পরিবেশ সুরক্ষা ও কার্বন নিঃসরণ কমানোর প্রচেষ্টায় বিকাশের নতুন গ্রিন ফিচার উদ্যোগ ‘বিকাশ বন’। এ উদ্যোগে গ্রাহকের দৈনন্দিন ডিজিটাল লেনদেনের ভিত্তিতে অ্যাপে তৈরি হবে ভার্চুয়াল গাছ। প্রতিটি ভার্চুয়াল গাছ পূর্ণতা পেলে তার বিপরীতে দেশের বিভিন্ন স্থানে একটি করে বাস্তব গাছ রোপণ করবে বিকাশ। ফলে ডিজিটাল আর্থিক লেনদেন সরাসরি বনায়নের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে এবং গ্রাহকও সরাসরি পরিবেশ রক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন।

‘বিকাশ বন’ উদ্যোগটির অংশ হিসেবে বনায়ন কার্যক্রম শুরু হয়েছে দেশের দুই শহর চট্টগ্রাম ও খুলনায়। সম্প্রতি চট্টগ্রাম সেনানিবাসে ২৫ হাজার গাছ রোপণের মাধ্যমে শুরু হয় বিকাশ বন। একইভাবে খুলনা সিটি করপোরেশনের সঙ্গে যৌথভাবে খুলনা নগরীর সোলার পার্ক ও লিনিয়ার পার্কে শুরু হয়েছে আরেকটি বনায়ন কর্মসূচি। চট্টগ্রামের মতোই খুলনায়ও রোপণ করা হচ্ছে ২৫ হাজার গাছ। ভিন্ন দুই অঞ্চলের এসব উদ্যোগের মধ্য দিয়ে ভার্চুয়াল গাছকে বাস্তব সবুজায়নে রূপ দেয়ার কার্যক্রম এগিয়ে নিচ্ছে বিকাশ।

রোপণকৃত গাছের পরিচর্যা ও বেড়ে ওঠার বিষয়টি পরিচর্যা করবে জলবায়ু ও পরিবেশবিষয়ক সংগঠন ‘মিশন গ্রিন বাংলাদেশ’। গাছ রোপণের পাশাপাশি সেগুলোকে দীর্ঘমেয়াদে টিকিয়ে রাখার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে এ উদ্যোগে। পরিকল্পিত পরিচর্যার মাধ্যমে চারাগুলো পূর্ণাঙ্গ গাছে পরিণত হলে এ বনায়ন স্থানীয় সবুজায়ন বাড়ানোর পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও কার্বন শোষণেও ভূমিকা রাখবে।

ডিজিটাল লেনদেনে তৈরি হবে ভার্চুয়াল গাছ

দেশে প্রথমবারের মতো মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাপের মাধ্যমে হওয়া ডিজিটাল লেনদেনের বিপরীতে গ্রাহকদের সরাসরি পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব ও কার্বন নিঃসরণ কমাতে ভূমিকা রাখার কাজে যুক্ত করার উদ্যোগ হলো ‘বিকাশ বন’। বিকাশ অ্যাপ থেকে করা প্রতিটি ইউটিলিটি বিল পরিশোধ, ডিপিএস খোলা, অ্যাড মানি, ঋণ নেয়া, মোবাইল রিচার্জ ও সেন্ড মানির মতো নির্ধারিত ডিজিটাল লেনদেনের বিপরীতে গ্রাহক পাবেন ‘গ্রিন পয়েন্ট’।

জমাকৃত গ্রিন পয়েন্টের ভিত্তিতে গ্রাহকের বিকাশ অ্যাপের ‘বিকাশ বন’-এ থাকা ভার্চুয়াল চারাটি ধীরে ধীরে বৃক্ষে পরিণত হবে। নির্ধারিত পয়েন্ট অর্জনের পর বিকাশ বনে থাকা ভার্চুয়াল গাছটি একটি পূর্ণাঙ্গ গাছে পরিণত হবে। গ্রাহকের নির্ধারণ করা ভার্চুয়াল গাছটির বিপরীতে বাস্তবে একটি গাছ রোপণ করবে বিকাশ। পরে অ্যাপ থেকেই সেই গাছের হালনাগাদ তথ্যও দেখতে পাবেন গ্রাহক। এভাবে গ্রাহকদের দৈনন্দিন ডিজিটাল লেনদেনের সঙ্গে পরিবেশের জন্য বাস্তব অবদান রাখার সুযোগ তৈরি করবে ‘বিকাশ বন’ উদ্যোগটি।

‘জিরো কমিউট’ থেকে সরাসরি বনায়ন

১৫ বছর ধরে ডিজিটাল আর্থিক সেবার মাধ্যমে দেশের মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াত ও কাগজনির্ভরতা কমাতে ভূমিকা রেখে চলেছে বিকাশ। ঘরে বসে বিল পরিশোধ, টাকা পাঠানো, মোবাইল রিচার্জ, ডিজিটাল রসিদ, কাগজবিহীন ঋণ ও কন্ট্যাক্টলেস পেমেন্টসহ ২০০টির বেশি সেবা গ্রাহকদের শাখা, কাউন্টার বা সেবা কেন্দ্রে যাওয়ার প্রয়োজন কমিয়েছে।

এ ‘জিরো কমিউট’ ব্যবস্থায় যাতায়াত, কাগজের ব্যবহার, অফিস ব্যবস্থাপনা ও দীর্ঘ সময় লাইনে অপেক্ষার প্রয়োজন কমিয়ে সরাসরি কার্বন নিঃসরণে ভূমিকা রাখছে বিকাশ। ‘বিকাশ বন’ উদ্যোগটি এ ডিজিটাল পরিবেশগত প্রভাবকে আরো এক ধাপ এগিয়ে গ্রাহককে সরাসরি বৃক্ষরোপণের সঙ্গে যুক্ত করেছে। এতে ডিজিটাল লেনদেনের মাধ্যমে কার্বন নিঃসরণ কমানোর পাশাপাশি নতুন গাছ লাগিয়ে পরিবেশে প্রত্যক্ষ অবদান রাখার সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে।