১৯৭২ সালে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের পর থেকে বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের বন্ধুত্ব ক্রমেই বহুমাত্রিক রূপ নিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সাল শেষে প্রত্যক্ষ বিদেশী বিনিয়োগ স্থিতির (এফডিআই স্টক) দিক থেকে যুক্তরাজ্যের পরই সিঙ্গাপুর দ্বিতীয় শীর্ষ উৎস দেশ এবং বে টার্মিনাল প্রকল্পে সিঙ্গাপুরের বাণিজ্য প্রতিনিধি দল প্রায় ৮০০ মিলিয়ন থেকে ১ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। সিঙ্গাপুরে কর্মরত লক্ষাধিক বাংলাদেশী পেশাজীবী ও শ্রমিকের পাঠানো রেমিট্যান্স বাংলাদেশের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে, যা এ সম্পর্কের মানবিক দিকটিকেও সুদৃঢ় করে তুলেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছরে সিঙ্গাপুর থেকে সম্পূর্ণ বছরে যেখানে প্রায় ৪২৩ মিলিয়ন ডলার এসেছিল, ২০২৩-২৪ অর্থবছরের ১০ মাসেই তা ছাড়িয়ে যায় (প্রায় ৪৮৪ মিলিয়ন ডলার), যা এ প্রবৃদ্ধির ধারা স্পষ্ট করে।

বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পাশাপাশি ডিজিটাল গভর্ন্যান্স, তথ্যপ্রযুক্তি খাতে সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং উচ্চশিক্ষায় সিঙ্গাপুরের সহযোগিতা বাংলাদেশের উন্নয়ন যাত্রায় মূল্যবান জ্ঞান স্থানান্তরের সুযোগ তৈরি করেছে। একই সঙ্গে নিয়মিত উচ্চপর্যায়ের বিনিময়ের মাধ্যমে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কও ক্রমাগত গভীর হচ্ছে।

ন্যাশনাল ব্যাংক পিএলসি. সিঙ্গাপুরে পরিচালিত নিজস্ব এক্সচেঞ্জ হাউজ, এনবিএল মানি ট্রান্সফার পিটিই লিমিটেডের মাধ্যমে (২০০৭ সাল থেকে এমএএস-নিয়ন্ত্রিত) প্রবাসী বাংলাদেশীদের নিরাপদ, দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য রেমিট্যান্স সেবা প্রদান করে আসছে এবং দুই দেশের আর্থিক সংযোগকে আরো শক্তিশালী করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

এ বিশেষ দিনে সিঙ্গাপুরের অব্যাহত শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে, দুই দেশের সুদৃঢ় বন্ধুত্ব আগামী দিনগুলোতে আরো ফলপ্রসূ হোক-এ শুভকামনা জানিয়ে শেষ করছি।

ড. মেলিতা মেহজাবিন: অধ্যাপক, আইবিএ

চেয়ারম্যান, ন্যাশনাল ব্যাংক পিএলসি