টিপু সুলতানের তরবারিটি ‘সুখেলা’ ধরনের। এ ধারার তরবারি রাজস্থানের পাশাপাশি শিখ শাসনামলে ব্যবহার হতো। তলোয়ারে যে ইস্পাত ব্যবহার করা হয়েছে তার বর্তমান নাম ‘উটয’। এ ধারার তলোয়ার খুবই শক্ত হয়। টিপুর তলোয়ারটি তার দৃঢ়তার জন্য বিখ্যাত ছিল। এত দৃঢ় হওয়ার কারণ মূলত এর বানানোর কৌশল। উটয স্টিলের বৈশিষ্ট্য এটি উচ্চমাত্রায় কার্বনেটেড। এমন ইস্পাতের অস্ত্র এর তুলনায় কম দৃঢ় ধাতুকেও কাটতে পারে। বলা হয় টিপু সুলতানের তলোয়ার শিরস্ত্রাণ ও বর্ম ভেদ করে ঢুকে যেতে পারত। এসবই সম্ভব হয়েছিল এ ইস্পাতের কারণে। 

মূলত মোগল শাসনামলে ভারতে ব্যবহৃত নানা অস্ত্র নিয়ে নিরীক্ষা হতো। জার্মান ব্লেড ভারতে মোগলরাই এনেছিল ষোড়শ শতাব্দীতে। আর টিপু সুলতান মহীশূরের শাসক হলেও তার এ তরবারি তৈরি হয়েছিল মোগল অস্ত্রাগারে বা মোগল অস্ত্র প্রকৌশলীদের হাতে।

টিপু সুলতানের তরবারিতে ছিল ক্যালিগ্রাফি। সোনার কাজ করে এতে লেখা হয়েছিল আল্লাহর নাম। ‘কোফতগারি’ নামের এ আর্টে লেখা হয়েছিল ‘‌ইয়া আল্লাহ্‌, ইয়া নাসির, ইয়া ফাত্তাহ্‌, ইয়া মুইন, ইয়া জহির।’

টিপুর এ তরবারিকে তার ‘‌বেডচেম্বার সোর্ড’ বলে উল্লেখ করা হয়। কেননা শেষ সময়ে যখন মহীশূরে চোখ পড়েছিল ইংরেজদের, সে সময় খাপসহ এ তলোয়ার পাশে রেখে ঘুমাতেন টিপু সুলতান। ১৭৯৯ খ্রিস্টাব্দে শ্রীরঙ্গপট্টমের যুদ্ধে পরাজয়ের পর টিপুর ব্যক্তিগত সম্পত্তির মধ্যে তলোয়ারটি পাওয়া যায়। যুদ্ধজয় ও টিপুকে হত্যায় বীরত্ব দেখানোর কারণে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মেজর জেনারেল ডেভিড বেয়ার্ডকে তলোয়ারটি দিয়ে পুরস্কৃত হয়। হন্তারকের হাতেই ওঠে টিপুর বিখ্যাত তরবারিটি।

এরপর নানা হাত ঘুরে তলোয়ারটি শেষ পর্যন্ত লন্ডনে নিলামে বিক্রি হয় ২০২৩ সালের মে মাসের শেষে। তরবারিটি বিক্রি হয়েছিল ১ কোটি ৭৪ লাখ ডলারে। বাংলাদেশী মুদ্রার হিসাবে তা এখন ১৮৭ কোটি টাকার কিছু বেশি।

আসরার আবেদিন