আগামী ৯ থেকে ২০ নভেম্বর তুরস্কের আন্তালিয়ায় অনুষ্ঠিত হবে জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন কপ৩১। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় বৈশ্বিক উদ্যোগকে প্রতিশ্রুতির পর্যায় থেকে বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে নেয়াই এবারের সম্মেলনের অন্যতম প্রত্যাশা। সেখানে বাংলাদেশের ভূমিকা শুধু জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা একটি দেশ হিসেবে আর্থিক সহায়তা চাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। বরং নিজস্ব অর্থনৈতিক পরিকল্পনা নিয়ে হাজির হতে হবে। সেই পরিকল্পনার কেন্দ্রে থাকা উচিত চক্রাকার অর্থনীতি, জলবায়ু সহনশীলতা ও শিল্পের রূপান্তর।
বাংলাদেশের জন্য জলবায়ু পরিবর্তন এখন আর ভবিষ্যতের কোনো পরিবেশগত হুমকি নয়। এটি বর্তমানের অর্থনৈতিক সংকট। ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতা বৃদ্ধি, বারবার বন্যা, নদীভাঙন ও লবণাক্ততার বিস্তার জনগনের জীবিকা বিপন্ন করছে। বাড়ছে বাস্তুচ্যুতি, চাপ তৈরি হচ্ছে সরকারি অর্থায়নে। প্রতিটি দুর্যোগের মূল্য দিতে হচ্ছে জীবন ও জীবিকার ক্ষতি দিয়ে; পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতি তো রয়েছেই। ফলে বাংলাদেশের যে সীমিত সম্পদ রয়েছে তা শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও অবকাঠামো উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাত থেকে সরিয়ে নিতে হচ্ছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের এসব প্রভাবের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেয়া, অর্থাৎ ‘অভিযোজনের’ কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু আমাদের উন্নয়নের ধরন যদি মূল্যবান ও সীমিত সম্পদকে বর্জ্যে পরিণত করতে থাকে, আর সেই বর্জ্য থেকে কেবল যদি তৈরি হয় দূষণ, তাহলে শুধু অভিযোজনের ওপর নির্ভর করে ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করা সম্ভব হবে না।
বাংলাদেশের অর্থনীতি এখনো মূলত সরলরৈখিক। এ ব্যবস্থায় একই সম্পদের জন্য কার্যত তিন দফা মূল্য দিতে হয়। প্রথমে কাঁচামাল সংগ্রহে, এরপর ব্যবহারের পর তা ফেলে দিতে এবং সবশেষে সেই বর্জ্য থেকে সৃষ্ট ক্ষতি সামাল দিতে। চক্রাকার অর্থনীতি এ ব্যয়বহুল ব্যবস্থার বিকল্প হাজির করে। এর মূল লক্ষ্য হলো শুরুতেই বর্জ্য সৃষ্টি ঠেকানো, উপকরণের ব্যবহারকাল বাড়ানো এবং বর্জ্য থেকেও অর্থনৈতিক মূল্য ফিরিয়ে আনা। ঘনবসতিপূর্ণ, আমদানিনির্ভর ও সম্পদস্বল্প বাংলাদেশের জন্য চক্রাকার অর্থনীতি তাই নিছক পরিবেশগত আকাঙ্ক্ষা নয়। এটি কার্যকর শিল্পনীতির অংশ হতে পারে। এর মাধ্যমে উৎপাদন ব্যয় কমানো, নির্গমন নিয়ন্ত্রণ ও অর্থনীতির সহনশীলতা বাড়ানো সম্ভব।
বাংলাদেশে সম্পদের অপচয়ের চিত্র উদ্বেগজনক। দেশের পোশাক শিল্পে প্রতি বছর আনুমানিক চার লাখ টন উৎপাদন-পূর্ব বস্ত্রবর্জ্য তৈরি হয়, যা সাধারণভাবে ঝুট নামে পরিচিত। শিল্পসংশ্লিষ্টদের হিসাব অনুযায়ী, এর ৫ শতাংশেরও কম দেশে পুনর্ব্যবহার করা হয়। বড় একটি অংশ স্বল্পমূল্যের বর্জ্য হিসেবে রফতানি হয় অথবা অন্যভাবে ফেলে দেয়া হয়। অন্যদিকে দেশে প্রতি বছর প্রায় ৮ লাখ টন প্লাস্টিক বর্জ্য তৈরি হয়। এর মাত্র এক-তৃতীয়াংশের মতো পুনর্ব্যবহার করা হয়। অবশিষ্ট বর্জ্যের বড় অংশ জমা হয় ভাগাড়ে, জলপথে বা পরিবেশের অন্যান্য স্থানে। আমদানি করা তুলা, পলিমার ও অন্যান্য কাঁচামালের জন্য বিপুল অর্থ ব্যয় হয়। অথচ প্রতি টন বর্জ্যের সঙ্গে হারিয়ে যাচ্ছে সেই অর্থনৈতিক মূল্য।
