২০২৬ সালে বিশ্বজুড়ে সাইবার নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে আরো নিখুঁতভাবে ফিশিং মেইল ও ডিপফেক জালিয়াতি করা হচ্ছে। ইউরো নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ আধুনিক প্রযুক্তির অপব্যবহারের কারণে এখন আসল ও নকল যোগাযোগের পার্থক্য বোঝা সাধারণ মানুষের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। খবর টেকটাইমস।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এআই-চালিত ফিশিং আক্রমণগুলো এখন আর আগের মতো ভুল বানানে ভরা সাধারণ বার্তা নয়। অপরাধীরা এখন ‘লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল’ ব্যবহার করে অত্যন্ত নির্ভুল ও প্রাসঙ্গিক তথ্যসমৃদ্ধ বার্তা তৈরি করছে। ফলে যে কারো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা পেশাদার প্রোফাইল বিশ্লেষণ করে তার কথা বলার ধরন হুবহু নকল করা সম্ভব হচ্ছে। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, এআই-নির্ভর ছদ্মবেশী প্রতারণা আগের তুলনায় প্রায় ১৪৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডিপফেক প্রযুক্তি বর্তমান সময়ের সাইবার অপরাধের অন্যতম বড় হাতিয়ার। মাত্র কয়েক সেকেন্ডের অডিও ব্যবহার করে হুবহু কারো কণ্ঠ নকল করা সম্ভব হচ্ছে। এ প্রযুক্তির মাধ্যমে কোনো প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কণ্ঠ নকল করে অর্থ স্থানান্তরের নির্দেশ দেয়া বা গোপন তথ্য হাতিয়ে নেয়ার ঘটনা ঘটছে। কিছু ক্ষেত্রে ভিডিও ডিপফেক ব্যবহার করে ভার্চুয়াল মিটিংয়ে ভুয়া পরিচয় দিয়ে বড় ধরনের আর্থিক জালিয়াতি করা হচ্ছে। এ ধরনের প্রতারণা শুধু আর্থিক ক্ষতিই করছে না, বরং পারস্পরিক আস্থার জায়গাতেও বড় সংকট তৈরি করছে।

জালিয়াতির আরেকটি নতুন দিক হলো ‘সিনথেটিক আইডেন্টিটি’ বা কৃত্রিম পরিচয়। অপরাধীরা বিভিন্ন মানুষের চুরি করা তথ্যের খণ্ডিতাংশ ব্যবহার করে সম্পূর্ণ নতুন ও ভুয়া পরিচয় তৈরি করছে। এ কৃত্রিম পরিচয়গুলো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা বা প্রতিষ্ঠানের সিস্টেমে প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় ভেরিফিকেশন অনায়াসেই পার হয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, বড় প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী এবং আইটি কর্মকর্তাদের টার্গেট করে এ ধরনের হামলা চালানো হচ্ছে।

তথ্য বলছে, র‍্যানসমওয়্যার বা মুক্তিপণ আদায়ের কৌশলেও পরিবর্তন এসেছে। এখন অপরাধীরা কেবল তথ্য লক বা এনক্রিপ্ট করেই ক্ষান্ত হচ্ছে না, বরং তারা সংবেদনশীল তথ্য চুরি করে সেগুলো জনসমক্ষে প্রকাশের হুমকি দিচ্ছে। একে বলা হচ্ছে ‘ডাবল এক্সটরশন’ বা দ্বিমুখী চাঁদাবাজি। এতে প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুন্ন হওয়ার ভয় থাকায় অনেকেই মুক্তিপণ দিতে বাধ্য হচ্ছেন।

এ সংকট মোকাবেলায় বিশেষজ্ঞরা এখন ‘জিরো ট্রাস্ট’ বা ‘কাউকেই বিশ্বাস না করার’ নীতির ওপর জোর দিচ্ছেন। এর মানে হলো, প্রতিটি ব্যবহারকারী বা ডিভাইসকে বারবার যাচাই করা। এছাড়া এআই-চালিত ভিডিও বা অডিও শনাক্ত করার জন্য উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে। সাইবার হামলা থেকে বাঁচতে প্রতিষ্ঠানের কর্মীদেরও নিয়মিত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সচেতন করে তোলার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।