নাজিফা খান জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ, রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের ছাত্র ফারহান ফাইয়াজের খালা। তার বয়ানে ফুটে উঠেছে আন্দোলনে সন্তান হারানো নারীর উৎকণ্ঠা ও আর্তনাদ।

যেকোনো মানুষ মারা যাওয়ার পর সৃষ্টিকর্তা তাদের পরিবারের লোকজনকে ধৈর্যশক্তি দেন। দৈনন্দিন জীবনের কাজ আমরা করি। কিন্তু সন্তান হারানোর শোক কাটিয়ে কোনো কাজে সুখ বা আনন্দ আর আসবে না। এভাবে ফাইয়াজ মারা যাবে, দুঃস্বপ্নেও ভাবিনি। ১৭ বছরের বাচ্চা ফাইয়াজের জীবনকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন ছিল। সে ছিল মেধাবী ও বিনয়ী। রাজনৈতিক কোনো সম্পৃক্ততা তার ছিল না। পড়াশোনা নিয়েই ব্যস্ত থাকত। আন্দোলনে গিয়েছিল বন্ধুদের পাশে দাঁড়াতে। ১৬ জুলাই অনেক রাতে আন্দোলন থেকে বাসায় ফিরেছিল। ১৭ জুলাই বাসায় ছিল। ঘুমিয়েছে। ১৮ জুলাই সে আবার আন্দোলনে যায়। তখন কমপ্লিট শাটডাউন ছিল। তার বাবা-মা থাকেন বেইলি রোডে। সে বেইলি রোড থেকে ধানমন্ডি হেঁটে গিয়েছিল। সে সবসময় খুব পরিপাটি থাকত। সেদিনও সানগ্লাস পরে ব্যাগপ্যাক সঙ্গে নিয়ে বের হয়েছিল। ব্যাগে ফার্স্টএইডের কিছু জিনিসপত্র নিয়েছিল, যাতে কেউ নিজে বা অন্য কেউ আহত হলে কাজে লাগানো যায়। সে আর তার বন্ধুরা ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের একটা গ্রুপের সঙ্গে। সেদিন সকালে তারা লালমাটিয়ায় সবাই মিলে নাশতা করেছে। ওখানেই তারা শুনতে পায় পুলিশসহ ছাত্রলীগের ছেলেরা ট্রাক থেকে নামছে। হঠাৎ দেখে একটা দল তাদের ধাওয়া করা শুরু করেছে। ফাইয়াজ মারা যাওয়ার পর তার সঙ্গে থাকা একজনের থেকে শুনেছি, টিয়ার গ্যাসের শেলের কারণে কেউ ঠিকভাবে দেখতে পাচ্ছিল না। ফাইয়াজ যখন গুলিবিদ্ধ হয়, তখন সে টের পায়নি। সে দৌড়াচ্ছিল। ধানমন্ডি ২৭ থেকে মিনাবাজারের সংযোগ রোডে সে পড়ে যায়। সে যখন পড়ে যায় তখন তাকে ধরতে গিয়ে দেখে মুখ থেকে গল গল করে রক্ত পড়ছে। তাকে সিটি হাসপাতালে নেয়া হয়েছিল। কিন্তু তার দম পথেই বের হয়ে গিয়েছিল।

২০২৪-এর বাংলাদেশে এমন হতে পারে, আমরা চিন্তাও করতে পারি না। বেঁচে থাকলে জীবন চলবে কিন্তু আমাদের ভেতরটা খাঁ খাঁ করে। আমরা ভেতর থেকে সুখী হতে পারছি না। এ শোক চিরকাল থাকবে।