১৮৫৭ সালের ২৯
জুন। ভারতের
লক্ষৌতে
ব্রিটিশ অফিসারদের
আবাসিক এলাকা।
এক ইংরেজ
সৈনিকের ২৩
বছর বয়সী
স্ত্রী ক্যাথেরিন
বারট্রামকে ভড়কে
দিয়ে তার
একজন বান্ধবী
হঠাৎ বমি
করতে শুরু
করল, একই
সঙ্গে শুরু
হয় ভয়াবহ
ডায়রিয়া। কয়েক
ঘণ্টার মধ্যেই
শরীরের সমস্ত
পানি বেরিয়ে
গিয়ে চেহারাটা
চুপসে যায়
কেমন। নীলচে
হয়ে যায়
পুরো মুখ।
শুধু মুখ
নয়, তার
ঠোঁট, ত্বক
থেকে হাতের
নখ সবকিছুই
নীল হয়ে
গেল। ক্যাথেরিনের
চোখের সামনে
প্রায় কোনো
চিকিৎসা ছাড়াই
মারা গেল
মেয়েটা। মৃত্যুর
আগে জানতেও
পারেনি, কী
রোগ হয়েছিল
তার।
২.
আঠারো
শতকের শেষ
নাগাদ ইস্ট
ইন্ডিয়া কোম্পানি
নির্বিচারে সমগ্র
ভারতবর্ষ গ্রাস
করে ফেললেও
তার বিরুদ্ধে
সফল প্রতিরোধের
সংখ্যা ছিল
খুব নগণ্য।
মানুষের ওপর
নির্বিচার দমন-পীড়ন
করতে পারলেও
ভারতজুড়ে ইংরেজ
শক্তি নাকাল
হয়েছিল কলেরার
অতিক্ষুদ্র অথচ
মরণঘাতী জীবাণুর
কাছে। উনিশ
শতকজুড়ে ‘কলেরা’
ছিল ভারতে
ব্রিটিশদের দুঃস্বপ্ন।
এখানে যুদ্ধে
জড়িয়ে যত
ইংরেজ সৈন্য
প্রাণ দিয়েছিল,
তার চেয়ে
বেশি প্রাণ
দিয়েছিল কলেরা
মহামারীতে। শুধু
ভারতে আঘাত
হেনেই থেমে
থাকেনি এ
জীবাণু, জাহাজে
চড়ে ইংল্যান্ডে
পৌঁছে কেড়ে
নিয়েছে হাজার
হাজার প্রাণ।
তছনছ করে
দিয়েছিল সাম্রাজ্যবাদের
কেন্দ্রবিন্দু লন্ডন
শহরকে। উনিশ
শতকে ভারতবর্ষে
অবস্থানরত ব্রিটিশ
অফিসাররা যমের
মতো ভয়
করতেন কলেরা
রোগকে।
ভারতবর্ষে শত
শত বছর
ধরে কলেরার
উপদ্রব স্থায়ী
ছিল এবং
প্রধানত সেটা
সীমাবদ্ধ ছিল
বাংলার আশপাশের
অঞ্চলে। কিন্তু
ব্রিটিশ ইস্ট
ইন্ডিয়া কোম্পানি
ভারতের বিপুল
এলাকা কব্জা
করার সঙ্গে
সঙ্গে কলেরাকেও
ছড়িয়ে দিয়েছিল
সমগ্র ভারতবর্ষে।
ব্রিটিশ সৈন্যরাই
ছিল সে
রোগের বাহক।
ভারতের নানা
জায়গায় সৈন্য
পরিচালনা করতে
গিয়ে বাংলার
কলেরাকে আফগান
থেকে নেপাল
সীমান্ত পর্যন্ত
ছড়িয়ে দেয়,
এমনকি সদূর
পারস্য উপসাগরেও
ব্রিটিশ বহর
বয়ে নিয়ে
গিয়েছিল কলেরার
জীবাণু।
উনিশ শতকের সবচেয়ে বড় মহামারীটা শুরু হয়েছিল ১৮১৭ সালে। সেটি ছিল উনিশ শতকের প্রথম মহামারী, যাতে কয়েক লাখ ভারতীয় এবং ১০ হাজারেরও বেশি ইংরেজ সৈন্য মারা গিয়েছিল। পরে ১৮২৯ সালে দ্বিতীয় ধাপে শুরু হওয়া মহামারীটি এশিয়ার সীমান্ত পার হয়ে ইউরোপে পৌঁছে যায় এবং রাশিয়ার ভূখণ্ডে ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ চালায়। তৃতীয় ধাপে ১৮৪৬ সালে শুরু হওয়া মহামারীটা আটলান্টিক পাড়ি দিয়ে আমেরিকায় পৌঁছে যায় এবং তাতেও অনেক প্রাণহানি ঘটে। খোদ আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট জেমস কে পক প্রাণ হারিয়েছিলেন ওই মহামারীর শেষ পর্যায়ে। ধারণা করা হয়, বিশ্বব্যাপী কলেরা মহামারীর বড় একটা অংশ রফতানি হয়েছিল ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মাধ্যমে।
শুধু সামরিক
বাহিনী নয়,
কলেরা মহামারীকে
দেশব্যাপী সম্প্রসারণ
করার জন্য
বেসামরিক খাতের
অবদানও কম
নয়। ব্রিটিশ
ভারতে যখন
প্রথম রেলওয়ে
চালু হয়,
রেললাইনের পাশে
খাল খনন
করা হয়েছিল
লাইন উঁচু
করার জন্য
মাটি ভরাট
করার কাজে।
খাল কেটে
কুমির আনার
মতো, সেই
খাল বেয়ে
কলেরার জীবাণু
বিস্তীর্ণ এলাকায়
ছড়িয়ে পড়েছিল।
তবে স্থানীয়
অনেকেই কলেরার
প্রাদুর্ভাব ঘটার
জন্য ব্রিটিশদের
জীবনাচারকে দায়ী
করেন। কেউ
কেউ মনে
করেন, যেখানে
সেখানে নির্বিচারে
গরু জবাই
করার কারণে
কলেরা ছড়িয়েছিল,
গরু হিন্দুদের
কাছে পবিত্র
জীব হিসেবে
বিবেচিত। আবার
কেউ কেউ
মনে করেন,
ব্রিটিশ শাসনের
ওপর দেবতার
অভিশাপ পড়েছিল
কলেরার মাধ্যমে।
তাই যদি
হয়, তবে
ভারতীয়দের মধ্যে
এ রোগ
ছড়িয়ে পড়ার
কারণ কী?
এর জবাব
হিসেবে আসে
ব্রিটিশ শাসনের
বিরুদ্ধে শক্ত
হাতে প্রতিরোধ
গড়ে তুলতে
না পারার
অপরাধে দেবতার
রোষের শিকার
হয়েছে ভারতীয়রাও।
বলা বাহুল্য,
এসব নেহাতই
কুসংস্কার।
উনিশ শতকের এ কলেরা তাণ্ডব শুধু ভারতবর্ষে সীমাবদ্ধ থাকেনি। এটা ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের হূিপণ্ডের মধ্যেও আঘাত হেনেছিল। আচমকা এ নতুন রোগ কোত্থেকে ব্রিটেনে হানা দিল, সেটা নিয়ে জোর বিতর্ক উঠেছিল। এক দলের মতে, কলেরা একটি ছোঁয়াচে রোগ, এর সংক্রমণ ঘটে মানুষে-মানুষে সংস্পর্শে এলে। অন্য দল এ সংক্রমণের জন্য দায়ী করে খারাপ বাতাস বা দূষিত মৃত্তিকাকে।
