বর্তমানে আড়াই কোটির বেশি নারী কোনো না কোনো অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত বলে সরকারি পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে।
তবে শ্রমবাজারে নারীর অবস্থান এখনো তুলনামূলকভাবে দুর্বল। সরকারি তথ্যে দেখা যায়, একজন নারী শ্রমিকের মাসিক গড় আয় প্রায় ১১ হাজার ৯৩ টাকা, যেখানে একজন পুরুষ শ্রমিকের মাসিক গড় আয় প্রায় ১৪ হাজার ১৮০ টাকা। এছাড়া একই শ্রমের বিনিময়ে নারীরা পান ৭৮ দশমিক ২ টাকা, যেখানে পুরুষ পান ১০০ টাকা। এ মজুরিবৈষম্য শ্রমবাজারে লিঙ্গবৈষম্যের অন্যতম বড় উদাহরণ হয়ে আছে।
আবার কর্মরত নারীদের বড় একটি অংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করেন। কৃষি, গৃহভিত্তিক উৎপাদন, ক্ষুদ্র ব্যবসা বা অস্থায়ী কাজে যুক্ত নারীরা প্রায়ই সামাজিক নিরাপত্তা, স্থায়ী আয় বা শ্রমিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হন। অনেক ক্ষেত্রে তারা পারিবারিক শ্রমিক হিসেবে কাজ করলেও তার আর্থিক মূল্যায়ন হয় না। অন্যদিকে খাতভিত্তিক কর্মসংস্থানে নারীদের অংশগ্রহণের মধ্যেও বড় পার্থক্য রয়েছে। শিল্প খাতে নারীদের বড় অংশ তৈরি পোশাক শিল্পে কেন্দ্রীভূত। আবার গ্রামীণ অর্থনীতিতে কৃষি ও পশুপালনে বিপুলসংখ্যক নারী কাজ করলেও সেগুলোর বেশির ভাগের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি না থাকায় তারা শ্রমের যথাযথ মূল্যায়ন পান না।
উদ্যোক্তা পর্যায়েও নারীর উপস্থিতি এখনো সীমিত। দেশে প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোক্তাদের মধ্যে নারীর হার তুলনামূলকভাবে কম। অনেক নারী ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করলেও ব্যাংক ঋণ, বাজারে প্রবেশ এবং ব্যবসায়িক সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রে নানা বাধার মুখে পড়েন। নেতৃত্ব পর্যায়েও একই চিত্র দেখা যায়। করপোরেট ব্যবস্থাপনা বা বড় প্রতিষ্ঠানের উচ্চপর্যায়ে নারীর উপস্থিতি এখনো সীমিত।
এমন প্রেক্ষাপটে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন জোরদার করতে হলে কয়েকটি বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে দক্ষতা উন্নয়ন, প্রযুক্তি প্রশিক্ষণ, কারিগরি শিক্ষায় নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং উদ্যোক্তা উন্নয়ন কর্মসূচি জোরদার করা। একই সঙ্গে নারীদের জন্য সহজ ঋণপ্রাপ্তি, বাজার সংযোগ এবং ডিজিটাল প্লাটফর্মে অংশগ্রহণ বাড়ানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বৈষম্যহীন মজুরি নিশ্চিত করাও জরুরি। কারণ নারীর কর্মসংস্থান বৃদ্ধি শুধু তাদের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা বাড়ায় না, বরং তা দেশের সামগ্রিক উৎপাদনশীলতা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকেও ত্বরান্বিত করে।










