ফলে আমাদের রোগীর সংখ্যা বেড়ে চলেছে। ক্যান্সার, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিসসহ বেশকিছু রোগ আছে, এগুলোকে একবারে প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা গেলে বিদেশে না গিয়ে অনেক কম খরচে ঘরের কাছেই চিকিৎসা করা সম্ভব। আমাদের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা প্রতিকারমূলক হওয়ায় যখন রোগ শনাক্ত হয় এটা ভয়াবহ পর্যায়ে চলে যায়, রোগী মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে থাকে। এতে খরচ অনেক বাড়ে, সরকারের ব্যয় বাড়ে। এ কারণে আমরা বলি ক্যাটাস্ট্রফিক হেলথ এক্সপেন্ডিচার (বিপর্যয় সামলানো স্বাস্থ্য ব্যয়)। ফলে ৪০-৫০ লাখ পরিবার দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যায় এবং সেটা কাটিয়ে উঠতে পারে না।
বর্তমান সরকারপ্রধান তারেক রহমান বারবার বলছেন, আমাদের স্বাস্থ্যসেবাকে প্রিভেন্টিভ ও প্রমোটিভ করতে হবে। আমাদের স্বাস্থ্যসেবাকে মানুষের দোরগোড়ায় নিয়ে যেতে হবে। এজন্য তিনি এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের কথা বলেছেন। যারা বাংলাদেশের বিভিন্ন গ্রামাঞ্চল ও শহরাঞ্চলে মানুষের ঘরে ঘরে স্বাস্থ্যসেবাকে পৌঁছে দেবে।
বিএনপি সরকার চায় প্রিভেনশনের (প্রতিরোধের) মাধ্যমে রোগীর স্রোত কমাতে। আমরা রোগকে ঠেকাই এবং দেশকে বাঁচাই। আমাদের স্বাস্থ্য খাতে বছরের পর বছর ধরে চলা অব্যবস্থাপনায় নাগরিকদের সঙ্গে স্বাস্থ্য খাতের একটা দূরত্ব তৈরি হয়েছে। একটা অবিশ্বাসের সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবার মানে সমস্যার কারণে আমাদের দেশ থেকে প্রতি বছর উল্লেখযোগ্যসংখ্যক দেশের বাইরে চিকিৎসা নিতে যায়। ফলে বছরে প্রায় ৮-৯ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা হারাচ্ছি।
আমরা পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) মাধ্যমে হাসপাতালগুলোর সেবার মান উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের ভেতরেই বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে পারি। ভালো চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা গেলে স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় জনগণের আস্থা ফিরে আসবে এবং বিদেশ গমন কমবে। আমরা যদি আগামী পাঁচ বছরে বিদেশের বাজারে স্বাস্থ্য ব্যয় ৯ বিলিয়ন ডলার থেকে কমিয়ে ৫ বিলিয়নেও নিয়ে আসতে পারি এটা হবে স্বাস্থ্য খাতের একটা বড় সাফল্য।










