এ যুদ্ধের প্রভাব এরই মধ্যে আমাদের ওপর পড়তে শুরু করেছে। স্বাভাবিকভাবেই এতে সরকারের ব্যয়ের ওপর চাপ বাড়বে এবং জ্বালানিতে ভর্তুকির পরিমাণ আরো বাড়বে।
এমনিতেই আমাদের রাজস্ব আহরণে ঘাটতি রয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে পুরো অর্থনীতিই একটি বড় ঝুঁকির মধ্যে পড়ে গেছে এবং সেক্ষেত্রে রাজস্ব আহরণ বাড়ানোর সুযোগ কোথায়? এ অবস্থায় সরকারের সাশ্রয়ী হওয়া ছাড়া তো বিকল্প নেই। বিদ্যমান যে বাজেট রয়েছে সেটি বাস্তবায়ন করাই কঠিন হয়ে পড়বে। ফলে নতুন করে বাজেটে ব্যয় বৃদ্ধির সুযোগ কোথায়, এক্ষেত্রে অর্থের সংস্থান হবে কীভাবে?
যুদ্ধকাল থেমে গেলেও এর প্রভাবে যে ক্ষতি হয়েছে সেটি পুনরায় স্বাভাবিকতায় ফিরিয়ে আনতে সময় লাগবে। যুদ্ধ-পূর্ববর্তী পরিস্থিতিতে আগামী অর্থবছরের বাজেট নিয়ে সরকারে যে পরিকল্পনাই থাকুক না কেন বর্তমান পরিস্থিতির কারণে এতে ব্যাপক পরিবর্তন আনতে হবে।

এক্ষেত্রে কোথায় ব্যয় সাশ্রয় করতে হবে এবং কোথায় ব্যয় বাড়ানো ছাড়া উপায় নেই সেটি ভাবতে হবে। জ্বালানি ও সারের ক্ষেত্রে ব্যয় বাড়াতেই হবে। নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য কোথায় ব্যয় করা প্রয়োজন সেটি আগে ঠিক করতে হবে।
তারপর পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে কতটুকু রাজস্ব আহরণ করা সম্ভব হবে সেটি হিসাব করতে হবে। এখন যদি যুদ্ধ থেমেও যায় ভবিষ্যতে যে আবার যুদ্ধ শুরু হবে না সেটির কোনো নিশ্চয়তা নেই। এজন্য একটি আপৎকালীন পরিকল্পনাও রাখতে হবে। তাছাড়া বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ যাতে কমে না যায় সেদিকে লক্ষ রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। বহির্বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্কিত সবকিছু যেমন আমদানি, রফতানি ও রেমিট্যান্স মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এ যুদ্ধের কারণে আমাদের ওপর বহুমাত্রিক ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। তাই এসব ঝুঁকির কথা মাথায় রেখেই বাজেট ও নীতিনির্ধারণ করতে হবে।










