এবার ঈদেও ‘কিছু বলতে চাই’, ‘কেবিননামা’সহ আরো কিছু নাটক আসছে আমার। মাধ্যম যেটাই হোক, বর্তমানে ইউটিউব সবক’টিরই একটি হাবে পরিণত হয়েছে। সব টেলিভিশন চ্যানেলেরও এখন ইউটিউব আছে। আমার কাজ আমি যখন ইচ্ছে তখন দেখতে পারি। বাংলাদেশে ইউটিউবের এত জনপ্রিয়তার এটা একটা বড় কারণ। শুধু অভিনয়ই নয়, প্রডাকশনের লাইট-ক্যামেরা থেকে শুরু করে অন্য অনেক ক্ষেত্রেই কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে। এটা টেলিভিশনের ক্ষেত্রে খুবই সংকুচিত ছিল’—বাংলাদেশের ইউটিউব নাটক ইন্ডাস্ট্রির ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে কথাগুলো বণিক বার্তাকে বলেন অভিনেতা নাফিস আহমেদ।
বিশ্বব্যাপী ইউটিউব চালু হয় ২০০৫ সালে। বাংলাদেশে এর জনপ্রিয়তা বাড়তে শুরু করে মূলত ২০০৮ সালের পর থেকে। টেলিভিশনে প্রচারিত নাটকগুলো পরবর্তী সময়ে ইউটিউবে আপলোড করা হতো। সে সময় বিদেশে বসবাসকারী বাংলাদেশী দর্শকের জন্য এটি ছিল নাটক দেখার একটি সহজ মাধ্যম। ফলে সে সময় ইউটিউব নাটকের প্রধান প্লাটফর্ম না হয়ে বরং একটি ‘সেকেন্ডারি প্লাটফর্ম’ হিসেবেই ব্যবহার হতো।
কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রযুক্তি ও দর্শক, দুটোই বদলাতে শুরু করে। ২০১০-এর দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে কিছু প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সরাসরি ইউটিউবকে কেন্দ্র করে নাটক নির্মাণ শুরু করে। একই সময় নাটকভিত্তিক বেশ কয়েকটি ইউটিউব চ্যানেলও গড়ে ওঠে, যেমন ‘সিডি চয়েজ’, ‘ঈগল প্রডাকশন’, ‘বাংলাভিশন ড্রামা’। ধীরে ধীরে এসব চ্যানেল দর্শকের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এবং ইউটিউব-কেন্দ্রিক নাট্যনির্মাণের একটি নতুন ধারার সূচনা করে।
তবে বাংলাদেশের ইউটিউব নাটকের প্রকৃত বিস্ফোরণ ঘটে মূলত ২০১৮ সালের পর। এর পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা ছিল দেশে ফোরজি মোবাইল ইন্টারনেট চালু হওয়া। দ্রুতগতির ইন্টারনেট এবং সহজলভ্য স্মার্টফোনের কারণে লাখ লাখ মানুষ সহজেই ইউটিউবে ভিডিও দেখতে শুরু করে। ফলস্বরূপ বিগত কয়েক বছরে বিশেষ করে ঈদকে কেন্দ্র করে ইউটিউব নাটকের ইন্ডাস্ট্রিতে তৈরি হয়েছে এক ভিন্ন ধরনের ব্যস্ততা।
ছোট পর্দার জনপ্রিয় নির্মাতা ও যন্ত্রাক্ষি ফিল্মসের প্রযোজক হাসান রেজাউল মনে করেন, ইউটিউব নাটকের এ বিস্তার বাংলাদেশের নাটককে এক নতুন গতিশীলতা দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘এবার ঈদে আমার বেশ কয়েকটা কাজ আসছে। “লাভ লক”, যেটার শুট করেছি কোরিয়ায়, সে নাটকও মুক্তি পাচ্ছে। নাটকের ইন্ডাস্ট্রি আসলে অনেক দূর এগিয়ে গেছে। তার পেছনে ইউটিউবের অবদান অবশ্যই আছে। ইউটিউবে এখন প্রচুর নাটক তৈরি হয়। অনেক চ্যানেল দাঁড়িয়ে গেছে। প্রচুর রেভিনিউও আসছে। ঈদের সময় তো আমাদের ব্যস্ততা চরম বেড়ে যায়। কারণ ইউটিউবের দর্শক অনেকটাই বিস্তৃত। গ্রাম থেকে শুরু করে এলিট, সব ধরনের দর্শকই এখানে রয়েছে। তাই সব ধরনের প্রডাকশনই ইউটিউবে হয়। তবে কিছু মিসইউজও হয়েছে। আমরা সস্তা কনটেন্ট বলতে যা বুঝি, মাঝখানে এ ধরনের নাটকেরও একটা বাজার তৈরি হয়েছিল। কিন্তু এখন এসে আবার দর্শকের রুচি বদলাচ্ছে। সেই সঙ্গে গল্পও বদলাচ্ছে।’
ঈদের সময়টিতে অতীতেও টেলিভিশন নাটকের একটি আলাদা আবহ ছিল, এখনো রয়েছে। তবে বর্তমান সময়ের দর্শকের জন্য ইউটিউবের কল্যাণে সে আনন্দের পরিধি আরো বিস্তৃত হয়েছে।










