ড. সামিনা লুৎফা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে গঠিত গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। গবেষক, অ্যাক্টিভিস্ট ও নাট্য সংগঠক হিসেবেও তিনি সুপরিচিত। তার গবেষণায় প্রাধান্য পেয়েছে রাজনৈতিক আন্দোলন, পরিবেশগত ন্যায্যতা ও জেন্ডার। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নারীর ভূমিকা এবং বর্তমানে নারীদের অবস্থান প্রসঙ্গে কথা বলেছেন বণিক বার্তায়। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সাবরিনা স্বর্ণা

চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে আমরা নারীদের সরব উপস্থিতি দেখেছি। সামগ্রিকভাবে নারীদের অংশগ্রহণ নিয়ে জানতে চাই।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নারীরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। আমরা সামাজিক আন্দোলন গবেষণার বিভিন্ন সাহিত্য থেকে জানি, নারীদের অনেক সময়ই কৌশলগতভাবে ব্যবহার করা হয়। কারণ ধারণা করা হয় যে নারীরা সামনে থাকলে পুলিশি আক্রমণ হওয়ার সম্ভাবনা কম। কিংবা যদি আক্রমণ হয়ও সেক্ষেত্রে নারীদের ওপর হামলা হয়েছে, এটাকে সহমর্মিতা তৈরির কৌশল হিসেবে ব্যবহার করা যায়। জুলাই অভ্যুত্থানে নারীরা শুরু থেকেই কৌশলগত কারণে সামনে ছিলেন বলে ধারণা করার সুযোগ আছে। কিন্তু উত্তেজনার পারদ যত চড়েছে, ততই আমরা ধীরে ধীরে নারী শিক্ষার্থী, শিক্ষক, নারী অভিভাবকদের কিংবা জনতার মধ্য থেকে শ্রমজীবী থেকে শুরু করে উচ্চবিত্ত, মধ্যবিত্ত নারীদের নিজস্ব কর্তাসত্তা নিয়ে আবির্ভূত হতে দেখেছি। বিশেষ করে জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহ থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত দেখেছি নারীরা বিপুল সংখ্যায় কর্তাসত্তা ও নেতৃত্ব দিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে গেছে। এক্ষেত্রে গুরুতর আলোচ্য হওয়া উচিত, বাংলাদেশের মতো খুবই পিতৃতান্ত্রিক একটি দেশ এবং সমাজ, যেখানে নারীদের ঘর থেকে বের হতেও অনেক রকম বাধা-নিষেধ পার করে আসতে হয়, সেখানেও আপাদমস্তক বোরকা পরা দুজন নারীকে স্কুটি চালিয়ে আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে পানি বিলি করতে দেখা গেছে। আমাদের মতো শিক্ষকরা আন্দোলনে সামনে থাকে, এটা সচরাচর ঘটে। কিন্তু গৃহিণী বা অনেক বেশি পর্দার অন্তরালে থাকা বা ঘরের ভেতরে থাকা নারী, তারা নিজস্ব এজেন্সি নিয়ে বাইরে এসেছিলেন, এটা সচরাচর ঘটনা নয়। কারণ হিসেবে অবশ্যই বিগত সরকারের দমন, পীড়ন, নির্যাতন, মানুষ হত্যা এসবের দায় রয়েছে। যে পরিমাণ প্রতিস্পর্ধার সঙ্গে নারী শিক্ষার্থীরা জেলে আটককৃত ভাইদের ছাড়িয়ে এনেছিল, তখন তারা মোটেও ভাবেনি যাকে ছাড়িয়ে আনা হচ্ছে তারা কে? তারা আমার ভাই নাকি ভাই না? তাকে চিনি কিনা? তার রাজনীতি, মতাদর্শ আমার মতো কিনা? নারী শিক্ষক, অভিভাবক বা শিক্ষার্থী কেউই ভাবেননি। নারী-পুরুষ, জাতিসত্তা, ধর্ম-বর্ণ, সমতল-পাহাড় নির্বিশেষে মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছিল, কারণ তাদের মনে হয়েছিল যে বাংলাদেশের লক্ষ্যে নতুন প্রজন্ম এগিয়ে যাচ্ছে, সে বাংলাদেশ সবার হবে।

কিন্তু আন্দোলনে যেসব নারী সরব ছিলেন, পরবর্তী সময়ে তাদের আমরা হারিয়ে যেতে দেখেছি। এমন অনেক অভিযোগও উঠেছে।