তবে চক্রাকার অর্থনীতির পথে বাংলাদেশকে একেবারে শূন্য থেকে শুরু করতে হবে না। দেশের বিভিন্ন স্থানে মেরামতের দোকান, ভাঙারি ব্যবসায়ী, বর্জ্য সংগ্রহকারী ও পুনর্ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠান এরই মধ্যে ফেলে দেয়া উপকরণ থেকে মূল্য ফিরিয়ে আনছে। তাদের ঘিরেই গড়ে উঠেছে চক্রাকার অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। তবে তাদের অবদান প্রায়ই উপেক্ষিত হয়। উদ্যোক্তারা এসব অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড টিকিয়ে রাখলেও অনানুষ্ঠানিক ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা, বিচ্ছিন্ন বাজার ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তার অভাব এ খাতের বিকাশে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ডেনমার্কের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ডেনিডার (ডেনিশ ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট এজেন্সি) অর্থায়নে পরিচালিত একটি চলমান গবেষণার সঙ্গে যুক্ত থাকার সুবাদে এ বাস্তবতা আরো কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে আমার। ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন ডেনমার্ক, আলবর্গ বিশ্ববিদ্যালয়, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর অন্ট্রাপ্রেনিউরশিপ ডেভেলপমেন্ট (সিইডি-ব্র্যাকইউ) এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (আইবিএ-ডিইউ) সহযোগিতায় পরিচালিত এ গবেষণায় ঢাকার প্লাস্টিক বর্জ্য পুনর্ব্যবহারকারীদের সাক্ষাৎকার নেয়া হয়েছে। তাতে দেখা গেছে, তাদের অনেকের উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার পেছনে রয়েছে পারিবারিক যোগাযোগ, শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজের অভিজ্ঞতা ও অর্থনৈতিক দুরবস্থা। ব্যক্তিগতভাবে টিকে থাকার তাগিদেই তারা এমন জীবিকার সন্ধান করেছেন, যা দেশের বর্জ্যকে আবার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের অংশ করে তুলছে।
এ উদ্যোক্তা ও শ্রমিকেরা চক্রাকার অর্থনীতিতে রূপান্তরের বাইরের কেউ নন; বিদ্যমান ব্যবস্থার অন্যতম ভিত্তি তারাই। আধুনিকায়নের নামে তাদের সরিয়ে দেয়ার পরিবর্তে তাদের সক্ষমতা বাড়ানো ও আধুনিক মূল্য শৃঙ্খলের সঙ্গে যুক্ত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

ছবি: স্ট্যাটিক
চক্রাকার অর্থনীতিতে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাও ব্যাপক। পোশাক কারখানার ঝুট কাজে লাগিয়ে গড়ে তোলা যেতে পারে পুনর্ব্যবহারযোগ্য বস্ত্রের সরবরাহ ব্যবস্থা। এতে আমদানি করা তুলার ওপর নির্ভরতা কমার পাশাপাশি দেশে নতুন শিল্প গড়ে উঠতে পারে। প্লাস্টিক বর্জ্য আরো দক্ষতার সঙ্গে সংগ্রহ ও পুনর্ব্যবহার করার সুযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে একাধিক স্তরের উপকরণ দিয়ে তৈরি যেসব প্যাকেজিং পুনর্ব্যবহার করা কঠিন, উৎপাদনের পর্যায়েই সেগুলোর নকশা বদলানো সম্ভব। জৈব বর্জ্য থেকে তৈরি করা যায় কম্পোস্ট ও বায়োগ্যাস। নিরাপত্তার শর্ত পূরণ করা গেলে নির্মাণসামগ্রীও পুনরুদ্ধার করে কাজে লাগানো সম্ভব। মেরামত ও সংস্কারের মাধ্যমে ইলেকট্রনিক পণ্য ও গৃহস্থালি যন্ত্রপাতির ব্যবহারকাল বাড়ানো যায়। এসব উদ্যোগের লক্ষ্য শুধু বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নতি নয়, বরং উৎপাদন ও ব্যবহারের শুরু থেকেই সম্পদের মূল্য হারিয়ে যাওয়া ঠেকানো।
