোলা
ময়দানে মঙ্গোলীয়
অশ্বারোহী সৈন্যদের
চতুর আক্রমণ
ও কুবলাইয়ের
শক্তি জেনেও
সং রাজবংশের
সম্রাট শক্তিশালী
অবস্থান থেকে
সরে গিয়ে
নিজের স্বার্থ
উদ্ধারকে গুরুত্ব
দেন। তখন
দীর্ঘতর অবরোধ
উন্মোচিত হয়।
শত্রুদের সরবরাহ
পথ বন্ধ
করার জন্য
কুবলাই উপকূলীয়
আক্রমণের একটি
প্রচারাভিযান শুরু
করেন। বিশাল
শুষ্ক তৃণাঞ্চলের
সংস্কৃতির শিকড়ের
সঙ্গে জড়িয়ে
থাকা একজন
সেনাপতির জন্য
তা ঝুঁকিপূর্ণ
কৌশল ছিল।
মঙ্গোলীয়দের দৃঢ়তার
সঙ্গে যুদ্ধ
চালিয়ে যাওয়ার
কারণে ১২৭৩
সালের মধ্যে
জিয়াংইয়াং শহরের
পতন ঘটে।
ধনবান দক্ষিণাঞ্চলের
সং রাজ্যগুলো
রাজনৈতিকভাবে খানিকটা
করে বিচ্ছিন্ন
হতে থাকে।
অবশেষে ১৩৭৯
সালে কুবলাই
খানের কাছে
সং রাজবংশের
পতন হয়
এবং কয়েক
শতাব্দীতে চীন
প্রথমবারের মতো
ঐক্যবদ্ধ হয়।
নতুনের সূচনা
কুবলাই
খান যখন
সং সাম্রাজ্যের
জমি একের
পর এক
দখল করে
নেন, তখন
তিনি চীনের
জন্য তার
রাজত্বকে একটি
নতুন রাজবংশ
হিসেবে ঘোষণা
করেন। কুবলাই
১২৭১ সালে
ইউয়ান, যার
অর্থ ‘গ্রেট
অরিজিন’, সম্রাট
হিসেবে নিজেকে
প্রতিষ্ঠিত করেন।
তার শিক্ষালাভ
ও উপদেষ্টাদের
পরামর্শের ভিত্তিতে
তিনি জানতেন
যে চীনা
সংস্কৃতিকে আলিঙ্গন
করা আরো
গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
ফলে তিনি
চীনা পোশাক
ও সামাজিক
নিয়ম-কানুনকে
গ্রহণ করেন।
এছাড়া তিনি
শাসন ও
ব্যবস্থাপনায় চীনা
পদ্ধতি অন্তর্ভুক্ত
করেন এবং
দেশ পরিচালনায়
তাকে সাহায্য-সহযোগিতা
করার জন্য
স্থানীয় উপদেষ্টাদের
নিয়ে একটি
দল গঠন
করেন।
সেসব উপদেষ্টাদের মধ্যে লিউ বিংঝং ছিলেন অন্যতম। কুবলাইয়ের রাজত্বের শুরুতেই লিউ মঙ্গোলিয়ার রাজধানী কারাকোরাম থেকে সাংডুতে স্থানান্তর করার জন্য কুবলাইকে রাজি করান। কারণ তার আশা ছিল, কুবলাইয়ের শাসন ক্রমেই চীনা ধাঁচে গড়ে উঠবে। তখন সরকার ও ব্যবসা পরিচালনার জন্য নির্মিত হয়েছিল বিলাসবহুল স্থাপনা। কুবলাইয়ের সঙ্গে মোলাকাত করার সময় ভেনিসের পর্যটক মার্কো পোলোকে সেই সব স্থাপনা গভীরভাবে মুগ্ধ করেছিল। (মার্কো পোলোর দুঃসাহসিক অভিযান এশিয়ার বিস্ময়কে ইউরোপের কাছে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিল)।
১২৭০ দশকের
মাঝামাঝি সময়ে
পোলোর সফরের
আগেই গ্রীষ্মকালীন
প্রাসাদের ভূমিকায়
সাংডুকে রূপান্তর
করা হয়।
চীনা সাম্রাজ্যকে
প্রসারিত করার
উদ্দেশ্যে লিউের
পরামর্শ অনুসারে
রাজধানী দক্ষিণপূর্বে
অবস্থিত ডাডু
(বর্তমানে বেইজিং)
শহরে স্থানান্তর
করা হয়।
কুবলাইয়ের রাজদরবারে
কাজ করার
জন্য মার্কো
পোলো বিখ্যাত
হয়ে ওঠেন,
যা ভিনদেশী
সংস্কৃতির প্রতি
খাগানের উন্মুক্ততার
পরিচয় নির্দেশ