লন্ডন শহরে কেন কলেরার প্রাদুর্ভাব ঘটল, তার ওপর প্রচুর গবেষণা চলে। পুরো মেট্রোপলিস এলাকাকে কয়েক ভাগে বিভক্ত করে জনসাধারণের পেশা, কর্মযজ্ঞ, পদচারণা, খাদ্যাভ্যাস সবকিছু নিয়ে নানা গবেষণা করা হলো। চিহ্নিত করা হলো এ জীবাণুর মাধ্যমে কোন কোন এলাকায় বেশি, কোথায় কম আক্রান্ত হয়েছে। কিন্তু এসব গবেষণা মহামারীর সামাজিক রাজনৈতিক ইস্যুগুলোয় কাজে লাগলেও তার প্রতিরোধ কিংবা প্রতিষেধক আবিষ্কারে কোনো কাজ দেয়নি। কলেরার জন্য দায়ী মূল কারণটিকেও শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
তার বেশ
কিছুকাল পর
ধীরে ধীরে
যখন এ
রোগের ওষুধ
আবিষ্কারের জন্য
কাজ শুরু
করা হলো,
তখন সমগ্র
জনগোষ্ঠীর বিভিন্ন
শ্রেণীর মধ্যে
তার কার্যকারিতা
নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা
করা হলো,
যার মধ্যে
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ
ছিল নগরীর
পানি সরবরাহ
ব্যবস্থাকে গবেষণার
অন্তর্ভুক্ত করা।
সেই সঙ্গে
কোনো নির্দিষ্ট
জাতিগোষ্ঠী এ
রোগের কারণ
কিনা সেটাও
বিবেচনায় নেয়া
হচ্ছিল। ইঙ্গিতটা
স্পষ্টতই ছিল
ভারতীয়দের দিকে।
উনিশ শতকের
ব্রিটিশদের চোখে
ভারতীয়রা নোংরা
এবং বিশৃঙ্খল
একটা জাতি
হিসেবে পরিচিত
হয়েছিল। অথচ
অতীতে এদেরই
খুব পরিচ্ছন্ন
ও সুসংহত
জাতি হিসেবে
দেখা হতো।
৩.
ক্যাথেরিন
তার স্বামীর
সঙ্গে ভারতে
এসেছিলেন উন্নত
জীবনের খোঁজে।
ভারতে এসে
ভাগ্য ফিরেছে
বহু ইংরেজের।
কিন্তু কিছু
মানুষকে দুর্ভাগ্য
তাড়া করে
ফেরে। ক্যাথেরিনের
ক্ষেত্রে তা-ই
ঘটেছিল। দিল্লি
ছেড়ে
তার লক্ষৌতে
আসার মূল
কারণ ছিল
ভীতি। দিল্লিতে
সিপাহিরা যখন
বিদ্রোহ করে,
তখন সমগ্র
ব্রিটিশ রাজত্ব
টালমাটাল হয়ে
পড়েছিল। তিনি
তার স্বামীকে
সামরিক ছাউনিতে
রেখে এখানে
এসেছেন সাত
সপ্তাহ আগে।
দিল্লিতে সিপাহি
বিদ্রোহের পর
ভারতীয় সৈন্যরা
ব্রিটিশ বেসামরিক
নারী-পুরুষদের
হত্যা করছিল
নির্বিচারে। দুর্ভাগ্য
ক্যাথেরিনকে তাড়া
করে সেখানেই
এনে ফেলল,
যেখানে অপেক্ষা
করছিল আরেক
দুর্যোগ। তিনি
নিরাপদ আশ্রয়ের
সন্ধানে এসেছিলেন
যে শহরে,
সেই লক্ষৌ
শহর ছয়
মাসের জন্য
অবরুদ্ধ হয়ে
পড়ে। ভারতীয়
বিদ্রোহীরা এখানে
খুব নিষ্ঠুরতার
পরিচয় দিয়েছিল
সিভিলিয়ানদের সঙ্গে।
বিদ্রোহীরা যখন লক্ষৌ অবরোধ করে, তখনই ক্যাথেরিনের ১৭ মাস বয়সী সন্তান ববি কলেরায় আক্রান্ত হয়। যদিও ডাক্তার বলে দিয়েছিল, ছেলেটার বাঁচার আশা নেই, তবু ক্যাথেরিন জানপ্রাণ উজাড় করে সন্তানের পরিচর্যা করতে থাকেন সারা রাত না ঘুমিয়ে। সকালের দিকে ছেলেটার অবস্থার উন্নতি দেখা যায় এবং আশ্চর্যজনকভাবে সুস্থ হয়ে যায় পরবর্তী কয়েক দিনের মধ্যে।
