দম সিনেমার সঙ্গে আপনার যুক্ত হওয়ার শুরুটা কীভাবে?
পরিচালক রেদওয়ান রনি একদিন বললেন, একসঙ্গে বসে একটা আইডিয়া শেয়ার করতে চান। তখন আমি বুঝেছিলাম, সম্ভবত তিনি নতুন সিনেমা নিয়ে ভাবছেন। আমরা ঢাকার মেরিডিয়ানের লবিতে বসে গল্পটা শুনি। ব্যাপারটা প্রথম দর্শনেই প্রেমের মতো হয়ে যায়। পুরো গল্পটা শোনার পর আমি খুব খোলামেলাভাবে আমার মতামত জানাই—কোন অংশ ভালো লেগেছে, কোথায় আরো ভাবা যেতে পারে এসব। আমি সাধারণত মুখের ওপরই কথা বলি। পরে জানতে পারি, আমার সে পর্যবেক্ষণগুলো পরিচালকের ভালো লেগেছিল এবং সেখান থেকেই গল্পটা নতুনভাবে ভাবার একটা প্রক্রিয়া শুরু হয়। পারফর্ম করার জন্য গল্পটা আমার খুব দরকার হয়। সে জায়গা থেকে দম খুবই পারফেক্ট একটা গল্প।
দম সিনেমার জন্য আপনাকে কী ধরনের শারীরিক প্রস্তুতি নিতে হয়েছে?
‘দাগী’ করার সময় আমার ওজন প্রায় ৯৭-৯৮ কেজি হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু দমের জন্য পরিচালক চেয়েছিলেন আমি প্রায় ৭৫ কেজির কাছাকাছি চলে যাই। এত কম সময়ে সেটা করা কঠিন ছিল। আমি কঠোর ডায়েট আর জিম করেছি। দিনে কখনো ৭০০, কখনো ৯০০ ক্যালরির মতো খাবার খেতাম। শেষ পর্যন্ত প্রায় ৮২ কেজিতে নামতে পেরেছিলাম। ডায়েট এত কঠিন ছিল যে একদিন মিষ্টি আলু না পাওয়া নিয়ে বাসায় আমার স্ত্রীর সঙ্গে মজার ঝগড়াও হয়েছিল।
এ চরিত্রের জন্য মানসিক প্রস্তুতি কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল?
আমার কাছে শারীরিক পরিবর্তনের চেয়েও মানসিক প্রস্তুতি বেশি গুরুত্বপূর্ণ। চরিত্রের ভেতরের মনস্তত্ত্বটা ধরতে পারা জরুরি। ‘দম’ যেহেতু বাস্তব এক মানুষের গল্প থেকে অনুপ্রাণিত, তাই তার সঙ্গে দেখা করেছি, কথা বলেছি। তবে এটা কোনো বায়োপিক নয়। বাস্তব চরিত্র থেকে কিছু অনুভূতি ও অভিজ্ঞতা নিয়ে আমরা গল্পটাকে ফিকশনালাইজ করেছি।
শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল, বিশেষ করে বিদেশের লোকেশনে?
খুব কঠিন, কিন্তু দারুণ অভিজ্ঞতা। আমরা খুব রাফ পরিবেশে শুট করেছি। ঠাণ্ডা, খাবারের সমস্যা, সময়ের চাপ, সব মিলিয়ে পুরো টিমকেই অনেক চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। অনেক সময় খুব ভোরে শুট শুরু করতে হয়েছে, কারণ দুপুরের আগেই সূর্য আড়াল হয়ে যেত।
এত কঠিন পরিস্থিতিতে টিমকে কীভাবে মোটিভেটেড রাখা সম্ভব হয়েছে?
আমি সবসময় মনে করি, টিমের একজন সিনিয়র সদস্য হিসেবে আমাকে শক্ত থাকতে হবে। আমি যদি ভেঙে পড়ি, তাহলে টিমের মনোবলও ভেঙে যাবে। তাই যত কষ্টই হোক, আমি সেটা প্রকাশ করতে চাইনি। আমার বিশ্বাস, মানসিকভাবে শক্ত থাকলে কঠিন আবহাওয়াও মোকাবেলা করা যায়। সো আমি দেখছি, আমি যদি সাইকোলজিক্যালি ফিট থাকি কোনো আবহাওয়ায়ই সমস্যা হয় না। আপনি যদি নিজে থেকে প্যানিক না হন তাহলে পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেয়া যায়, কাজ করা যায়। সুতরাং সাইকোলজিক্যালি ফিট থাকাটা অনেক বেশি গুরুত্বপুর্ণ।
দম নিয়ে দর্শকের যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, সেটা আপনি কীভাবে দেখছেন?
সব মিলিয়ে দম খুবই সুন্দর একটা প্যাকেজ। আমার জীবনে এ ধরনের কাজ আর করিনি। তাই দর্শকের একটা আগ্রহ তো থাকবেই। আমরা শুরু থেকেই বলেছি যে এটা বাস্তব ঘটনার অনুপ্রেরণায় তৈরি একটি সারভাইভাল গল্প। যখন একটি ভালো টিম একসঙ্গে কাজ করে, যেখানে শক্তিশালী প্রডাকশন টিম আছে, বিভিন্ন বিভাগের দক্ষ মানুষ কাজ করছেন, তখন স্বাভাবিকভাবেই দর্শকের কৌতূহল তৈরি হয়।
ভেতরে ভেতরে আমার নিজের প্রতি একটা কমিটমেন্ট আছে—একজন পারফরমার হিসেবে আমি এমন কাজ করতে চাই যেখানে অভিনয়, গল্প ও ভিজুয়াল সব মিলিয়ে একটা শক্ত কনটেন্ট তৈরি হবে। দম ঠিক তেমনই।










