বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) খাতে বিনিয়োগের এক বিশাল উল্লম্ফন দেখা যাবে চলতি বছর। ব্যবসা ও প্রযুক্তিবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান গার্টনারের সাম্প্রতিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বিশ্বব্যাপী এআই খাতে মোট ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়াবে ২ দশমিক ৫২ ট্রিলিয়ন বা ২ লাখ ৫২ হাজার কোটি ডলারে। বিনিয়োগের এ সংখ্যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ৪৪ শতাংশ বেশি।
গার্টনারের বিশ্লেষক জন-ডেভিড লাভলক বলেন, ‘এআইয়ের প্রসার কেবল আর্থিক বিনিয়োগের ওপর নির্ভর করে না, বরং এটি অনেকাংশে প্রতিষ্ঠানের দক্ষ জনবল ও অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়ার প্রস্তুতির ওপর নির্ভরশীল।’
তিনি বলেন, ‘এআই প্রযুক্তি গ্রহণ বা ব্যবহারের বিষয়টি মৌলিকভাবে গড়ে ওঠে দক্ষ মানবসম্পদ ও সাংগঠনিক প্রক্রিয়ার সমন্বয়ে; এটি কেবল আর্থিক বিনিয়োগের বিষয় নয়।’
লাভলকের মতে, অনেক প্রতিষ্ঠান এখন এআই ব্যবহারে অভিজ্ঞ ও নিজেদের সক্ষমতা সম্পর্কে সচেতন। এসব কোম্পানি কাল্পনিক বা অনিশ্চিত সম্ভাবনার পেছনে না ছুটে, বাস্তবধর্মী ও পরীক্ষিত ফলাফলের দিকে বেশি নজর দিচ্ছে।
গার্টনারের এ বিশ্লেষক জানিয়েছেন, ২০২৬ সালে এআই নিয়ে মানুষের অতিরিক্ত প্রত্যাশা কিছুটা কমে আসবে। কোম্পানিগুলো এ সময় নতুন করে খুব বড় বা উচ্চাভিলাষী এআই প্রজেক্ট শুরু করতে চাইবে না। বরং আগে থেকে কাজ করা সফটওয়্যার বা প্রযুক্তি সরবরাহকারীর থেকে সহজ ও পরীক্ষিত এআই সুবিধা নিতে বেশি আগ্রহী হবে।
লাভলক বলেন, ‘২০২৬ সালজুড়ে যেহেতু এআই খাতের অতি-উচ্ছ্বাস কিছুটা স্তিমিত থাকবে, তাই বড় প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন কোনো ‘মুনশট’ বা ঝুঁকিপূর্ণ প্রজেক্টে বিনিয়োগ করবে না।’
তিনি আরো উল্লেখ করেন, এআই প্রযুক্তিকে বড় পরিসরে ছড়িয়ে দেয়ার আগে এর বিনিয়োগের বিপরীতে মুনাফা বা রিটার্ন পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া জরুরি।









