সিঙ্গাপুরে আমরা যারা প্রবাসী আছি, সিঙ্গাপুরে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছি, আমরা সিঙ্গাপুর সরকারের কাছে চিরকৃতজ্ঞ। কারণ প্রবাসীদের যেভাবে সিঙ্গাপুর সরকার যত্ন নেয়, তা সত্যিই অতুলনীয়। এজন্য তাদের এ জাতীয় দিবসে ৬১তম জন্মদিনে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।
আমি ৩১ বছর ধরে সিঙ্গাপুরে আছি। ১৯৯৫ সালে যখন এ দেশে আসি, তখন সিঙ্গাপুর আজকের মতো ছিল না। আজকে আপনারা মেরিনা বে স্যান্ডস বা তার পাশের যে বড় বড় টাওয়ার দেখছেন, আমরা যখন আসি তখন এগুলো সব পানি ছিল। আমাদের চোখের সামনে তারা ভূমি পুনরুদ্ধার করে এ আধুনিক শহর গড়েছে। সিঙ্গাপুরের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তাদের সুশাসন ও নিরাপত্তা। এটি এখন বিশ্বের অন্যতম নিরাপদ দেশ। মানুষের যখন সামর্থ্য হয়, তখন সে একটি নিরাপদ জায়গা খোঁজে। সিঙ্গাপুর হলো সেই জায়গা, যেখানে আপনি ব্যবসা-বাণিজ্য যা-ই করেন, আপনাকে নিয়মের মধ্যে চলতে হবে। এ সুশৃঙ্খল পরিবেশের কারণেই এটি আজ একটি বৈশ্বিক বাণিজ্য কেন্দ্র।
আমরা গর্ব করে বলি যে সিঙ্গাপুরের এ আধুনিকায়নে আমাদের বাংলাদেশী ভাইদের হাতের ছোঁয়া আছে। ৫৮ তলা, ৬০ তলা থেকে শুরু করে ৮০ তলার যে ভবনগুলো রয়েছে, সবগুলোতেই আমাদের রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের অবদান ছিল। বাংলাদেশী কর্মীরা অত্যন্ত অনুগত এবং কঠোর পরিশ্রমী। তাই সিঙ্গাপুরিয়ান মালিকদের প্রথম পছন্দ হলো আমাদের দেশের মানুষ। আগে যেখানে মাত্র কয়েকটি বাংলাদেশী প্রতিষ্ঠান ছিল, আজ সেখানে ২৫০টির বেশি প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে।
আমরা যারা বেসরকারি খাতে আছি, আমাদের মূল লক্ষ্য হলো বাংলাদেশের সঙ্গে সিঙ্গাপুরের একটি মজবুত সম্পর্কের সেতুবন্ধ তৈরি করে দেয়া। বণিক বার্তাকেও আমি বিশেষ ধন্যবাদ জানাই, কারণ আপনারা প্রবাসীদের কথা চিন্তা করেন এবং আমাদের রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের সম্মানিত করেন। সিঙ্গাপুরের জাতীয় দিবস উপলক্ষে বণিক বার্তার এ আয়োজনের জন্য জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ।
মো. সাহিদুজ্জামান টরিক: সভাপতি, বাংলাদেশ বিজনেস চেম্বার অব সিঙ্গাপুর (বিডিচ্যাম)