এ ধাক্কা
সামলে উঠতে
না উঠতে
দুই মাস
পর আরেকটি
বড় আঘাত
এসে পড়ে
তার ওপর।
লক্ষৌ
অবরোধের যুদ্ধে
নিহত হন
তার স্বামী।
ক্যাথেরিন তার
শিশুসন্তানকে নিয়ে
কোনোমতে বেঁচে
থাকেন। অবরোধ
শেষ হওয়ার
পর ব্রিটিশ
সৈন্যরা লক্ষৌ
ত্যাগ করতে
শুরু করলে
তিনি তার
ছেলেকে নিয়ে
কলকাতা চলে
যান এবং
ইংল্যান্ডগামী একটা
জাহাজে উঠে
পড়েন। কিন্তু
জাহাজ ছাড়ার
আগের রাতেই
তার ছেলেটা
আবারো অসুস্থ
হয়ে পড়ে
এবং মৃত্যুর
কোলে ঢলে
পড়ে। কলেরার
ছোবল থেকে
প্রাথমিকভাবে রক্ষা
পেলেও শেষবেলায়
তার প্রতিক্রিয়াটি
ক্যাথেরিনের জন্য
মর্মান্তিক শোকাবহ
পরিণতি বয়ে
এনেছিল।
৪.
১৮৪৮
সালে এডউইন
চ্যাডউইকের এক
রিপোর্ট অনুসারে
ইংল্যান্ডের শ্রমিক
শ্রেণীর পয়োনিষ্কাশন
ব্যবস্থা নিঃসন্দেহে
ভারতের চেয়ে
অনেক উন্নত
ছিল। ইংরেজরা
নিজ দেশের
পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারটাকে
স্বাস্থ্যসম্মত ও
উন্নত করার
জন্য প্রয়োজনীয়
পদক্ষেপ নিলেও
ভারতে তার
কোনো ছাপ
ছিল না।
ভারতীয়দের ব্যাপারে
তাদের মনোভাব
ছিল এ
রকম—ভারতের
ঋতুর মতো
কলেরাও একটা
সামাজিক উপাদান,
যেটা নিয়ে
তাদের বিশেষ
কিছু করার
নেই।
প্রশ্ন আসে,
ভারত ও
ভারতীয়দের যদি
এতই নোংরা
মনে হয়,
তাহলে তাদের
উন্নতির জন্য
ব্রিটিশ প্রশাসন
কাজ করতে
পারত কিনা।
কিন্তু সেটা
কখনই করা
হয়নি। ইংল্যান্ডের
যেখানে অস্বাস্থ্যকর
পরিবেশ আছে,
সেগুলোর ঠিকই
উন্নতি ঘটানো
হয়েছে, কিন্তু
ভারতের জন্য
কোনো সহানুভূতির
বরাদ্দ ছিল
না সেই
আকালেও। গবেষণার
তত্ত্ব যা-ই
বলুক না
কেন, তার
প্রয়োগের পেছনে
রয়েছে রাজনৈতিক
মানসিকতা আর
সদিচ্ছার বিপুল
পার্থক্য।
১৮৪৯ সালে লন্ডনে ড. জন শো যুক্তি দিয়েছিলেন যে কলেরা সংক্রমিত হয় মলমূত্র নিয়ে নির্গত বিষাক্ত পদার্থের মাধ্যমে। কিন্তু তার এ মতামত অন্তত এক দশক পর্যন্ত তেমন কারো কাছে গ্রহণযোগ্য বিবেচিত হয়নি। এর মধ্যে ব্রিটিশ চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠানগুলো এ মর্মে একমত হয় যে ভারতীয়রা জাতিগতভাবেই ইউরোপীয়দের চেয়ে আলাদা। যদিও এর কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি পাওয়া যায়নি যে সংক্রামক ব্যাধি ছড়ানোর পেছনে জাতি-গোত্রের কোনো ভূমিকা থাকতে পারে, তবু কলেরা উৎপাদনের জন্য তাদের দায়ী করা হয়।
