গত কয়েক বছরে ডলারের দামের ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে সাম্প্রতিক জ্বালানি সংকট বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পুনর্গঠনে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এ অর্থনৈতিক সংকটকে আরো ঘনীভূত করেছে। এমন পরিস্থিতিতে আমার মতে দেশী শিল্পের বিকাশের কোনো বিকল্প নেই। এজন্য যেসব পণ্য দেশে উৎপাদন হয়, সেসব পণ্য বিদেশ থেকে আমদানির ক্ষেত্রে কঠিন শুল্কহার আরোপ করা যেতে পারে, যার মাধ্যমে সরকার প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রার নির্ভরতা কমাতে পারবে।

তৈরি পোশাক খাতের পর অত্যন্ত সম্ভাবনাময় রফতানিমুখী শিল্প খাত হিসেবে ইলেকট্রনিকস ও প্রযুক্তিপণ্য উৎপাদন খাতকে বিবেচনা করা হচ্ছে। এরই মধ্যে বাংলাদেশ থেকে বিশ্বের অর্ধশতাধিক দেশে ইলেকট্রনিকস ও প্রযুক্তিপণ্য রফতানি হচ্ছে। এ রফতানির প্রসার অপার সম্ভাবনাময়। ইলেকট্রনিকস ও প্রযুক্তিপণ্যের রফতানি বৃদ্ধিতে প্রয়োজন বিনিয়োগবান্ধব স্থিতিশীল নীতিসহায়তা।

যেকোনো স্থানীয় শিল্পের টেকসই বিকাশ নির্ভর করে দেশী ভোক্তার পাশাপাশি বিশ্ববাজারে রফতানির ওপর। স্থানীয় ভোক্তাকে উপেক্ষা করে কোনো শিল্প পুরোপুরি রফতানিমুখী হতে পারে না। যখন সম্পূর্ণ প্রস্তুত পণ্য (ফিনিশড গুডস) আমদানির চেয়ে স্থানীয় পণ্য উৎপাদনের জন্য কাঁচামাল আমদানিতে বেশি হারে শুল্ক পরিশোধ করতে হয়, তখন সে শিল্প খাত টেকসই হতে পারে না। এ ধরনের নীতি দেশী শিল্পের বিকাশ ও বিনিয়োগ আকর্ষণের প্রতিকূল। এমনকি তা স্থানীয় ভোক্তাদের জন্যও উপযোগী নয়।

এমন একটি নীতিগত সমস্যায় জর্জরিত বাংলাদেশের ইলেকট্রনিকস শিল্প খাত। যেমন রেফ্রিজারেটর, ফ্রিজার ও এয়ার কন্ডিশনারের যেসব উপকরণ ও খুচরা যন্ত্রাংশ দেশে উৎপাদন হয়, সেসব যন্ত্রাংশ আমদানিতে সম্পূরক শুল্ক নেই বললেই চলে। অন্যদিকে এসব যন্ত্রাংশ তৈরির কাঁচামাল আমদানিতে দিতে হচ্ছে উচ্চ শুল্ক। ফলে বিপুল বিনিয়োগের মাধ্যমে কারখানা স্থাপন ও লোকবল নিয়োগ করে দেশে পণ্য উৎপাদনে খরচ বেশি পড়ছে। একইভাবে বিদেশ থেকে সম্পূর্ণ তৈরীকৃত ভিআরএফ ও চিলার আমদানিতে মাত্র ১ শতাংশ শুল্ক দিতে হচ্ছে। অন্যদিকে কাঁচামাল আমদানিতে স্থানীয় উৎপাদনকারীদের প্রায় ১৫ শতাংশ শুল্ক এবং আরো ১৫ শতাংশ ভ্যাট পরিশোধ করতে হচ্ছে। শুল্ক নীতির পাশাপাশি আমরা যদি সরকারি ক্রয়নীতি দেখি, সেখানেও দেশে উৎপাদিত পণ্যকে নিরুৎসাহিত করে আমদানীকৃত পণ্যকে প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে।