এবারের ঈদ আপনার জন্য বিশেষ, কারণ আপনার সিনেমা প্রেশার কুকার মুক্তি পাচ্ছে। ব্যক্তিগতভাবে এ ঈদকে কীভাবে দেখছেন?

এবারের ঈদ আমার জন্য অনেক বেশি স্পেশাল, কারণ এই প্রথম কোনো ঈদে আমার সিনেমা আসছে। উৎসবে যখন নিজের ভালো কোনো কাজ যুক্ত হয়, তখন আনন্দ অনেক বেড়ে যায়। তবে সিনেমা আসুক বা না আসুক, সবচেয়ে বড় বিষয় হলো অডিয়েন্স সিনেমাটি কীভাবে গ্রহণ করছে এবং কতটা উপভোগ করছে। উৎসব মানেই আনন্দ, সে আনন্দে নিজের কাজ থাকাটা সত্যিই দারুণ।

এবারের ঈদে সিনেমা রিলিজ হবে, আবার আমার কাজও আছে। মানে ঈদের পর পরই শুটিং। তাই আমি এবারের ঈদে ব্যস্তই থাকব। ফলে ঘোরাঘুরির প্ল্যান নেই, কাজের মধ্যেই থাকব। হয়তোবা দুদিনের জন্য আশপাশে কোথাও ঘুরতে যেতে পারি।

এ সিনেমার গল্প বা চরিত্রের কোন দিকটি আপনার কাছে সবচেয়ে আলাদা মনে হয়েছে?

প্রেশার কুকার সিনেমাটির বিশেষত্ব হলো এটি ‘ফিমেল ওরিয়েন্টেড’ বা নারীদের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে তৈরি। এবারের ঈদে অনেক ধরনের ভালো সিনেমা আসছে, তবে আমাদেরটা আলাদা। কারণ এখানে ঢাকা শহরের বাস্তব জীবন ও নানা শ্রেণীর মানুষের গল্প ফুটে উঠেছে। প্রতিটি মানুষ কোনো না কোনো চরিত্রের সঙ্গে নিজেকে মেলাতে পারবে, বিশেষ করে মেয়েরা এ সিনেমা বেশি পছন্দ করবে। কারণ এখানে নারী চরিত্রের অনেকগুলো লেয়ার ও পয়েন্ট অব ভিউ রয়েছে।

রায়হান রাফীর সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে এমন কোনো মুহূর্ত কি ছিল, যা আপনাকে নতুনভাবে ভাবতে শিখিয়েছে?

রায়হান রাফীর সঙ্গে আমার আগে থেকেই বন্ধুত্ব ছিল। তাই কাজের ক্ষেত্রে আমাদের বোঝাপড়াটা খুব চমৎকার ছিল। রাফী একজন অত্যন্ত ইতিবাচক মানুষ। কাজের সময় সে অভিনেতাদের প্রচুর স্বাধীনতা বা স্পেস দেয় এবং তাদের মতামত গুরুত্বের সঙ্গে নেয়। অনেক পরিচালক সবসময় ক্যারেক্টার নিয়ে খুব সিরিয়াস থাকেন, কিন্তু রাফীর বিশেষত্ব হলো সে খুব সহজভাবে বা ‘এফোর্টলেসলি’ সেরা অভিনয়টা বের করে নিতে পারে। তার এ পজিটিভ আচরণ ও কাজের ধরন আমাকে মুগ্ধ করেছে।

ঈদে পোশাকের ক্ষেত্রে আপনি কেমন স্টাইল পছন্দ করেন?

ঈদে আমি আসলে খুব একটা কেনাকাটা করি না। এটা অনেক বছর ধরেই করছি না। কারণ আমাদের অন্য সময়ে অনেক শপিং করতে হয়। এছাড়া ঈদে আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবদের কাছ থেকে অনেক গিফট পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে দেখা যায়, নিজের জন্য ঈদে কিছু কেনা খুব একটা হয়ে ওঠে না। আমি বরং আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুদের গিফট দিতেই বেশি পছন্দ করি। তবে স্টাইলের কথা বললে আমি বলব, খুবই সিম্পল ও ক্যাজুয়াল পোশাক পছন্দ করি, যেটায় আমাকে আমার মতো লাগবে। খুব বেশি আড়ম্বরপূর্ণ কিছু নয়, বরং সিম্পল ও স্ট্যান্ডার্ড পোশাক; যা আমাকে আরাম দেয় এবং আমার ব্যক্তিত্বের সঙ্গে মানানসই হয়। খুব বেশি কিছু না, বরং ছিমছাম বা সিম্পল থাকতেই ভালোবাসি।

ঈদের দিন সাধারণত আপনার সকালটা কীভাবে শুরু হয়?

নরমালি ঈদের দিন সাধারণভাবে শুরু হয়। ঘুম থেকে উঠে আমরা সবাই প্রথম সকালের কাপড়টা ম্যাচিং করে পরার চেষ্টা করি। মানে আমরা চার বোন আর মা সবাই একই রকম খুব কমফোর্টেবল এবং সিম্পল একটা ড্রেস পরি। সকালে বাসায় রান্নাবান্না ও খাওয়া-দাওয়া হয়। তারপর রেডি হয়ে যদি কাজ থাকে তবে কাজ, নয়তো বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করা বা আত্মীয়দের বাসায় যাওয়া, এভাবেই সময় কাটে।

তবে এবারের ঈদটা একটু আলাদা হবে। কারণ এবার খুব সকালে উঠে রেডি হয়ে সিনেমা হলে ভিজিটে যেতে হবে। আমি খুব এক্সাইটেড সিনেমাটা দেখার জন্য, সেই সঙ্গে অডিয়েন্স কীভাবে তা গ্রহণ করছে সেটি দেখতে চাই। তাই এবারের ঈদটা শুধু রিল্যাক্সিং হবে না, সঙ্গে কাজের চাপও থাকবে।

ঈদের খাবারের মধ্যে আপনার সবচেয়ে প্রিয় কী? নিজে কখনো রান্না করার চেষ্টা করেন?

আমি মূলত একজন ফুডি, তাই ঈদের সব খাবারই আমার ভালো লাগে। আমি ঝাল খাবার খেতে পছন্দ করি। তার মধ্যে গরুর মাংস, পোলাও, রোস্ট, সালাদ ও ফ্রুট সালাদ আমার খুব প্রিয়। ঈদের আমেজে তো মিষ্টি খাবার থাকবেই। আমি খুব বেশি মিষ্টি বা চিনিযুক্ত খাবার পছন্দ করি না, তাই কম চিনির কাস্টার্ড বা পুডিং আমার ভালো লাগে।

আমি রান্নাবান্না বলতে ডেজার্ট বা মিষ্টি জাতীয় খাবার ভালো বানাতে পারি। বাঙালি খাবার খুব একটা পারি না। প্রতি ঈদে আমি কোনো না কোনো ডেজার্ট রান্না করি। তবে এবার যেহেতু কাজের প্রেশার থাকবে, জানি না কতটুকু পারব। তাও চেষ্টা করব, চাঁদরাতে কোনো একটা ডেজার্ট বানানোর।"

ছোটবেলার ঈদ আর এখনকার ঈদ আপনার কাছে কেমন লাগে?

সত্যি বলতে, ছোটবেলার ঈদ অনেক বেশি মজার ছিল। তখন ঈদের জন্য আলাদা একটা আগ্রহ ও আমেজ কাজ করত। সেলামি নেয়া, কাজিনদের সঙ্গে সময় কাটানো, সব মিলিয়ে অনেক ফুর্তি হতো। তখন আমরা চট্টগ্রাম বা নোয়াখালী যেতাম সবার সঙ্গে দেখা করতে। এখনকার ঈদ কিছুটা গুরুগম্ভীর বা ম্যাচিউরড। এখন ঈদের দিন রিল্যাক্স করতে বা আরাম করতেই বেশি ভালো লাগে। ছোটবেলার সেই এনার্জি ও উত্তেজনা এখন আগের মতো নেই।

আসন্ন কাজ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে যদি বলতেন।

সামনে বেশ কয়েকটা সিনেমা রিলিজ হবে। সেগুলোর প্রস্তুতি চলছে, কাজ চলছে, প্রমোশনও করছি। কয়েকটা প্রজেক্টের শুটিং আছে। সামনের কাজগুলো সম্পর্কে সময়মতো জানাব। কাজ নিয়ে প্রচুর ব্যস্ততা যাচ্ছে। আবার অনেক কাজ জমে আছে, সেগুলো রিলিজের জন্যও টাইম দিতে হবে।

আপনারা সবসময় আমাকে বলতেন, আমি নাকি হাওয়া হয়ে থাকি। আসলে আমি আগেই জানাতে পছন্দ করি না। আমার কাজ হয়ে গেলে জানালে ভালো লাগে। কারণ আগেই জানানোর পর এ রকম অনেক হয়েছে যে অনেক কারণে কাজটা হয় না, তখন একটা বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। এ কারণে কাজ শেষ হলে জানাতেই আমি পছন্দ করি। একসঙ্গে অনেক কাজ করাটা আমি বুঝি না, আমি পারি না আরকি। আশা করি, সামনে খুব নতুন নতুন সুসংবাদ দিতে পারব আর আপনাদের সবাইকে ঈদ মোবারক। অবশ্যই প্রেশার কুকার দেখবেন। ভালো লাগা, খারাপ লাগা সবকিছুই দেখবেন। শুধু প্রেশার কুকার না, আমাদের আরো অনেক সিনেমা আসছে সেগুলোও দেখবেন। ধন্যবাদ।

সাক্ষাৎকার গ্রহণ: অহিদুর রহমান