গুগলের নিজস্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মডেল ‘জেমিনির’ গোপন প্রযুক্তি হাতিয়ে নিতে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছেন হ্যাকাররা। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত গুগলের ‘থ্রেট ট্র্যাকার’ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। খবর সিনেট।
গুগলের অভিযোগ, হ্যাকাররা সিস্টেমের ওপর ‘ডিস্টিলেশন অ্যাটাক’ পরিচালনা করেছে। এ পদ্ধতিতে জেমিনিকে এক লাখেরও বেশি এআই প্রম্পট বা কমান্ড পাঠানো হয়। মূল উদ্দেশ্য ছিল গুগলের নিজস্ব ও অত্যন্ত সংবেদনশীল এআই প্রযুক্তি নকল বা চুরি করা।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এআইয়ের মাধ্যমে এখন অন্য আরেক এআইয়ের গোপন কৌশল জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। নতুন ধরনের এ সাইবার আক্রমণ প্রযুক্তি বিশ্বে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। হ্যাকাররা জেমিনিকে বারবার এমনভাবে প্রশ্ন করেছে যেন সেই উত্তরের সূত্র ধরে তারা গুগলের জটিল প্রযুক্তিগত কাঠামোটি বুঝে ফেলতে পারেন।
সুপরিকল্পিত এ সাইবার হামলার পেছনে উত্তর কোরিয়া, রাশিয়া ও চীনের হ্যাকাররা জড়িত থাকতে পারে বলে ধারণা করছে গুগল। টেক জায়ান্টটি সতর্ক করে বলেছে, এআই প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে বিশ্বজুড়ে যে নতুন ধরনের সাইবার হামলা ও ম্যালওয়্যারের বিস্তার ঘটছে, এটি তারই একটি অংশ। বর্তমানে হ্যাকাররা কেবল সাধারণ তথ্য চুরিতেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং তারা বড় বড় প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানের মূল কারিগরি কাঠামোও আয়ত্ত করার চেষ্টা করছে।
গুগল এ ধরনের তৎপরতাকে ‘মডেল এক্সট্রাকশন অ্যাটাক’ বা মডেল চুরির হামলা হিসেবে চিহ্নিত করেছে। প্রতিষ্ঠানের ভাষ্যমতে, এক্ষেত্রে আক্রমণকারী নিয়ম মেনে বা বৈধভাবে একটি উন্নত এআই বা মেশিন লার্নিং মডেলে প্রবেশ করে। তারপর বারবার প্রশ্ন বা অনুসন্ধান চালিয়ে ধীরে ধীরে সেই মডেল কীভাবে কাজ করে তা বের করে নেয়ার চেষ্টা করে। ফলে জেমিনির মতো এআই চ্যাটবটের অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা ও কর্মপদ্ধতি হুবহু নকল করা যায়। তবে গুগল তাদের প্রতিবেদনে আশ্বস্ত করেছে যে এ হামলা সাধারণ ব্যবহারকারীদের তথ্যের জন্য কোনো হুমকি তৈরি করেনি।
গুগল থ্রেট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপের প্রধান বিশ্লেষক জন হাল্টকুইস্ট বলেন, ‘এ ধরনের চুরির চেষ্টার মুখে পড়া প্রথম প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে গুগল অন্যতম হতে পারে। তবে ভবিষ্যতে এ পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।’
হাল্টকুইস্ট বলেন, ‘আমরা সম্ভবত ‘ক্যানারি ইন দ্য কোল মাইন’ (বিপজ্জনক পরিস্থিতির আগাম সংকেত) হিসেবে কাজ করছি। আমাদের ওপর হওয়া আক্রমণগুলো আসলে ভবিষ্যতে ঘটতে যাওয়া এমন আরো অনেক বড় ঘটনার পূর্বাভাস মাত্র।’
এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বাজার দখলের লড়াই এখন বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে পড়েছে। সম্প্রতি টিকটকের প্যারেন্ট প্রতিষ্ঠান বাইটড্যান্সসহ বেশকিছু চীনা কোম্পানি উন্নত মানের ভিডিও তৈরির এআই টুল নিয়ে আসায় এ প্রতিযোগিতা আরো তীব্র হয়েছে। তবে এ উদ্ভাবন নিয়ে শুরু থেকেই বিতর্ক রয়েছে। চ্যাটজিপিটির নির্মাতাপ্রতিষ্ঠান ওপেনএআই অভিযোগ করেছে যে চীনা এআই স্টার্টআপ ডিপসিক নিজেদের চ্যাটবট মডেলকে প্রশিক্ষণ দিতে ওপেনএআইয়ের প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে। গুগলের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে হ্যাকারদের প্রযুক্তি চুরির যে কৌশলের বর্ণনা দেয়া হয়েছে, ওপেনএআইয়ের দাবি অনুযায়ী ডিপসিকও অনেকটা একই পন্থায় অন্য প্রতিষ্ঠানের মেধা ব্যবহার করেছে।