এ ধরনের উদ্যোগের জন্য উদ্যোক্তার অভাব নেই। বাংলাদেশের মূল ঘাটতি সমন্বিত নীতির।
এ খাতে নিয়ন্ত্রক কাঠামো তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। ২০২১ সালের কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিধিমালায় বর্জ্য পৃথক্করণ এবং বর্ধিত উৎপাদক দায়বদ্ধতা বা ইপিআরের বিধান যুক্ত করা হয়। এর উদ্দেশ্য উৎপাদকরা তাদের পণ্যের কারণে সৃষ্ট বর্জ্যের দায় নেবেন। সম্প্রতি প্লাস্টিক বর্জ্যের ক্ষেত্রে ইপিআর নির্দেশিকা প্রণয়নের কাজও এগিয়ে নিয়েছে সরকার। এর মাধ্যমে উৎপাদক, আমদানিকারক ও ব্র্যান্ড মালিকদের বর্জ্য সংগ্রহ ও পুনর্ব্যবহারের দায়িত্বের আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
কিন্তু নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের মধ্যকার ব্যবধানই বাংলাদেশের বড় দুর্বলতা। বর্জ্য পৃথক্করণে নাগরিকদের উৎসাহিত করা হলেও পৌরসভার সংগ্রহ ব্যবস্থায় সেই বর্জ্য আবার একসঙ্গে মিশে যেতে পারে। নির্ভরযোগ্য সরবরাহ ব্যবস্থা ছাড়াই কাজ করতে হচ্ছে পুনর্ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে। নিয়মকানুনের প্রয়োগও ধারাবাহিক নয়। পরিমাপযোগ্য লক্ষ্য, স্বচ্ছ প্রতিবেদন ও শাস্তির ব্যবস্থা না থাকলে ভালো নীতিও শেষ পর্যন্ত কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ থেকে যেতে পারে।
অর্থায়নের প্রশ্নটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। ছোট পুনর্ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর অনেকেই লাভজনক ব্যবসা পরিচালনা করে। অথচ প্রচলিত জামানত না থাকায় তারা আনুষ্ঠানিক ঋণ পায় না। ব্যাংকগুলোর ঋণ মূল্যায়নের পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। শুধু সম্পদের বিপরীতে ঋণ দেয়ার বদলে নগদ অর্থের প্রবাহ, ব্যবসায়িক সম্পর্ক ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাকেও বিবেচনায় নিতে হবে। বিদ্যমান সবুজ পুনঃঅর্থায়ন সুবিধার সুফল যেন শুধু প্রতিষ্ঠিত ঋণগ্রহীতাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং ছোট চক্রাকার অর্থনীতির উদ্যোগগুলোর কাছেও পৌঁছে, তা নিশ্চিত করা জরুরি।
একইভাবে ব্যবসার আনুষ্ঠানিকীকরণেও বাস্তব সুবিধা থাকতে হবে। আইনি সুরক্ষা, অর্থায়নের সুযোগ, প্রযুক্তি ও বাজারে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে হবে। শুধু বাড়তি কাগজপত্র ও বিধি মেনে চলার ব্যয় চাপিয়ে দিলে চলবে না।
বেসরকারি খাতকেও বুঝতে হবে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য চক্রাকার অর্থনীতি ক্রমেই অপরিহার্য হয়ে উঠছে। আন্তর্জাতিক ক্রেতারা এখন পণ্যের উৎস অনুসরণযোগ্যতা, সম্পদের দক্ষ ব্যবহার ও টেকসইতা নিয়ে আরো বেশি বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ চাইছেন। বাংলাদেশের রফতানিমুখী শিল্পের জন্য পুনর্ব্যবহৃত উপকরণ ব্যবহার এবং দায়িত্বশীল উৎপাদনের প্রমাণ দেখাতে পারা উচ্চ মূল্যের বাজারে প্রবেশের সুযোগ নির্ধারণে ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। টেকসই উন্নয়নকে আর শুধু আকর্ষণীয় বার্ষিক প্রতিবেদনের বিষয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। উপকরণের ব্যবহার, বর্জ্য ও কার্বন নির্গমন কতটা কমানো গেছে তা পরিমাপযোগ্যভাবে তুলে ধরতে হবে।
