ইস্ট কোস্ট গ্রুপের সিঙ্গাপুরে নিবন্ধিত এ সহযোগী প্রতিষ্ঠানটি ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ২ মিলিয়ন (২০ লাখ) টনেরও বেশি পেট্রোলিয়াম পণ্য, বিশেষ করে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সরবরাহ করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক অনুমোদিত এবং সিঙ্গাপুরের ব্যাংকিং সুবিধার আওতায় এমজেএল (এস) কার্যক্রম পরিচালনা করছে। প্রতিষ্ঠানটি শোধনাগার ও মূল সরবরাহকারীদের কাছ থেকে সরাসরি জ্বালানি সংগ্রহ করে মূল্য সংযোজন করছে। এতে মধ্যস্বত্বভোগীদের ভূমিকা বাদ দেয়ায় খরচ কমার পাশাপাশি সময় অপচয় রোধ ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত হচ্ছে।
সিঙ্গাপুরের বিশাল বাণিজ্য ব্যবস্থার সুবিধা ব্যবহারের কারণে কেনাকাটার মান উন্নত হয়েছে, চুক্তি বাস্তবায়নের মেয়াদকাল কমে এসেছে এবং সময়মতো জ্বালানি পৌঁছে দেয়া সম্ভব হচ্ছে। এতে বিদ্যুৎ কেন্দ্র, পরিবহন খাতসহ বিভিন্ন কারখানায় জ্বালানি সংকটের ঝুঁকি কমেছে। সিঙ্গাপুরের একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে লেনদেন ও লেটার অব ক্রেডিট (এলসি) পরিচালনা করায় বৈদেশিক মুদ্রার ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হচ্ছে, যা নগদ অর্থের প্রবাহকে আরো নিশ্চিত ও সহজ করছে। এছাড়া সিঙ্গাপুরের কঠোর মাননিয়ন্ত্রণ ও পরীক্ষা পদ্ধতি অনুসরণের ফলে অপরিশোধিত পণ্য বাতিল বা মানহীন হওয়ার হার অনেক কমেছে, যা স্থানীয় পর্যায়ের কার্যক্রমকে নির্বিঘ্ন রাখছে।
এ উন্নয়নগুলোর প্রভাব কেবল কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ নয়। বাজারে পণ্যের স্থিতিশীল সরবরাহ এবং কম আমদানি খরচের কারণে সাধারণ যাত্রী, কৃষক ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য জ্বালানির দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখা সহজ হচ্ছে।
একই সঙ্গে এমজেএল (এস) একটি দক্ষতা উন্নয়ন কেন্দ্র হিসেবেও কাজ করছে। সিঙ্গাপুরে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ব্যবসায়ী (ট্রেডার), লজিস্টিক বিশেষজ্ঞ এবং ঝুঁকি বিশ্লেষকরা তাদের অভিজ্ঞতা, আধুনিক কর্মপদ্ধতি ও কৌশল বাংলাদেশের দলগুলোর কাছে তুলে ধরছেন। এতে পণ্যের মজুদ ব্যবস্থাপনা, দ্রুত কেনাকাটা এবং নিয়মানুবর্তিতার সংস্কৃতির উন্নত হচ্ছে। এ জ্ঞান বিনিময়ের ফলে দেশে দক্ষ কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের সঙ্গে সরাসরি কাজ করার সক্ষমতা বাড়ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে বিদেশী মধ্যস্বত্বভোগীদের ওপর নির্ভরতা কমাবে।
আজম জে চৌধুরী: চেয়ারম্যান, ইস্ট কোস্ট গ্রুপ













