২০২৬ সালের প্রথম নয় মাসে (জানুয়ারি–সেপ্টেম্বর) ইউনাইটেড ফাইন্যান্স পিএলসির পরিচালন মুনাফা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৯ শতাংশ বেড়ে ৩১ কোটি ১৪ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে নিট মুনাফা ৫৬ শতাংশ বেড়ে ৬ কোটি ৬৩ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদের ২৫০তম সভায় তৃতীয় প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদন করা হয়।
এ সংক্রান্ত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে প্রতিষ্ঠানটির ঋণ, অগ্রিম ও বিনিয়োগ পোর্টফোলিও ১১ শতাংশ বেড়েছে। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর শেষে এর পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৫৪৭ কোটি টাকা। এই প্রবৃদ্ধির কেন্দ্রে ছিল টেকসই অর্থায়ন। ২০২৬ সালের প্রথম নয় মাসে প্রতিষ্ঠানটির ঋণ বিতরণের ৮৩ শতাংশ ছিল সবুজ ও টেকসই অর্থায়ন, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৭৫ শতাংশ। এই হার বাড়ার মধ্য দিয়ে পরিবেশবান্ধব ও সামাজিকভাবে অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যবসায় ঋণপ্রবাহ বাড়াতে ইউনাইটেড ফাইন্যান্সের অঙ্গীকার প্রতিফলিত হয়েছে। এই অঙ্গীকার বাংলাদেশ ব্যাংকের টেকসই অর্থায়ন নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
তহবিল সংগ্রহেও গ্রাহকদের আস্থার প্রতিফলন দেখা গেছে। প্রথম নয় মাসে গ্রাহক আমানত ৩১ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৭২৯ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। আমানতকারীরা এখন সঞ্চয় রাখার প্রতিষ্ঠান বেছে নিতে আগের চেয়ে বেশি সতর্ক, আর এমন সময়েই এই প্রবৃদ্ধি এসেছে। শক্তিশালী এই আমানত প্রবাহ প্রতিষ্ঠানটির তহবিলের ভিত্তি প্রসারিত করেছে এবং ঋণ দেওয়ার সক্ষমতা বাড়িয়েছে।
ব্যবসার পরিধি বাড়ায় আয়ও বেড়েছে। আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে পরিচালন মুনাফা ৩৯ শতাংশ বেড়ে ৩১ কোটি ১৪ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। নিট মুনাফা ৫৬ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৬ কোটি ৬৩ লাখ টাকা।
আর্থিক ফলাফল প্রসঙ্গে ইউনাইটেড ফাইন্যান্স পিএলসির ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবুল আহসান বলেন, “বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কম থাকা সত্ত্বেও ইউনাইটেড ফাইন্যান্স কুটির, মাইক্রো ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের অব্যাহতভাবে পাশে থেকেছে। জোরদার ডিউ ডিলিজেন্স ও সুশাসনের ফলে ঋণ কার্যক্রম বাড়ানোর পাশাপাশি আমাদের পোর্টফোলিওর মানও উন্নত হয়েছে। আমানতে ৩১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি আমাদের প্রতি গ্রাহকদের আস্থারই প্রতিফলন। আমরা এই অগ্রযাত্রা ধরে রাখতে চাই।”
প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ভিত্তিও শক্তিশালী রয়েছে। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর শেষে ইউনাইটেড ফাইন্যান্সের মূলধন পর্যাপ্ততার হার (সিএআর) ছিল ১৬ দশমিক ৩৬ শতাংশ, যা নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্ধারিত ১০ শতাংশের চেয়ে বেশি। প্রতিষ্ঠানটি রেগুলেটরি চাহিদার অতিরিক্ত প্রভিশন সংরক্ষণ অব্যাহত রেখেছে এবং প্রয়োজনের চেয়ে বেশি তারল্য বজায় রেখেছে। ফলে আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষিত রেখে যেকোনো সময় গ্রাহকদের চাহিদা মেটাতে প্রতিষ্ঠানটি সম্পূর্ণ প্রস্তুত।