অভিযোগ উঠেছে তা নয়, ঘটনাটি ঘটেছে। এ ঘটনার যদি নারীবাদী বিশ্লেষণ করি, তাহলে দুটো বিষয় আমার চোখে পড়ে—বাংলাদেশের যেসব নারী শ্রমবাজারের অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন, তারা প্রবল পিতৃতান্ত্রিক সামাজিক অবস্থানের কারণে আসলে দুটো চাকরি করেন। একটা ঘরের বাইরের চাকরি, যেখানে ক্যারিয়ার, ভবিষ্যৎ, অর্থ, প্রমোশন এসব আছে এবং আর ১০টা চাকরিজীবীর মতো চাকরি। কিন্তু একজন পুরুষ চাকরিজীবীর যে দ্বিতীয় জীবনটা নেই তা নারীর আছে। নারীর দ্বিতীয় জীবন হচ্ছে তার সন্তান লালন-পালন ও গৃহস্থালির কাজ। এর সঙ্গে যদি নারী অ্যাক্টিভিজমের জীবন বা রাজনীতির জীবনকে নিতে চান, এটি হবে তৃতীয় কাজ। এমন প্রেক্ষাপটে নারীর আগ্রহী না হওয়া স্বাভাবিক। তবে সে তৃতীয় কাজ হিসেবে এটা নিতে পারে, যদি বোঝে যে এতে তার মর্যাদা বাড়বে কিংবা তার অর্থপ্রাপ্তি অথবা ক্ষমতায়ন হতে পারে। যদিও ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে আমরা যে ধরনের রাজনীতি দেখছি, সে রাজনীতিও এখনো ক্ষমতার জন্যই চলছে। কিন্তু এ রাজনীতির একটা বড় অংশ হওয়া প্রয়োজন মর্যাদার রাজনীতি। এদিকে বিগত সরকার পতন-পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন জনপরিসর তৈরি হয়েছিল। মানুষ বিভিন্ন জায়গায় নিজস্ব আকাঙ্ক্ষা বলেছে। সেখানেও আমরা নারীর সংখ্যা কম দেখেছি।

আবার কোনো নারী যদি রাজনীতিতে আগ্রহী হন, সে প্রথমে দেখবে রাজনীতির মঞ্চে জায়গা আছে কিনা? একজন নারী যখন রাজনীতিতে নামেন তখন তিনি আরো ‘নেমে’ যান। কারণ জনতা তাকে দেখে, তাকে ‘স্টিগমাটাইজড’ করে খারাপ মহিলা হিসেবে, মুখরা রমণী হিসেবে। কারণ একটা জেন্ডার কনস্ট্রাকশন আছে যে নারীকে একটা বিশেষ রকমের হতে হবে। তাকে গৃহস্থালি কাজ করতে হবে, তাকে বাইরেও কাজ করতে হবে। তাকে মূলত একটা ভালো সন্তান উৎপাদন করতে হবে এবং সে সন্তানকে অনেক সফলভাবে বড় করে তুলতে হবে। সেসব না করে সে যদি বাইরে গিয়ে বেশি কথা বলতে থাকে, তাহলে তো বিপদ, তাদের পুরুষ সঙ্গীদের জন্য, পিতৃতান্ত্রিক সমাজের জন্যও।

যে কর্তাসত্তা নিয়ে জুলাইয়ের শেষ দুই সপ্তাহ প্রবলভাবে নারীরা নেতৃত্বের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিল তার আরেকটা মাজেজা আছে। একবার যখন কেউ নেতৃত্ব ও মর্যাদা পেয়ে যান, একবার যখন বুঝে যায় কীভাবে দাবি আদায় করতে হয় বা স্বাধীনতা কী, তাকে ঘরে ফেরত পাঠানো কঠিন। এটা অর্থনৈতিকভাবে সম্ভব না, রাজনৈতিকভাবেও সম্ভব না। তখন তাকে আটকে রাখার উপায় হলো ‘স্লাট শেমিং’ করা। এ কারণেও নারীদের রাজনীতির প্রতিনিধিত্বশীল স্থানে কম দেখা যায়।

এদিক থেকে বলা যায়, ৫ আগস্টের পর প্রথম শহীদ হলেন নারী অ্যাক্টিভিস্টরা। যাদের বাঘিনী বলে রিলস বানানো হয়েছে, তারা সাইবার বুলিংয়ের শিকার হলেন। শিক্ষক থেকে শুরু করে সাংস্কৃতিক কর্মী সবাইকে টার্গেট করে স্লাট শেমিং করা হয়েছে। প্রশ্ন উঠতে পারে, কেন? এর কারণ হতে পারে কর্তাসত্তা নিয়ে নারীরা রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করবে সেটা কোনো কোনো রাজনৈতিক পক্ষের জন্য বিপজ্জনক ও হুমকিস্বরূপ। তারা হয়তো চাচ্ছে নারীদের ভয় দেখিয়ে ঘরের ভেতর রাখতে।

নারীরা কীভাবে এ পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে পারে?

