বর্তমানে বিশ্বের ১২১ শহরের মধ্যে বায়ুদূষণে দ্বিতীয় অবস্থানে বাংলাদেশের রাজধানী। বাতাসের মান ‘অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর’। এ চিত্র প্রতিদিনের।

ঢাকার পাশাপাশি দেশের বড় শহরগুলোও অপরিকল্পিতভাবে বাড়ছে। চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, রংপুর বায়ুদূষণ ছাড়াও ট্রাফিক জ্যাম, জলাবদ্ধতার মতো সমস্যায় জর্জরিত। রাজশাহী শহরকে পরিচ্ছন্ন শহর বলা হলেও সে চিত্র এখন ভিন্ন। নদী শুকিয়ে যাওয়ায় নদীতীরের বালি বাতাসের সঙ্গে শহরে ঢুকে তৈরি করছে তীব্র বায়ুদূষণ। বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণের অজুহাতে নগরটির সবুজ ও জলাশয় ধীরে ধীরে ধ্বংস করা হয়। বর্তমানে রাজশাহী তীব্র গরম, বায়ুদূষণ আর পানি সংকটের নগরীতে পরিণত হয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ ও নগর বিশ্লেষকরা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঢাকার বায়ুমান বছরের অধিকাংশ সময়ই ঝুঁকিপূর্ণ পর্যায়ে থাকে। খোলা জায়গায় বর্জ্য পোড়ানো, নির্মাণকাজের ধুলা, যানবাহনের কালো ধোঁয়া, জলাশয় ভরাট ও অপরিকল্পিত নগরায়ণ এ পরিস্থিতিকে জটিল করেছে। নগর পরিকল্পনায় দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের অভাব এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়হীনতাকে বড় কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন নগর পরিকল্পনাবিদরা। এছাড়া দেশের নদী-খাল দখল, বন উজাড় এবং বড় অবকাঠামো প্রকল্পে পরিবেশগত প্রভাবকে উপেক্ষার ফল এখন স্পষ্ট। বায়ুদূষণের কারণে অকালমৃত্যু, শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগ বাড়ছে; উৎপাদনশীলতা কমছে; বাড়ছে স্বাস্থ্যব্যয়। সব মিলিয়ে দেশের নগর-মহানগরগুলোর পরিবেশ-প্রতিবেশ ও বাসযোগ্যতা এখন এক ভঙ্গুর বাস্তবতার মুখে।