আর এ লক্ষ্য অর্জনে সরকার নানা কার্যক্রম বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নিয়েছে। এর মধ্যে স্বাস্থ্য খাতে জিডিপি বরাদ্দ বাড়ানো, এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ, ই-হেলথ কার্ড প্রদান, বিনামূল্যে মানসম্মত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, প্রতিটি জেলায় আধুনিক সেকেন্ডারি স্বাস্থ্যসেবা ইউনিট প্রতিষ্ঠার মতো পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া রোগ প্রতিরোধ ও স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়ানো, মা ও শিশুর পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত, প্রাণঘাতী রোগের চিকিৎসায় পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ প্রতিষ্ঠা, সমন্বিত আধুনিক পুষ্টি কর্মসূচি বাস্তবায়ন, তামাক ব্যবহারজনিত অসংক্রামক রোগ কমিয়ে আনা, ওষুধ ও ভ্যাকসিন সরবরাহ নেটওয়ার্ক বাড়ানো, মশাবাহিত রোগ নির্মূল, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক জাতীয় ই-প্রেসক্রিপশন প্রদানের পরিকল্পনাও রয়েছে। স্বাস্থ্য খাতের বিশৃঙ্খলা দূর করার পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর্মীদের উপযুক্ত মর্যাদা নিশ্চিত করার জন্যও সরকার কাজ করবে। এক্ষেত্রে স্বাস্থ্য খাতের সার্বিক উন্নয়ন ও নিরাপত্তা বাড়ানোর বিষয়ে জোর দেয়া হবে।
দেশের স্বাস্থ্য খাতে দীর্ঘদিনের অবহেলা, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ এবং জবাবদিহিতার ঘাটতিতে আশানুরূপ অগ্রগতি অর্জিত হয়নি। অবশ্য টিকাদান কর্মসূচির প্রসার, মাতৃ ও শিশুমৃত্যু হ্রাস, সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ, গড় আয়ু বৃদ্ধি, পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি গ্রহণের হার বৃদ্ধি এবং কমিউনিটিভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবার কিছুটা বিস্তার হয়েছে। কিন্তু পাল্লা দিয়ে জলবায়ু পরিবর্তন, নবঃআবির্ভূত ও পুনঃআবির্ভূত সংক্রামক রোগ, অসংক্রামক রোগের ক্রমবর্ধমান চাপ, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স, প্রাণী বাহিত রোগসহ নতুন নতুন স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। এসব নতুন সমস্যা মোকাবেলায় অনেক চ্যালেঞ্জ এখনো রয়ে গেছে। সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য ব্যয়ের ৭২ শতাংশ এখনো সরাসরি পকেট থেকে বহন করতে হয়। দেশে অসুস্থতা এখনো দারিদ্র্যের অন্যতম প্রধান কারন। এসব স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবেলায় আমাদের আরো বেশি গবেষণা, উদ্ভাবন ও জ্ঞনভিত্তিক নীতি নিতে হবে।
স্বাস্থ্য খাতে প্রযুক্তির ব্যবহার, তথ্যনির্ভর সিদ্ধান্ত এবং আন্তঃখাত সহযোগিতা জোরদার করতে পারলে আমরা একটি শক্তিশালী ও সহনশীল স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ও কাঠামো গড়ে তুলতে পারি। এ লক্ষ্যে চিকিৎসক, গবেষক, পরিবেশবিদ, কৃষি ও প্রাণিসম্পদ বিশেষজ্ঞদের সমন্বিতভাবে কাজ করে যেতে হবে। যারা এখন মাঠ পর্যায়ে কর্মরত কিংবা সংবেদনশীল খাতটিতে শ্রম ব্যয় করছেন, তাদের নিজ নিজ কাজে আন্তরিক সদিচ্ছা দেখাতে হবে।