তবে শ্রমিকদের বাদ দিয়ে গড়ে ওঠা কোনো ব্যবস্থাকে টেকসই চক্রাকার অর্থনীতি বলা যায় না। বর্জ্য সংগ্রহকারী ও পুনর্ব্যবহারকারীরা পরিবেশের জন্য অপরিহার্য কাজ করলেও তাদের অনেকেই অনিরাপদ পরিবেশে কাজ করেন। তাদের সামাজিক সুরক্ষা ও দরকষাকষির ক্ষমতাও সীমিত। তাই ন্যায্য রূপান্তর নিশ্চিত করতে নিরাপদ কর্মপরিবেশ, ন্যায্য পারিশ্রমিক, দক্ষতা অর্জনের সুযোগ ও জীবিকাসংক্রান্ত সিদ্ধান্তে অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। যে পরিবেশগত অগ্রগতির মধ্য দিয়ে সামাজিক বঞ্চনা আরো জোরদার হয়—তা ন্যায্যও নয়, টেকসইও নয়।
কপ৩১ সম্মেলনে বাংলাদেশের উচিত জলবায়ু অর্থায়নের জন্য সাধারণ আহ্বানের গণ্ডি পেরিয়ে বিনিয়োগের উপযোগী চক্রাকার উদ্যোগের সমন্বিত প্রকল্প তুলে ধরা। বর্জ্য থেকে উপকরণ পুনরুদ্ধারের কেন্দ্র, বস্ত্র পুনর্ব্যবহার, সংগ্রহ ও পরিবহনের নেটওয়ার্ক, পরিচ্ছন্ন উৎপাদন প্রযুক্তি এবং ডিজিটাল পদ্ধতিতে উপকরণের উৎস ও গতিপথ অনুসরণের ব্যবস্থা—এসব খাতে সহজ শর্তের অর্থায়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও আন্তর্জাতিক অংশীদারত্বের সুযোগ রয়েছে। এ ধরনের বিনিয়োগ একসঙ্গে কার্বন নির্গমন কমানো, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়, দেশীয় শিল্পকে শক্তিশালী করা ও মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখবে।
অবশ্য চক্রাকার অর্থনীতি জলবায়ু অভিযোজন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি কিংবা জলবায়ু ন্যায়বিচারের বিকল্প নয়। বৈশ্বিক কার্বন নির্গমনের জন্য যেসব দেশের দায় বেশি, তাদের কাছ থেকে ন্যায্য সহায়তা আদায়ের দাবি বাংলাদেশকে অব্যাহত রাখতে হবে। তবে আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতার প্রশ্নে সোচ্চার থাকার অর্থ দেশের ভেতরে সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা উপেক্ষা করা নয়।
অমিতাভ ঘোষ তার ‘দ্য গ্রেট ডিরেঞ্জমেন্ট: ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড দ্য আনথিংকেবল’ বইয়ে জলবায়ু পরিবর্তনের বাস্তবতার মুখোমুখি হওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের সামষ্টিক অক্ষমতার কথা তুলে ধরেছেন। বাংলাদেশের জন্যও এ চ্যালেঞ্জ বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক। উৎপাদন ও ভোগের পদ্ধতি বদলানোর পাশাপাশি কোন জিনিসকে মূল্যবান মনে করি এবং কোন সম্পদের অপচয় মেনে নিই, সেই দৃষ্টিভঙ্গিও নতুন করে ভাবতে হবে।
বাংলাদেশের উচ্চাকাঙ্ক্ষার প্রকৃত পরীক্ষা আন্তালিয়ায় দেয়া বক্তব্যে নয়; প্রতিনিধিরা দেশে ফেরার পর কী পরিবর্তন আনতে পারেন, তার ওপর নির্ভর করবে। পৌরসভাগুলো বর্জ্য সংগ্রহের পদ্ধতি বদলায় কিনা, উৎপাদকরা পণ্যের নকশা নতুন করে করেন কিনা, ব্যাংকগুলো চক্রাকার অর্থনীতির উদ্যোগে অর্থায়ন করে কিনা এবং শ্রমিকেরা আরো নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবিকা পান কিনা—এগুলোই হবে সাফল্যের মাপকাঠি।
যে অর্থনীতি নিয়মিত নিজের সম্পদ অপচয় করে, তার ওপর দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ জলবায়ু সহনশীল ভবিষ্যৎ গড়তে পারবে না। সম্পদের পুনর্ব্যবহার ও পুনরুদ্ধারের চক্র সম্পূর্ণ করা এখন আর নিছক পরিবেশগত বিকল্প নয়। এটি অর্থনৈতিক প্রয়োজন, শিল্প বিকাশের সুযোগ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলার অপরিহার্য শর্ত।