ইংরেজরা সমগ্র
ভারতবর্ষ গ্রাস
করলেও ভারতের
মানুষ ইংরেজদের
জমিতে একটা
সুইও ফোঁড়াতে
পারেনি। ভারতের
মানুষ কিছু
করতে না
পারলেও ভারতীয়
কলেরা গিয়ে
ইংল্যান্ডে কামড়
বসিয়েছিল। ইংরেজরা
যেমন ভারতের
ভূমি দখল
করে কলোনি
বানিয়েছিল, তেমনি
কলেরার জীবাণু
ইংল্যান্ডে প্রবেশ
করে রীতিমতো
জেঁকে বসেছিল।
কেবল ভূমি
নয়, সঙ্গে
মানুষের শরীরও
দখল করে
বসেছিল এ
জীবাণু, সংহার
করেছিল অজস্র
প্রাণ। ১৮৩১
সালে খোদ
ব্রিটেনে কলেরা
মহামারী লেগেছিল।
সেই মহামারীতে
অন্তত ৩০
হাজার মানুষ
মারা গিয়েছিল।
একের পর
এক মহামারী
ছড়িয়ে এমন
অবস্থা হয়েছিল
যে ইংল্যান্ডের
লোকেরা ভেবেছিল,
গোটা দেশটাই
এ জীবাণু
স্থায়ীভাবে দখল
করে বসে
কিনা। সে
সময় ব্রিটিশ
প্রশাসন ভারতে
তার সৈন্যদের
স্বাস্থ্য রক্ষার
প্রতি সর্বোচ্চ
মনোযোগ দেয়ার
সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।
৫.
অবশেষে
ক্যাথেরিন নিজের
প্রাণ অক্ষত
রেখে যখন
ইংল্যান্ডে পৌঁছেন,
তখন লন্ডন
শহরটি চরম
দুর্গন্ধময় এক
নরকে পরিণত
হয়েছে। গ্রীষ্মকালে
টেমস নদীর
দূষিত পানি
থেকে ভেসে
আসা গন্ধে
নগরবাসীর জীবনে
এমন অসহনীয়
পরিস্থিতি সৃষ্টি
হয়েছিল যে
রাজনীতিবিদরা নগরীর
পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থার
উন্নয়নের জন্য
নতুন পরিকল্পনা
গ্রহণ করতে
বাধ্য হয়েছিলেন।
তবু এর
আট বছর
পরও ইংল্যান্ডে
আরেকটি কলেরা
মহামারী দেখা
দিয়েছিল, ওটাই
ছিল উনিশ
শতকে ইংল্যান্ডে
সর্বশেষ কলেরা
আক্রমণ। কিন্তু
সে সময়
ভারতে যে
কলেরা মহামারী
দেখা দেয়,
তাতে মৃত্যু
হয়েছিল লাখ
লাখ মানুষের।
সমগ্র উনিশ
শতক ছিল
বিশ্বজুড়ে কলেরা
মহামারীর দুর্বিষহ
আক্রমণের শতক।
বিশ শতকে
প্রতিষেধক আবিষ্কারের
আগে জীবাণুটি
কমপক্ষে ছয়বার
সামষ্টিক আক্রমণ
করেছিল সারা
পৃথিবীর মানুষকে।
একুশ শতকে
কলেরার সেই
দাপট হয়তো
আর নেই,
কিন্তু সুযোগ
পেলে দুর্বল
জায়গায় আঘাত
হানতে এখনো
দ্বিধা করে
না এ
মহামারী, যার
প্রমাণ মেলে
২০১৭ সালে
এসে। ওই
বছর ইয়েমেনে
পাঁচ লাখ
মানুষ আক্রান্ত
হয়েছিল কলেরা
মহামারীতে, যার
মধ্যে কয়েক
হাজার মানুষ
মৃত্যুবরণ করেছিল।
হারুন রশীদ:
প্রাচীন
সভ্যতা ও
ইতিহাস অনুসন্ধানী
লেখক