নারীরা কথা বলুক বা চুপ থাকুক, মুখরা রমণী হোক বা না হোক, শেমিং যেহেতু তাকে নিতেই হবে, সেজন্য আমার মনে হয় লড়াই করে শেমিং নেয়া ভালো। তবে পথটা সহজ হবে না। কিন্তু নারীরা কঠিন কাজ করার জন্য জগদ্বিখ্যাত। নারীকে তার রাজনৈতিক সত্তা অন্বেষণ করতে হবে, তাকে রাজনৈতিক হয়ে উঠতে হবে। কারণ সে আসলে রাজনৈতিক প্রাণী। তাই সে যত বেশি কথা বলবে, যত বেশি উপস্থিত থাকবে, জনপরিসরে দৃশ্যমান থাকবে, তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ গুরুত্বপূর্ণ হবে। রাজনীতিতে নারীদের বিপুল সংখ্যায় আসা উচিত। এ অভ্যুত্থানে বিপুলসংখ্যক নারী নেতৃত্ব দিয়েছেন। এ গণ-আন্দোলনটা সারা দেশে ছড়িয়ে গেলেও এর একটি স্থানিক বৈশিষ্ট্য রয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে আন্দোলনটা ঘনীভূত হয়েছিল। এর অর্থ হলো আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের বড় একটি অংশ শিক্ষিত। এ শিক্ষিত নারীরা সচেতনভাবে রাজনীতি করবেন, এটা চাই। তারা যত সামনে থাকবেন, বাংলাদেশের রাজনীতির সংস্কৃতি তত পরিবর্তন হবে। এক্ষেত্রে মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলোর ‍ভূমিকা রাখা প্রয়োজন। যেমন একজন নারী বিপুলসংখ্যক পুরুষের মাঝে ধাক্কাধাক্কি করে মঞ্চে আসতে আগ্রহী না হতে পারে। কারণ এ দৃশ্য গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেখা যাবে নারী ও তার পরিবারের ওপর সামাজিক অভিঘাত এসে পড়বে। এটি রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণকে বাধাগ্রস্ত করবে। নারীকে পিছিয়ে রেখে, কেবল সংখ্যা হিসেবে যদি রাজনীতিতে আনা হয় তাহলে কোনো মৌলিক পরিবর্তন হবে না।

রাজনীতিতে মৌলিক পরিবর্তন আনতে হলে দরদ প্রয়োজন। নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত যারা করছেন, তারাও এ কথা বলছেন। প্রশ্ন হলো, দরদ তৈরি হবে কীভাবে? নারীদের মধ্যে এক ধরনের সিস্টারহুড (যূথবদ্ধতা) আছে। তারা খুব বেশি প্রতিযোগিতা প্রবণ হয়ে একা একা এগিয়ে যেতে চান না। তাদের মধ্যে সহানুভূতি আছে, তারা অনেককে নিয়ে এগোতে চান। তাই যারা নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত করছেন, তাদের এটি বিবেচনায় রাখতে হবে। আশা করি তারা এগুলো বিবেচনায় রাখবেন। একই সঙ্গে এটিও মনে রাখা প্রয়োজন, বাংলাদেশের বেশির ভাগ ভোটার এখন নারী। ফলে নারীর বিরুদ্ধে যায়, এমন কোনো ইশতেহার দেয়া দলকে নারীরা ভোট দেবে না।

নারীদের রাজনৈতিক পথ সুগম করতে সরকার কী ধরনের দায়িত্ব পালন করতে পারে?