করে। উল্লেখযোগ্য
সামরিক ব্যর্থতাকে
চিহ্নিত করা
হোক, যেমন
১২৭৪ ও
১২৮১ সালে
জাপানে তার
আগ্রাসনের প্রচেষ্টা
কিংবা ভিয়েতনাম
ও বার্মার
বিজয়ের মতো
সাফল্যের জন্য
কুবলাইয়ের পরবর্তী
শাসনামল অমঙ্গোলীয়
সামরিক কর্মকর্তা
ও ভিনদেশী
উপদেষ্টাদের ওপর
ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল
ছিল।
এত কিছুর
পরও ইউয়ান
শ্রেণীবিন্যাস ছিল
অনড়। মঙ্গোলীয়রা
শীর্ষ স্থান
দখল করেছিল।
তারপর মধ্য
এশিয়াবাসী এবং
তারও পরে
চীনারা সেই
স্থান দখল
করে নেয়।
ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা
হিসেবে কয়েকজন
চীনার ওপর
কুবলাইয়ের নির্ভরতা
সত্ত্বেও চীনা
অভিজাত মহল
ক্ষুব্ধ হয়েছিল।
কেননা তাদের
অভিযোগ ছিল
যে কীভাবে
ইউয়ান সরকারের
শীর্ষপদ তাদের
জন্য বন্ধ
করে দেয়া
হয়েছে এবং
কীভাবে ইউয়ান
সিভিল সার্ভিস
পরীক্ষা বাতিল
করা হয়েছে।
মূলত চীনা
সম্রাজের সবচেয়ে
উজ্জ্বল ও
সেরাদের জন্য
কর্মসংস্থান এবং
সামাজিক উত্থানের
সম্ভাবনাকে নষ্ট
করে দেয়া
হয়। পরবর্তী
সময়ে কুবলাইয়ের
ক্রমবর্ধমান চীনকেন্দ্রিক
সাম্রাজ্যবাদী কাঠামোর
প্রতি মঙ্গোলীয়রা
অসন্তোষ প্রকাশ
করে।
এরই মধ্যে
কুবলাই নাতি
তেমুরকে তার
উত্তরসূরি হিসেবে
বেছে নিয়েছিলেন,
যখন তিনি
১২৯৪ সালে
৭৯ বছর
বয়সে মৃত্যুবরণ
করেন। তিনি
বলেছিলেন যে
তার দেহকে
যেন—যার
অবস্থান এখন
হারিয়ে গেছে—উত্তরপূর্ব
মঙ্গোলিয়ার বুরখান
খালদুন পাহাড়ে
তার পিতামহ
চেঙ্গিসের পাশাপাশি
বিশ্রাম করতে
দেয়া হয়।
বছরের পর
বছর তিনি
চীনে বাস
করা সত্ত্বেও
কুবলাইয়ের হূদয়
সবসময় মঙ্গোলিয়ার
বিস্তীর্ণ তৃণভূমিতে
পড়ে ছিল।
কুবলাইয়ের সবচেয়ে
বড় অর্জন
চীনের বিজয়।
সেখানে তিনি
ইউয়ান রাজবংশ
প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
তিনি চীনা
সামাজিক নিয়ম-কানুন
ও সংস্কৃতিকে
গ্রহণ না
করলে তা
হয়তো করতে
পারতেন না।
তিনি মঙ্গোলীয়
অভিজাতদের, যারা
চীনাদের নিম্নমানের
হিসেবে বিবেচনা
করতেন, বিচ্ছিন্ন
করেছিলেন। পরবর্তী
সময়ে মঙ্গোলীয়
অভিজাত শ্রেণী
ও চীনা
জনগণের মধ্যে
সেই উত্তেজনা
মঙ্গোলীয় শাসনকে
অস্থিতিশীল করতে
প্রধান ভূমিকা
পালন করে।
যদিও মৃত্যুর
পর কুবলাই
তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল
ও সমৃদ্ধ
একটি সাম্রাজ্য
রেখে গিয়েছিলেন,
কিন্তু উত্তরাধিকাররা
এক শতাব্দীরও
কম সময়
ধরে তার
সেই অর্জনকে
বাঁচিয়ে রাখতে
পেরেছিল।
ভেরোনিকা ওয়াকার: ইউনিভার্সিটি
অব হেলসিংকির
গবেষক। দক্ষিণ-পূর্ব
এশিয়ার ইতিহাস
ও প্রত্নতত্ত্বের
বিশেষজ্ঞ
ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক ম্যাগাজিন থেকে অনূদিত





