‘জন্ম সৃষ্টির লক্ষ্যে’—এ বিজ্ঞাপনী ভাষাকে বাস্তবে রূপ দিয়েছে শাহ্ সিমেন্ট। অর্জন, সক্ষমতা আর গ্রাহকের গভীর আস্থায় নতুন মানদণ্ড তৈরি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। দেশের অবকাঠামোগত অগ্রযাত্রায় বড় ভূমিকা রাখার পাশাপাশি শাহ্ সিমেন্ট স্থাপন করেছে বিশ্বের সর্ববৃহৎ ভার্টিক্যাল রোলার মিল (ভিআরএম)। যার স্বীকৃতি হিসেবে নাম লিখিয়েছে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে।

আবুল খায়ের গ্রুপের প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক দর্শনেই লুকিয়ে থাকে নিজ নিজ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ মানদণ্ড তৈরি করার তাগিদ। তাদের এ সেরা হওয়ার আকাঙ্ক্ষা কেবল দেশের ভৌগোলিক সীমানায় আবদ্ধ থাকেনি। মানচিত্রের গণ্ডি পেরিয়ে ‘বিশ্বসেরা কেন নয়?’—প্রশ্নটিরই উত্তর হিসেবে মুন্সিগঞ্জে শাহ্ সিমেন্টের কারখানায় মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে রয়েছে সুউচ্চ ভিআরএমটি। যেন দেশের সীমানা ছাপিয়ে বৈশ্বিক দরবারে দাঁড়িয়ে থাকা এক জ্বলজ্বলে মেগা স্ট্রাকচার।

বিশাল এ ভিআরএম বাস্তবায়নে শাহ্ সিমেন্ট যুক্ত করে ডেনমার্কের বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এফএলস্মিথকে। ২০১৯ সালে পূর্ণ উৎপাদনে আসার পরই গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম লেখায় মিলটি। দিনে ১৫ হাজার আর বছরে প্রায় ৬০ লাখ টন সিমেন্ট উৎপাদনে সক্ষম এ মেগা স্ট্রাকচার। বাংলাদেশের অব্যাহত অবকাঠামোগত উন্নয়নের মহাযজ্ঞে বিশ্বের সেরা প্রযুক্তি আর বিপুল উৎপাদন সক্ষমতা নিয়ে সরাসরি শামিল হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

হাল-আমলে সবচেয়ে আলোচিত ‘এআই প্রযুক্তি’কে শাহ্‌ সিমেন্ট নিজেদের কারখানায় যুক্ত করেছে আরো ছয় বছর আগে। তাদের ভিআরএম প্রযুক্তিতে থাকা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা উৎপাদন প্রক্রিয়ার জটিল যান্ত্রিক সমস্যাগুলো ‘বিল্ট-ইন-টুল’-এর মাধ্যমে নিজেই সমাধান করে। সঙ্গে থাকা ‘ইন্টেলিজেন্ট মনিটরিং কন্ট্রোল সিস্টেম’ নিরবচ্ছিন্নভাবে উন্নত মানের সিমেন্ট উৎপাদন নিশ্চিত করে। সিমেন্ট শিল্পে একই সঙ্গে এত বৃহৎ ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় পৃথিবীতে এটাই প্রথম।

a2

অবকাঠামোগত উন্নয়নে বাংলাদেশ আকাশ ছুঁতে চাইছে। একদিকে পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মতো মেগা প্রজেক্ট যেমন হচ্ছে; পাশাপাশি নির্মিত হচ্ছে ৪০ তলা গগনচুম্বী ভবন। এসব অবকাঠামো নির্মাণে প্রয়োজন আরো উন্নত মান ও বেশি শক্তির (পিএসআই) সিমেন্ট। এ চাহিদাকে নিরবচ্ছিন্ন জোগান দিয়ে যাওয়ার তাগিদ থেকেই তৈরি বিশ্বের সবচেয়ে বড় ও আধুনিক ভিআরএম।

শাহ্‌ সিমেন্ট ব্যক্তিগত বাড়ি নির্মাতাদেরও প্রথম পছন্দ। মেগা প্রজেক্টগুলোয়ই শুধু নয়, সারা দেশের সবচেয়ে বেশি বাড়ি নির্মিত শাহ্‌ সিমেন্টে। একটি এক চিলতে বাড়িও সে বাড়ির নির্মাতার নিজস্ব ‘মেগা প্রজেক্ট’। এ আবেগের মূল্য শাহ্‌ সিমেন্ট বোঝে।

শাহ্ সিমেন্টের আধুনিক ভিআরএমে থাকা ‘মাল্টি কম্পার্টমেন্ট সাইলো’ প্রযুক্তি প্রতিটি প্রকল্পের সুনির্দিষ্ট চাহিদা অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন কম্পোজিশনের সিমেন্ট তৈরি করতে পারে। যে সিমেন্ট এত বড় প্রজেক্টে ব্যবহার করা হয়, স্বাভাবিকভাবেই তা বাড়ি নির্মাণে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে তৈরি করে আস্থা। ২০০৩ সাল থেকে দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে বুয়েট টেস্টে শাহ্ সিমেন্টের ধারাবাহিক সাফল্য গ্রাহককে সে আস্থাকে প্রতিনিয়ত সুদৃঢ় করে আসছে।

তাই ছয় কিলোমিটারেরও বেশি দৈর্ঘ্যের পদ্মা সেতু, প্রায় ২০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এক্সপ্রেসওয়ে, ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াটের রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, মেঘ ছোঁয়া দূরত্বে উঠে যাওয়া স্কাইস্ক্র্যাপার কিংবা এক চিলতে দোতলা বাড়ি—আক্ষরিক অর্থেই প্রতিটি কণায় মিশে থাকে শাহ্‌ সিমেন্ট। এ সংযোগের গভীরে লুকিয়ে থাকে আবেগ, থাকে আগামীর আকাঙ্ক্ষা আর স্বপ্ন।

চড়াই-উতরাই পেরিয়ে বিশ্বমঞ্চে অনন্য উদাহরণের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। জয়ী বাংলাদেশের সে স্বপ্নযাত্রার বিশ্বস্ত সারথি হয়ে কাজ করে যাচ্ছে শাহ্ সিমেন্ট।

a3