অন্তর্বর্তী সরকারের সাত মাস অতিবাহিত হয়েছে। কিন্তু তারা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হলে যেকোনো নাগরিকই অনিরাপদ। কিন্তু এমন পরিস্থিতিতে নারীরা আরো বেশি অনিরাপদ। নারীরা এখন আরো বেশি আতঙ্কিত। তাই প্রথম কাজ হলো আইন-শৃঙ্খলার পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটানো। নারীকে নিরাপদ সমাজ দিতে হলে সমাজটাকে নিরাপদ করতে হবে। সেই সঙ্গে নারীর ওপর নিপীড়নের ঘটনাগুলো তাৎক্ষণিকভাবে সামাল দিতে হবে। আমরা দেখেছি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেয়া ১০ জন নারী শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মব তৈরি হলো এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সাংবাদিক সবাই মিলে তাদের বহিষ্কার করে দিলেন। তাদের চরম ক্ষতি করলেন, যা খুবই নিন্দনীয়। অভ্যুত্থান-পরবর্তী প্রশাসন থেকে আমরা এমনটা আশা করিনি। আবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে নতুন রাজনৈতিক দলের মধ্যে হানাহানির পরিস্থিতি তৈরি হলো। হামলা রাজনৈতিক কারণে হতে পারে, কিন্তু নারীর ওপর হামলা যৌন নিপীড়ন। সেটি নিয়েও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বা সরকার কোনো কথা বলেনি। তাহলে আমরা সে পুরনো রাজনীতিতে ফিরে গেলাম, যেখানে নারী নিপীড়ন নিয়ে কোনো কথা হবে না। কারণ এটি তাদের দলের ব্যক্তিরা করেছেন। এগুলো থামানো প্রয়োজন। এসব ক্ষেত্রে প্রশাসন ও সরকারের অনেক দায়িত্ব আছে, যেগুলো তারা পালন করছে না।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সর্বস্তরের মানুষ আহত হয়েছেন। তবে যেকোনো অনিরাপদ পরিস্থিতি যেমন নারীর জন্য বেশি অনিরাপদ, তেমনি নারীদের পুনর্বাসনের বিষয়টিও কিছুটা ভিন্ন। এ পরিপ্রেক্ষিতে জানতে চাই নারীদের পুনর্বাসনের সার্বিক চিত্র কেমন দেখছেন?

পুনর্বাসনের চিত্র খুবই হতাশাজনক। আহত যোদ্ধাদের ট্রিটমেন্ট পেতে, নিহতের পরিবারদের তাদের অধিকার আদায়ে আন্দোলন করতে হচ্ছে। আরো বিচিত্র ঘটনাও ঘটছে। যেমন একজন মৃতের স্ত্রী সহায়তা হিসেবে বরাদ্দকৃত টাকা নিতে ‍গিয়ে দেখছেন যে স্বামীর বাবা তাদের বিবাহ বিচ্ছেদের দাবি তুলেছেন এবং সে দাবির পক্ষে জাল কাগজপত্র জমা দিয়েছেন। তার ভাষ্য, যেহেতু ছেলে মারা যাওয়ার আগে ছেলের বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটেছে, বরাদ্দকৃত টাকা তাই সে স্ত্রী পেতে পারেন না। তিনি নিজেই নেবেন। এদিকে ভদ্রমহিলা বলেছেন যে তার সম্পূর্ণ অর্থের প্রয়োজন নেই। একটা কিস্তি অন্তত তাকে দেয়া হোক। এ পুরো ঘটনায় নারীটি বঞ্চনার শিকার হলেন কেবল তিনি নারী বলে। নিশ্চিতভাবে বলতে পারি, এক্ষেত্রে শহীদ জুলাই যোদ্ধা নারী হলে তার স্বামীর সঙ্গে শ্বশুর এমন করতেন না। এভাবে পিতৃতন্ত্র আমাদের ওপর নানা কিছু চাপিয়ে দেয়।

পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও আলোচনায় নেই। আন্দোলনে আহত নারীরা নানাভাবে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগসহ বিগত সরকারের নানা অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীর হাতে যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। অথচ জনপরিসরের আলাপে সে কথা উহ্য থাকছে। সবচেয়ে মারাত্মক বিষয় হলো, তাদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সেভাবে কেউ ভাবছে না। যৌন নিপীড়নের বিষয়টি আমাদের সমাজে এমনভাবে স্টিগমাটাইজড করা যে নারী নিজেও এ নিয়ে কথা বলতে চান না এবং এভাবে সে আরো জটিল পরিস্থিতির দিকে যায়। তারা পিটিএসডিতে (পোস্ট ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিজঅর্ডার) ভুগতে থাকেন। আমার বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারী নারীর সঙ্গে কথা হয়েছে যাদের দ্রুত মানসিক স্বাস্থ্যসেবা প্রয়োজন। যেহেতু যৌন নিপীড়নের আলাপ জনপরিসরে নেই, তাই এ নিয়ে কোনো কাজও হচ্ছে না।